![]()
একটা নরম সুন্দর দেশ ছিল কোথাও। শুধু ছিলইনা বরং এখনো আছে। তুমি যদি তোমার চোখের পাতা বন্ধ করো, দিব্যি সেই দেশটা দেখতে পাবে। একটা ভীষন সবুজ মাঠের পেছনে সারি সারি উঁচু দালান বাড়ি। অনেক মানুষ থাকে অথবা কেউ থাকেনা। গল্পের বাড়িগুলোতে মানুষ না থাকলেও হয়!
মাঠটা আসলে মাঠ না। একটা মিষ্টি পার্ক। নরম রোদে গা এলিয়ে পার্কের একটা সবুজ রং করা বেঞ্চে বসে একটা ইয়া পেট মোটা পেংগুইন খবরের কাগজ পড়ছিল। আকাশে মেঘ ছিল পায়রার মত। একটা লাল আর একটা ছোট্ট হলুদ পাখি কোথা থেকে উড়ে এল। উড়তে উড়তে বেঞ্চের হাতলে বসে উঁকি ঝুকি মারতে লাগলো খবরের কাগজটাতে।
শুধু বসে থাকলেও না হয় হত!
লাল পাখিটা বসে থাকলো আর ছোট্ট হলুদ পাখিটা উড়ে উড়ে পেঙ্গুটার চোখ মাথা কানের পাশ দিয়ে, উপর দিয়ে দিব্যি উড়তে লাগলো ফুড়ুত ফুড়ুত করে।
লাল টুকটুক পাখিটা বোধহয় একবার চোখ রাঙাতে চাইলো, কিন্তু ছোট্ট পাখি কি আর এত কিছু কেয়ার করে!
পেঙ্গুটা একটুও বিরক্ত হয়নি বরং মুগ্ধ চোখে ছোট্ট পাখির উড়াউড়ি দেখলো কিছুক্ষন তারপর নিজের ছোট ছোট ডানার দিকে বিষন্ন হয়ে তাকিয়ে থাকলো। একবার ডানা দুটো নাড়িয়ে উড়তে চাইলো কিন্তু পারলোনা।
আকাশে তখন টুকরো টুকরো শনপাপড়ির মত মেঘ। মিষ্টি সোনার আকাশ তাকে বুকে ডাকছে ভেবে তার ভীষন মন খারাপ হল। সে উড়ার চেষ্টা করতে লাগলো। আর মন খারাপ বাড়তে থাকলো তার। পাশ দিয়ে যাচ্ছিল একটা ভাল নীল অক্টোপাশ।
সে জিজ্ঞেস করলো কি হয়েছে পেঙ্গু?
পেঙ্গু তাকে বললো, '' বন্ধু আমি কি উড়ছি?''
- না তো!
নীল অক্টো তখন বলল বন্ধু আমিও তো উড়তে পারিনা। কিন্তু তুমি এত মন খারাপ করছো কেন?
-আই ওয়ান্ট টু ফ্লাই। দেখো আকাশ আমাকে ডাকছে। মেঘ ডাকছে। অথচ আমি উড়তে পারছিনা। ওহ... আমি উড়তে পারছিনা।
আমি উড়বো। আমি সুন্দর আইসক্রিমের মত মেঘ ছুঁয়ে দেখবো। আমি উড়তে চাই।
যখন তারা ডেইজি ফুলটার পাশে গেল ডেইজি তার হুড খোলা গাড়িটাকে সাজাচ্ছিল ফুলের নকশা দিয়ে। নীল অক্টো ডেইজি ফুলটাকে বললো,
- আমাদের পেঙ্গুর মন খারাপ। সে উড়তে চায়। তুমি কিছু করতে পারো ডেইজি?
গাড়ি রেখে ডেইজি ফুল হেঁটে যেতে লাগলো পেঙ্গুর সাথে। পথে যেতে যেতে রঙীন প্রজাপতির সাথে দেখা। প্রজাপতি তার পাখা না ওঠা ছোট্ট সোনাটাকে দোলনাতে বসিয়ে ঘুরে ঘুরে গান করছিল,আর মাঝে মাঝে দোল ঠেলে দিচ্ছিল। সে মিষ্টি করে গাইছিল,
-দোল দিয়েছি দোল খা
আমার ছোট্ট প্রজাপতিটা
লা..লা...
ডেইজি তাকে বললো,মিষ্টি প্রজাপতি, ও মিষ্টি প্রজাপতি,তুমি কি বলবে কি করে উড়তে হয়! আমাদের বন্ধু উড়তে চায়। তার ভীষন মন খারাপ।
প্রজাপতি তখন খিল খিল করে হেসে তার ছোট্ট ছানাকে তুলে দিল নীল অক্টোর কোলে।
তারপর বলল,
- এসো, দেখো এভাবে উড়তে হয়। তোমার পাখা দুটো এভাবে.. হুমম.. ঠিক এভাবে পেছনে নাও। তারপর উমম.. সফট আর সিম্পলি এভাবে হ্যা ঠিক এভাবে নাড়াও। এই দেখো আমি উড়ছি।
পেঙ্গু ঠিক এভাবেই পাখা নাড়াচ্ছিল চোখ বন্ধ করে,দুলে দুলে সে সামনে এগুচ্ছিল। যখন সে বলল,
- দেখো বন্ধুরা আমি কি উড়ছি?
