ভাড়া ৬ টাকা
ভার্সিটির প্রথম সেমিস্টারের কথা। আমাদের ক্যাম্পাস ছিল ঝিগাতলা।
সেদিন ক্লাশ শেষে তেমন কোন কাজ ছিলনা। অন্যান্যদিন ক্লাশ শেষ করে লাইব্রেরীতে কয়েকজন মিলে এক্সারসাইজগুলো করি। সেদিন তাই বাসায় চলে যাওয়ার জন্য রওয়ানা হলাম। গেটে কণার সাথে দেখা। কণা আমাদের ক্লাসে পড়ে। সেও বাসায় চলে যাবে। তবে আগে নিলক্ষেত যাবে কিছু বই কিনতে। কণাকে ঝিগাতলা থেকে বিদায় দিয়ে বাসায় চলে যাওয়ার মনস্থ করলাম।
ঝিগাতলা পৌছে এক রিক্সাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করলাম নিলক্ষেত যাবে কিনা। সে ১০ টাকা ভাড়া চাইল। কিন্তু কণা বলল ৬ টাকা। রিক্সাওয়ালা রাজী হলনা। আমি আরেকটা রিক্সা ডাকলাম। এবারও একই ঘটনা। কণা ৬ টাকা দিতে চায় আর রিক্সা চলে যায়। কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থেকে আরও দুইটা রিক্সা বিদায় দিতে হল। আমার ধৈর্যের বাধ ভেঙ্গে গেল। আমি কিছু একটা কাজের কথা বলে বাসার দিকে রওয়ানা হলাম।
আমার বাসাও কাছাকাছি ছিল। হাক্কানী মসজিদের গলিতে। আমি বাসায় এসে কাপড় বদল করে মিনিট দশেক পর আবার বের হলাম, ফ্লপি ডিস্ক আর কাগজ কেনার জন্য। ঝিগাতলা এসে আমার তো চক্ষু চড়কগাছ। দেখি কণা এখনও দাড়িয়ে আছে। ঘটনা কি? মেয়েটা এতক্ষন দাড়িয়ে করছেটা কি?
-কি ব্যাপার কণা এখনও যাওনি?
-না, রিক্সা পাচ্ছিনা।
কিভাবে পাবে এমন গো ধরে বসে থাকলে, আমি মনে মনে ভাবলাম। আরও কিছুক্ষন আমি ওকে সঙ্গ দিলাম তবে রিক্সা খোঁজার ব্যাপারে আমার কোন অংশগ্রহন রইলনা।
কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে কিছুক্ষণ পর ঠিকই সে একটা রিক্সা পেয়ে গেল এবং বলাবাহুল্য ৬ টাকাতেই রিক্সাটা রাজী হল। আমি হতবাক হয়ে শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলাম।
সেইসাথে একটা শিক্ষাও গ্রহন করলাম। ভাড়া ঠিক করে কখনোই আমি রিক্সায় উঠতাম না, তাও আবার এভাবে? কিন্তু কণা যা করে দেখাল তা সত্যিই অবাক করার মত। আমি কখনোই এভাবে ভেবে দেখিনি। হাতে একটু সময় থাকলে ইচ্ছে করলেই আমরা দুটো পয়সা বাচাঁতে পারি।
সেই ঘটনার পর থেকে মাঝে মধ্যেই আমি রিক্সায় চড়তে গেলে কণার সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করি, যদিও কণার মত এত এক্সট্রীম হতে পারিনা
বিঃদ্রঃ কণা ব্লগ পড়ে কিনা জানিনা। তবে এই পোস্ট ওকে হেয় করার জন্য নয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


