কেউ কেউ বলেন, খাটো মানুষের হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশী থাকে। এই কথা শুনে লম্বা মানুষের খুশি হওয়ার কিছু নেই। কারণ একটি সুইডিশ সমীক্ষায় দেখা যায়, লম্বা মানুষের প্রস্টেট ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেশী। সুইডেনের ঐ গবেষকরা ১৩,৫০০ জন নির্মাণ শ্রমিকের উপর এই সমীক্ষা চালান। ১৯৭১-৭৫ এর মধ্যে তারা ঐ শ্রমিকদের দৈহিক ওজন এবং কোমরের মাপ গ্রহণ করেন। উচ্চতাও মেপে রাখেন। পরবর্তী ২০ বছরের মধ্যে ঐ লম্বা শ্রমিকদের মধ্যে ২,৩৬৮ জনকে প্রস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। এদের মধ্যে ৭৮ জনের অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক বা মারাত্মক। গবেষকরা আক্রান্তদের দৈহিক উচ্চতার একটা পরিসংখ্যান রেকর্ড করেন। তাদের লক্ষ্য ছিল দেখা যে, দৈহিক আকার ও দীর্ঘতা প্রস্টেট ক্যান্সারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বা সম্পর্কিত কিনা। দেখা গেল দৈহিক আকার বা উচ্চতা এ রোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। লম্বা লোকেরা বেশীর ভাগ প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। শুধু লম্বা নয়, ওজন ও উচ্চতা দুটির এই রোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিশেষ করে মাংসপেশি ও হাড়ের কথা বলা হয়েছে। তার সঙ্গে দেহেরর চর্বি। দৈহিক উচ্চতা ও ওজন অপেক্ষা দৈহিক চর্বিই এ জন্য বেশি দায়ী। এই চর্বি বাড়লে প্রস্টেট ক্যান্সার হওয়ার ও মৃতু্র ঝুঁকি অধিক বলে গবেষকরা মনে করেন। লম্বা মানুষের এ রোগ বেশি হওয়ার কারণ কী? গবেষকরা বলছেন, এর বিভিন্ন কারণ রয়েছে। বংশের প্রভাব এ জন্য আংশিক এবং শৈশব ও কৈশোরের খাদ্যাভ্যাস এ জন্য দায়ী বলে মনে হয়। গবেষকদের মতে, লম্বা মানুষেরা যৌবনে দেহে এমন কিছু উৎপন্ন করে যা তার দেহে প্রস্টেট ক্যান্সার সেল তৈরীতে সহায়ক। যেমন insulin-like growth factor (IGF-1) একটি Testosterone and other androgenes পুরুষ হরমোন যা muscle mass এবং প্রস্টেট সেল উত্তেজক। সম্ভবত লম্বা ও হালকাপাতলা হওয়ার সঙ্গে ক্যান্সারের কোন সম্পর্ক রয়েছে। শরীরের বর্ধিত চর্বি সেক্স হরমোন বৃদ্ধি করে। এটাও একটা কারণ হতে পারে। অত্যাধিক খাদ্যের চর্বি প্রস্টেট ক্যান্সারের কারণও হতে পারে। আবার মোটেই ব্যায়াম নাও প্রস্টেট ক্যান্সারের উৎস হতে পারে। লম্বা ও মোটা মানুষ সমাজে একটা বিশেষ সুবিধা ভোগ করে। কিন্তু প্রস্টেট ক্যান্সারের ব্যাপারে তারা ঝুঁকিতে রয়েছে।
(সূত্র ঃ জার্নাল অব মেডিসিন, সুইজারল্যান্ড)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

