somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জ্যান্ত কবর

২৯ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ৯:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তনুকে ওরা জ্যান্ত কবর দিয়ে দিল। হাতপা বাধা, মুখটাও কাপড় দিয়ে আটকে দিল যাতে চিৎকার করতে না পারে। তারপর ওরা ওকে নামিয়ে দিল পুরানো একটা কবরে যা কিনা দেবে গিয়ে বড় একটা গর্তের সৃষ্টি করেছিল। ওপরে ডালপালা ভেংগে ঢেকে দেয়া হল, কোনভাবেই বুঝার উপায় রইল যে একটা জ্যান্ত মানুষকে নীচে শুইয়ে রাখা হয়েছে।

ঘটনার শুরু সন্ধার আগ দিয়ে। তনু দাড়িয়ে দাড়িয়ে কবরখানার পাশের মাঠটিতে ক্রিকেট খেলা দেখছিল। রাস্তার কাগজ কুড়িয়ে দিন যাপিত হয় তনুর। সুযোগ পেলে অন্য ছেলেপুলের খেলা দেখে, নিজে খেলতে পারার কোন সুযোগ নেই বলেই। ভাল খেলা হলে হাত তালি দিয়ে আনন্দে ফেটে পড়ে। আজকে খেলার একটি মুহুর্তে টেনিস বলটি উড়ে গিয়ে পড়ল পাশের কবরখানায়। খেলতে থাকা ছেলেগুলোর কারো সাহস হল না শেষ বেলায় কবরে বল খুজে বের করার।
ছেলেগুলো পিছু হটলে তনু কবরখানার দেয়াল টপকে প্রবেশ করে ভেতরে। বলটা আরো ভেতরে গিয়ে পড়েছিল। খুজতে খুজতে ঝোপঝাড়ের মাঝে অদৃশ্য হয় ও। বলটা খুজে পায় যখন ও ঠিক ঐসময়টিতে জনাকয়জন ঝাপটে ধরে ওকে।
ওদেরকে ঠিক চিনতে পারে ও। স্থানীয় ভাষায় হেরোইনচি বলা হয়ে থাকে ওদের। নেশোখোর। নেশার টাকার জন্য ওরা সবকিছুই করতে পারে ওরা। মানবিক গুনাবলীর কিছুই আর অবশিষ্ট নেই ওদের মধ্যে।

শুরুতেই তনুকে বেধে ফেলল ওরা। সিদ্ধান্ত নিল ওকে জ্যান্ত কবর দেবার, ওদের অস্তিত্ব বাইরের কেউ যাতে টের না পায়।

একটু পরেই অন্ধকার নেমে এল। চারিদিকেই কবরের নিস্তব্দতা, আক্ষরিক অর্থেই।
ক্রমশ: ভয়ে আতংকে নির্জীব হয়ে এল তনুর দেহ এবং মন দুটিই। তনু এমনিতে খুব সাহসী ছেলে। কিন্তু রাত গভীর হতেই কুকুর কিংবা শিয়াল আশেপাশেই কোথাও যখন ডাকতে শুরু করল তার ছোট্ট মনটা ভয়ে মোচড়াতে লাগল। মনে পড়ল গরীব মায়ের কথা, যিনি তার ফেরার পথ চেয়ে বসে আছেন। মায়ের কথা মনে পড়তেই চোখ বয়ে জনল নামল তার। চোখের সামনে কেবলই অন্ধকার, মাঝে মাঝে কেবল আকাশে আলোর ঝিলকানি চোখে পড়ছে, আশেপাশে হয়ত কোথাও ওয়েলডিং করা হচ্ছে।

অনেকটা অচেতন অবস্থাতেই রাত কাটল ওর। ভোরের আলো ফুটতে আস্তে আস্তে সব মনে পড়ল ওর। বেচে ওঠার চিন্তাটা শুরু হল মাথার ভেতর তখনই। হাত পা কষে বাধা হয়েছে। সূর্য আস্তে মাথার ওপর জেগে ওঠতে শুরু করল। হঠাৎ করে তার মনে পড়ল রাতের আলোর ঝলকানি কথা সাথে করে গতকাল রাস্তার কুড়িয়ে পাওয়া এক টুকরা সুন্দর মত কাচের টুকরার কথা যা এখনো তার পকেটে আছে।
তার মাথায় এখন একটিই চিন্তা কি করে কাচের টুকরাটিকে হাতের মুঠোতে আনা যায়।
বাধা হাত দুটো আস্তে আস্তে নিয়ে এল সে পকেটের কাছে। নড়তে চড়তে খুব কষ্ট হচ্ছে তার।

কবরের একপাশে বৃদ্ধ আমির আলীর বাস। গত ৩০ বছর ধরে কবর রক্ষকের কাজ করছে আমির আলি। কবরখানাটির ওপর মায়া জন্মে গেছে তার, দুই সন্তান বড় হয়ে অন্য কোথাও বাসস্থান গড়েছে কবরখানার বাপের সংসারটি পছন্দনীয় নয় বলে। কিন্তু আমির আলী অন্য কোথাও যেতে রাজী হয়নি, সাথে রয়ে গেছে তার বৃদ্ধা বৌটিও
দুপুর বেলায় খাবার সেরে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়েছিল আমির আলি। ঠিক ঐসময়টিতে কবরখানা থেকে আলোর ঝলকানি তার চোখে পড়ে যা, এদিক ওদিক ছুটাছুটি করছিল। তার স্ত্রী ভয় পেয়ে গেলেও আমির আলী আলোর উৎস খুজতে কবরখানার ভেতরে হাটা দেয়। একসময় ঠিকই খুজে পায় উৎসটি। একটু ভয় করতে থাকলেও দোয়া দরুদ পড়তে পড়তে ঝোপঝাড়গুলো সরাতে থাকে। তারপর চমকে ওঠে আবিস্কার করে সাতআট বছরের একটা বাচ্চাকে হাতপা বেধে ফেলে রাখা হয়েছে, কবরের গর্তে।
সব সংশয় ফেলে আমির আলি দ্রুত হাতপা চালায় তনুকে উদ্ধার করতে। সবশেষে তনু মায়ের কাছে ফিরে আসে আসে নেশখোরদের আশ্রয় হয় কারাগারে।
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকাল

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫১



আজকাল আমার মনে হয় -
আমাকে কেউ পছন্দ করে না,
কারো কাছে গেলে, সে বিরক্ত হয়।
পোশাক অগোছালো, এলোমেলো চুল,
চোখের দৃষ্টি কেমন ঘোলাটে!
বীরত্ব দেখানোর কিছু নেই।
চতুর পুরুষ স্ত্রীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে ৯টি বছরঃ একজন লিলিপুটিয়ান থেকে সত্যিকার ব্লগার হয়ে উঠার গল্প

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

আজ আমার ৩য় বইয়ের জন্য চুক্তি করতে প্রকাশক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রকাশনা সংস্থা 'উত্তরণ'-এর মাসুদ ভাইয়ের বাংলাবাজারের অফিসে ঘণ্টাখানেক ছিলাম। তাঁর সাথে কথা বলতে বলতেই আমার মনে একটি বোধোদয় আসে! আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×