somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক কবিতায় দীর্ঘ গল্প...

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৪:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি আর শাহেদ খান মিলে একটা দীর্ঘ কবিতা লিখে ফেলেছি। কি দারুন একটা থ্রিল! নিজেও জানিনা কি হবে। প্রিয় একটা উপন্যাসের একেকটা পাতা উল্টাচ্ছি। জানিনা পরের পাতায় কি আছে! অদ্ভুত অবস্থা!

মাহী...

আমি কি আর বুঝতে পারি এত
খুব সহজেই সমুদ্রটার জল
একটা পাহাড় ঢেকে ফেলে বুকে
এক লহমায় জড়িয়ে আঁচল!

ছটফটানো ঢেউ এর কত সুখ
দারুন ভয়ে লুকিয়ে থাকে বুকে
পাহাড় কাটা পথের উপর শুয়ে
চোখদুটো তাই হাসছিল কৌতুকে!

শক্তি করুক বন্ধ চোখের পাতা
তাহার ঠোঁটে একটি কথায় থাক
উড়তে পুড়তে আলোয় কালোয় দূরে
সারাক্ষনের রোদ্দুরে অবাক।

শাহেদ...

বুঝতে পারা কবি'র নিজের ব্যাপার
সমুদ্রজল যায় কি নদী'র বাঁকে?
পাহাড় অমন আড়াল করে দাঁড়ায় -
ওপারে কে আঁচল পেতে থাকে??

ঢেউয়ের সুখে নামলে জলোচ্ছ্বাস
ভয় করে - খুব ভয় করে নাকি মেয়ে?
পাহাড় কাটা পথে শুয়ে তবে
হাসছো কেন অমনভাবে চেয়ে?

চোখের পাতা তিরতিরিয়ে কাঁপে
ঠোঁট কাঁপে না - কাঁপবে নাকি আর?
কালো রং-এর আলো দেখে ফেলে
অবাক রোদে দেখতে পাওয়া ভার...

মাহী...

এমন করে প্রশ্ন থাকে বলে
অবাক হওয়া রোদ-হাওয়াকে মানায়
কবির অবশ চোখের চাওয়াটুকু
ঢেউগুলোকে রুপালীমাছ বানায়!

ঝড় জলেরা সমুখে রাতদিন
ভয় খাওয়া এক ছোট্ট মেয়ের মুখে
পাহাড় হয়ে আড়াল করে রোদ
ঠোঁটের উপর সুখের ও তীর এঁকে।

শাহেদ...

অবাক হাওয়া খেলার ধরণ বুঝে,
ডাইনে-বাঁয়ে মাছগুলো ভাসছিল।
ছোট্ট মেয়ে জলরং-তুলি হাতে
জলে আঁচড় কাটতেই আসছিল...

হঠাৎ ঝড়ে রোদ দেখে সেই মেয়ের -
সেই কী হাসি - কী যে উদ্ভাসিত !
হিংসা করে সূর্যও বলে, "ঈশ্বর !
এমন হাসি আমায় যদি দিত !!!"

মাহী...

সূর্য তাহার আলোয় জরীতে
আঁকছে হাসির চিকন নকশী কাজ
সেই মেয়েটি জলের তলে ফুল
সেই মেয়েটি অরূপ মমতাজ!

সবুজ পাতায় রাতের নিম আলো
সেই মেয়েটির খালি পায়ের পাতা
মিঠে বাদাম ধুলোর উপর চাঁদ
হাতের তলায় ধরেছে বিধাতা।

সেই মেয়েটি একলা ছাদে হাঁটে
শুকনো মরিচ শুকাচ্ছে তার বুকে
হাতে দোলে ভাঙা গাছের ডাল
বড় হওয়া মেয়েটির সম্মুখে।

শাহেদ...

নকশী কাজে ঠিকরে পড়ে আলো,
সেই আলোতে কে যেন চমকালো !
সেই আলো'টা অন্ধ করে, তবু -
কে যেন তা-ই বাসলো ভীষণ ভালো !

কে যেন সেই খালি পায়ের পাতা'র
ফুল তোলার ঐ বুনো পথের পাশে,
আশায় থাকে, ভুল করে এই পথে -
সেই মেয়েটা আবার যদি আসে !

