দীর্ঘ স্মৃতিবিজড়িত সেনানিবাসের বাড়ি ছাড়ার শেষ মুহূর্তে মায়ের দুঃসময়ে অস্থির হয়ে ওঠেছেন তারেক রহমান। ঢাকার মঈনুল রোডের বাড়ির দিকে যখন সারা বাংলাদেশের মানুষের দৃষ্টি তখন লন্ডনে নিজ আবাসস্থলে অস্থির সময় কাটিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক রহমান। লন্ডন স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে প্রতিমুহূর্ত তিনি কখনও পায়চারী করে, কখনও বসে অস্থির সময় কাটিয়েছেন। কিছুক্ষণ পর পর ঢাকায় সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে করেছেন ফোনালাপ। মায়ের সঙ্গে কথা বলে তাঁকে সাহস যোগানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপিরএকটি সূত্র বাংলানিউজকে এই তথ্য জানিয়েছে। যুক্তরাজ্য বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা রাতের একটি উল্লেখযোগ্য সময় তারেকের সঙ্গে কাটালেও স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ছাড়া আর কেউ ওই সময় তার পাশে ছিলেন না। স্বামীর অস্থিরতা দেখে স্ত্রী জোবাইদা কিছুক্ষণ পর পরই স্বামীকে শান্তনা দিয়েছেন। তারেক ওই সময় মায়ের কথা চিন্তা করে যেমন অস্থির হয়েছেন, তেমনি ভাই আরাফাত রহমান কোকোর অবস্থা জানতেও ছিলেন অস্থির। কোকোর সঙ্গেও তিনি কয়েকবার টেলিফোনে আলাপ করে তাকে শান্তনা দেন বলে জানা গেছে। সারারাত বিনিদ্র রজনী কাটিয়ে লন্ডন সময় শনিবার সকাল ১০টার দিকে স্ত্রীর চাপে তিনি বিশ্রাম নিতে বিছানায় যান।লন্ডনের সঙ্গে বাংলাদেশের সময়ের পার্থক্য ৬ ঘণ্টা হওয়ায় বাংলাদেশে তখন বিকাল ৪টা। খালেদা জিয়া এরমধ্যেই বাড়ি ছেড়ে দিয়েছেন বলে চূড়ান্ত খবর আছে তারেকের কাছে। এদিকে খালেদা জিয়ার বাড়ি ছাড়ার বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে দেখার বিএনপি মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের আহবানে তারেক রহমান বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। খালেদা জিয়ার বাড়িতে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ও বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার চাপের খবরে তারেক ঢাকায় টেলিফোন আলাপে দলের একজন সিনিয়র নেতাকে প্রশ্ন করেন এতো কিছু করার পর লাভ কী হলো? তিনি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে মন্তব্য করার আগে সিনিয়র নেতাদের আলাপ আলোচনার বিষয়েও পরামর্শ দেন। বাবার দীর্ঘ স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি ছেড়ে দিতে সরকারি অমানবিক আচরণের প্রতিবাদে সাংবাদিকদের সামনে উপস্থিত হতে বিএনপি ঘরানার সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন সাংবাদিক তারেককে পরামর্শ দিলেও তা গ্রহণ করেননি বলে জানা গেছে। ওই সাংবাদিক বলেছিলেন, এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে জিয়া পরিবারের প্রতি একটি সহানুভূতি তৈরি হবে। তারেক এই পরামর্শ অগ্রাহ্য করে বলেছেন, সাংবাদিক সম্মেলন বা দলীয় কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলে সরকার তার জামিন বাতিল করার সুযোগ পাবে।তবে যুক্তরাজ্য বিএনপিকে একটি সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্যে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। লন্ডন স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেলে এই সংবাদ সম্মেলন আহবান করা হয়েছে। যুক্তরাজ্য বিএনপি সভাপতি ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক কমর উদ্দিন সংবাদ সম্মেলনের কথা স্বীকার করে বাংলানিউজকে বলেন, ‘যে অমানবিক আচরণের মাধ্যমে শহীদ জিয়ার বিধবা পতিœ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হলো তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।
সুত্র- বাংলানিউজ এবং আমাদের সময়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

