somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভারতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভারত - বাংলাদেশ সম্পর্ক

০৪ ঠা আগস্ট, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঝিনাইধহে বি এস এফের গুলিতে আজ এক বাংলাদেশী নিহত। লাশ নিয়ে গেছে বি এস এফ।
কিছুদিন আগে আসামের মুখ্যমন্ত্রী পার্শবর্তী দুটো রাজ্যকে দায়ী করলেন ৩০হাজার মানুষকে ভারতে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশী আখ্যা দিয়ে তাদের রাজ্যে ঠেলে দেয়ার জন্য। তার দাবী এরা প্রকৃতপক্ষে ভারতীয় জনগন। ভারতীয় অনেক নেতাদের মতে এককোটির ওপর বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে রয়েছে। 
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্য বিষয়গুলো হলো ভারতে ক্রিয়াশীল টেররিষ্টদের আস্তানা বা প্রশিক্ষন শিবির বাংলাদেশে। বাংলাদেশে সংখালঘুরা নির্যাচিত। বাংলাদেশের বি ডি আর বাহিনী সীমান্তে আগ্রাসী মনোভাবাপন্ন। 
সবগুলো অভিযোগ যে মিথ্যা তা বলাই বাহুল্য। আসলে বাংলাদেশ একটি ছোট দেশ বলে ভারতীয়রা বত্তব্য দেয়ায় কিছুটা দায়িত্বহীন। বত্ত্যবটা জনপ্রিয়তা পেলেই হল। 
কিছুদিন আগে রাহুল গান্ধী বললেন ভারত সাহায্য না করলে বাংলাদেশ স্বাধীন হত না।

ভারতীয় প্রচারমাধ্যমের মিথ্যে প্রচারনায় বাংলাদেশের একটি নেগেটিভ চিত্র ভারতীয়দের মনে। এক্ষেত্রে আমাদের সরকারগুলোর যেমন ব্যর্থতা রয়েছে তেমনি এর জন্য দায়ী ভারতের সাম্যাজ্যবাদী আচরন।
গত ঈদে একটি ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয়েছিল আমার দেশের বাড়ী আখাউড়াতে।
আমার জীবনের প্রথম ১৫টি বছর আখাউড়ায় কেটেছে। কিন্তু এমন  অভিজ্ঞতা এই প্রথম। শহরে আমার বাসা। ষ্টেশন থেকে হাটায় পাচ মিনিটের পথ। তখন আমি বাসায়।
সন্ধ্যার সময় হঠাত করে অনেকগুলো মানুষের আর্তচিৎকার আর ছোটাছুটির শব্দ শুনা গেলো,যুদ্ধকালীন সময়ে শত্রুপক্ষের আক্রমনে মানুষজন যেমন ছুটে পালায় তেমনি।
ভয়ে আমরা দরজা জানালা লাগিয়ে ফেললাম। শুনলাম শহরের লোকজন দোকান বাড়ী ফেলে গ্রামের দিকে পালাচ্ছে। কে জানি বলল ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীরা আখাউড়া শহরে প্রবেশ করেছে। আমি বিশ্বাস করিনি কেননা কেবলমাত্র যুদ্ধকালীন সময়ে আরেকটি দেশের শহর শত্রুপক্ষ দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। 
ভারতের সীমান্ত থেকে আখাউড়া শহরের দুরত্ব দু থেকে তিন মাইলের মধ্যে।
পরে জানলাম  ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীরা বাংলাদেশের  এক মাইলের বেশী ভিতরে ঢুকে পড়েছিল, সীমান্তের লোকজন তাই ভয়ে শহরে ছুটে এসেছিল আর শহরের লোকজন ভীতসন্ত্রস্থ হয়ে উঠে আরো ভিতরের দিকের গ্রামগুলোতে পালাচ্ছিল। সেসময়  ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীদের গুলিতে
একটি বাচ্চা মেয়ে মারা যায়, পরে জানলাম সে আমার দুরসম্প্রকের আত্তীয় হয়। 

আপনি যদি বাংলাদেশে হিন্দুদের আর্থসামাজিক অবস্থা দেখেন তা হলে আপনি ভারতীয়দের এই অভিযোগের অসত্যতার প্রমান পাবেন যে হিন্দুরা এদেশে নির্যাচিত।
পক্ষান্তরে কিছুদিন আগে ইকোনোমিষ্টের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় মুসলমানরা প্রচন্ড ভীতির মধ্যে বসবাস করছে। বেকার, অশিক্ষিত দরিদ্র মুসলমানরা যেন রয়েছে জেলখানায়। অর্থনীতিতে ভারত এগিয়ে গেলেও মুসলামদের সাথে অন্যান্য ভারতীয়দের দুরত্ব বেড়েই চলেছে। এখন মুসলমানদের বলা হয় ভারতের নতুন দলিত।
দলিত তাদেরকেই বলা হত যারা ছিল হিন্দু ধর্মে অছুত এবং নিম্নবর্নীয়।

আর এটা বিশ্বাস করা কষ্টের যে বাংলাদেশে টেররিষ্টদের প্রশিক্ষন শিবির রয়েছে।
বাংলাদেশ একটি ক্ষুদ্র জনবহুল দেশ, তাই  প্রশিক্ষন শিবির থাকলে তা বেশীদিন ধামাচাপা দেয়া যেত না। এছাড়া এতে বাংলাদেশের কোন স্বার্থ নেই।
বাংলাদেশের বাজারের প্রায় অনেকটাই ভারতের নিয়ন্ত্রনে। ভারতীয় পন্যে সয়লাব বাংলাদেশ। পন্য রফতানীতে অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ। 
ুপরোল্লিখিত আলোচনার পর এটা অনেকটা ষ্পষ্ট যে ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নয়নে ভারতের ভুমিকাটি মুখ্য। ভারতকে এগিয়ে আসতে সব সন্দেহের অবসান ঘটিয়ে, নিতে হবে ইতিবাচক ভুমিকা যাতে দুটো প্রতিবেশী দেশ বন্ধুভাবাপন্ন হয়ে বসবাস করতে পারে।
৩৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×