কিছু লেখার জন্য হাত নিশপিশ করছিল। কিন্তু মাথা একদম অচল। কবিতা লিখতে বসলাম। বন্ধু রাসেল এর কথাটা মনে পড়ল হটাৎ । তার গুরুতর অভিযোগ আমি কবিতা ছাড়া আর কিছু লিখি না। তাও আবার প্রেম- ভালবাসা, ছ্যাকা খাওয়া ইত্যাদি । প্রেম- ভালবাসা ছাড়াও তো পৃথিবীতে অনেক বিষয় আছে। অর্থনীতি, সমাজনীতি, রাজনীতি, ধর্মনীতি আরও কত কি! এসব নিয়ে লিখি না কেন? অভিযোগটা যুক্তিসঙ্গত। ভাবলাম আজ এসব নিয়ে একটু ভেবে দেখা যাক।
প্রথমত অর্থনীতি বিষয়গুলো অত্যন্ত জটিল। এ সব আমার মাথায় ঢোকে না। আয়, ব্যয়, শেয়ার বাজার ইত্যাদি নিয়ে লেখার জন্য অগাধ জ্ঞানের প্রয়োজন। আমার এই ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক তা ধারণ করতে পারে না। বন্ধু সৈকত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়, পাচঁশত টাকা দিয়ে কিভাবে অতি সহজে পাচঁ হাজার টাকা পাওয়া যায় তা আমায় শিখাতে ডেসটেনি, বিজনেস ডট কম এ নিয়ে যাবার অনেক চেষ্টা করেছিল। আমার মোটা মাথাটা কিছুতেই তখন বুঝল না যে, কিভাবে শুধু মানুষ জোগাড় করে অল্প সময়ে টাকা দ্বিগুন-তিনগুন হয়। শেয়ার বাজারে বন্ধু আশরাফ লাখ টাকা ইনভেস্ট করে আমাক অনেক বোঝানোর চেষ্টা করল। কিন্তু আমি কিছুতেই বুঝতে পারলাম না শুধু ঘরে বসে কিভাবে মাত্র সাত দিনে পাচঁ হাজার টাকা পঞ্ছাশ হাজার টাকা । বন্ধু আশরাফ এক সময় বিরক্ত হয়ে বলল, তোকে দিয়ে কিছু হবে না । আমি বললাম আমিও জানি, আমায় দিয়ে কিছু হবে না। তুই আমায় মাফ কর। আমায় দিয়ে যা হবার আমি তাই করে খাব। যা বুঝি না তা করে বড় লোক হবার চেয়ে ,যা বুঝি তা করে না খেয়ে মরা ভাল।
সমাজনীতি আরও জ্ঞানগর্ভ বিষয়। খুন-খারাপি, মারামারি, ধর্ষণ, এসবের কারন অনুসন্ধান বা বিশ্লেষণ যারা করেন তাদের অগাধ জ্ঞানের ধারে কাছেও পৌছার সাধ্য আমার নেই। মানুষ হিসাবে আমি নিজেকেই ঠিকমত বুঝি না। কি করি, কেন করি, এসবের উত্তর নিজের কাছেই খুঁজে পাই না। তাইলে অন্যরা কেন খুন-খারাপি, মারধর করে, ধর্ষণ, চুরি -ডাকাতি করে তা খুজে বের করা আর যাই হোক আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমার সীমিত জ্ঞান । এসব বোদ্ধাদের বিষয়।
এরপর রাজনীতি। এটা নিয়ে লেখালেখি, আলচোনা, সমালোচনা, গল্প-গুজব, ইত্যাদি অনেক করা যায়, অনেক বন্ধু করেও। কিন্তু এখানে সমস্যা আরও জটিল। সরকারের একজন বেতনভুক্ত কেনা গোলাম আমি। দল, পার্টি, সভা,সমাবেশ,মিছিল,মিটিং,আলোচনা,সমালোচনা ইত্যাদিতে অংশগ্রহন করা অথবা কোনো বিষয় নিয়ে সরকারের সমালোচনা করা আমার চাকরি বিধির পরিপন্থি। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকুক না কেন, সরকার যা বলবে আমরা তার সাথে সুর মিলিয়ে শুধু বলব, ইয়েস স্যার, জি স্যার, হবে স্যার, ঠিক স্যার। নিজের কোন মতামত, আলোচনা-সমালোচনা করার সুযোগ নাই।করলে খবর আছে। ডিবি, ডিজিএফআই এর লোক নাকি ফেসবুক, টুইটার, ব্লগে নামে-বেনামে, ছদ্দনামে ঘোরাফেরা করে । শেষ কালে কি লিখতে কি না লিখে ফেলি । নিজের রুটি রোজগার এর একমাত্র বাহন এই চাকরিটা হারালে খাব কি! কাজেই এটাও বাদ।
বাকি থাকে দর্শন, ধর্মকথা, তত্তকথা। এটা নিয়েও সমস্যা। মাঝখানে মনের মানুষ সিনেমা দেখে লালন সঙ্গীত এর উপর বেশ আগ্রহ হল। বাউল কেসেট জোগাড় করা শুরু করলাম। কমপিউটারে সারাদিন বাউল সঙ্গীত চলে। আশেপাশের লোকজন বিরক্ত। দু’একটা কমপ্লেনও আসল। কে শোনে কার কথা। বাড়িওয়ালি এসে একদিন ধমক দিলেন । আমি বললাম আমরা লালন ধর্ম পালন করতাছি। আপনিও করেন।মনে শান্তি আসবে। তাহলে আঙ্কেল এর সাথে রেগুলার ঝগড়া ঝাটি, চিল্লাচিল্লি হবে না। কিন্তু মাঝখানে ঘটল অন্য সমস্যা । ত্রিশ তম বিসিএস এর রেজাল্ট হল। আমি রোডস এ চাকরি পাইলাম। ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ইভেনিং মাস্টার্স প্রোগ্রাম যাতায়াত করি। ক্লাসমেটরা সবাই মিষ্টি খাবে। ভাল কথা। আমি যথারীতি মুসলিম সুইট্স এর দোকান থেকে দু’কেজি ভাল মিষ্টি নিয়ে আসলাম । সবাই খেল। ক্লাসে স্যার ঢুকলেন। বললেন কি ব্যপার। আমি বললাম স্যার, আমার চাকরি হইছে। স্যার জিজ্ঞাস করলেন, কোথায়? আমি বললাম রোডস এ। স্যার হাসলেন। সাথে ক্লাসমেটরা সবাই। এই হাসির মানে সবাই জানে। আমি কিছুদিনের মধ্যে কোটিপতি হয়ে যাচ্ছি। কাজেই নীতিকথা, তত্ত্বকথা নিয়ে গবেষনা বা লেখালেখি করা আমায় মানায় না। লালন সঙ্গীত, বাউল সঙ্গীত আপাতত বাসায় বন্ধ।
আর বাকি থাকল কি? প্রেম ,ভালবাসা ,বিরহ যন্ত্রনা, ছ্যাকা খাওয়া ইত্যাদি। এসব নিয়েই তাই লিখি। আর প্রেম ভালবাসায় গদ্যের চাইতে কবিতায় ভাল। তাই কবিতায় লিখি। বন্ধু রাসেল, আশা করি ব্যপারটা বুঝতে পারবি। কবিতা লেখার সময় আমায় আর জ্বালাবি না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




