জাতি হিসেবে আমরা সবাই বিশেষজ্ঞ । মানে সব বিষয়েই একটু বাড়াবাড়ি ধরনের বেশী বুঝি । আবার আবেগ তাড়িতও প্রতিটি কাজে । (এর মধ্যে আমিও আছি !) । আর সেই আবেগের জোশে ! একজনকে মাথায় তুলে নাচিতো পর মূহুর্তে ছুড়ে মারি আস্তাকুড়ে । বাস্তবতায় থাকি খুব স্বল্প সময় । (এখানে আবেগের সাথে স্বপ্নকে গুবলেট করবেন না) । এবার আসল কথায় আসি ।
টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ এখনো কোন বনেদি টেস্ট খেলুড়ে দেশকে হারাতে পারেনি । এবার একটা সম্ভাবনা জেগেছে । যদিও সম্ভাবনাটা ক্ষীণ, তবুওতো সম্ভাবনাঃ আশার আলো । সম্ভাবনাটাকে বুকের মাঝে স্বপ্ন হিসেবে লুকিয়ে রাখুন । স্বপ্ন বাস্তবায়িত হলে আবেগ তাড়িত হয়ে নাচুন । (সাবধান বেশী নেচে কোমড়ের বারটা বাজাবেন না) । অনুগ্রহ করে হতাশ হবেন না; হেরে গেলেও । কারন হার জিৎ খেলারই অংশ । তাই আবেগের লাগাম টেনে ধরে বাস্তবতায় ফিরে আসুন ।
এই টেস্টের প্রথম দিনের মধ্যাহ্ন বিরতির পুর্বে যে ব্যাটিং আশরাফুলরা করেছে, তা দেখে তাদের মুন্ডু পাত করেনি এমন কেউ বাকি নেই । করাটাও হয়তো স্বাভাবিক ! কিন্তু সেই সাথে মূখার্মিও বটে । ‘স্লো রানরেট’ -- ওভারের চেয়েও রান কম । কি লজ্জ্বা ! (ব্যাটিং করতে পারিস না তো খেলতে আসিস ক্যান (?) ! ) । উইকেট যে হারায়নি এটা তখনো কারো মাথায় আসেনি একবারও । আবার মধ্যাহ্ন বিরতির পর রান বাড়াতে গিয়ে যখন টপাটপ উইকেট পড়ে যাচ্ছিল, তখন -- “ব্যাটারা একটু আস্তে ধীরে দেখেশুনে খেলতে পারিস না” । হায়রে ! একেই বুঝি বলে 'শাখের করাত' । কোথায় যাবেন মহাশয় (?)! এখন আবার সেই আমরাই বলছি, ‘ঠিক আছে, সব ঠিকই আছে, সঠিক ব্যাটিংই করেছে বাংলাদেশ’ । কারণ 'ব্ল্যাক ক্যাপদের' অমন বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানরা যখন দেড়শত রান করতেই কুপোকাত, তখন আমরা ঠিকই করেছি (কথা পাল্টাতে এতটুকু সময় লাগে না আমাদের) ।
ঠিক বেঠিক যাই বলিনা কেন-- আজ/কিংবা কাল যদি আমরা জিতে যাই, তাহলে সবই ঠিকঃ কিন্তু না জিতলে সবই বেঠিক । ২৫০ রানের অধিক লিড হাতে আরও ২ উইকেট, এমন পিচ -- জেতারইতো কথা । আর এখানেই যত সমস্যা । ঐ ২২ গজি পিচ । এর আচরণ কিন্রু এই উপমহাদেশে একেক সময় একেক রকম । আর ২২ নম্বর বিপদ সংকেত এখানেই । প্রথম ২ দিন পিচে টার্ণ এবং বাউন্স দুটোই ছিল । কিন্তু তৃ্তীয় দিন শেষ বেলায় সেটা কমতে শুরু করেছে । চতুর্থ দিনে সেটা যদি আরও কমে (টার্ণ ও বাউন্স) তাহলে সেটা হবে বাংলাদেশের জন্য দুঃসংবাদ । তখন ২৫০ / ৩০০ রানের লিড যথেস্ট নয় । নিউজিল্যান্ড ঐ রান সহজেই টপকে যাবে । সেটা যেন না হয় (মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন) । চতুর্থ / পঞ্চম দিনে পিচটা যদি ডাইং (মরা) পিচে পরিণত হয়, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা খুবই কম । এমন অবস্থায় জিততে হলে বাংলাদেশের বোলারদের সুনিয়নত্রিত লাইন লেন্থ বজায় রেখে 'উইকেট টু উইকেট' বল করতে হবে ।
তাই, যারা আমরা আশায় বুক বাধি প্রতিনিয়ত, তাদের কাছে আমার অনুরোধ -- ‘বাংলাদেশের সাথে থাকুন, জয় পরাজয় যাই হোক না কেন' । এমন একটি উপভোগ্য টেস্ট ম্যাচ উপহার দেবার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে শাবাস দেই । শাবাস বাংলাদেশ ! ইনশাল্লাহ জয়ী হব আমরাই ।।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৮:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


