somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইসরায়িলী রাষ্ট্রটির ইতিবৃতি

০৩ রা জানুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হজরত ওমর রা: এর খেলাফতের সময় ইহুদিরা দীর্ঘ ৫০০ বছর পরে জেরুজালেমে বসতি গড়ার অনুমতি পায়। অনুমতি দেন তখন ইসলামের ২য় খলিফা, জেরুজালেম তখন মুসলমানদের অধীনে।
ইহুদিদের স্বর্নযুগ বলে যে সময়টি অভিহিত করা হয় তা ছিল স্পেনে মুসলমানদের শাসনামলে। সমগ্র ইউরোপ থেকে যখন ইহুদিদের কচুকাটা করা হচ্ছিল তখন তারা দলে দলে মুসলমানদের স্বাসনাধীন স্পেনে পাড়ি জমায়।
মুসলমান শাসকেরা নিরাপত্তা দেন। শুরু হয় ইহুদিদের স্বর্ন যুগের। অর্থনীতি,সংস্কৃতি আর বিজ্ঞানে ইহুদিদের ব্যপক উন্নতি ঘটে। স্পেনে মুসলমানদের শাসনের অবসান ইহুদিদের জন্য দুর্যোগ বয়ে আনে।
স্পেনের নতুন শাসকরা শুরু করে ইহুদি নিধন। খ্রীষ্ট ধর্মে ধর্মান্তর ঘটিয়েও জান বাচানো দায় হয়ে পড়ে। ফলে ইহুদিরা পাড়ি জমায় পর্তুগালে।

অধিকাংশ খ্রিষ্টানদের ধারনা ইহুদিদের ষড়যন্ত্রে জেসাসকে কঠিন নির্যাতন করে ক্রুসবিদ্ধ করা হয়। মেলগিবসনের তার ছবিতে এটি বলতে চাওয়াতে ইহুদিদের তোপের মুখে পড়তে হয় তাকে। এমনকি তার ক্যারিয়ারও হুমকির মুখে পড়ে। প্রচার করা হয় মেল গিবসন ইহুদি বিদ্ধেষী।
যদিও জেসাস ইহুদিদের ধর্মগ্রন্হকে বাতিল করে দেননি, সংযোজন ঘটিয়েছিলেন নিউটেষ্টামেন্টের।

