দামী পোশাকটাই ডোবাতে বসেছিল মালেক মিয়াকে।
পিয়ন মালেক মিয়া দশ বছরের চাকুরী জীবনে প্রথম গায়ে চড়িয়েছিল কোন দামী পোশাক।
তার অফিসটা ঢাকার একট অভিজাত এলাকায়। অফিসের কিছু দুরে একটা জায়গায় কয়টা ছেলে অস্রের মুখে আটকাল তাকে। ষন্ডা কিসিমের ছেলেগুলো তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে একটা টেবিলের সামনে বসালো। চোখের সামনে তুলে ধরল যে ছবিটি তা দেখে চমকে উঠল সে। দেখতে ঠিক তার মতন একটি লোক দামী একটা গাড়ীতে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে।
ছেলে কয়টি কিছুক্ষনের মধ্যে বুঝতে পারল যখন ভুল একজনকে ধরে নিয়ে আসা হয়েছে। মালেক মিয়া আর তার কাপড়চোপড় নিয়ে হাসি ঠাট্টা শুরু করল তারা।
রাস্তায় নেমেই লম্বা পায়ে দৌড়াল অফিসের দিকে। সারাদিন খচখচ করতে থাকল গায়ের দামী পোশাকটি। সন্ধায় বেরিয়ে রাস্তায় নামল যখন তখন গায়ের দামী পোশাকটি আবার কিছুটা মনে সুখানুভূতির সৃষ্টি করল মালেক মিয়ার মনে।
রাস্তার পাশে একটা সুপারমল চোখে পড়তে কিছু না ভেবেচিন্তেই ঢুকে পড়ল মালেক মিয়া।
বাহারী পন্যের মাঝে নিজেকে আবিস্কার করতে করতেই মলের এক কোনের দিকে দৃষ্টি আটকে গেল মালেক মিয়ার। সকালের ছবির লোকটি দাড়িয়ে আছে।
মোবাইলে কারো সাথে কথা কইছে। কিছুটা আতংকিত।
একটু কাছে গিয়েই কথা কয়টি শুনতে পেয়ে নিজেও আতংকিতবোধ করল মালেক মিয়া।
চাদাবাজীর কেস। দশলক্ষ টাকা চাদা চাইছে কিছু সন্ত্রাসীরা। প্রাননাশের হুমকি দেয়া হয়েছে কয়বার। সকালবেলার ছেলেগুলোরই কাজ।
আবার লম্বা পা ফেলে মল থেকে দৌড়িয়ে বেরিয়ে এল মালেক মিয়া।
উর্ধস্বাসে ছুটল বাড়ির দিকে। বাড়ি পোছেই ছুড়ে ফেলে দিল গায়ের দামী পোশাকটি।
কেন জানি মনে হল এটি তার জন্য নয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১২:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




