একজন নাস্তিকের আস্তিক হওয়া আর চীনা মুসলমানেরা

০৯ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ৯:৫৫

শেয়ার করুন:                   Facebook

ঝাং চেংজি। চীনের সবচাইতে নামী পত্রিকা পিপলস ডেইলীর মতে ১৯৬৬ সালে তিনিই প্রথম রেড গার্ড শব্দটি ব্যবহার করেন। চীনের সেই সময়কার সবচাইতে অভিজাত স্কুলে পড়াশুনার সময় তিনি আরও দশজন ছাত্রদের একত্রিত করেন সেই স্কুলের কর্তপক্ষের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনে যে তারা অভিজাত্য আর পুজীবাদের সমর্থন করেন। মাও সেতুং তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে স্কুল কর্তপক্ষকে অপসারন করেন। এইভাবে কালচারাল রেভ্যুলেশনের সমর্থনে রেড গার্ড গঠিত হয় যা কিনা পুজিবাদীদের বিরুদ্ধে সারা চীন জুড়ে ছাত্রদের আন্দোলনে পরিনত হয়। এর কিছুদিন পর মাও সেতুং বেইজিং এ ১০ লক্ষ রেড গার্ডের উদ্দ্যেশে ভাষন দেন।
একসময় তাকে মংগোলিয়ায় পাঠানো হয় আবার জাপানেও প্রবাস জীবন কাটান পড়াশুনার জন্য।
আর সব রেডগার্ডদের মত রাজনীতি কিংবা ব্যবসা বানিজ্য নিজেকে না জড়িয়ে একসময় তিনি মনোনিবেশ করেন লেখালেখিতে। তিনি বর্তমানে চীনের একজন প্রথম সারির জনপ্রিয় লেখক। তার লেখা হিস্টোরি অব সোল ১৯৯৮ চীনে ২য় বেস্ট সেলার হয়।
আজীবন মাও সেতুং এর অনুসারী জাং বেড়ে উঠেছেন একজন নাস্তিক হিসাবে।
তিনি মুলত হুই গোত্রের মানুষ। হুই গোত্র লোকেরা মুলত: ইসলাম ধর্মের অনুসারী।
তার পুর্ব পুরুষেরা মুসলমান ছিলেন। তাই একসময় কয়টি বছর নিংজিয়াতে মুসলমানদের মাঝে কাটান। এর ফলশ্রুতিতে রচিত হয় হিস্টোরি অব সোল নামক বিখ্যাত উপন্যাসটির যেখানে তিনি চিত্রায়িত করেন জাহিরিয়া তরিকার সুফিদের উত্থানকে এবং কিভাবে ধর্মের সাথে সংঘর্ষ ঘটে ব্যক্তিত্তের।
এরই মাঝে সবাইকে অবাক করে দিয়ে এই বিখ্যাত কমিউনিষ্ট দীক্ষিত হন ইসলাম ধর্মে। তিনি এখন চীনের সবচাইতে বিখ্যাত মুসলমানদের একজন। তবে তিনি এখনও মাও সেতুং এর একজন কড়া সমর্থক। দেশে বিদেশে এটি তার প্রধান সমালোচনার কারন হয়ে দাড়িয়েছে।
চীনে মুসলমানদের ইতিহাসের শুরু হয় ইসলামের ধর্মের আবির্ভাবের প্রায় সাথে সাথে। নবীজি সা; মামা চীনে ইসলাম ধর্ম নিয়ে আসেন। তখনকার চীনের শাসকের দ্বারা সমাদ্বত হয়। একসময় মুসলমানেরা রাজনৈতিক এবং সামরিক শক্তি হিসাবে আবির্ভুত হয়। এক মুসলিম জেনারেল চীনকে রক্ষা করেছিলেন মংগোলদের হাত থেকে। তবে সবচাইতে বিখ্যাত চীনা মুসলিমের নাম হল জেং হে। প্বথিবীর ইতিহাসে অন্যতম বড় নৌ বহরের অধিনায়ক চীনের সম্রাটের প্রতিনিধি হয়ে ভারত, শ্রিলংকা, মালয়েশিয়া আর ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন অন্চলে। ৩০০ জাহাজে ২৮ হাজার নাবিক নিয়ে তিনি সাতটি অভিযান চালান। ধারনা করা হয় তিনি ইসলমারের প্রসারে ভুমিকা রেখেছিলেন। চীনা সরকার এখনও সম্মানের সাথে তার কবর সংরক্ষনের ব্যবস্থা করেছেন। পাশে একটি যাদুঘরও তৈরি করা হয়েছে।
চীনে হুই, উই (উইঘর) ছারাও বিভিন্ন গোত্রের মুসলমানদের দেখা যায়।

