somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক কবিতায় দীর্ঘ গল্প...(শেষ টুকু)

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি আর শাহেদ খান মিলে লিখে ফেলেছি একটা দীর্ঘ কবিতা।এক কবিতায় দীর্ঘ গল্পের প্রথম টুকু এখানে! আর তারপর....

শাহেদ...

এমনি করেই কত্ত বিকেল গেল,
ক্যালেন্ডার'টা বইয়ের মলাট জুড়ে;
এমনি করে হারিয়ে গেল সময়
তার কেটেছিল কোন সে বিষাদ সুরে?

ছেলেটা আজ গীটার ধরলে, হায় -
গীটার যেন তার আগে গান গায়।
যার জন্য ব্যথা তুলে আঙুলে
আচ্ছা, সে কী সুরটা শুনতে পায়?

ছেলেটার মন আঁধার হয়ে আছে
সূর্য আজও ওই মেয়েটার কাছে;
থাকবেই তো - সে যে সূর্যমুখী-
ছেলেটার চোখ কাঠবাদামের গাছে...

মেয়েটা বুঝি স্মৃতিতে খুঁজছে তাকে?
ছেলেটার বুকে হাহাকার বাস্তবে !
জেদী ওই মনে একটাই প্রার্থনা -
ফের যেন দেখা হয় - দেখা হবে !!!

মাহী...

বিকেল গুলো তুলোট রঙের মাছ
শানবাধানো পুকুর ঘাটে বসে
সেই মেয়েটি ছড়িয়ে দিয়ে পা
ছোট্ট জলের কনা যাচ্ছে শুষে।

বিকেল বেলার ছায়া দীর্ঘ হলে
শিশু গাছের পাতার তলে মেয়ে
একটা দুটো লুডোর গুটি চালে
গড়িয়ে অতীত হাতে আনে নামিয়ে।

সেই ছেলেটির সবুজ টিয়া মুখ
অবুঝ চোখের কচি কালো পল্লব
এই মেয়েটি ভুলতে পারেনা দিন
ভুলতে না পারে সেদিনের সেসব!

আঁধার ছেলের চেয়ে থাকা অনুক্ষন
এই মেয়েটি ধুলো ঝাড়ে আর মোছে
পুরোনো এক বইয়ের পাতা খুলে
না পড়া সেই দিনগুলোকেই খোঁজে।

কতকতদিন এভাবে যে কেটে গেছে
বাস্তবে মেয়ে তাকে ভাবে প্রতিদিন
সেই ছেলেটির হারিয়ে যাওয়া ভেবে
বিষাদ বিরহ বিচ্ছেদে সে বিলীন!

মেয়েটি ভাবে কখনো কোনদিন
আরেকবার সে ছেলেবেলা ফিরে পেলে
হারাতে দেবেনা শৈশব ছেলেটিকে
হারিয়ে যাবে সে হারিয়ে যাওয়া গেলে!!

শাহেদ...

সেই ছেলেটারও দিন-রাত এলোমেলো
ওই মেয়েটা'র খোঁজ হারিয়ে ফেলে,
বিকেলবেলার পথ'টা আজও আছে
দোতলা'র ওই জানালা'র কাঁচ মেলে।

সন্ধ্যার আগে মাঠ পেরোতে গেলে
কিশোরদলের ক্রিকেট খেলা দেখে,
ছেলেটা আজও চশমা'র ফাঁকে খোঁজে -
কোথায় হারানো ছোট্ট সেই নিজেকে !

যে বইটা'র হিংসায় জ্বলে-পুড়ে
ছেলেটাই রোজ প্রমাদ গুণত সাঁঝে;
সেই বই আজ একবার খুঁজে পেলে
জোরসে সে ধরে রাখত বুকের মাঝে !

ছেলেটার খুব ভয় করে ভয় করে
চাঁদ কি হারিয়ে গেছে তার চিরতরে?
রাতের আকাশ মিটমিটিয়ে হাসে,
ছেলেটার চোখও ঝাপসা হয়ে আসে...

কবেকার সেই দেখে ফেলা এক মুখ,
সূর্যের মত দেখে ফেলা এক মুখ !
যার আলো ছাড়া পাগল আর বাঁচবে না -
বিধাতা'র এ যে কী ভীষণ কৌতুক !

মাহী...

