আসছে ইতালিতে বৈধ হওয়ার ঘোষণা!
ইউরোপের মধ্যে ইতালিতে সবচেয়ে বেশি অবৈধ বাংলাদেশীদের বসবাস। দীর্ঘদিন ধরে ইতালীয় সরকার তাদের দেশে অবৈধদের বৈধ করে নেয়ার ঘোষণা না দেয়ায় জমে জমে পাহাড় সমান হয়ে গেছে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা। প্রতিদিনই শত শত অভিবাসী জীবন-জীবিকার আশায় পাড়ি জমাচ্ছে ইতালি। জলপথেই বেশি। ছোট ছোট ইঞ্জিন বোটে করে ভাগ্যের আশায় এসব অভিবাসী সাগরপথে এসে ঢুকছে ইতালি। এবার ইতালির সরকার নতুন ব্যবস্থায় ইতালির এসব অবৈধ অভিবাসিদের বৈধ করে নেয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে বলে জানা গেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর হুঁশিয়ারির মুখে ইতালির সরকার গত সাত বছর ধরে এই বৈধ করে নেয়ার ঘোষণা দিতে পারছে না। সর্বশেষ ২০০২ সালে ইতালিতে বৈধ করে নেয়ার ঘোষণায় প্রায় পাঁচ লাখ অভিবাসীকে বৈধ করে নেয়া হয়েছিল। সে সময় প্রায় বিশ হাজার বাংলাদেশী এ ঘোষণার আওতায় বৈধ হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল।
অবশ্য ইতালিতে যেমন বাংলাদেশীরা দোকানপাট, ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত তারা অবৈধ বাংলাদেশীদের কাছ থেকে ‘বুকে পাড়া দিয়ে’ মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল। তারপরও বুকে আশা নিয়ে ইউরোপে স্থায়ীভাবে থাকার পারমিশন পাওয়া যাবেÑ এ লোভে উচ্চমূল্যে (যেখানে আটশ’ ইউরো সরকারের কোষাগারে দিলেই চলে সেখানে দোকানপাটের মালিক সেজে আঙুল ফুলে কলাগাছে পরিণত হওয়া ওইসব ‘ব-কলম’ ধারী জনপ্রতি তিন-চার হাজার ইউরো হাতিয়ে নিয়েছে) কাগজ করেছিল।
বেশ কিছুদিন ধরে ইতালির রাজনীতিতে, সংসদে খুব জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে অবৈধদের বৈধ করে নেয়ার কথা। কারণ ইতালিজুড়ে বর্তমানে বিভিন্ন দেশের প্রায় ১৫ লাখ অবৈধ অভিবাসী রয়েছে যারা নিয়মিত কাজ (ইষধপশ/ড়ফফ লড়ন) করছে সেক্ষেত্রে ইতালীয় সরকার বিশাল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়া সামাজিক বিশৃংখলা তো রয়েছেই। পূর্ব ইউরোপের স্বল্পোন্নত দেশগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের আওতাভুক্ত হওয়ার কারণে রোমানিয়া, ইউক্রেন, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, মলদোভা, আলবেনিয়া, বসনিয়ার গরিব অধ্যুষিত এলাকার মানুষজনে ছেয়ে গেছে পুরো ইউরোপ, যার ফলে ক্রাইমও গেছে বেড়ে।
এবার ইতালির সরকার নতুন ব্যবস্থায় অবৈধদের বৈধ করে নেয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে বলে জানা গেছে। আগে যে রকম অবৈধদের একজন মালিক ধরতে হতো এবং কন্টাক্ট করে তার সব ডকুমেন্ট সংশি¬ষ্ট অফিসে জমা করতে হতো। বাংলাদেশীসহ বিভিন্ন দেশের তথাকথিত মালিকরূপী দালালদের উচ্চমূল্যে আদায়ের ব্যাপারটি জানাজানি হয়ে গেলে সে দেশের প্রশাসন এবার সরাসরি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা দিয়ে সংশি¬ষ্ট অফিসে কাগজপত্র জমা নেয়ার পদ্ধতি চালু করার বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় রাখছেন। এতে করে অবৈধদের বাড়তি, অনাকাক্সিক্ষত সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে না। যদি সত্যি সত্যি এ ব্যবস্থাটি কার্যকর হয় তবে অবৈধ বাংলাদেশীরা অর্থ-লোলুভ দালালদের খপ্পর থেকে বেঁচে যাবেন। কারণ যিনি কষ্ট করে ইউরো উপার্জন করেন একমাত্র তিনিই অর্জিত টাকার মূল্য টের পানÑ অন্য কারও পক্ষে তা সম্ভব নয়।
যে কোনও সময় বৈধ করে নেয়ার এ ঘোষণা করতে পারে ইতালীয় সরকার। সেক্ষেত্রে রোমে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের করণীয় অনেক কাজ আছে। পাসপোর্ট তৈরি, পাসপোর্ট নবায়নসহ অন্যান্য কাগজপত্রের সরবরাহ করে অবৈধ বাংলাদেশীদের সাহায্য-সহযোগিতা করা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