 

 

  • ২০ টি মন্তব্য
  • ৩৫৩ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১২ জনের ভাল লেগেছে, ৭ জনের ভাল লাগেনি
১. ০৯ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১০:১৩
comment by: দিগন্ত বলেছেন: আমি একটা উইঘুর রেস্টুরেন্টে খেতেও গিয়েছিলাম। খাবারদাবার খুব ভাল, আমাদের মতই বিরিয়ানিও পাওয়া যায়। যারা চিনে গিয়ে খাদ্যসমস্যায় ভোগেন তাদের জন্য এটা ভাল রাস্তা।
২. ০৯ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১০:১৭
comment by: ভ্রুক্ষেপিত জ্ঞান বলেছেন: মাহিরাহি ভাই অসংখ্যা ধন্যবাদ এই বিরল তথ্যের জন্য।
৩. ০৯ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১০:২৪
comment by: মাহিরাহি বলেছেন: ধন্যবাদ দিগন্ত এবং ভ্রুক্ষেপিত জ্ঞান
৪. ০৯ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১০:৩৩
comment by: নাজিম উদদীন বলেছেন: "নবীজি সা; চাচা চীনে ইসলাম ধর্ম নিয়ে আসেন। "

এ ব্যাপারে ডিটেইলস জানাতে পারবেন। চাচা চীনে চা চাষ করতে গিয়েছিলেন নাকি, না জ্ঞানচর্চা করতে ? ওনার নাম কি ছিল, কোন চাচা? আমার তো মনে হয় সাহাবীদের সময়ে কেউ চীনে যায় নি, তাবেঈন বা তাবে তাবেঈনদের কেউ যেতে পারে।
৫. ০৯ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১০:৩৪
comment by: আলম ভাই বলেছেন: শুধু গত বচ্ছরেই হাজার হাজার শিক্ষিত মুস্লিম নাস্তিকের খাতায় নাম লেখাইছেন
৬. ০৯ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১০:৩৮
comment by: মাহিরাহি বলেছেন: Islam in China has a rich heritage. China has some of the oldest Muslim history, dating back to as early as 650, when the uncle of the Islamic prophet Muhammad, Sa`ad ibn Abi Waqqas, was sent as an official envoy to Emperor Gaozong. Throughout the history of Islam in China, Chinese Muslims have influenced the course of Chinese history.

http://en.wikipedia.org/wiki/Islam_in_China
৭. ০৯ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১০:৪০
comment by: মাহিরাহি বলেছেন: আলম ভাই লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত অমুসলিম আবার মুসলমান হইছে

http://en.wikipedia.org/wiki/Zhang_Chengzhi
৮. ০৯ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১০:৫০
comment by: ভ্রুক্ষেপিত জ্ঞান বলেছেন: শিক্ষিত ইউরোপ ও আমেরিকার অমুসলিমরা দলে দলে মুসলিম হচ্ছে

এই সব আলম সাহেব মত লোকদের অপপ্রচারের ফলে।

এই সাইটটি দেখতে পারেন।
http://www.turntoislam.com/
৯. ০৯ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১১:০০
comment by: মাইনুল বলেছেন: ধন্যবাদ এই সুন্দর পোস্টের জন্য। কমিউনিজমের জাতাকলে যারা ইসলামকে ভুলে গিয়েছিল তারা যে আবার আলোর পথে ফিরে আসছে তা যেনে ভাল লাগলো।
১০. ০৯ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১১:১১
comment by: শান্তির দেবদূত বলেছেন: এইসব বিধর্মী, মুনাফেক, নাস্তিকরা যতই ইসলামের বিরুদ্ধ্যে অপপ্রচার করুক না কেন আসলে পোরক্ষভাবে তারা ইসলামকে আরও শক্তিশালী করছে।

যদি আল্লাহ চান তাহলে ইবলিসকে দিয়েও নিজের কার্য্য হাসিল করতে পারেন, এবং ইবলিসকে শয়তান টেরও পাবে না যে আসলে সে ইসলামের কাজই করছে।

