জটিল প্রশ্নের উত্তর নাকি সহজ হয়। জামায়াতের তথা বিরোধী দলেরই যে রাজনৈতিক অবস্থা এখন বিরাজ করছে তাতে মনে হচ্ছে আর কোনও পথ নেই এদের রাজনীতি করার। সরকার সেভাবেই পরিস্থিতিকে সামলে এনেছেন। যদি সম্ভব হয় বিরোধীদলশূন্য রাজনৈতিক অঙ্গন তৈরি করা তবে দেশের মানুষের ভালো বৈ মন্দ হবে না বলে মনে করি। বাংলাদেশের মানুষের জন্য গণতন্ত্র কতোটা ক্ষতির আর কতোটা উপকারী তা বিগত তত্বাবধায়ক সরকারের মিকে তাকালেই বোঝা যায়। রাজনীতিবিদরা যতোই প্রমাণ করতে চান সে সময় গণতন্ত্র ছিল না, এই ছিল না সেই ছিল না...কিন্তু জনগণ জানে তাদের নিরাপত্তা ছিল, তাদের ভালো কাজের অধিকার ছিল তারা ভালো ছিল। বিশেষভাবে ভাবতে পারে ছাত্ররা। গত দেড়বছরে দেশের শিক্ষাঙ্গণগুলো যতোদিন বন্ধ থেকেছে তাতে আর যার উপকারই হোক ছাত্রছাত্রী ও তাদের অভিভাবকের জীবন কতোটা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে তা তাদের সাক্ষাৎকার নিলে জানা যাবে।....
মূলত বিরোধী দলের ভূমিকা -গণতন্ত্রে- সংসদে হলেও বিরোধীদল বরাবরই সংসদকে উপেক্ষা করেন....সংসদবিহীন বিরোধীদল কোনও বিরোধী দল নয় তারা দেশদ্রোহী, তারা বিশ্বাসঘাতক, তারা প্রতারক। কম দিক বেশি দিক জনগণ তাদের সংসদে পাঠাবার জন্যই ভোট দিয়েছে....
সরকার এবার ওভারহেলমিং বিজয় পেয়ে মনে করেছে দেশের সব জনগণ তাদের পক্ষে। তাদের এই দৃঢ়বিশ্বাস কতোটা অসাড় তার প্রমাণ বর্তমান বাজারপ্রেক্ষাপট, গার্মেন্টস অস্থিরতা, পরিবহণ ধর্মঘট এবং বিরোধী দলের সফল হরতাল। চট্টগ্রামের পরাজয়ও এর বড় প্রমাণ!....
কিন্তু দ্বিধাবিভক্ত জনগণের কল্যাণে কোনও উদ্যোগই সফল হয় না কারণ ভালো চাইলেও ভাবে মন্দ একদল আর মন্দ হলেও তাকে সাপোর্ট করার আছে একদল। তাই ভারতকে কেউ বন্ধু বলে প্রমাণের চেষ্টা করে আর ভারতবিরোধী বলে ট্রানজিট-বা ট্রিপল টি নিয়ে আন্দোলনকারীদের মাঠও বিশাল!
জাতীয় কোনও ইস্যুতেও দেশবাসীর এই বিভক্তি নিছক রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য এবং এটি সম্ভব হয়েছে কেবল অশিক্ষত অর্ধশিক্ষত অসচেতন এবং জ্ঞানপাপীদের জন্য।
অতএব দেশকে রাজনীতির নামে বিভাজন না করে দলাদলির আদলে খুনখারাবি না বাড়িয়ে একক ক্ষমতার মালিক হলে অন্তত একটি দলের আশ্রীতরা ভালো থাকার সুযোগ পাবে। বাকীরা মনে না নিলেও মেনে নিয়ে দেশের কল্যাণে অংশ নিতে পারবে। বিরোধীদলের অমেরুদণ্ডী উস্কানীতে নিজেদের জেল-জুলুমে না ফেলে চুপচাপ দেশের অন্তত পরিবার নিয়ে কোনওরকম বাঁচার আশা করতে পারে জনগণ!
আর যদি বিরোধীদল থাকেই তাদরে নিশ্চয়তা দিতে হবে দেশ বিক্রি হবে না, রক্ষার কৗশল এবং মানসিকতা তাদের আছে...জনগণ চিরকাল দেশের পক্ষে। এদের মিসগাইড না করে সরলসঠিক পথ চেনাবার দায়িত্ব নিতে হবে দায়িত্বশীল রাজনীতিকদের।
আর সমস্যা যেভাবে বড় আকার ধারন করছে তাতে সহজ সমাধানটি কী হবে তা আদৗ দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে কি না এ আশংকার পাশাপাশি ইতিবাচক আশা পোষণ করতে পারি....কারণ এটি শোকের মাস!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

