আজ বুধবার থেকে শুরু হওয়া ২৪৩টি পৌরসভা নির্বাচনে মোট মেয়র পদপ্রার্থী এক হাজার ১৮৩ জন। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকের বিরুদ্ধে আদালতে বিভিন্ন ধারায় মামলা রয়েছে। খুনের মামলা রয়েছে ৯১ জনের বিরুদ্ধে। অধিকাংশ মামলা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আবার অনেক মামলা ‘রাজনৈতিক হয়রানিমূলক’ হিসেবে চিহ্নিত করে সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে। নির্বাচন কমিশনে দেওয়া প্রার্থীদের হলফনামা থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
তথ্যগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এক হাজার ১৮৩ জন মেয়র পদপ্রার্থীর মধ্যে ৫২২ জনের নামে বিভিন্ন ধারার মামলা রয়েছে। প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় ৮ শতাংশের নামে খুনের মামলা রয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) গত সপ্তাহে ২১২টি পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থীদের তথ্য নিয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। ওই প্রতিবেদনে ২১২টি পৌরসভায় এক হাজার ৭৮ জন মেয়র পদপ্রার্থীর মধ্যে ৮৮ জন খুনের মামলার আসামি বলে উল্লেখ করা হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচন কমিশনে দেওয়া প্রার্থীদের হলফনামা থেকেই এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, খুনের মামলার এত আসামি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চিত্র দুর্ভাগ্যজনক। তবে প্রার্থীদের সম্পর্কে তথ্য প্রকাশিত হওয়ায় ভোটারদের প্রার্থী বাছাইয়ের সুযোগ থাকছে।
প্রার্থীদের হলফনামা ঘেঁটে দেখা গেছে, পাবনা জেলার ফরিদপুর এবং টাঙ্গাইল পৌরসভায় সবচেয়ে বেশিসংখ্যক খুনের মামলার আসামি প্রার্থী হয়েছেন। ফরিদপুর পৌরসভার পাঁচ মেয়র প্রার্থীর মধ্যে চারজনই খুনের মামলার আসামি। তাঁদের সবার মামলাই উচ্চ আদালতে বিচারাধীন বলে তাঁরা নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। এই চার প্রার্থী হলেন আবুল হোসেন, আসাদুজ্জামান, এনামুল হক ও রায়হানুল ইসলাম। ৩০২ বিধিতে খুনের মামলা ছাড়াও তাঁদের বিরুদ্ধে আরও বিভিন্ন ধারায় বেশ কিছু মামলা রয়েছে।
মংলা পৌরসভা নির্বাচনে নয় প্রার্থীর মধ্যে চারজনের নামেই খুনের মামলা রয়েছে। তাঁরা হলেন শেখ আবদুস সালাম, মোল্লা আবদুল জলিল, জালাল আহমেদ ও শাহজাহান শিকারী।
টাঙ্গাইল পৌরসভায় ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে দুজনের নামে একাধিক খুনের মামলাসহ অসংখ্য মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সাহিদুর রহমান খানের নামে দুটি খুনসহ চারটি মামলা বিচারাধীন। অপর প্রার্থী জামিলুর রহমানের নামে একটি খুনসহ ছয়টি মামলা রয়েছে।
লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী আবু তাহেরের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা বিচারাধীন। তাঁর বিরুদ্ধে অপর হত্যা মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভায় দুই মেয়র প্রার্থী আব্বাস আলী ও মাজিদুর রহমানের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রয়েছে। হাইকোর্টের আপিল বিভাগে এ মামলা শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। এর বাইরে বেলকুচি পৌরসভার খালিদ আল মামুন, ঈশ্বরদী পৌরসভার জাকারিয়া পিন্টু, চাঁপাইনবাবগঞ্জে লতিফুর রহমান, পাবনায় কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারার খুনের মামলা চলছে।
বগুড়ার সারিয়াকান্দি পৌরসভার টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে খুনের মামলা থাকলেও তিনি খালাস পেয়েছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
পাবনার সুজানগর পৌরসভায় তফাজ্জল হোসেন, কাকনহাট পৌরসভার আবদুল মজিদ, নাটোরের সিংড়া পৌরসভায় গোলাম কবির ও সৈয়দপুর পৌরসভা নির্বাচনে আমজাদ হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে খুনের মামলা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন।
জয়পুরহাট পৌরসভার নন্দলাল পার্শির খুনের মামলা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যাহার শেষে নিষ্পত্তি হয়েছে বলে তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। অপর প্রার্থী আবদুল আজিজ মোল্লা খুনের মামলা থেকে দায়রা জজ আদালতে খালাস পেয়েছেন।
একইভাবে গুরুদাসপুরে আমজাদ হোসেন ও শাহনেওয়াজ আলী খুনের মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
এভাবে প্রার্থীরা হলফনামায় নিজেকে খুনের মামলার আসামি লিখলেও নির্বাচন কমিশনের করার কিছু নেই। কারণ নির্বাচনী আইন অনুসারে কেউ দুই বছরের জন্য দণ্ডিত না হলে তাঁকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা যায় না।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন বলেন, মামলার আসামি হলেই আইনত তিনি অপরাধী নন। তবে প্রার্থীদের সম্পর্কে তথ্য প্রকাশিত হলে ভোটাররা পছন্দসই প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
লিন্ক:
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

