আজ বিকালে চায়ের দোকানে আমার ছোট নানা মানে আম্মার ছোট চাচার সাথে চা পান করতে করতে কথা উঠল মুক্তিযুদ্ধ ও জামায়াত প্রসংগে।নানা অনেক আক্ষেপ করে বলল,এখন কত ভাবেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করা হচ্ছে,মহান লোক হিসেবে প্রমানের চেষ্টা করা হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের,অথচ যে ছেলেটা শিবিরের হয়ে যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তির দাবি করে পোস্টার মারছে বা মিছিল করছে সে কিন্তু ১৯৭১ দেখেনি,প্রত্যক্ষ করেনি রাজাকার বা আলবদরের হায়েনার মত আচরন।আমি জানতে চাইলাম তার ব্যক্তিগত অভিগ্গতার কথা।
অনেক লেখায় বলেছি যে,আমার নানা বাড়ী আর দাদা বাড়ী খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় আর আমি বড় হয়েছি খুলনা শহরের বাড়ীতে আর এস,এস,সির পর থেকে ঢাকাতে। এম,বি,এ শেষ করেছি,ঢাকার আব্বার ব্যবসায়িক অফিসেই বসি,হঠাৎ মনে হল বাপ-দাদার ভিটায় কাটাব কিছুদিন তাই চলে আসা গ্রামে,প্রায় মাস ছয়েক হল,আরো কিছুদিন থাকব এখানে।
যাই হোক,নানা শুরু করল তার কাহিনী।মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার নানাদের ছিল যৌথ পরিবার,আমার আনোয়ার মামা যাকে আনার বলে ডাকে সবাই,সে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিলে আমাদের নানার ফ্যামেলি রাজাকারদের রোষে পড়ে,আরেক মামা বর্তমান এম,পি এ্যাড.সোহরাব আলী সানা তখন ছিল হড্ডা প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং তরুন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক,ফলে পুরা পরিবার প্রচন্ড চাপের মাঝে ছিল তখন।মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করার জন্য অনেকবার আমাদের নানা বাড়ী লুটপাট করে নিয়ে গেছে রাজাকাররা।পাইকগাছার রাজাকারদের কমান্ডার ছিল গদাইপুর ইউনিয়নের ঘোসাল গ্রামের গাজী আমিনুর রহমান ও তার ভাই মসিউর রহমান।আর মুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্ব দিত বীর মুক্তিযোদ্ধা স,ম,বাবর আলী,শাহাদাৎ হোসেন বাচ্চু,কিছুদিন আগে মারা যাওয়া সোহরাব মেম্বার,আনোয়ার মামা প্রমুখ।পাইকগাছার আরো দুইজন বিখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা হল মুক্তিযুদ্ধের নৌকমান্ডের দূর্ধষ যোদ্ধা গাজী রহমাতুল্লাহ দাদু আর মেজর আরেফীন সিদ্দিকী,এ দুজনই মুক্তিযুদ্ধের উপর অনেক বই প্রকাশ করেছেন।আর মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে আমার দাদার বড় দুই ভাই এ্যাড: জি,এ,সবুর আর এ্যাড: রওশন আলীর নাম এখানকার মানুষের মুখে মুখে ফিরত।আমার আব্বাও ছিল তরুন মুক্তিযোদ্ধা,মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রসদ আনতে যেয়ে তার চাচা এ্যাড; জি,এ,সবুরের খুলনার বেনী বাবু রোডের বাসা থেকে পাক সেনাদের হাতে আটক হয় আমার আব্বা।তখন ছিল রমজান মাস,আব্বা রোযা থাকায় বিকালে অল্প শারিরিক নির্যাতনের পর পাকিরা সিদ্ধান্ত নেয় রাতে আব্বার কাছ থেকে তথ্য আদায় করবে।ইফতারের সময় আব্বার বাধন খুলে দিলে আরেক বয়স্ক লোক যে ক্যাম্পে রান্না করত, তরুন বয়সের আমার পিতাকে সেনা ক্যাম্প থেকে পালাতে সাহায্য করে।উল্লেখ্য আমার আব্বার সেই চাচা আমার দাদা এ্যাড:জি,এ,সবুর এখন পাইকগাছা উপজেলা বি,এন,পির সভাপতি।
এবার নানা বললেন সাঈদীকে নিয়ে সেই চমকপ্রদ ইতিহাস,নানা সালটা সঠিক বলতে পারেনি,তবে যুদ্ধের আগের ঘটনা,নানা তখন পাইকগাছা হাই স্কুলের ছাত্র।তাদের উর্দু পড়াতেন মাওলানা শামসুর রহমান,তার বাড়ী সাতক্ষীরার শ্যামনগরের গদাইপুর গ্রামে।তিনি তার কন্যা ফাতেমাকে বিয়ে দেন পিরোজপুরের যুবক দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর সাথে,বিয়ে্তে স্কুলের স্যাররা সহ অনেক ছাত্রই উপস্থিত ছিল,আমার নানা তাদের একজন।কিন্তু সে বিয়ে বেশীদিন টেকেনি,কারন দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর অনৈতিক কর্মকা্ন্ড আর উচ্ছংখলতা মেনে নিতে পারেনি একজন আদর্শবান শিক্ষকের কন্যা।কিছুদিন পরেই সে তার পিতার গৃহে ফিরে এসে সাঈদীর অপকর্মের কথা পিতাকে জানিয়ে তালাকনামা পাঠি্যে দেয় সাঈদীর কাছে।মুক্তিযুদ্ধের পরে সেই নারী ফাতেমাকে বিয়ে দেওয়া হয় পাইকগাছার আরেক ভদ্রলোকের সাথে,যেখানে এখনও ঘর সংসার করে যাচ্ছে সে।
এখন কথা হল,যারা বলে সাঈদী মুক্তিযুদ্ধের সময় ফেরেশতা ছিল তারা কি বলবেন একজন বাংলার নারী কি পরিমান অনৈতিক কর্মকান্ড দেখে ঘৃণায় তার স্বামীকে তালাক পাঠিয়েছিল সেই সময়ে মানে ১৯৭১ সালের আগে??
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০১১ রাত ১০:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




