somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নবীজি সা: কে নিয়ে মিথ্যা প্রচারনাকারী নিজেদেরকেই অসম্মানিত করে

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ সকাল ১০:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একসময় ইউরোপ জুড়ে মিথ্যা প্রচারনা চালানো হয়েছিল ইসলাম আর নবীজি সা: কে নিয়ে। সাথে পোপ আর চার্চের উস্কানিও ছিল।

পৃথিবীখ্যাত ইতিহাসবিদ টমাস কারলাইল বলতে তাই বাধ্য হয়েছিলেন,

."এই মহামানবের সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য পশ্চিমারা অপপ্রচার চালানোর ব্যপারে যে উতসাহ উদ্দীপনা দেখিয়েছিল তাতে করে তারা নিজেদেরকেই অসম্মানিত করেছিল।"

."সংকল্পে অটল এই মহাত্বা পৃথিবীকে আলোকিত করার জন্য স্রষ্টা কর্তৃক নির্দেশিত হয়েছিলেন।"

"অনারম্ভর সহজ সরল জীবন যাপন ছিল নবীজি সা: এর। কিন্তু তার মহান লক্ষ্য বা উদ্দ্যেশ সাধনে তিনি সফল হয়েছিলেন, খুব কম সময়ের মধ্যে। "

ব্রিটিনিকা এনসাইক্লোপিডিয়ার ভাষায়,
"বিভিন্ন বিস্বাসযোগ্য বর্ননায় এটা সহজেই অনুমেয় কেবল সত আর নীতিতে অটল দায়িত্বশীল লোকের পক্ষেই সম্ভব নবীজি সা: মহাত্ব্য আর বিশালত্বকে বুঝতে পারা।"

হীনমন্য, দুরাচার,নীতিহীন, বিবেকবর্জিত, দায়িত্বহীন মানুষের পক্ষে কখনো সম্ভব নয় তার মহাত্ব্য আর বিশালত্বকে বুঝতে পারা।

ফরাসী বিখ্যাত সাহিত্যিক এবং ঐতিহাসিক লামারটাইনের ভাষায়,
মনুষ্য প্রতিভাকে যদি যাচাই করা হয় উদ্দ্যেশের মহাত্ব্যে, আয়াসসাধ্য প্রচেষ্টায় আশ্বার্যজনক ফলাফলের লাভের ভিত্তিতে তাহলে কার দু:সাহস আছে নবীজি সা: কে তুলনা করে আধুনিক ইতিহাসের কোন মহান ব্যক্তিত্বের সাথে।

তার মতে তিনি তার মহান উদ্দ্যেশ সাধনের যুদ্ধে জয়ী হলেও কখনোও ধৈর্যহারা, আত্মহারা হননি, বরন্চ তিনি নিজেকে সর্বোতভাবে উতসর্গ করেছিলেন একটি মাত্র উদ্দ্যেশে, তিনি ক্ষুদার্ত ছিলেন না কোন সামার্জ্য স্হাপনে। তার অশেষ প্রার্থনা, আল্লাহর সাথে রহস্যপুর্ন কথোপকথন, তার মৃত্যু, মৃত্যু পরবর্তী ইসলামের অগ্রযাত্রা সবই প্রমান করে যে তিনি প্রতারক ছিলেন না, ছিলেন একটি সত্য ধর্মের প্রবর্তক।

মাত্র ২৩ বছরের মধ্য তিনি পুরো আরব বিশ্বের চেহার বদলে দিয়েছিলেন।

মুর্তিপুজারি একটি জাতিকে একত্ববাদে দীক্ষিত করেন।
জাতিগত যুদ্ধে নিয়োজিত জাতিগুলিকে একতাবদ্ধ করেন।
মদ্যপায়ী, অসংযমী যৌনাচারে অভ্যস্থ একটি জাতিকে ভদ্র এবং বিনয়ী জাতিতে পরিনত করেন।
উশৃংখল এবং জংলী একটি জাতিকে সুশৃংখল জাতিতে পরিনত করেন।
নীতিবিবর্জিত জাতিকে পরিনত করেন একটি নীতিবান জাতিতে।

দুযুগের মধ্যে একটি সমাজের অভুতপুর্ব এই পরিবর্তন মানব ইতিহাসে কখনো ঘটেনি।

ভারতের বিখ্যাত কবি সরোজিনি নাইডু বলেছিলেন, আমি অবাক হয়েছি ইসলামের ঐক্য দেখে যা মানুষের মধ্যে অখন্ডনীয় ভ্রাতৃত্ববোধের জন্ম দেয়।

ইসলাম বিদ্ধেষীরা কাস্মীর, ইরাক কিংবা ফিলিস্তিনি মুসলমানদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করলে, ইসলামী বিশ্বের ভ্রাতৃত্ববোধের কথা বললে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে। কেননা ইসলামের এই মুল শিক্ষা আমরা ভুলে বসেছি অনেক আগেই। ইসলামের শত্রুদের জন্য তাই এখন সহজ হয়েছে শতধা বিভক্ত মুসলিম জাতিকে আক্রমনে শতছিন্ন করা।