সবাই বেশ মন খারাপ করে বলল না!
পেঙ্গুটার ভীষন মন খারাপ হল।সে দুখী স্বরে বলল,
- বাট আই ওয়ান্ট টু ফ্লাই। আমি কেন পারছিনা। কেন কেন!
ডেইজি মাথা নেড়ে বলল আমার কাছে আরো একটি আইডিয়া আছে। এই বলে সে পেঙ্গুকে আসলে সান্তনা দিতে চায়লো। একটি দোকানে নিয়ে গিয়ে মাথায় ক্যাপে লাগানো একটি পাখা কিনে সেটি পরিয়ে দিল পেঙ্গুর মাথায়। তারপর চাকার গাড়িতে বসিয়ে তাকে ঠেলতে লাগলো সবাই মিলে। পেঙ্গু জিজ্ঞেস করলো,
-আমি কি উড়ছি বন্ধুরা?
সবাই বললো না! ছেড়ে দিতেই পেঙ্গু পড়ে গেল গাড়ি উল্টে। তার টুপির পাখা ভেঙে গেল। মন খারাপ নিয়ে সে বলল,
-আমি বাঁচতে চাইনা। আমি যদি পাখিদের মত উড়তে না পারি। মেঘের সাথে খেলতে না পারি। আমি বাঁচতে চাইনা।ওহ...
দুটো জমজ গুবরে পোকা খেলছিল। তারা ফেনার পানিতে ফুঁ দিয়ে বাবল ফোলাচ্ছিল। হঠাৎ একটা বাবল অনেক বড় হল। অনেক অনেক বড়!
উড়তে উড়তে বাবলটা একলা বিষন্ন পেঙ্গুটাকে নিজের মধ্যে নিয়ে নিল। পেঙ্গু চোখ বন্ধ করে রেখেছিল। এক মনে সে হাঁটছিল। আর বলছিল আমি উড়তে চাই। আই ওয়ান্ট টু ফ্লাই। খুব চাই অনেক চাই। হঠাৎ সে চোখ খুলে দেখে বাবলটার ভেতরে সে। বাবলটা ভেসে যাচ্ছে। উড়ে যাচ্ছে। সেই লাল পাখিটা তাকে ঘিরে উড়ছে। আছে সাগর রঙের মেঘ। আছে শান্ত একটা আকাশ! রৌদ্রেরা মিটিমিটি হাসছে।
নিচে তার বন্ধুরা তালি দিচ্ছে। নীল অক্টোপাশ শুঁড় বাঁকিয়ে নাড়িয়ে গান ধরেছে।
-আমাদের বন্ধু উড়ছে
আকাশের গায়ে ভাসছে
মেঘের মধ্যে ঘুরছে
আমাদের বন্ধু উড়ছে...
যখন পেঙ্গু উড়তে উড়তে প্রজাপতিটার কাছে , প্রজাপতি পাখা নাড়িয়ে বলল,
-- হু হু হচ্ছে এইতো পাখা নাড়াও। হচ্ছে! হুম এভাবেই..সফট আর সিম্পলি!
পেঙ্গু তখন ভীষন খুশি। ঘুরে ঘুরে সে দেখছিলো,উপর নিচ আশপাশ সব। সব দেখছিল সে অবাক হয়ে ভেসে ভেসে। একটা কথা বলা হেঁটে চলা গাছ তাকে অভিবাদন জানালো। জমজ গুবরে পোকারা আরো আরো বাবল ফোলালো খুশি হয়ে।
সেই সবুজ রঙের বেঞ্চ সেই মাঠ ! কাছাকাছি এসে বাবলটা ফেটে গেলে পেঙ্গু এসে বসলো সেই বেঞ্চে!
সব বন্ধুরা তার কাছে এল। তাকে অভিনন্দন বললো। পেঙ্গুটা ছিল ভীষন খুশি। পেট মোটা পেঙ্গুটা তখন কি করছিল জানো? পেট দুলিয়ে হাসছিল।
বন্ধুরা তোমরা কি জানো? মন থেকে কিছু চাইলে প্রকৃতি তা পূরন করে!
অ:ট: গল্পটি কোনো একটা চ্যানেলে কার্টুন দেখার পর লেখা। ছোট্ট বন্ধুদের জন্য।
এখন বড় বন্ধুরা পড়ে রাগ না করলেই হয়!
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জানুয়ারি, ২০১২ রাত ৮:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


