পৃথিবীর অনেকগুলো দেশকে দীর্ঘ সময় শাসন করেছিলেন এইসব শাসকেরা।
কি দিয়েছেন তারা পৃথিবীকে? লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা পড়েছে এদের হাতে, মানবাধিকার হয়েছে লংঘিত। এদেশগুলোর অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছিল। দেশগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল বহির্বিশ্ব থেকে। ঠান্ডা স্নায়ু যুদ্ধে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল পৃথিবী।
একটি কাজ তারা ভালমতেই সেরেছেন, তা হল দেশগুলো থেকে ধর্মকে বিতাড়িত করা।
মংগোলিয়া লামাবাদ বা লামাইজমকে একেবারেই মুছে দেয়া হয়েছিল। বুদ্ধের সেক্যুলার ধর্মও তাদের মনপুত: হয়নি। স্তালিনের সাগরেদ মংগোলিয়া একনায়কের হাতে মারা পড়েছিল ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষ।
খোদ স্তালিনের হাতে কত লক্ষ মানুষ পড়েছে বা সাইবেরিয়ায় নির্বাসিত হয়েছিল, পৃথিবী প্রথম জানতে পারে সদ্য প্রয়াত লেখক আলেক্সান্ডার সোলজনৎস্কি লেখা থেকে।
চীনের বিরুদ্ধে এখনো মানবাধিকার লংঘন কিংবা বাকস্বাধীনতা হরনের অভিযোগ করা হয়।
বল্গে প্রায়শ:ই তালেবানদের নিয়ে ব্যংগ বিদ্রুপ করেন, বলেন মানবাধিকার লংঘনের কথা। কিন্তু এর আগে নাস্তিক শাসকেরা আফগানিস্তানের কি হাল করেছিলেন তা ভুলে যান। মোহাম্মদ দাউদকে হত্যা করে যখন সেখানে কমিউন্যিজম প্রতিষ্ঠার আয়োজন চলে তখন প্রথম ধাক্কাতেই মেরে ফেলা হয় ১১ হাজার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে।
একলক্ষ রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক নেতৃত্ব কাবুল ছেড়ে পালিয়ে যায়, যার ফলে সবক্ষেত্রেই শূন্যতার সৃষ্টি হয়। ধর্মকে মুছে ফেলার আয়োজন চলে। দাড়ি রাখা নিষিদ্ধ করা হয়, বোরখা পড়া নিষিদ্ধ করা হয়, মসজিদের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়। সর্বত্র সৃষ্টি করা হয় অরাজক পরিস্থিতির।
১৯৭৮ থেকে ১৯৭৯ সালে আরো মারা হয় ২৭ হাজার মানুষকে, যার অধিকাংশ ছিলেন মোল্লা কিংবা গোত্র প্রধান। আমিরিকান রাষ্ট্রদুতকেও মারতে দ্বিধা করেনি এরা।
শুধুমাত্র তালেবানরাই কি বুদ্ধমুর্তি ধংস করেছিল, নাস্তিকেরাও তাদের শাসনামলে কম্বোডিয়ায় বুদ্ধমুর্তি ধংস করেছিল। প্রার্থনা করলে কিংবা ধর্মীয় আবেগ অনুভূতি প্রকাশ করলে সাথে সাথে মেরে ফেলা হত। মুসলমানদেরকে বাধ্য করা হত শুয়োরের মাংস খেতে। এদের হাতে ৮০% খ্রিষ্টান মারা পড়ে। মারা পড়েন অনেক ইমাম, পাদ্রী।
উত্তর কোরিয়ার এখনো মুক্তি ঘটেনি অর্ধ উন্মাদ একনায়কের হাত থেকে।
জনগন যখন না খেয়ে মরছে, এ তখন জৌলুষময় জীবন যাপনে ব্যস্ত। এদেশটির রয়েছে পৃথিবীর নিকৃষ্টতম মানবাধিকার লংঘনের ইতিহাস। এর বাবার বিরুদ্ধে রয়েছে অন্যদেশে বোমাবাজির মত সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ।
শেষ করছি একটি জোক দিয়ে।
এক বিদেশী গেছে মস্কোতে বেড়াতে।
সবজায়গায় কড়াকড়িতে বেচারা ত্যক্ত বিরক্ত। সবকিছুতে নজরদাড়ি।
হোটেলে ফিরে মন হালকা করার জন্য বেচারা টিভি খুলে বসল।
টিভি খুলতেই লেলিনের বক্তৃতা। অন্য চ্যানেল টিপলে, ওখানে স্তালিনের স্তুতি।
একের পর এক চ্যানেলে একই যন্ত্রনা। শেষ একটি চ্যানেল টিপলে পর্দায় কেজিবির মুর্তি ভেসে উঠল, হাতে পিস্তল তাক করা। ভাংগা ইংরেজীতে বিদেশীর দিকে তাকিয়ে বলল, আরেকবার চ্যানেল বদলিয়েছ ত গুলি মেরে মাথার খুলি উড়িয়ে ফেলব।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