তিনি আরো বলেছিলেন, এটাই প্রথম ধর্ম যা কিনা গনতন্ত্রের কথা শুধু বলেইনি চর্চাও করেছিল। দিনে পাচবার আজানের ধ্বনি শুনে মসজিদে যখন নামাজীরা সমবেত হন ইসলামে তখন গনতন্ত্রের চর্চাটি পরিলক্ষিত হয়, কেননা বাদশাহ গরীব পাশাপাশি মাথানত করে উচ্চারন করে, আল্লাহই কেবল সর্বশক্তিমান।

মহান এই ধর্মের প্রবর্তককে এখন অবমাননা করতে ইসলামের শত্রুদের একটুও বাধে না। তাদের ভাষায় উনি একজন প্রতারক ছিলেন (নাউযুবিল্লাহ)। এখন তাকে আক্রমনের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে এইসব মানবতার শত্রুরা। নি:সন্দেহে তারা ঈর্ষান্বিত।

মাইকেল এইচ হার্টের বিশ্বের ইতিহাসে ১০০জন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের লিস্টে হজরত মোহাম্মদ সা: এক নাম্বার ছিলেন। কেননা ধর্ম এবং সেক্যুলার উভয় লেভেলে তার সফল মানুষ দ্বিতীয়টি জন্ম নেইনি।
মহানবী সাঃ একজন ধ্রমের প্রবর্তক, একটি রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা, একটি জাতির প্রতিষ্ঠাতা, একটি নীতি বিষয়ক আইনের প্রবর্তক এবং বহু রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের প্রবর্তক।

বিখ্যাত কিছু ব্যক্তির মন্তব্য দেয়া গেল নিচে যা অনেক কিছুই প্রমান করে।

Sir George Bernard Shaw in 'The Genuine Islam,' Vol. 1, No. 8, 1936.
পৃ্থিবী তিনজন বিখ্যাত নাট্যকারের (সেক্সপিয়র, বার্নাড শ, ইবসেন) একজন।

আগামী একশ বছরে আরো কোন ধর্ম যদি ইংল্যান্ড আর ইউরোপকে শাসনের ক্ষমতা রাখে সেটা হল ইসলাম।

আমার কাছে ইসলাম এবং মুহাম্মদ সা: সবসময় আলাদা উচ্চতার গুরুত্ব বহন করে। এই একটি ধর্ম যা কিনা সব বয়সের মানুষের কাছে আবেদন রাখে এইজন্য যে মানুষের অস্তিত্বের বিভিন্ন পর্যায়ের পরিবর্তনের সাথে এটি সাংঘর্ষিক নয়।
আমি মুহাম্মদ সা: ব্যপারে পড়াশুনা করেছি। চমতকার একজন মানুষ, তিনি মানবজাতির ত্রানকর্তা

আমি বিশ্বাস করি তার মত মানুষের হাতে যদি সমগ্র আধুনিকা বিশ্বের ভার দেয়া হত, তাহলে তিনি তার সব সমস্যার সমাধান করতে পারতেন সহজে, পৃথিবী এনে দিতে পারতেন তার কাংখিত শান্তি এবং সুখ। আজকে যেমন ইউরোপে ইসলাম সমাদৃত হতে শুরু করেছে, আগামীতে তা আরো গ্রহনযোগ্য হয়ে উঠবে।

মুহাম্মদ সা: মুর্তিপুজারীদেরকে বিতাড়িত করে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এতিম ছিলেন, ছিলেন দরিদ্র . অন্যসব নবীদের মত তিনি লাজুক ছিলেন।
তিনি ছিলেন বাস্তববাদী। ছেলের মৃত্যতে যখন সূর্যগ্রহন শুরু হল, যখন বলা শুরু হল তার সন্তানের মৃত্যুতে আল্লাহ সমবেদনা জানাচ্ছেন, তিনি ঘোষনা করলেন এটি একটি প্রাকৃতিক ব্যপার, মানুষের জন্ম মৃত্যুর সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই।

তার মৃত্যুতে যখন তার অনুসারীরা হিস্টিরিয়াগ্রস্থ হয়ে পড়ল, তার মনোনিত প্রথম খলিফা ঘোষনা করলেন,
তোমাদের মধ্য যারা মুহাম্মদ সা: পুজা করতে জেনে রেখ তিনি মুত্যুবরন করেছেন, আর যদি তোমরা আল্লাহর এবাদত করে থাক তবে জেনে রেখ তিনি অমর।
[James A. Michener, ‘Islam The Misunderstood Religion’, In the Reader’s Digest (American Edition) for May 1955, pp. 68-70.]
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ সকাল ১১:৪০
২১টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×