১. এক সেকেন্ডের অনুভূতি
চন্দ্রালোকের পাশে পাশে হাটছি
আমার পাশটা অন্ধকার ।।।
মানবী তোর খোলা চুলে,
আজ হাতড়ে ফেরা অভিসার।।
আমার দৃষ্টি মুগ্ধ থেকে ঝাপসা হয়ে আসে ।।
জোড়া শালিকের দৃষ্টি-বিভ্রম .. বড় বেশি চোখে বাজে ।।
রাত বাড়ে, পাল্লা দিয়ে .. চাহিদা বাড়ে ।।।
একসময় ক্লান্ত চোখ আর জ্বলজ্বল করে না ।।
ঠান্ডা চোখে, শুধু স্থির ইচ্ছের প্রস্তরীভূত অবশেষ।।
........ কন্যা তোর উপর আমার অনেক অভিমান।।
তবু তোর জন্যেই আমার মনের সব টুকু টান ।
২. অবশিষ্ট অভিমান
গোধুলি শেষ হবার প্রাক্কালে , গ্রাস করে জোসনানুভূতি ।।
চারকোলরঙা আধারে, কিছু বেওয়ারিশ কুকুরের সাথে খুনসুটি ।।
সাবলিল গতিতে নেমে আসা আধার ...
হুতোম প্যাচার সাথে বখে যাওয়া কবুতরের ব্যবসায়ী কারবার ..
মন নাকি দেহ .. কোনটা ক্লান্ত বুঝে ওঠা হয়নি অনেকদিন
পূণ্যে জর্জরিত .... পূণ্যের ঝুলিতে একদলা থুথু ।।
পাপের সন্ধানে ছোটা শ্বাপদ, শেষ কটা দিন ...... !!!
ঘুমানোর জন্য কিছু প্রাচীন বেদি খুজে গিয়েছি ...
অন্ধকারে শুধু আমার চোখ দুটোই শ্বাপদের মতো জ্বলেছে ..
বসে যাওয়া কন্ঠে আর হেরে গলা সুর বাধেনি ।।
তোকে অবজ্ঞা করে হেটেই চলেছি ...
অনেক সরলতা আমার অভিমানে, তাই কখনোই তোকে ভালোবাসিনি ...
৩. মাতাল
সকাল বেলা নাকি মন শান্ত থাকে !!
পোষা কাকেরা বড্ড হাকে ।।
সূর্যটাকে খিস্তি করে ..শ্বদন্ত বের করে আড়মোড়া ভাঙি,
কবজি থেকে ঝরে পড়া লোহিত ধারায়...হারমানা চোখ রাঙি ।।
ভোরের দিকে বুকের মাঝে গেথে থাকা পেরেকটা .. শয়তানের নামে খুলি
দাতের ফাকে আটকে গেছে আজ মৃত শ্বাপদের খুলি।।
ঠোটের কোণে লেগে থাকা রক্ত শুকিয়ে গেছে ..মুয়াজ্জিনের ধ্বনির আগেই ।।
অনুভূতি হয়না আর ... বেচে দিয়েছি আপন সত্তাকে .. বিগত পাপের লোভেই ।।
টেনে ছিড়েছি .. কিছু চড়ুই পাখির পালক ..তাদের বাচার আকুতি, কলিজা ছেড়ার আর্তনাদ..
পিটিয়ে ছাতু করা হাড়গোড়ের সাথে .. বুভুক্ষের মতো স্বপ্ন ছিড়ে ছিড়ে মিশিয়ে খেয়েছি ।।
তারপর আর কখনো মাতাল হইনি ।।
৪. তালবাহানা
জেগে উঠি রোজ ভোরবেলা,
রাতে তো রেখেছি দোরখোলা।।
বাতাসে ওড়ে তো চুলখোলা ..
স্বর্গে আছিরে মন ভোলা ।।
কড়া রোদ ওঠে দুপরে।।
তাই গান শুনি তোর নুপুরে ।।
কত ইচ্ছে মনের মুকুরে ।।
তাই ঝাপ দেই আজ পুকুরে ।।
বিকেলে বেড়িয়ে মাঠ দেখি ।
বসেছে মেলা, তো স্বাদ চাখি ।।
পেয়ে গেছি তোর মন চাবি ।।
ভ্যাবাচ্যাকা আমি খাই খাবি ।।
গোধুলিতে চলে মন গড়া
ইউফোরবিয়া, দুলা পড়া ।।
ভীরুতো..আমি তো.. প্রাণ ছাড়া ।।
খপ করে তোর হাতধরা ।।
ফট করে এক শক খেয়ে যাই ..
তারপরো নয় হাত ছাড়া ।।
রাতেতো, এভাবে, মন তো মানেনা।।
রেখে আসা প্রাণ, পোষ তো মানে না ।।
বাপ-মা ঘরেতে, রাতো তো কাটেনা ।।
হাসনাহেনার গন্ধ লাগে না ।।
মাথাটা গ্যাছেরে, মগের মুলুকে ।।
প্রেমানুভুতি কী খেয়েছে ভালুকে ??
খোলাচুলে মোর, চুমু কি আকে না???
তোর বুকে ছাড়া ঘুম তো আসে না ।।
৫. স্বীকারোক্তি
দেয়ালগুলো তোর থেকে সই , একটু বেশিই আপন ।।
জীবনযাপন .. আর করিনি, করছি দেয়ালযাপন ।।
রক্তক্ষরণ বাধ সেধেছে, লোভগুলো সংবরণ।।
হুইলচেয়ার ভীষণ প্রিয়, কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন ।।
আকাশছোয়া ঘুড়ি আমার, মেঘের দেশে তুড়ি ।।
এই ধরণীর সময়কালে , তোর বয়সটা কুড়ি ।।
যতই বলি, চাইনা তোকে, যা চলে যা ছুড়ি ।।
জেনে রাখিস সবটা সময় .. তোরই জন্য পুড়ি ।।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ২:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


