ক্রিং ক্রিং টেলিফোনে বেজেই চলেছে। একসময় রিসিভার কানের কাছে তুলল সজীব।
ওপাশ থেকে একটি মেয়ের কন্ঠ ভেসে এল রুনী আছে।
রং নাম্বার, উত্তর দিল সজীব।
দু:খিত, ওপাশ থেকে বলল মেয়েটা।
আর কিছুক্ষনের মধ্য যে মারা পড়ছে তার কাছে দু:খ প্রকাশের কিছু নেই।
মানে? ওপাশ থেকে চমকে চেচিয়ে উঠল মেয়েটি।
জ্বী কিছুক্ষনের মধ্যে মারা পড়ছি আমি। সজীব নির্জীব কন্ঠে বলল।
দুষ্টুমি হচ্ছে নাত, আর মারা পড়বেনই ত কিভাবে এবং কেন?
মেয়েটির কন্ঠে এখনো উৎকন্ঠা।
আমি সামনে গুটা কুড়ি উচ্চমাত্রার ঘুমের ট্যাবলেট নিয়ে বসেছি, এখন থেকেই একটার পর একটা গেলা শুরু করব এখনই। সবগুলো খেলে নির্ঘাৎ মৃত্যু।
আপনি আত্মহত্যা করতে যাচ্ছেন, কেন? কার প্রতি এই অভিমান?
বলতে পারেন আপনার মত একটি মেয়ের উপর অভিমান করেই কাজটি করতে যাচ্ছি আমি।
ও: প্রেমে ছ্যাকা? কিন্তু একটি মেয়ের জন্যইবা শ্রষ্টা প্রদত্ত জীবনটা বিসর্জন দিতে যাবেন কেন? নতুন কারো সন্ধান করলেই ত হয়।
শেষপর্যন্ত একই ব্যাপারের পুনরাবৃত্তি ঘটবে। আক্ষেপের সুরে বলে সজীব।
আপনার মা বা কোথায়।
দুদিনের জন্য কক্সবাজার গেছে বেড়াতে।
আপনাকে একা ফেলে।
আমি ছোট্ট বাচ্চা না, আমার বয়স কয়টা দিন পরই বিশ ছুবে।
কিন্তু এখন ত আপনি ছোট বাচ্চার মতই আচরন করছেন।
আপনি মনে করছেন আমি ফাজলামি করছি না, বলেই দুটো ঔষধ গিলে ফেলল সজীব।
দুইটা দিয়ে শুরু করলাম।
মেয়েটি কোথায় থাকে জানতে পারি কি? ওপাশের মেয়েটি বুদ্ধিমত্তার সাথে প্রসংগ পাল্টায়, জানেনা সে করবে। শুধু এখন ছেলেটির কাছে থেকে কথা বলে যতই সময় বার করে আনা যায় ততই মংগল।
পাশের ফ্লাটে।
কোনদিন প্রপোজ করেছেন কি?
সুযোগ পাইনি কিংবা দেইনি। পাচটা বছর পাশাপাশি বাস করছি, কথা বলা ত দুরের কথা, একবার তাকায়ও নি।
বাহ্ বাহ্ যে মেয়েটি আপনাকে একটু পাত্তাও দেই নি তার জন্য প্রানপাত করবেন।
আপনি কাউকে কোনদিন ভালবাসেননি বোধহয়, তাই আমার মনের অবস্থাটুকু বোঝা আপনার পক্ষে সম্ভব নয়। আপনার জীবনের সবচাইতে সুন্দর স্বপ্নগুলো আর মাত্র কয়টা দিনেই ভেংগে চুরমার হতে যাচ্ছে, সামনের সপ্তাতে মেয়েটির বিয়ে।
দেখুন আমিও একটি ছেলেকে ভালবাসতাম, আর কিছুদিন পর ছেলেটির অন্য জায়গায় বিয়ে হয়ে যাবে। খুবই হতাশ হয়ে পড়েছিলাম, কিন্তু পরিবারের প্রতি আর অন্যসবকিছুর প্রতি আমার দায়িত্ববোধ আমাকে সংযত করেছে।
সজীব আরো কয়টা ট্যাবলেট মুখে তুলে দিল।
আমাকে বুঝিয়ে কোন লাভ নেই। শুধু যে মেয়েটি তা নয় আরও সব কারন আছে, যা জগতের ব্যাপারে আমাকে উদাসীন করে তোলেছিল।
সজীবের গলা ক্রমশ: জড়িয়ে আসছে, ঔষধের প্রতিক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে
আপনি মরলেও আমার কিছু যায় আসে না। কিন্তু আপনাকে নিয়ে কিছু মানুষকে ভোগতে হোবে। এমনিতে বেচে থাকলেও যে কম ভোগাবেন তার নিশ্চয়তা নেই।
আমি লাইন কেটে দিচ্ছি, আমার আর কথা বলার শক্তি নেই। সজীব নির্জীব কন্ঠে বলে।
আর একবার জীবনের দিকে তাকানোর চেষ্টা করুন। বাইরের সুন্দর প্বথীবির দিকে তাকিয়ে দেখুন, উপভোগের অনেক কিছুই আছে। মেয়েটি মরিয়া হয়ে বলে।
বাইরের দিকেই তাকিয়ে আছি আমি, মসজিদের বিবর্ন মিনার, উল্টো পাশের বারান্দায় নিরন্তর অবসর নিয়ে বসে থাকা বৃদ্ধ মানুষটি, উৎকট নীল রংগা দালানটি আমাকে আরো বেশি হতাশ করেছে। বলতে বলতেই সজীবের হাত থেকে রিসিভারটি খসে পড়ে।
ওপাশের মেয়েটি রিসিভারটি হাত থেকে নামিয়ে উদাস দৃষ্টিতে তাকায় বাইরের দিকে।
তাকিয়েই চমকে উঠে, মসজিদের বিবর্ন মিনার, উল্টো পাশের বারান্দায় নিরন্তর অবসর নিয়ে বসে থাকা বৃদ্ধ মানুষটি, উৎকট নীল রংগা দালানটি তার চোখের সামনে দেখতে পায়।
দরজার দিকে দৌড়ায় মেয়েটি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


