দুই যুগও হয়নি পৃথিবীর অর্ধেকটাই শাসন করত নাস্তিক শাসকেরা

০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৯:৩৫

শেয়ার করুন:                   Facebook

পৃথিবীর অনেকগুলো দেশকে দীর্ঘ সময় শাসন করেছিলেন এইসব শাসকেরা।
কি দিয়েছেন তারা পৃথিবীকে? লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা পড়েছে এদের হাতে, মানবাধিকার হয়েছে লংঘিত। এদেশগুলোর অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছিল। দেশগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল বহির্বিশ্ব থেকে। ঠান্ডা স্নায়ু যুদ্ধে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল পৃথিবী।
একটি কাজ তারা ভালমতেই সেরেছেন, তা হল দেশগুলো থেকে ধর্মকে বিতাড়িত করা।

মংগোলিয়া লামাবাদ বা লামাইজমকে একেবারেই মুছে দেয়া হয়েছিল। বুদ্ধের সেক্যুলার ধর্মও তাদের মনপুত: হয়নি। স্তালিনের সাগরেদ মংগোলিয়া একনায়কের হাতে মারা পড়েছিল ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষ।
খোদ স্তালিনের হাতে কত লক্ষ মানুষ পড়েছে বা সাইবেরিয়ায় নির্বাসিত হয়েছিল, পৃথিবী প্রথম জানতে পারে সদ্য প্রয়াত লেখক আলেক্সান্ডার সোলজনৎস্কি লেখা থেকে।
চীনের বিরুদ্ধে এখনো মানবাধিকার লংঘন কিংবা বাকস্বাধীনতা হরনের অভিযোগ করা হয়।
বল্গে প্রায়শ:ই তালেবানদের নিয়ে ব্যংগ বিদ্রুপ করেন, বলেন মানবাধিকার লংঘনের কথা। কিন্তু এর আগে নাস্তিক শাসকেরা আফগানিস্তানের কি হাল করেছিলেন তা ভুলে যান। মোহাম্মদ দাউদকে হত্যা করে যখন সেখানে কমিউন্যিজম প্রতিষ্ঠার আয়োজন চলে তখন প্রথম ধাক্কাতেই মেরে ফেলা হয় ১১ হাজার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে।
একলক্ষ রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক নেতৃত্ব কাবুল ছেড়ে পালিয়ে যায়, যার ফলে সবক্ষেত্রেই শূন্যতার সৃষ্টি হয়। ধর্মকে মুছে ফেলার আয়োজন চলে। দাড়ি রাখা নিষিদ্ধ করা হয়, বোরখা পড়া নিষিদ্ধ করা হয়, মসজিদের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়। সর্বত্র সৃষ্টি করা হয় অরাজক পরিস্থিতির।
১৯৭৮ থেকে ১৯৭৯ সালে আরো মারা হয় ২৭ হাজার মানুষকে, যার অধিকাংশ ছিলেন মোল্লা কিংবা গোত্র প্রধান। আমিরিকান রাষ্ট্রদুতকেও মারতে দ্বিধা করেনি এরা।

শুধুমাত্র তালেবানরাই কি বুদ্ধমুর্তি ধংস করেছিল, নাস্তিকেরাও তাদের শাসনামলে কম্বোডিয়ায় বুদ্ধমুর্তি ধংস করেছিল। প্রার্থনা করলে কিংবা ধর্মীয় আবেগ অনুভূতি প্রকাশ করলে সাথে সাথে মেরে ফেলা হত। মুসলমানদেরকে বাধ্য করা হত শুয়োরের মাংস খেতে। এদের হাতে ৮০% খ্রিষ্টান মারা পড়ে। মারা পড়েন অনেক ইমাম, পাদ্রী।

উত্তর কোরিয়ার এখনো মুক্তি ঘটেনি অর্ধ উন্মাদ একনায়কের হাত থেকে।
জনগন যখন না খেয়ে মরছে, এ তখন জৌলুষময় জীবন যাপনে ব্যস্ত। এদেশটির রয়েছে পৃথিবীর নিকৃষ্টতম মানবাধিকার লংঘনের ইতিহাস। এর বাবার বিরুদ্ধে রয়েছে অন্যদেশে বোমাবাজির মত সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ।