"তারা যেমন ছলনা করতো তেমনি আল্লাহও ছলনা করতেন, বস্তুতঃ আল্লাহর ছলনা সবচেয়ে উত্তম" - আল কোর'আন (৮:৩০)
১১. ১০ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ৯:২৯
comment by: আবূসামীহা বলেছেন: সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস (রাঃ) রসূলুল্লাহ্‌র (সঃ) মামা হন, চাচা নন।
১২. ১০ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ৯:৪৪
comment by: হ্যারি সেলডন বলেছেন: চাইনাই সাইদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রাঃ) এর কবর আছে, মনে হয় ক্যান্টনে।
১৩. ১০ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ৯:৫৩
comment by: মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: গুড জব +
১৪. ১০ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ৯:৫৩
comment by: আবূসামীহা বলেছেন: উইঘুররা তুর্কী মুসলমান - পূর্ব তুর্কিস্তানের (সিনকিয়াং) বাসিন্দা। চীনা কমিউনিস্টরা পূর্ব তুর্কিস্তান দখল করে নেয় ১৯৪৯ সালে।

হুইরা মূলত হান। কিন্তু মুসলিম হবার কারণে হান চীনারা তাদেরকে হুই বলে অভিহিত করে - যার মানে হল তুর্কী ধর্মাবলম্বী।
১৫. ১১ ই এপ্রিল, ২০০৮ ভোর ৬:৫২
comment by: ত্রিভুজ বলেছেন:

চমৎকার পোস্টের জন্য ধন্যবাদ মাহিরাহি।

স্টার প্লাস!

১৬. ১১ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ৯:২৩
comment by: সোনার বাংলা বলেছেন:
শেয়ার করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
১৭. ১১ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ৯:১৩
comment by: ফারজানা মাহবুবা বলেছেন:
উইঘুরের একটা মেয়ে আমার বেশ ভাল বান্ধবী ছিল……… ওভারঅল চীনে মুসলিমদের অবস্থা ভালনা। বিশেষ করে উইঘুর এর মুসলিমদের। অশিক্ষা চরম। চীন সরকার ওখানে মুসলিম টীচার নিয়োগে অনেক কড়াকড়ি করে। একসময় হুজুগের মাথায় আমি নিজে এপ্লাই করেছিলাম। কিন্তু কয়েকজন শুভাকাংখী কড়াভাবে বললেন- ওখানে বিনা নোটিশে মুসলিম ইন্টেলেক্টরা গুম হয়ে যায়…… উইঘুরের ঐ মেয়েটার নাম ছিল গুলবানু। দারুন চাইনিজ সুন্দরী।……… আপনার পোষ্টটা অনেকদিন পর গুলবানুর কথা মনে করিয়ে দিল।
১৮. ১১ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ৯:৩৯
comment by: আবূসামীহা বলেছেন: ফারজানা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছো উইঘুর মেয়েটার নাম গুলবানু। এটা চীনা নাম নয়। উইঘুররা তুর্কী বলে ওরা আরবী, ফার্সী এবং তুর্কী নাম রাখে। তাদের তুর্কী ডায়ালেক্টও তারা এখনও আরবী বর্ণমালাতে লিখে।

কিন্তু হুইরা মুসলিম হবার পরও চীনা নাম রাখে, যেমন আলোচ্য পোস্টের ঝাং চেংজি।

উইঘুরদের জানতে নীচের লিংক:
EAST TURKISTAN INFORMATION CENTER
১৯. ২৫ শে এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১১:২৪
comment by: েক আিম বলেছেন: চমৎকার। ইসলাম আসছে, মহান আল্লাহ রহমতে যারা এক ফুৎকারে ইসলাম নিবিয়ে দিতে চায়, তাদের সেই আশায় গুড়ে বালি দিয়ে ইসলাম আজ ইউরোপ, আমেরিকা আর দূরপ্রাচ্যের সবচেয়ে দ্রুত গ্রহনীয় ধর্ম।
২০. ০৮ ই জুন, ২০০৮ রাত ১২:৩১
comment by: আলিফ দেওয়ান বলেছেন: চীনাদের ধরে মাহি মেরে দেয়া হউক।

 



 


বাড়ী আখাউড়া।
আখাউড়া রেলওয়ে হাইস্কুল থেকে পাস করে সোজা ঢাকায় চলে আসি।
কিছুদিন সিটি কলেজে ছিলাম। ছিলাম জগন্নাথেও।
তারপর টোকিওতে কাটিয়েছি সাড়ে...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ৫১৭৫৭