চাঁদ হারানোর এ ভয়টা আছে ঠিক
ছেলেটি কি জানে মেয়েটির হৃদয়ে
কি এক গভীর স্মৃতির ঊর্ণাজাল
এখনো বাঁচিয়ে রেখেছে তা দিয়ে।

মেয়েটি ভাবে কাঁচা সে বুটের পাতা
টক টক স্বাদ অনন্ত অম্বরে
দু একটা বিকেল অসম্ভব এক সুখে
ফ্রেমের ভেতর আটকে রেখেছে ধরে।

মেয়েটির ব্যাগে কখনো কখনো
লুকিয়ে থাকে গোপনে চিরকুট
দু এক লাইনে সংকেতে কোন কথা
ডাক শুনলেই চোখ বুজে দেয়া ছুট।

মেয়েটি ভোলেনা অনেক কিছুই
বেঈমান স্মৃতি অনেক দিয়েছে ভুলিয়ে
সিঁড়িঘর ছাদ শক্ত দুহাত চুমু
এখনো দেয় মাঝে মাঝে তাকে দুলিয়ে।

শাহেদ...

ছেলেটার ওই ঝড়-ভাঙা ফুলগাছ
দেখতে পেল শুধুই কবি'র চোখ !
মেয়ে তখন মেঘের অপেক্ষাতে,
ভাবছে, এখন তুমুল বৃষ্টি হোক !

বৃষ্টিও না কেমন ! চলেই এলো !
দুপুর-রোদের খেলা নষ্ট করে;
সূর্যমুখী জলে আঙুল রাখে,
সারা দুপুর অমন বৃষ্টি পড়ে...

ছক্কা উঠলে সাপের মুখে গুটি
মেয়ে'র চোখে জলটা থাকে জমা;
ফ্রিজের কাঁচে শুকনো মটর-শুটি
বাসি রাতের অশ্রুকে দেয় ক্ষমা।

ছেলেটার ঐ গীটারের তার ছিঁড়ে
ছিঁড়েই যাচ্ছে - একটা করে রোজ !
মাথার ভেতর তারগুলো যে কাটা
পরস্পরের -পাচ্ছে কে তার খোঁজ???

মাহী...

মেয়েটির ছিল বৃষ্টি ভেজার শখ
নিঃসঙ্গ ছাদে ছড়িয়ে মেলে দু হাত
মেয়েটি ভাবতো এখনো সে তার পাশে
বাতাসের কানে ভালবেসে সে আতাত।

দু একটা বার বছরের কোন দিন
কাইয়া পাতার ছোট্ট কড়াইশুটি
পিকনিক খেলা হাস্যমুখর রাত
ভাত পাতে দেয়া মেয়েটির হাত দুটি।

সে সময়গুলো স্বপ্ন দেখার দিন
আমের মুকুল মাতাল হাওয়া স্বাদ
ভরদুপুরে গরম রোদের চোখ
সে পাতার তলে সুস্বপ্নের আবাদ।

এমন অনেক কত দিন চলে গেছে
ছেলেটির গান ভাপা রোদের শীত
ছেলেটি কি করে মেয়েটিকে ভুলে যায়
কি করে ভাঙে গড়ে দেয়া তার ভিত??

শাহেদ...

ছেলেটার মনে ঝড় ওঠে ঝড় ওঠে
স্বপ্নগুলো মাতাল হাওয়ায় হারায়;
কবি যেন বলছিল তা-ই কবে -
এমন গল্প থাকে সকল পাড়ায়?

সকল গল্পে ছেলেটার বুঝি দোষ?
সে যে পাগল - মেয়ে বুঝি জানত না?
নিজের উপর কী ভীষণ আক্রোশ
গীটার বুঝে না, কী দেবে স্বান্তনা...

'ছেলেটি কি করে মেয়েটিকে ভুলে যায়?'
এমন কথাও শুনতে কি হল, হায় !
নিথর বাতাস, স্তব্ধ পুকুর জল
'ছেলেটি কি করে মেয়েটিকে ভুলে যায়?'

কচি পাতায় জমানো খানিক জল
আমের বনে মুকুলের মৌতাত
শিশিরকণা'য় সূর্যের ঝলমল
দারুচিনি-কাঠে হাতের ওপরে হাত...

বিকেলপথের হাত'টা কই হারালো?
পথজুড়ে আজ পাথর এবং ধুলো
এপথেই সে হেঁটে চলে গিয়েছিল -
বলছিলো, তা-ই বলছিলো ফুলগুলো।

সূর্যের ফুল, ভাঙা জানালার কাঁচ,
শেষবিকেলের বধুরঙা এই সাজ;
সূর্যের ফুল, একটু তো আলো দাও?
সূর্যের ফুল, কোথায় তুমি আজ?

মাহী....