শেষ করছি একটি জোক দিয়ে।

এক বিদেশী গেছে মস্কোতে বেড়াতে।
সবজায়গায় কড়াকড়িতে বেচারা ত্যক্ত বিরক্ত। সবকিছুতে নজরদাড়ি।
হোটেলে ফিরে মন হালকা করার জন্য বেচারা টিভি খুলে বসল।
টিভি খুলতেই লেলিনের বক্তৃতা। অন্য চ্যানেল টিপলে, ওখানে স্তালিনের স্তুতি।
একের পর এক চ্যানেলে একই যন্ত্রনা। শেষ একটি চ্যানেল টিপলে পর্দায় কেজিবির মুর্তি ভেসে উঠল, হাতে পিস্তল তাক করা। ভাংগা ইংরেজীতে বিদেশীর দিকে তাকিয়ে বলল, আরেকবার চ্যানেল বদলিয়েছ ত গুলি মেরে মাথার খুলি উড়িয়ে ফেলব।

 

 

  • ৮ টি মন্তব্য
  • ১৬৬ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১০ জনের ভাল লেগেছে, ৬ জনের ভাল লাগেনি
১. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৯:৩৬
comment by: বিডি আইডল বলেছেন: গুলি মেরে মাথার খুলি উড়িয়ে ফেলব।
২. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৯:৪৭
comment by: সরপ বলেছেন: সুন্দর পোষ্ট।
৩. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৯:৫৮
comment by: মাহিরাহি বলেছেন: http://en.wikipedia.org/wiki/State_atheism

Click This Link
৪. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:২০
comment by: ত্রিভুজ বলেছেন:

তথ্যবহুল এবং সুন্দর পোস্ট...। ধন্যবাদ।
+ প্রিয়পোস্ট
৫. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:৩১
comment by: মাহিরাহি বলেছেন: ধন্যবাদ বিডিআইডল, সরপ এবং ত্রিভুজকে

৬. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:২৬
comment by: নাজমুল। বলেছেন: আপনার পোস্ট এর জন্য ধন্যবাদ। অনেক কিছু জানতে পারলাম। +
৭. ০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:৩১
comment by: বোলারস ব্যাকড্রাইভ বলেছেন: "আমিরিকান রাষ্ট্রদুত" কী জিনিস?
৮. ০৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:৪৩
comment by: মনজুরুল হক বলেছেন: "ত্রিভুজ বলেছেন:

তথ্যবহুল এবং সুন্দর পোস্ট...। ধন্যবাদ।
+ প্রিয়পোস্ট "

মোটেই তথ্যবহুল নয়।"শাসন করত নাস্তিক শাসকেরা"।পৃথিবীতে 'নাস্তিক শাসক' বলে কিছু ছিল না,এখনও নেই।শাসন করত কমিউনিস্ট শাসকেরা।

"atheism " এর লিস্টিটা দিলেন না যে?

৩০/৩৫ হাজার,১১ হাজার, ২৭ হাজার মানুষের মৃত্যু কি ৩০ লক্ষের চেয়ে বেশি ?

জার ২য় নিকোলাস বলশেভিক বিপ্লবের সময় কয় লাখ হত্যা করেছিল
খবর আছে?

যে সব দেশের কথা বললেন সে সব দেশের বিপ্লবের মূল কথা কি ছিল জানেন তো? "ডিকটেটরশিপ অব প্রলেতারিয়েত"।অর্থাৎ সর্বহারার একনায়কতন্ত্র।সেই সম্রাট,রাজা-বাদশা,আর পুঁজিবাদী/গণতন্ত্রীদের হাতে হাজার হাজার বছর ধরে কত কোটি প্রতিবাদীর মৃত্যু হয়েছে সেই পরিসংখ্যানটা দেখেন কোথাও পান কি না?

আর ওই লোকটির নাম 'লেলিন' নয়, লেনিন।

 



 


বাড়ী আখাউড়া।
আখাউড়া রেলওয়ে হাইস্কুল থেকে পাস করে সোজা ঢাকায় চলে আসি।
কিছুদিন সিটি কলেজে ছিলাম। ছিলাম জগন্নাথেও।
তারপর টোকিওতে কাটিয়েছি সাড়ে...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ৫১৭৬১