

ঈদ আসছে আবার।প্রতি বছর আসে।টুকটুকে লাল মেহেদির আঙ্গুল ধরে রোজার মাসটা কোনো রকমে ঠেলে ঠুলে ঈদ এসে পড়ছে আবারো।সকাল হবে,আম্মুর তেলপিঠা ভাজার গন্ধে ঘুম ভাঙবে।সকালে উঠেই আমার প্রথম কাজ সব বিছানার চাদর বদলানো।এই মহা দ্বায়িত্ব পালন শেষের আগেই পিঠায় হাত ডুবাতে দেখলে বড় আপুর রাম ধমক খাওয়াটাও রোজকার মতই মিষ্টিলাগে।অভ্যাস হয়ে গেছে তো!
আমার এই একটায় আপু।আমি সারাক্ষন বকা খাওয়ার উপরেই থাকি।এই মুখ থেকে হাত সরা,এত বলি নখে ময়লা থাকে।''এইটা হইল মুল কারন।মনেই থাকেনা।তার উপর আছে পানি ঢালতে গিয়ে গ্লাস উপচায়ে ফেলা।পড়তে বসলে কান চুলকানো।ময়লা জামা পরে ঘুরস,তোর লজ্জা নাই,যা পাল্টায়ে আয়।একটু আহ্লাদ নিয়া কিছু বললেই হল,সারাক্ষন সেইটা নিয়া খেপাইতে থাকবে।এখন একটা স্পেশাল ভাষা মনে পড়ছে,নহান করবি নাতো।আমার রাগে গা পিত্তি জ্বলে যেত এই একটা শব্দ শুনলেই।
তারপরও তো ঈদ বলে কথা।সকাল বেলার গোসল সেরে,নেইলপলিশটা নিয়ে আপুর পিছন পিছন ঘুরতাম।তার পর পুরো নখ হাত আঙ্গুল লাল লাল ফোটা দানায় ভরে যেত যখন,মুগ্ধ হয়ে দেখতাম।হাত জুড়ে লাল তারাদের বাস আমি কি করে ভুলি!
এক ঈদে যখন এমন সাজুগুজু সেরে বান্ধবীর বাড়ি যাচ্ছি,হঠাৎ শুনি বাধন কে পাওয়া যাচ্ছেনা।আমরা ছুটতে ছুটতে ওখানে গেলাম।তার মা চিৎকার করে করে কাঁদছে।একটু আগেই গোসল দিয়ে নতুন জামা পরিয়ে বলেছে পুকুরের ওদিকে যেওনা মা।কিন্তু জল যে খুব প্রিয় মেয়েটির।হয়ত ফড়িং ধরবে বলে গেল,কিন্তু আপন বলে জলও কি ছেড়েছে তাকে।শেষ পর্যন্ত সত্যিই জল থেকেই উঠে এসেছিল বাধন।আমি মেয়েটির ঠান্ডায় জমে যাওয়া নীল হাত দেখেছি।এখনো চোখ বন্ধ করলেই দেখি।
আমার মত করেই তার হাতটাও লাল তারা দিয়ে সাজানো।কি যে অদ্ভুত বলে বোঝাতে পারবনা।মেয়েটির মা কিছুতেই সেই নেইলপলিশ উঠাতে দেবেনা।চিৎকার করে বলছেন, ''আমার মেয়েরে আমি নিজের হাতে সাজায়ে দিয়েছি,ওরে তোরা উঠিয়ে ফেলিস না।''
আমি আর দেখতে পারিনি।ছুটে চলে এসেছিলাম।এখনো ঈদ এলেই আমার মেয়েটির হাত মনে পড়ে।নেইলপলিশ লাগাতে পারিনা আর।ঈদটায় কেমন গুমোট লাগে!আপু যখন বলে কি রে হাত সাজবিনা?আমি পালিয়ে পালিয়ে বেড়াই,যেন এই অজুহাত কিছুতেই দেখানোর না।নীল হাতে লাল রঙ আমার ঈদটাকে এলোমেলো করে গেছে,আমাকেও....।

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ৮:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


