ধর্ম নিয়ে তসলিমার আবারো কটাক্ষ
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
ধর্ম নিয়ে আবারো কটাক্ষ করেছেন বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। নেই, কিছু নেই শিরোনামে তার একটি বই এবার অমর একুশে গ্রন্থমেলায় এনেছে কাকলী প্রকাশনী। ২৮৭ পৃষ্ঠার বইটিতে ধর্মীয় রীতি নিয়ে কটাক্ষ করা ছাড়াও নিজের ব্যত্তিপ্তগত জীবন নিয়ে অনেক কথা লিখেছেন তিনি। সেই সাথে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া, কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়সহ অনেক বিশিষ্ট ব্যত্তিপ্তর সমালোচনা করা হয়েছে বইটিতে। বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে তার মাকে। মায়ের প্রতি লেখা এক চিঠি দিয়ে বইটি শেষ করা হয়েছে।
তার দেশে ফেরা নিয়ে বইয়ের ২৮ পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে, ‘আমাকে দেশে ঢুকতে দিলে সে যে সরকারই হোক, ধর্মবাদীদের ভোট পাবে না বলে ভয়ে আমাকে ঢুকতে দেয় না।’ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রী স¤পর্কে ১৫৬ পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে, ‘বই লেখার অপরাধে আমার বিরুদ্ধে অনেক মামলাই অনেক মৌলবাদী করেছে। কিন্ত– হুলিয়া জারি হয়নি খালেদা সরকারের করা মামলা ছাড়া। অন্য দিকে সরকার ছাড়া অন্য কারো রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা রুজুর এখতিয়ার না থাকলেও বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে মৌলবাদীরা আমার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা করে। শেখ হাসিনার অনুমতি নিয়ে ওই মামলা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এ দেশে আমাকে বাস করতে দেবেন না। বুঝি না, ক্ষমতায় এলেই এরা দেশটাকে নিজের স¤পত্তি বলে মনে করেন। দেখো মা, মানুষ খালেদা জিয়ার শাসনে এবং শোষণে অতিষ্ঠ হয়ে শেখ হাসিনাকে চাইছিল। কী পার্থক্য হাসিনা আর খালেদার? তাদের নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ থাকতে পারে, একজন আরেকজনের দুই চোখের বিষ হতে পারেন, নিরবধি চুলোচুলি করতে পারেন, একজনের পান থেকে চুন খসলে আরেকজন লাফিয়ে উঠে আরেকজনের গলা টিপে ধরতে পারেন, কিন্ত– আমার ব্যাপারে তারা এক শ ভাগ একমত।’
৯৪ পৃষ্ঠায় আরো লেখা হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রী, ¯¦রাষ্ট্রমন্ত্রী, ড. কামাল হোসেন আমাকে জানিয়ে দিয়েছেন, সুতরাং দেশের আশা আমার না করাই উচিত।’
সৈয়দ শামসুল হক স¤পর্কে ২৭৬ পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে, ‘দ্বিখণ্ডিত লেখার জন্য সৈয়দ শামসুল হক বাংলাদেশে আমার বিরুদ্ধে এক কোটি টাকার মানহানি মামলা করেছেন। তার রাগ, তার শালীর সঙ্গে তার গোপন স¤পর্ক ফাঁস হয়ে গেছে।’
বইয়ের ২৭৪ পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে ‘...মূর্খরা ধর্মকে বাঁচিয়ে রাখতে পণ করেছে। মূর্খ যতদিন থাকবে পৃথিবীতে, ততদিন ধর্ম থাকবে’। বইয়ের শেষ পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে, ‘..কিন্ত– আমি তো ভেতরে ভেতরে জানি, কোনো বেহেসতে বা দোযখে তুমি বা আমি কেউ যাবো না।’
তার ব্যত্তিপ্তগত জীবন নিয়ে ৩২ পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে, ‘আমার আর সুয়েনসনের শোওয়ার ঘর একই। আমরা এক বিছানায় শুই। তোমাকে এত যে রক্ষণশীল বলে ধমক দিই, তুমি কিন্ত– একবারও প্রশ্ন করোনি ওর সঙ্গে আমি শুই কেন। যে স¤পর্ক হলে শুতে হয়, সম্ভবত স¤পর্কটা সেই স¤পর্ক, তুমি ভেবে নাও’। তার মায়ের ধর্মবিশ্বাস নিয়ে ২৬ পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে, ‘ছোটদাই বললো তুমি উমরাহ করে এসেছো। উমরাহ। ছি ছি। এ নিয়ে চললো আমার ছিছিকার। কেন উমরাহ করতে গেলে? এ কোনো কাজের কাজ।’
৪১ পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে, ‘তোমার ধর্মবিশ্বাস নিয়ে সারাক্ষণ কটাক্ষ করতাম। মা তুমি কেন নামাজ পড়ো, কেন আল¬াহ বিশ্বাস করো? আল¬াহ বলে কোথাও কিছু নেই। ধরো, এত যে নামাজ রোজা করলে, গিয়ে যদি দেখ হাশরের ময়দান নেই, আখেরাত নেই, কোনো পুলসেরাত নেই?’