হয়ত সেদিন ভাল না বেসেই হবে
ছেলেটি দিয়েছে প্রথম চুমুর স্বাদ-
মেয়েটি তখনো এতটাতো বোঝেনি
দু হাতের তলে ঠুনকো সে প্রতিবাদ।

সাবান গাছের পাতা ঘষে ঘষে কেউ
শেকড়ের হাতে তুলেছে নতুন ফেনা
যে মেয়েটির ভালবাসা নেই কোনদিন
সে মেয়েটিতো এসব কি জানেনা!

মন পুড়ে যায় একলা দ্বীপের ছাই
কতকি যে ভাবে: কি ছিল তার দোষ
প্রতিদিনকার চোখে চোখ রাখা জল?
আর পাগলামী নিদারুন সে জোস!

সূর্যের অন্য ফুল শব্দ হয়ে ফোটে
যাদুর মতই দিগন্তে মিলে যায়
আলো ছেলেটিকে রোজ তাই ভালবেসে ,
সুবর্ণ পাতা নিখাদ সে সুখ পায়।

একবার যদি কোনোভাবে সেই
আগুন মাখা সময়টা ফিরে আসে
এই মেয়েটি স্রেফ বলে দেবে; দেবেই
এই মেয়েটি আজো তাকে ভালবাসে।

শাহেদ...

সিড়িঘর, আর অদ্ভুত এক বিকেলে
শুকনো কাপড় দুলছিল খুব ছাদে,
কাঁপা আঙুল, বন্ধ চোখের পাতা আর -
আর কী যেন মিলল নির্বিবাদে !

কী মিলেছিলো? ঠোঁট নাকি পাপড়ি?
ছেলেটার শুধু মনে আছে, ওই মেয়েটার
বন্ধ চোখের পাতা নাচছিল অস্থির,
আটকে থাকা নিঃশ্বাস জমে বুক ভার...

তারপর কি যে হয়ে গেল হয়ে গেল
অস্থির দু'টি মন যেন দূর্বার;
কাঁচপোকাদের মাঝরাতে আনাগোনা
তীব্র ইচ্ছে আগুনেতে পুড়বার !

অস্থির সেই দু'টি মনে যেন কবে
ভুল বুঝাবুঝি ছুঁয়ে গেল দুজনাকে;
অভিমানী মেয়ে, পাগলের কী যে হাল আজ -
একবার যদি দেখতে সে ছেলেটাকে।

বালিশটা নোনা জলে ভিজে এক'শা
আঁধার রাত'টা প্রেমের অভাবে ভরপুর,
কাঁচপোকারা আগুনের খোঁজে বেসামাল
কাঠবাদামের গন্ধ যে আজ কতদূর !

সেই যে পথে হারিয়ে গেছে মেয়েটা
পাগলের আজ পথ'টাই শেষ আশা;
পাথর-ধুলো ছড়ানো বিকেল পথটা
যেই পথে তার জীবন'টা ফেলে আসা !

সূর্যমুখী, যেখানেই তুমি থাকো
বিকেলের পথে চোখদু'টো পেতে রেখো;
পাগল তোমায় খুঁজে নেবেই নেবে
সূর্যমুখী, অপেক্ষাতে থেকো?

মাহী...

সূর্যের ফুল প্রতিরোজ ফোটে শুধু
অক্ষরগুলো চেনা বাগানের পাপড়ি তাই
মেয়েটি যখন বাড়ায় আকাশে হাত
সেহাত যেন বিকেলের মাঠে ফিরতে চায়।

ভালবাসাটা কোমল নরম সহজে
শাখা ছেড়ে উড়ে যায় পাখির মতন
সবুজ পাহাড়ে আদিম ঘুমের শিশু
উন্মুখ থাকে চায় সে সমর্পন।

নির্জনে হীরা ছলছল করে চোখে
বিক্ষত হলে রাতের আঘাতে আঘাতে
শৈশবটাকে আঁচলের খুঁটে বেঁধে
ভালবাসাটাকে আগলে ধরে দুহাতে।

সূর্য্যমুখীর মনে অপেক্ষাটা আছে
নিদ্রাতুরা পাখায় সেই ছেলেটির মুখ-
শিহরণ লাগে বকুলগন্ধ মমতায়
আজো হাতছানি; প্রপাতসম সে সুখ!

..........
(গল্পটা কোনোদিন শেষ হবে কি! জানিনা একদম।)
অবশেষে অন্যরকম একটা অনুভূতি। এত দীর্ঘ কিছু লেখার কথা ভাবতেও পারিনা। হয়ে গেছে! আমি ভীষণ আনন্দিত।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ৮:০১
৪৪টি মন্তব্য ৪৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×