somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার স্বপ্ন ১০০ শয্যার একটি হাসপাতাল করার

১৩ ই নভেম্বর, ২০১০ সকাল ১১:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সারা দেশ থেকে নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ ভিড় জমায় এ শহরে। ব্যস্ততম এ নগরীর আবাসিক এলাকাগুলোতেও সমস্যার কোনো শেষ নেই। দেখা যায় না প্রতিবেশীদের মধ্যেও খুব একটা সুসম্পর্ক। পাশের ফ্ল্যাটে কে থাকছেন, অনেক ক্ষেত্রে তাও হয়তো থাকে অজানা। কারো বিপদ-আপদের খবরটাও অন্যের কানে পেঁৗছায় না। তাই তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক ও সৌহার্দ্যে স্থানীয় সংগঠনগুলো রাখতে পারে প্রয়োজনীয় ভূমিকা। মহল্লাভিত্তিক উন্নয়নেও স্থানীয় সরকারের পাশাপাশি এ সংগঠনগুলোর ভূমিকা বেশ উল্লেখযোগ্য। তা ছাড়া বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের আবাসিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেও এ সংঘগুলোর রয়েছে নানা উদ্যোগ। এমনই একটি সমাজ উন্নয়নমূলক সংগঠন 'একতা উন্নয়ন সংঘ'।
১৯৭৩ সালে মাত্র ৪০ জন প্রাথমিক সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল সংগঠনটি। আর এখন তাদের সদস্য সংখ্যা ২০০। এ সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক ছিলেন একসময়ের ঢাকা সিটি করপোরেশনের স্বনামধন্য মেয়র মোহাম্মদ হানিফ। তাঁর আদর্শ, পরিকল্পনা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডগুলো আজও ধরে রেখেছেন বর্তমান সভাপতি সুলতান আহম্মেদ মোল্লা এবং সংগঠনের অন্য সদস্যরা। পুরান ঢাকার নাজিরাবাজার লেনে স্থাপিত এ সংঘের কার্যালয়, নিবন্ধন নং-ঢ-০৫৮৯।
সংগঠনের অন্যতম সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দা আ. রাজ্জাক বলেন তাঁদের কার্যক্রম সম্পর্কে, 'এখানে একসময় নিরাপত্তাব্যবস্থাটা খুব নাজুক ছিল। চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা কানে আসত প্রায় প্রতিদিনই। সঠিক বিচার ও প্রতিবাদের অভাবে এ অবস্থা দিন দিন বাড়তে থাকে এবং এলাকার বসবাসকারীদের মধ্যেও হরহামেশাই ঝগড়া-বিবাধ লেগে থাকত। এ সব সমস্যা নিরসন করতে প্রতিষ্ঠা করা হয় আমাদের সংগঠনটি।' তাই এখন স্থানীয়দের নিরাপত্তার স্বার্থে কমিউনিউটি পুলিশের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ কারণে এলাকায় এখন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার কথা শোনা যায় খুবই কম। সংঘের কার্যালয়ে ছোটখাটো বিচার ও ঝগড়া-বিবাদের মীমাংসাও হয়। সমাজের যেসব শিশু অর্থের অভাবে পাচ্ছে না প্রাথমিক শিক্ষাটাও, পরিবারের হাল ধরতে করছে নানা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ_এ দরিদ্র শিশুদের অক্ষরজ্ঞান দেওয়ার জন্য সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত পাঠদান করা হচ্ছে সংঘের কার্যালয়ে। এলাকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কথা বিবেচনা করে ক্লাবের সদস্যদের নিজস্ব অর্থায়নে পয়োনিষ্কাশনের জন্য ময়লাবাহী কয়েকটি ভ্যানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব ভ্যান নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে। যেসব মহল্লাবাসী টাকার অভাবে সামান্যতম চিকিৎসা পায় না, তাদের জন্য খোলা হয়েছে দাতব্য চিকিৎসালয়। প্রতি শুক্রবার সংঘের কার্যালয়ে এর কার্যক্রম চলে।
যৌতুক প্রথা বন্ধ করতেও কাজ করছে সংগঠনটি। অর্থের অভাবে যেসব মেয়ের বিয়ে হয় না, সংঘের দরিদ্র তহবিল থেকে সাহায্য-সহযোগিতা দিয়ে তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ও এগিয়ে আসেন এ সংঘের সদস্যরা। তখন বিভিন্ন এলাকা থেকে ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ করে তা বিতরণ করা হয়। ১৯৮৮ সালের বন্যায় মানিকগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করে এ সংগঠন। পহেলা বৈশাখসহ পূজা-পার্বণ ও ঈদের উৎসবে সংগঠনের কার্যালয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে। ২১ ফেব্রুয়ারি ও ১৬ ডিসেম্বরসহ অন্যান্য জাতীয় দিবসে সংঘের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনসহ আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে সংবর্ধনার আয়োজনও করা হয়ে থাকে। প্রতিবছর সংঘের সদস্য ও তাঁদের পরিবার নিয়ে বনভোজনের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় পর্যায়ে নানা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায়ও অংশ নিচ্ছে সংগঠনটি।
সবশেষে সংগঠনের সদস্যরা জানান, সরকারি ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল করার ইচ্ছা আছে আমাদের।
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×