somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাখিটা..

২৪ শে জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মনটা ভাল নেই। মাথায় কঠিন কঠিন সব কথা ঘোরে। আমার কাছের বন্ধুটন্ধু খুব কম। কম কারন মানুষ হিসেবে আমি খুব স্বার্থপর। বন্ধু হিসেবে আর যাই হোক কেউ স্বার্থপর কাউকে আপন করবেনা এটা জানা কথা। সকাল বেলায় উঠেই কেমন যেন একটা সকালের মনমরা মুখ মনে পড়লো। লিখতে ইচ্ছে করলো।

''বন্ধ সকাল জন্মান্ধ নাগরিকের মত মনটাকে খারাপ করে। কাউন্ট ডাওন শুরু হলে দিন তার খাতা খুলে বসে। প্রেস ব্রিফিং এ সকাল জানায় গত রাত থেকে তার বনে চৈতালী হরিন। ফড়িং সময়ের পাতা খসে একাকার। ভেতরে মুখ ঢুকিয়ে কুরকুর করে জল কুরে খায়। জলের রক্ত হাত ভরে মেহেদির মত মাখে! সকাল হাত নেড়ে জনতাকে দেখায় তার অবরোধ।
উজবুক প্রেমিকের মত আর ভুল করবেনা বলে চোখ বুঁজে রাখে দিনমান।
পেছন পেছন মাইক্রোফোন হাতে টিভি সাংবাদিকেরা নিউজের পিছে জীবন বাজী রাখছে।ডিপোজিটে রাখা সকল মন্দবোধ!

সকালের শখটা তুলোট মেঘের মত আলতো করে রাখা।
কবে থেকে সে ভাবে, সংবাদপাঠিকার ঠোঁটে চুমু হবে। হবে হারমোনিকা!''

একেকটা দিন ঘটনা বহুল হবে এটাই স্বাভাবিক। আমি ঘটনা উপভোগ করি। যেদিন বাবু হারিয়ে গেল সেদিন হারিয়ে যাওয়া নিয়েই একটা গল্পের প্লট মাথায় ঢুকলো। অস্বাভাবিক হয়ত এটা যে সে হারিয়ে গেছে, আমার ভেতর থেকে দুমড়ে মুচড়ে কান্না আসছে আমি কাঁদছি। চিৎকার করে স্বচ্ছ বলে ডাকছি। পাহাড়ে প্রতিধ্বনি হয়ে ওর নাম ফিরে আসছে আমার কানে । এতকিছুর মধ্যে আমি গল্প পাবার যে অন্যরকম আনন্দ সেটা অনুভব করছি। লেখাটা আমি মাথায় নিয়েই ঘুরি। অপরাধ বোধ কাজ করে বলে লিখে ফেলতে পারিনা।
আজ সন্ধ্যায় পাশের বাসায় মিলাদ ছিল। মৃত্যুর চল্লিশ দিন উপলক্ষ্য! এই মৃত্যুর কথা আমি ভাঙা পেন্সিলে লিখতে চেয়েছিলাম। উনি তখন একটা চরিত্র। আমি মৃত মানুষটার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। আনন্দে চোখ চকচক করছে। কারন এখানে একটা গল্প আছে। গল্পটি এইরকম যে মৃত্ মানুষটি ঘুমিয়ে আছে বলে তার সন্তান ঘরে এসে বারবার ঘুরে যাচ্ছে । এ সময় রোজ ঘুমায়। তার ওষুধ তার নরম খাবার রেডি। সে ভাবলো অনেকক্ষন ঘুম হয়েছে। ওষুধ খেতে হবেতো!
মিলাদ থেকে ফিরে এলাম। বাবু দরজা খুলেই আমাকে দেখে শুরু করলো কান্না। আমি বললাম কি হয়েছে। সে গেস্ট রুম দেখিয়ে বলে দেখো এ ঘরে কে আছে!
আমি দরজা খোলার চেষ্টা করছি। দেখি ভেতর থেকে লক। জোরে জোরে দরজায় দু তিনটা লাত্থি দিলাম। দরজা কেন খোলেনা! অসীম আমার ধাক্কাধাক্কির শব্দ পেয়ে কি হয়েছে জিজ্ঞেস করতেই বললাম দেখো তো ঘরে কে। সে কিছুক্ষন দরজা ঝাকালো। এই কে আছিস খোল! খুলতেই দেখি কেউ নাই। বাবু কিন্তু তখনো কাঁদছে। আমি বললাম কই কেউ তো নাই। সে ঘরে ঢুকে দরজার কোনা দেখিয়ে বলে আছে আছে এই যে। দেখি কোনায় ১৪/১৫ বছরের একটা ছেলে!
ওর কলার ধরে হিড়হিড় করে টেনে আনলো অসীম। আমি সাথে সাথে ওর হাতটা ধরসি। হঠাৎ বেকুবের মত মনে হল যদি আত্মরক্ষার কথা ভেবে ছুরি টুরি বের করে! কি হবে তখন!
আমি হাত ধরে আছি। অসীম তাকে জেরা করছে। সে বলে উল্টাপাল্টা! কে তুই। এখানে কেন! বলে আমি বেড়াইতে আসছি। আমি হাত ধরে আছি আর অসীম তারে মারতেছে। আমি তার অপরাধের কথা ভাবছি বলেই হয়ত তখন আমার ভেতরটা শক্ত হয়ে গেছে! নিষ্ঠুরের মত তাকে মারতে দেখলাম। পরে শুনি কি সে এবনরমাল একজন। স্বাভাবিক বিকাশ হয়নি বয়স হওয়ার পরও। শরীর বেড়েছে শুধু! পাশের ফ্ল্যাটের এক মহিলার বোনের ছেলে। কিন্তু সে আমার বাসায় কেন আর দরজা ভেতর থেকে লাগালো কেন! আমার ল্যাপটপে বসে সে সাউন্ড কমায়া দিয়া ভিডিও ক্লিপ চালিয়েছে। আমাকে আসতে দেখেই দরজা বন্ধ করেছে।ওফ কি সাংঘাতিক! বাবু তারে নিয়ে এসেছে আর আমারে দেখেই কান্না! এটা কি গাধামি নাকি ঢং ভাবছি।
নিজেকে খুব অপরাধী লাগছে।

একদিন বৃষ্টিধারার এবঙ বাবুটার জন্য এ ছড়াটা লিখেছিলাম। মন ভাল হয়ে যায় পড়লেই। পড়লাম আর পড়লাম। আজকের দিন শেষ প্রায়! ভাল লাগছেনা এখনো।

পাখিটাকে ফুলের মত লাগে
মাঝে মাঝে তারা
পাশাপাশি দুটো গাছ
পাথর কি তাহারা!

পাখিটাকে পাখির মত লাগে
মাঝে মাঝে নদী
পাশাপাশি দু পাহাড়ে
উড়ে যায় যদি!

পাখিটা উড়ে যায়
পাখিটা হাসে
পাখিটা হাসলেই রঙ...
পাখিটা আমাদের এবং!
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:৩৪
৭০টি মন্তব্য ৭০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×