জাপান, চীন সম্পর্ক প্রায় উত্তপ্ত হয়ে উঠে স্কুলের টেক্সটবুকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে সঠিকভাবে চিত্রায়িতা না করায় আর প্রতিবছর জাপানি প্রধানমন্ত্রি কর্তৃক ইয়াসুকুনি মন্দির পরিদর্শন নিয়ে, যেখান জাপানে দ্বিতীয় বিশবযুদ্ধকালীন এবং অন্যান্য মৃত যোদ্ধারা শায়িত আছেন।
জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে এদুটো দেশের জনগনই দেশপ্রেমে উদ্ভুদ্ধ হন দলমত নির্বিশেষে।
পাকিস্তানের টেক্সটবুক ত দুরের কথা আমি আমার স্কুলের টেক্সটবুকেই স্বাধীনতাকে পেয়েছি বলে মনে করতে পারছি না। না গল্পে, কবিতায় কিংবা ইতিহাসে।
নিজেদের মধ্যকার মতদ্বৈততারই অবসান ঘটাতে পারিনা আমরা, পাকিস্তানের সাথে দেনাপাওনার প্রশ্নটি তোলার সুযোগ কই?
আমরা কথায় কথায় বলে থাকি স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরা উচিত। আমার প্রশ্ন হলো তুলে দেওয়ার দায়িত্বটি কার?
কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হলে কিংবা কোন নির্বাচিত সরকার হলেও নিরপেক্ষতার ব্যপারটি থেকেই যায়।
সর্বজন সমর্থিত একটি কমিশন গঠন করা যেতে পারে যারা এই কাজটি সারতে পারবেন দীর্ঘ সময় নিয়ে, নিরপেক্ষভাবে।
স্বাধীনতা পরবর্তী রাজনৈতিক জটিলতার কারনেই হয়তবা আমরা আমাদের স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস থেকে বন্চিত হয়েছি। এর দায়ভার সবার, একটিমাত্র দলের উপর এর ভার চাপিয়ে দেয়া আদৌ যুক্তিসংগত হবেনা।
অত্যন্ত স্বাধীনতার প্রশ্নে আমাদের দলীয় সংকীরন মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। বিতর্কিত ব্যপারগুলোর সুরাহা হওয়া উচিত, সত্যতার আলোকে, যা গিলতে যত কষ্ট হউক না কেন, অর্থাৎ ব্যক্তিগত কিংবা দলীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে হলেও।
উদাহরন স্বরূপ শেখ মুজিব প্রশ্নে বি এন পি যেমন কঠোর অবস্হান নিয়েছে শুধুমাত্র বিরোধিতার খাতিরে আবার আওয়ামী লীগের দলীয় স্বার্থে যথেচ্ছ ব্যবহারে শেখ মুজিবের ইমেজটি দলীয় একজন নেতার ইমেজে পর্যবসিত হয়েছে।
ঠিক তেমনিভাবে জিয়াউর রহমান প্রশ্নে আওয়ামী লীগ একটুকুও ছাড় দিতে চায়নি, যদিও বাংলাদেশের ইতিহাসে জিয়াউর রহমানের অবদান অনস্বীকার্য।
এব্যপারগুলো চলতে থাকলে একসময় আমরা নিজেরাই ভাবতে শুরু করব জাতি হিসাবে আমরা সংকীর্নমনা, হিংসুটে স্বভাবের।
আর স্বাধিনতার প্রশ্নে দলীয় দৃষ্টিকোন থেকে সামহ্যোয়ার ইনে কাদা ছোড়াছোড়ি শেষ হোক এই আমাদের কামনা। এই মহান ইস্যুতে অত্যন্ত আমরা সংযমের পরিচয় দেই, অবশ্যই মিথ্যের সাথে আপোষ না করে।
ইদানিং কালের পোষ্টগুলো পড়লে যে জিনিষটা পীড়া দেয় তা হল জাতির এই ক্রান্তিকালেও দলীয় সংকীর্ন দৃষ্টিকোন থেকে বেরিয়ে আসতে পারছেন না অনেক ব্লগার।
এ স্বার্থপরতা আর সংকীর্নতা থেকে বেরিয়ে না আসতে পারলে জ্বালাও পোড়াও জাতীয় ধংসাত্বক ব্যপারগুলো আমাদের জাতীয় জীবনে ঘটতে থাকবে অনেক কাল ধরে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

