somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি...............বান্দরবান......রুমা...... বগালেক......কেওক্রাডং......চিম্বুক......নীলগিরি............বাংলার এই সৌন্দর্য না দেখে কেন মানুষ এত আয়োজন করে বিদেশে যায় ???????

১৮ ই জুলাই, ২০১১ রাত ৯:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘুরে এলাম প্রকৃতির অপার বিস্ময় আমাদের পার্বত্য অঞ্চল।বাংলাদেশে এত সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে তা ছিল আমার চিন্তার বাইরে। এই অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে আপনাকে যেতে হবে প্রথমে বান্দরবান। ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে যেতে পারেন,অথবা চট্রগ্রাম হয়ে যেতে পারেন মাঝখানে যাত্রা বিরতি নিয়ে। চট্রগ্রাম থেকে সড়কপথে আড়াই ঘণ্টার পথ বান্দরবান। মূলত বান্দরবান শহরকে ঘিরেই আবর্তিত হয় এখানকার পর্যটন।
আপনারা খুব সহজেই যেতে পারেন চিম্বুক এবং নীলগিরি। বান্দরবান থেকে ৩০ কিমি দূরে হল চিম্বুক.. ওখানে সেনাবাহিনীর একটি ক্যাম্প আছে,মাঝখানে ভ্রমন বিরতি নিতে পারেন ওখানকার ক্যান্টিনে। মূলত,ওখান থেকেই শুরু হবে আপনার মুগ্ধতার পালা। চিম্বুক থেকে নীলগিরি ১৮ কিলো দূরে। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা কখনোই আপনাকে বুঝতে দিবে না যে আপনি বাস্তবে আছেন, নিজেকে মনে হবে কোন ছবির অংশ।
নীলগিরি তে কিছু কটেজ আছে থাকার জন্য, আগে থেকে বুকিং দিয়ে যেতে হবে থাকার জন্য। মেঘ স্পর্শ করার অনুভূতি আপনি নীলগিরিতেই পাবেন। চমৎকার সব অসামান্য অনন্যসাধারণ বিমুগ্ধকর দৃশ্য আপনাকে উপহার দিতে পারে এই নীলগিরি। আমি এমন কাউকে পাই নি যে নীলগিরি থেকে ঘুরে এসে অনুভব এবং প্রতিজ্ঞা করে নাই যে, তার প্রেয়সী কে নিয়ে এখানে না আসলে জীবনটা ই বৃথা!!!!
এখানে গাড়ি পারকিং এর জায়গা আছে, একটি দোকানও আছে, আছে ক্যান্টিন ও।
আপনার টার্গেট যদি হয় কেওক্রাডং তাহলে আপনাকে যেতে হবে রুমা..................এই জন্য আপনাকে ফিরে যেতে হবে আগের রাস্তায় চিম্বুক এর পথে, চিম্বুক থেকে আরও ৫ কিলো যাওয়ার পরে পাবেন একটি তিন রাস্তার মোড়, ওখান থেকে প্রায় ৩ ঘণ্টা লাগে রুমা যেতে, এই জন্য আপনাকে অবশ্যই চান্দের গাড়ি ভাড়া করতে হবে। গাড়ি ভাড়া করার কাজে সেনাবাহিনীর সাহায্য নিলে খরচ কিছু কমবে। অসংখ্য গর্তে এবং বাঁকে পরিপূর্ণ উঁচু নিচু এই রাস্তা আপনাকে বুঝতে সাহায্য করবে পাহাড়ি জীবন কত কঠিন!! একটা উপদেশ দিয়ে রাখি, চান্দের গাড়ীর ভিতরের দিকে বসার চেষ্টা করবেন, বিশ্বাস করেন, চাকার দিকে বসলে জীবনের আয়ুষ্কাল ৬ মাস কমে যাওয়ার আশংকা আছে!!!
রুমা থেকে নৌকাতে করে যেতে হবে রুমা বাজারে, প্রায় ১ ঘণ্টার মত লাগে নৌকাতে। আমি বাজি ধরে বলতে পারি, এই নৌকা ভ্রমনটা আপনার জীবনের শ্রেষ্ঠ নৌভ্রমন হতে যাচ্ছে সন্দেহাতীতভাবে। রুমা বাজারে থাকার জন্য কিছু হোটেল আছে, তবে আমার মতে কষ্ট করে হলেও দিনের মধ্যেই বগালেক চলে যাওয়া উচিত, রুমা বাজারে অবশ্যই বিকাল ৪ টার মধ্যে পৌছাতে হবে, ৪ টার পরে সেনাবাহিনী আর নতুন কোন চান্দের গাড়ি বগালেক এর উদ্দেশে রওয়ানা দেওয়ার অনুমতি দেয় না।
রুমা বাজার থেকে চান্দের গাড়িতে ৪ ঘণ্টা লাগে বগালেকে যেতে । এটা নিঃসন্দেহে বাস্তবের রোলার কোস্টার। রাস্তায় দেখবেন পাহাড়ি জীবনধারা, পার্বত্য বনাঞ্চল, হাতি। সবচেয়ে অবাক হবেন, এই খাড়া পাহাড়ে গাড়ি কিভাবে উঠবে ? প্রতিটা বাঁকেই আপনার মনে হবে, এইবারই বুঝি গাড়িটা নিচে পড়ে যাবে। ড্রাইভার গুলি খুবই দক্ষ, আর রিস্ক নিতে না চাইলে ঝিরিপথ দিয়ে হেটে চলে যেতে পারেন,কিন্তু তাতে সময় এবং শ্রম দুটাই বেশি খরচ হবে। বগালেকে থাকার জন্য কিছু কটেজ আছে, আর খাবারের জন্য সেনাবাহিনীর একটি হোটেল আছে। বগালেকে রাত্রিযাপন করাই শ্রেয়।
পরদিন খুব সকালেই রওয়ানা দিতে হবে কেওক্রাডং এই উদ্দেশে। আপনি পুরা ফিট হলে, হেটে উঠার জন্য সময় লাগে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা। ভাল কোন জুতা পরে যাওয়া ভাল। পথে চিংরিঝিরি পাবেন, অত্যন্ত সুন্দর এই ঝিরি, ছবির মত। উপর থেকে বগালেক ও পুরা ছবির মত লাগে। এইভাবে বেশ কিছু গ্রাম পার হয়ে আপনাকে উপরে যেতে হবে। শেষ গ্রাম টা থেকে লাগে ৪০ মিনিতের মত। এইভাবে একসময় আপনি চলে আসবেন কেওক্রাডং ।পথে পাহাড়ি কলা,পেপে এইসব পাবেন। উপরে উঠে যে ফীলিংস পাওয়া যায় তা বর্ণনা করা আমার পক্ষে সম্ভব না।
এখানে বিশ্রামের জন্য,দুপুরের খাবারের জন্য একটি হোটেল আছে। পাহাড়ি রান্নার টেস্ট পাবেন এইখানে, এত উপরে উঠার পরে এই খাবারকে মনে হয় অমৃত!!! কিছু ছবি শেয়ার করলাম
ছবি দেখতে এইখানে Click This Link

৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×