somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উছলে পড়ে আলো...

০৮ ই মার্চ, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.
আমি আমার মতই ছিলাম আজন্ম কাল।এখন কেমন বদলে যাচ্ছি দেখো,আমার আজন্ম তবে সময়ের ইচ্ছে।তৃষিত ঝড়ের কবলে পড়ে কেমন ত্রাহী রাহি অবস্থা,উল্টিয়ে পাল্টিয়ে একাকার।কেউ জানেনা এমন কেন। আমিই কি আর জানি!

প্রেমে পড়া যুবক,তোমার প্রথম আলিঙ্গনের মত,যখন আমাকে বললে মধুমিতা-
আমি হয়ে গেলাম গন্ধের ফুলদানী।



২.
বিরহের গান গুলো না শুনলেও হয়।এমন একটা সময় ছিল আমাদেরও। তুমুল প্রেমের গভীরতায় আবেগ পরিহীতা এক রমনী রানীর মত, সেই মুকুট টি আমারাও পেয়েছিলাম। তারপর গল্পের মোচড়ে নিঃস্ব হলাম তোমার মত আমিও ।

সময়শেষে তুমি ভালবাসাহীন হলে আর আমি পেলাম গায়ে ভালবাসার দাগ লেগে থাকা এক পুরুষ। তোমাকে অন্ধ করে দিয়েছিল রাত, পাহাড়ের গান-। তেমন একটা পাথর যদি পাও,উঠোন ঘেরা আঘাত। আমাকে একবার জানিও।



৩.
এক বালিকা মেঘ কুড়োতে যেমন নামে আকাশ বনে!
তেমনি এসে বৃষ্টিরা সব দল বাঁধলো চোখের কোনে।

সেই বালিকা দু চোখ খুলে দেখে শুধুই বৃষ্টি ধুলো;
খবর পাঠায় প্রিয়টিকে,মেঘদূত তার এমন ভুলো।

সকাল থেকে রাত্রি দুপুর,অপেক্ষাতে অষ্ট প্রহর;
সারা লগন এমনি কাটে,যোহর থেকে আরেক যোহর।

সেই বালিকা মেঘ কুড়াতে এখন কি আর বনে যায়!
খুব গোপনে সোহাগ করে,যা কিছু তার মনে চায়।

এমন করেই কল্পনাতে কাটে এখন সেই বালিকার;
কল্পনাতে সুখি মানুষ,প্রথম মেয়ে সেই তালিকার।



৪.
আমি যখন কবি হয়ে উঠছি ধীরে ধীরে তোমার আঘাতে,সকাল থেকে রাতে। কি নির্মমতা তোমার পরিহাসে তখনো! জানো? এরপরও তুমি,তুমি,তুমি সর্বস্ব জুড়ে,পুড়ে পুড়ে যায় অনাদিকাল,ব্যঘ্র শাবকের মত উদ্ধত তোমার চোখে খুঁজে মরি ভালবাসা। ঠাসা ছিল এক সময় অনেক কিছুই; কিভাবে কখন মন কে করে তুলেছো কঠিন! আমার দিন গেছে নেমেছে তারা; চোখের কোল বেয়ে জোছনার রূপ..। চুপ করে ছিল সময়। বড় বেশি অবাঞ্চিত আমি নামি তোমার পৃথিবীতে। মূল্যহীন হতে হতে একবার ঘর খুঁজে যেই মাথা তুলে চেয়েছি,ওখানেই সমাপ্তি ঘাপটি মেরে ছিল। টেনে দিল বিচ্ছেদের মায়াজাল। আড়াল খুঁজে মুখ লুকোতে গিয়ে দেখি, সেখানে সুখে বসত গড়েছে অন্য কেউ! এখন স্বজন নয়,মৃত কবিতারা ঘোরাঘুরি করে, হাত পা ছুঁড়ে মুক্তি চায় আত্মার। দাবী নিয়ে এমনও জঘন্য আত্মকোলাহল; আমি নির্বাক হয়ে ভুলে যায়, একসময় তোমার অবদানে তাদের জন্ম দিতে গিয়ে সময় হারিয়ে কি ভুল করেছি! দয়া করে আমাকে দিয়ে বলিও না ভালবাসা ভুল ছিল..।


অ:ট: আজ সারাদিন বাদশাহ নামদার পড়লাম।একবার শেষ করে দ্বিতীয়বার শুরু করলাম। তারপর ক্লান্ত হয়ে ঘুমুতে গেলাম। সারাক্ষন মাথার মধ্যে জাহাপনা টাইপের রাজসিক কথাবার্তা।
মা 'আকিকা' আমার কোলে আয় মা।'' আমার মন দূর্বল হয়ে পড়েছে। ভীষন অস্থির লাগছে। আমি এক কাত হয়ে শুয়ে আছি। এক চোখের অশ্রু আরেক চোখের ভেতর দিয়ে গড়িয়ে বিছানার চাদরে পড়ছে।
আমি তাঁর হারিয়ে যাওয়া কন্যা। আমার পিতার ডাক, স্নেহের সাইরেন উপেক্ষা করার ক্ষমতা আমার নেই। যেমনটা থাকেনা সারাদিনের অভুক্ত রোজাদারের।
আমি আমার বাবার ডাক শুনছি।
সারাদিন ঘোরের মধ্যে ছিলাম।

সবশেষে মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের একটা শের দিয়ে পোষ্ট শেষ করবো।এটি তিনি তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী হামিদার হাত ধরে বলেছিলেন,

''~ একজন প্রেমিকের কাছে চন্দ্র হল তার
~প্রেমিকার মুখ।
~আর জোছনা হল প্রেমিকার দীর্ঘশ্বাস। ''

উৎসর্গঃ এইপোষ্ট আমার ঝগড়াটি বইন ২০টিধারারে উৎসর্গ করিলাম।(বোল্ড কেমনে করে বুঝতে পারছিনা!):(
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৪:২৯
১১৭টি মন্তব্য ১১১টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×