১.
আমি আমার মতই ছিলাম আজন্ম কাল।এখন কেমন বদলে যাচ্ছি দেখো,আমার আজন্ম তবে সময়ের ইচ্ছে।তৃষিত ঝড়ের কবলে পড়ে কেমন ত্রাহী রাহি অবস্থা,উল্টিয়ে পাল্টিয়ে একাকার।কেউ জানেনা এমন কেন। আমিই কি আর জানি!
প্রেমে পড়া যুবক,তোমার প্রথম আলিঙ্গনের মত,যখন আমাকে বললে মধুমিতা-
আমি হয়ে গেলাম গন্ধের ফুলদানী।
২.
বিরহের গান গুলো না শুনলেও হয়।এমন একটা সময় ছিল আমাদেরও। তুমুল প্রেমের গভীরতায় আবেগ পরিহীতা এক রমনী রানীর মত, সেই মুকুট টি আমারাও পেয়েছিলাম। তারপর গল্পের মোচড়ে নিঃস্ব হলাম তোমার মত আমিও ।
সময়শেষে তুমি ভালবাসাহীন হলে আর আমি পেলাম গায়ে ভালবাসার দাগ লেগে থাকা এক পুরুষ। তোমাকে অন্ধ করে দিয়েছিল রাত, পাহাড়ের গান-। তেমন একটা পাথর যদি পাও,উঠোন ঘেরা আঘাত। আমাকে একবার জানিও।
৩.
এক বালিকা মেঘ কুড়োতে যেমন নামে আকাশ বনে!
তেমনি এসে বৃষ্টিরা সব দল বাঁধলো চোখের কোনে।
সেই বালিকা দু চোখ খুলে দেখে শুধুই বৃষ্টি ধুলো;
খবর পাঠায় প্রিয়টিকে,মেঘদূত তার এমন ভুলো।
সকাল থেকে রাত্রি দুপুর,অপেক্ষাতে অষ্ট প্রহর;
সারা লগন এমনি কাটে,যোহর থেকে আরেক যোহর।
সেই বালিকা মেঘ কুড়াতে এখন কি আর বনে যায়!
খুব গোপনে সোহাগ করে,যা কিছু তার মনে চায়।
এমন করেই কল্পনাতে কাটে এখন সেই বালিকার;
কল্পনাতে সুখি মানুষ,প্রথম মেয়ে সেই তালিকার।
৪.
আমি যখন কবি হয়ে উঠছি ধীরে ধীরে তোমার আঘাতে,সকাল থেকে রাতে। কি নির্মমতা তোমার পরিহাসে তখনো! জানো? এরপরও তুমি,তুমি,তুমি সর্বস্ব জুড়ে,পুড়ে পুড়ে যায় অনাদিকাল,ব্যঘ্র শাবকের মত উদ্ধত তোমার চোখে খুঁজে মরি ভালবাসা। ঠাসা ছিল এক সময় অনেক কিছুই; কিভাবে কখন মন কে করে তুলেছো কঠিন! আমার দিন গেছে নেমেছে তারা; চোখের কোল বেয়ে জোছনার রূপ..। চুপ করে ছিল সময়। বড় বেশি অবাঞ্চিত আমি নামি তোমার পৃথিবীতে। মূল্যহীন হতে হতে একবার ঘর খুঁজে যেই মাথা তুলে চেয়েছি,ওখানেই সমাপ্তি ঘাপটি মেরে ছিল। টেনে দিল বিচ্ছেদের মায়াজাল। আড়াল খুঁজে মুখ লুকোতে গিয়ে দেখি, সেখানে সুখে বসত গড়েছে অন্য কেউ! এখন স্বজন নয়,মৃত কবিতারা ঘোরাঘুরি করে, হাত পা ছুঁড়ে মুক্তি চায় আত্মার। দাবী নিয়ে এমনও জঘন্য আত্মকোলাহল; আমি নির্বাক হয়ে ভুলে যায়, একসময় তোমার অবদানে তাদের জন্ম দিতে গিয়ে সময় হারিয়ে কি ভুল করেছি! দয়া করে আমাকে দিয়ে বলিও না ভালবাসা ভুল ছিল..।
অ:ট: আজ সারাদিন বাদশাহ নামদার পড়লাম।একবার শেষ করে দ্বিতীয়বার শুরু করলাম। তারপর ক্লান্ত হয়ে ঘুমুতে গেলাম। সারাক্ষন মাথার মধ্যে জাহাপনা টাইপের রাজসিক কথাবার্তা।
মা 'আকিকা' আমার কোলে আয় মা।'' আমার মন দূর্বল হয়ে পড়েছে। ভীষন অস্থির লাগছে। আমি এক কাত হয়ে শুয়ে আছি। এক চোখের অশ্রু আরেক চোখের ভেতর দিয়ে গড়িয়ে বিছানার চাদরে পড়ছে।
আমি তাঁর হারিয়ে যাওয়া কন্যা। আমার পিতার ডাক, স্নেহের সাইরেন উপেক্ষা করার ক্ষমতা আমার নেই। যেমনটা থাকেনা সারাদিনের অভুক্ত রোজাদারের।
আমি আমার বাবার ডাক শুনছি।
সারাদিন ঘোরের মধ্যে ছিলাম।
সবশেষে মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের একটা শের দিয়ে পোষ্ট শেষ করবো।এটি তিনি তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী হামিদার হাত ধরে বলেছিলেন,
''~ একজন প্রেমিকের কাছে চন্দ্র হল তার
~প্রেমিকার মুখ।
~আর জোছনা হল প্রেমিকার দীর্ঘশ্বাস। ''
উৎসর্গঃ এইপোষ্ট আমার ঝগড়াটি বইন ২০টিধারারে উৎসর্গ করিলাম।(বোল্ড কেমনে করে বুঝতে পারছিনা!)
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৪:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