শুকনো মরিচ কার চোখে যেন লাগে !
সেই মেয়ে আর করছে না কেন ভুল?
পাগল জানে না, ফুল কেন তুলবে সে?
সেই মেয়ে যে নিজেই এখন ফুল !

মাহী...

হাসি তাহার সূর্য্যমুখী ফুল
জানালাটা খুলে দিলেই মাঠ
হাতের বই সে ধরে থেকেই হাতে
তাকিয়ে দেখে দিগন্তেরই চাঁদ।

বিকেলবেলা কত ফেরিওয়ালা
সাইকেলের ঘন্টি বাজে টুং-
ছেলেটি তার ক্রিকেট ব্যাট কাঁধে
অস্থির আর দৃষ্টিটা খুব নতুন।

সন্ধ্যের আগে বধুরঙা আলোয়
হঠাৎ যদি চোখে পড়ে চোখ
ফুল মেয়েটির এমন কিছু হোক -
বিধাতা এমন কিছু হোক!

শাহেদ....

সূর্যের ফুল দো'তলা'র জানালায়
কাঠবাদামের গন্ধে আলোর রেশ;
বিকেলের ওই অতটুকু পথ'টাই
ছেলেটার আর হয়নাকো যেন শেষ !

বাতাসের সাথে ব্যাট'টা দুলতে থাকে
সাইকেল'ও বুঝে আস্তে চলার কারণ;
বোঝে না মেয়ে'টা - বই হাতে ঠাঁয় বসে !
আচ্ছা বাতাস, করতে পারো না বারণ?

কী এমন বই - সারাক্ষণ ওই হাতে?
ছেলেটার খুব রাগ উঠে যায় তাতে !
খুব হিংসায় অসহায় হয়ে ভাবে -
"পারতাম ওই বই হয়ে জন্মাতে !!!"

রাঙা আলোর এমনি এক বিকেলে
হঠাৎ মেয়ের কাঁপল চোখের পাতা !
ওই দু'চোখ কি পড়েছে এই দু'চোখে?
তা-ই হোক - যেন তা-ই হয়, বিধাতা !

মেয়েটা যে কী ভাবছে - রাঙা আলো
জানালার ছায়া মিলায় সুদূরপানে;
মেয়েটারও কি পথ-চেয়ে বসে থাকা?
হায় খোদা - বুঝি মেয়েটাই শুধু জানে !

মাহী ....

খেয়ালের বিকেল বেলায় ছেলেটা
ধুলোর ঝড়ে চোখে চশমা পরে
খেলতে আসে ক্রিকেট, তখন ঘোরায়
ছক্কা চার দারুন জ্বরের ঘোরে।

সেই ছেলেটি গান ও করে সুরে
হাতের গিটার আংগুল ছুঁয়ে হাতে
বুকের ভেতর এলোমেলো কোকিল
ছোট্ট মেয়ে সেই ছেলেতেই মাতে।

একটা ছেলে অপেক্ষাতে থাকে
রোজ বিকেলে মাঠ মাতানোর ছলে
সেই মেয়েটি দেখছে কিনা তাকে
মন পুড়ে যায় দারুন কৌতুহলে।

সেই ছেলেটি গাইতে থাকে গান
যে বিকেলে মেয়েটি আর নেই
ছোট্ট মেয়ে অনেক অভিমানে
মুখ ফিরিয়ে বন্দী নজরে সেই।

এ গল্পটা চলতে থাকে রোজ
একই রকম গল্প সকল পাড়ায়
তবুওতো ছোট্ট মেয়ের খোঁজ
গান গাওয়া সে ছেলেটাকে নাড়ায়।

এখন এমন কত বিকেল আসে
এখন এমন কত ঘুমের ঘোর
ছোট্ট মেয়ে এখন অনেক বড়
বুকের পুতুল সাজায় সুখের ঘর।

সেই ছেলেটা বহুদিনের পরে
স্মৃতি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে যেন
আনন্দময় প্রতিদিনের বিকেল
এখন তবে বিষাদ লাগে কেন!

(শেষ হয়নি, চলবে...)
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৩৯
৭৫টি মন্তব্য ৭৫টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×