৪২ পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে, ‘তোমার ধর্মবিশ্বাসকে, তোমার বোরখা পরাকে, তোমার ওই কোরান-হাদিস পড়াকে, তসবিহ জপাকে সেই ছোটবেলা থেকেই ঘৃণা করতাম।’
ধার্মিক ও মৌলবাদ নিয়ে ৪৭ পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে, ‘আমি তো ধার্মিক আর মৌলবাদীতে পার্থক্য করি না, তুমি করো।’
কোরআন পাঠ নিয়ে ৯৭ পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে, ‘..তোমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে সেই ছোটবেলায় পড়া সুরাগুলো আওড়েছি, ভুলগুলো তুমি শুদ্ধ করে দিতে, হয়তো খুশি হতে দেখে যে, কাজটা আমাকে একসময় তুমি করতে বলতে, করিনি, আর আজ আমি ¯ে¦চ্ছায় তা করেছি। তোমার চুল পাখার হাওয়ায় উড়তো আর তোমাকে কী যে পরিতৃপ্ত মনে হত। পরে আমি লক্ষ করে দেখেছি, এমন কী তোমার প্রিয় কোনো সিনেমার গান গাইলেও তুমি একই রকম খুশি হও।’
মায়ের মৃত্যু স¤পর্কে ১৪৭ পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে, ‘তোমার মরে যাওয়া, ওদের ছুটোছুটি, মাইকের ঘোষণা, কাফনের কাপড় কেনা, মাটি খোঁড়া, তোমাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া, পুঁতে দেওয়া, অšধকারে, গর্তে তোমাকে একা ফেলে আসান্ধ সব কিছুকেই চরম নিষ্ঠুরতা ছাড়া আর কিছু মনে হয় না।’
১৩৮ পৃষ্ঠায় পরকাল নিয়ে লেখা হয়েছে, ‘এখন তুমি ওপরে যাচ্ছো, ওপরে তুমি আল¬াহর কাছে তাদের বেহেসতের জন্য তদবির করবে, তাদের সালাম পৌঁছে দেবে পয়গম্বরকে। ¯¦জনপ্রীতিটা ভালো চলে পরকালে, তাই তোমার কাছে ধর্না দেওয়া।’
মার চিঠির উদ্ধৃতি দিয়ে ১৫৩ পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে, ‘...তসলিমার ফাঁসি যারা চেয়েছে, তারা ইসলামের কিছুই জানে না। তারা মুসলমান নামের কলঙ্ক। একজন সংবেদনশীল সৎ লেখককে আজ বাধ্য হয়ে দেশ ছাড়তে হয়েছে। আর দেশের ভেতর ইসলামের নামে যে অসহিষব্ধু মোল¬াতন্ত্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, তারাই ইসলামের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি করছে।’ ব্যত্তিপ্তগত জীবন নিয়ে ১৭১ পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে, ‘ওয়াইন খেয়ে অনেক রাতে যখন বšধুরা চলে যাচ্ছে, আমার দ্বিগুণ বয়সী একজন বিদায় আলিঙ্গন করার নামে অযথাই আমার স্তন টিপে গেল। কী সুখ পেল কে জানে।’
ভারতে তার আত্মজীবনী নিষিদ্ধ হওয়া স¤পর্কে ২০২ পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে ‘..যে কয়েকজন বুদ্ধিজীবী আমার বই নিষিদ্ধ করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন, তার মধ্যে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় অন্যতম।’ ভারতের রাজনৈতিক দল বিজিপি নিয়ে ২০৩ পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে, ‘মুসলমান মৌলবাদীদের অন্যায় আব্দার অন্য দলের মতো বিজেপিও মেনে নেয়।’
উলে¬খ্য, তসলিমা নাসরিন ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত হন। তসলিমা নাসরিনের লেখা লজ্জা, আমার মেয়েবেলা, উতল হাওয়া, ক এবং সেইসব অন্ধকার এর আগে বাংলাদেশ সরকার নিষিদ্ধ করেছে।
Click This Link
আলোচিত ব্লগ
দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল
আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬
[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]
আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন
Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ
![]()
প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।