যাহোক খ্রীষ্ট ধর্মের আবির্ভাবের পর ইহুদিরা কোন না কোনভাবে খ্রিষ্টানদের কোপানলে পড়তে থাকে।
১৯শতকে আরো বেশি বিপর্যয়ে পড়ে ইহুদিরা। ইউরোপে জাতিয়তাবাদের উথান আর বিভিন্ন আদর্শবাদের আবির্ভাবে ইহুদিদের অস্তিত্ব বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। ইউরোপিয়ানরা ইহুদিদের নাগরিক মর্যাদা দিতে অস্বীকার করে। তাদেরকে অভিহিত করে বহিরাগত হিসাবে। উথান ঘটে এন্টি সেমিটিজমের । সরকারীভাবেও মদদ দেয়া ইহুদি দমনের। যা কিনা প্রগ্রম নামে পরিচিত। ১৮৭০ সালের দিকে রাশিয়ায় এই প্রগ্রমের মুখোমুখি লাখ লাখ ইহুদি রওয়ানা দেয় ফিলিস্তিনের দিকে জান বাচাতে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ব্রিটিশরা ইহুদিদের সাহায্য প্রার্থনা করে জার্মানদের বিরুদ্ধে। বিপরীতে ব্রিটিশরা ফিলিস্তিনে ইহুদিদের একটি আবাসভূমি ঘটনের ঘোষনা দেন বেলফোর ডিক্লারেশনে। যদিও ওটি ছিল সিরিয়ার একটি প্রদেশ। তখন থেকেই দলে দলে ইহুদিদের আগমন ঘটতে থাকে ফিলিস্তিনে।অথচ এর আগে কখনোই ঐ অন্চলে ইহুদিদের জনগোষ্ঠি সমগ্র জনগোষ্ঠির ১০%এর উপরে ছিল না। ইহুদিদের আগমন ঠেকাতে ব্রিটিশরা বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়। ইহুদিদের জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অনেক ইহুদিকে কারাবন্দিও করা হয়। কারন ব্রিটিশরা তেল সমৃদ্ধ আরবদের সাথে ভাল সম্পর্ক রাখতে আগ্রহী ছিল। ১৯৩৯ সালের স্বেতপত্রে ব্রিটিশরা ঘোষনা করে আগামী পাচ বছরে ফিলিস্তিনে ইহুদি অভিবাসিদের সংখ্যা ৭৫হাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। এরিমধ্যে ফিলিস্তিনকে দুটি ভাগে ভাগ করে হয়। একটি ভাগে ইহুদি আরেকটি ভাগে ফিলিস্তিনিদের আবাসের ব্যবস্থা করা হয়। হিটলারের মত একনায়েকেরা যখন ইউরোপে ইহুদি নিধনে মেতে উঠে তখন ইহুদিরা ব্রিটিশদের আইন উপেক্ষা করে পাড়ি জমাতে থাকে ফিলিস্তিনে। পোলান্ড থেকে লাখে লাখে ইহুদিরা পাড়ি জমায় আরবভূমির দিকে। ব্রিটিশরা ইহুদি আগমন ঠেকাতে হাজার হাজার ইহুদিদের গ্রেফতার করে। একসময় ইহুদিরা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। ১৯৪৬ সালে ইহুদিদের একটি সংঘটন বোমা হামলা চালায় ফিলিস্তিনে অবস্থিত ব্রিটিশদের মিলিটারি হেডকোয়ার্টারে। কিন্তু মারা পরে নিরীহ ৯২জন সাধারন নাগরিক।

এদিকে ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘে একটি সনদে বলায় হয় ফিলিস্তিনকে দুটি রাষ্ট্রে ভাগ করা হবে একটি হবে আরবের আর একটি ইহুদিদের। জেরুজালেম স্বাসিত হবে সরাসরি জাতিসংঘের দ্বারা।
ব্রিটিশরা এর বিরোধিতা করলেও ধীরে ধীরে সরে আসতে থাকে ফিলিস্তিন থেকে। শুরু হয় আরব আর ইহুদিদের মধ্যে সংঘর্ষের। এসবকিছুরও পরেও ইহুদি এই অবৈধ অভিবাসিরা পশ্চিমাদের সাহায্য সহযোগিতায় সংঘটিতে হয়েছে। ফরাসীরা যুগিয়েছে নিউক্লিয়ার প্রযুক্তি। ১৯৫৭ সালে ইহুদি, ফরাসী আর ব্রিটিশ সম্বলিত শক্তির কাছে আরবরা পরাজিত হয়। ১৯৬৭সালের ৬দিনের যুদ্ধে আরবরা পুরোপুরি পরাজিত হয় জায়নিষ্ট শক্তির কাছে। ইহুদিরা আরো অনেক আরব অন্চল নিজেদের অধিকারে নিয়ে আসে।

ইউরোপে শত শত বছর ধরে বাস করেও ইহুদিরা ইউরোপিয়ানদের চোখে বহিরাগত ছিল। যে ইউরোপিয়ানদের অত্যাচার থেকে প্রান বাচাতে ইহুদিরা পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয় ফিলিস্তিনে, আরবদের হটিয়ে গড়ে তোলে অবৈধ আবাসন, আবার সেই ইউরোপিয়ানদের মদদেই ইহুদিরা যুগে যুগে হামলে পড়ছে নিরীহ আরবদের উপরে। ইউরোপিয়ানরা ইউরোপ থেকে ইহুদিদের ঝেটিয়ে দুর করে স্থান করে দিয়েছে ফিলিস্তিনে, যা ছিল পুরোপুরি অবৈধ। অথচ এই বেআইনি অভিবাসিরাই এখন আরবভুমির আসল মালিক আর ফিলিস্তিনিরা এখন সন্ত্রাসী।
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×