১.
মনের ভেতর যাচ্ছে পুড়ে অলৌকিক এক আগুনে
হাতের ভেতর হাত রবেনা সামনে আসা ফাগুনে!
২.
মন খারাপ টা না থাকলে কি ভালবাসা মানায়?
এমন করে সে থাকবেনা! কেমন করে জানায়!
হাত ঘুরিয়ে কালো শিষে আঁকছি প্রজাপতি
কান্না গুলো যাচ্ছে মিশে প্রজাপতির ডানায়!
৩.
ফুলের জোনাক জ্বলে কোথায়?
আকাশ ফুঁড়ে যাচ্ছে উড়ে কে?
এবং যখন লুটিয়ে পড়ে তারা-
ফুল কি দেখা যাচ্ছে জোনাকে!
৪.
প্রেমিক যখন প্রেমকে দুহাতে
ফুলকে ভেবে বহন করছিলো-
বৃষ্টি হবে বোঝেনি ফুল এমন
ঠোঁট ফুলিয়ে তক্ষুনি কাঁদছিলো।
৫.
পাখিটা পেটে করে নিয়ে যাচ্ছে যাকে
তার স্থাবর অস্থাবর সমস্ত সম্পত্তি সে আমার নামে লিখে গেছে।
অথচ আমি তো কাঁদছি! সমস্ত অস্তিত্বে আমার কান্না লেগে আছে।
কেন পৃথিবীর কোথাও কোথাও এ রকম হবে! পাখিটা তাকে কেন নিয়ে যাবে!
পাখিরা মানুষের সঙ্গ ছেড়ে কেবলই পালায়। শ্রাবন থেকে...
প্লাবন থেকে শুধুই পালায়-
পাখিকে বলো আমার অভিমান! পাখিকে বলো সে আমার মনের মতন!
পাখি জানুক আজ আমার চোখে আদিম জল!
আমার জন্য শেষ চিঠি সে দিয়েছে
নিসর্গের জানালাকে-
পাখিটা পেটে করে নিয়ে যায় তাকে!
৬.
ইদানীং কেন কোন স্বপ্ন নেই আমার। তীব্রতা নেই!
আমাকে নাড়িয়ে তুমুল পাল্টিয়ে যাবে যে রাত
ইদানীং তার কোন খবর নেই!
লাল তুলোট মেঘের বালিশে দু একটা কনা চাঁদের
ইদানীং কেন কোন জোৎস্না নেই আমাদের!
৭.
গত কয়েক রাত আমার এমন করেই কাটলো
স্বপ্ন দেখার খুব ইচ্ছেতে কতটা পথ হাঁটলো
রাত টা গেল রাতের মত দূরে
নিজ খেয়ালে জোৎস্না সুরে মাতলো!
৮.
এত অভিমান রাতের! সে আজ তার ঢাকনা খুলে টিফিন শেয়ার করতে দেয়নি চাঁদকে। আজ থেকে হয়ত তারাদের ইরেজার দিয়ে মুছে দিতে চাইবে। হয়ত পেন্সিলের সূক্ষ্ম শিষ দিয়ে ফুটো করে দেবে পেপার ব্যাক!...
রাত একটু আগে কাঁদছিল! যাকে সে তীব্র আবেগে চায় সে কেমন ঝিঁঝিঁ পোকাদের দলে মিশেছে! একটা গোলাপী টিস্যু দুমড়ে মুচড়ে গলে যায় কান্নার জলে। স্কুলের ব্যাগটা খুলে রাত মুখ বাড়িয়ে দেখে নেয় আর কত হোমটাস্ক জমা হল!
রাত কাঁচের টেবিলটাকে তবলা বানিয়ে তাল দিতে থাকে! অভিমান গান হয়! আর চাঁদটা গলে যেতে থাকে। দুহাতে দুজনে ধরে কাঁদে মিলেমিশে!
রাত তো জানতোই, চাঁদ তাকে ভালবাসে!
৯.
মন খারাপটা তারও ভীষন কাছে
আমার চেয়েও; জাপটে ধরে আছে।
১০.
এ শহরটা শূণ্য শহর তাকে ছাড়াই ভাল থাকে
স্বার্থপরের মতই শহর সময় গুলো গায়ে মাখে
এ শহরটা নদীর বুকে পা মাড়িয়ে যায়
মনটা আমার আপন সুরে খারাপ করে রাখে।
১১.
শেষের পরও শেষ আরেকটি টুকরো চিঠি পেলাম
পাতায় লেখা আদর তোমায় ভালবাসা দিলাম!
১২.
তলের জল থেকে আসা প্লাবন ভূমি
সফল শস্যের ছোটো সারি দলে
ওখানে কোথাও আগুন লেগেছে
ওখানে কোথাও পাতাদের ফুল
ডালিম ফুলের লাল,ওখানে কোথাও আকাশের তলে
বিছিয়ে দিয়েছে মানুষের শিশু রূপালী পাতাল!
তল থেকে আসা জলের প্লাবনে শস্যের জাল!
১৩.
আমি বসে থাকি পৃথিবীর পায়ে চকলেট চুমু ঠোঁটে
পাখিটার চাকা গড়িয়ে গড়িয়ে পৃথিবীকে নিয়ে ছোটে
সারামুহূর্ত হলুদে জোনাক এখানে ওখানে জ্বলে
সারারাত তবে সুগন্ধি সুরভে লেবুদের ফুল ফোটে!
১৪.
চার সওতাল সার বাধিয়া বুনে বুনে যায় জমি
তাহাদের শ্রমে গায়ের ঘামে ফসলেরা আজ দামি।
চাহিদা মিটায়ে কত হাতে যায় কত অভুক্ত মুখ
প্রতিদিনকার ক্ষুধা মিটিয়ে এক হয়ে যায় সুখ!
১৫.
আমিতো তোমার কাছেই শিখেছি বিন্দুর পরও বিন্দু টুকুন দিতে
হিমালয় গলা সমুদ্র জলে প্রেম; শিখেছি দেব তোমায় অনিন্দিতে!
১৬.
আমার মন খারাপ এখন ছেলেটির হাতে
বাড়ি ফিরে ছেলেটি জানালার পাশে তুলো
মেঘের মত রাখবে তুলে রাতে-
সত্যিকারের মন খারাপ গুলোকে!
আচ্ছা ছেলেটি বিষন্ন কেন থাকে?
আমার মন খারাপেরা শীতের ধূলি
ছেলেটি বাড়ি ফিরে দেখুক আকাশটাকে।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ১০:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




