somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরা কেমন মুসলমান ?

২৪ শে মে, ২০১০ রাত ৮:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


১.
আমার বোনের শ্বশুর দীর্ঘ রোগ ভোগের পর মারা যান। (ইনালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন ) তার মৃত্যু পরবর্তী কালীন দোয়া অনুষ্ঠানে আমাকেও দাওয়াত দেয় আমার বোন জামাই। যেয়ে দেখি কোথায় দোয়া অনুষ্ঠান? এতো বিরাট ব্যাপার স্যাপার।
বাবা যতো দিন অসুস্থ্য হয়ে জীবিত ছিলেন ততদিন তার ছেলে মেয়েরা তাকে সেবা যত্ন করার খুব একটা সময় সুযোগ করে উঠতে পারেন নি। তাই তার মৃত্যুর পর চল্লিশার মাধ্যমে সেই ঘাটতিটুকু বুঝি পুষিয়ে নিতে চাচ্ছেন। বড় বড় দুইটি গরু আর তিনটি খাসি জবাই হয়েছে, চাল কতো মণ তা আমার জানা নেই। দওয়াত দেওয়া হয়েছে প্রায় পাঁচশতরও বেশি মানুষকে। হাফেজি মাদ্রাসা থেকে ২০/২৫ জন তালেবে এলেম আনা হয়েছে যারা দুলেদুলে কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করছে। এদের পড়া দেখে বোঝা যাচ্ছে এইভাবে বিভিন্ন জায়গায় যেয়ে কুরআন পড়ায় এরা অভ্যস্ত। দূরের কাছের সব আত্মীয় স্বজনের উপস্থিতিতে বাড়িতে যেনো একটা আনন্দের ঢেউ খেলে যাচ্ছে। কারো মধ্যে এতটুকু শোকের বালাই নেই।
অতগুলো গরু খাসি জবাই আর গোশত তৈরী করতে সারা রাত জাগতে হয়েছে কিছু মানুষকে। তাই তাদের জন্য ভি,সি,ডির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা রাতভর সিনেমা দেখেছে আর কাটাকাটি রান্না-বান্নার কাজ করেছে। একজন মাওলানা সাহেব আছেন, তিনি ঘুরে ঘুরে সবকিছু তদারকি করছেন। খাওয়া দাওয়ার আগেই মিলাদ পড়ালেন। দোয়া করলেন কবরবাসীদের জন্য। তারপর গোরস্থানে যেয়ে কবর জেয়ারত করলেন নারী পুরুষ সবাইকে নিয়ে। খাওয়ার পর মাওলানাকে বিদায় করা হলো লুঙ্গি ও পাঞ্জাবী দিয়ে। তাছাড়াও টাকা চাল ও প্রচুর পরিমাণে গোশত দেওয়া হয়েছে। এই অনুষ্ঠানের নাম হলো চল্লিশা বের করা। অনুষ্ঠান শেষ করতে এদের খরচ হলো প্রায় ৫৫/৬০ হাজার টাকা। আমার বোনজামাইকে একটু বোঝানোর চেষ্টা করে বললাম, তোমরা যে কাজটা করছ তা মোটেও ইসলাম সম্মত নয়। সে আমাকে বুঝিয়ে বলল, এসব কথা এখানে বলা যাবে না ।এটাই আমাদের এখানকার নিয়ম। বাপ দাদার কাল থেকে চলে আসছে এই সিষ্টেম। আমার বাবাও এইভাবে তার বাবার চল্লিশা বের করেছে। এখানকার সবার ধারণা চল্লিশা বের না করা পর্যন্ত আত্মা শান্তি পায় না। কেঁদে কেঁদে বাড়ির আনাচে কানাচে ঘুরতে থাকে।
আমি শুধু বললাম, তুমি অর্থসহ কুরআন পড়েছ, হাদিস পড়েছ, তুমিও কি এসব বিশ্বাস করো? দুলাল হেসে বলল, আমার বিশ্বাস অবিশ্বাসে কিছু আসে যায় না। আমার কথা কেউ মানবে না। এই যে আমাদের মাওলানা সাব উনি কী কুরআন হাদীস পড়েন নি? কী করব বলেন? তাই আমিই এদের কথা মেনে চলি। হাসতে হাসতে চলে গেলো দুলাল। আল কুরআনে কী এদের কথাই বলা হয়েছে? তারা বলে আমাদের বাপ দাদাদের যা করতে দেখেছি আমরা তো তাই করবো। কিংবা এরা কী সেই লোক? তাদের জন্য সমান; তোমরা তাদের সতর্ক কর বা না করো- তারা মেনে নেবে না।
আল্লাহ তাদের হৃদয় ও কানে মোহর মেরে দিয়েছেন। (সূরা বাকারা-৭)
নাকি এর জন্য আমরাই দায়ী যারা ‘দায়ীইল্লাল্লাহ’ বলে দাবী করি অথচ তাদের কাছে সঠিক দাওয়াতটা পৌঁছাতে পারি নি।
আমাদের দেশের প্রায় সব জায়গাতেই এই অনুষ্ঠান বিভিন্ন নামে প্রচলিত আছে। যার প্রকৃত নাম শ্রাদ্ধ। যা হিন্দুদের শেষকৃত অনুষ্ঠান। হিন্দুরা যাকে জল বলে আমরা তাকে বলি পানি। এ যেন ঠিক তেমনি। হিন্দুরা বলে শ্রাদ্ধ আর আমরা বলি চল্লিশা জেয়াফত, কুলখানী। যে নামেই ডাকি না কেন জিনিস একই। এই অনুষ্ঠান সম্পূর্ণভাবে হিন্দুদের। এর সাথে ইসলামের সামান্যতম সম্পর্ক নেই। সাওয়াবের তো প্রশ্নই আসেনা। রাসূল (সা.) এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মা মারা গেছেন, আমি এখন কী করবো। রাসূল (সা) বললেন; তোমরা মায়ের জন্য দোয়া করো আর তার আত্মীয় স্বজনের সাথে ভালো ব্যবহার করো।
হযরত ওমর (রা) এর মৃত্যুর পর তার পুত্র আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর দূরের এক বেদুইন পল্লীতে গেলেন বেশ কিছু উপঢৌকনাদি নিয়ে বেদুইন সর্দারের কাছে। সর্দার চিনতে না পেরে বললেন, কে বাবা তুমি ? আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর সালাম দিয়ে বললেন, আমি হযরত ওমর (রা) এর পুত্র। আমি ছোট বেলায় বাবার সাথে আপনার এখানে এসেছি। আমার বাবা মারা গেছেন, আপনি আমার বাবার বন্ধু ছিলেন। বাবার হক আদায় করার জন্য আপনার কাছে এসছি। বৃদ্ধ সর্দার আব্দুল্লাহকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলেন। হযরত ওমর (রা) এর জন্য অনেক দোয়া করলেন। এই আমল রাসূল (সা) শিখিয়েছেন।
আল্লাহ পাক একটা দোয়াও শিখিয়েছেন ‘রাব্বির হামহুমা কামা রব্বা ইয়ানি সগীরা’। অর্থ- ‘হে আল্লাহ আমার বাবা মাকে তুমি তেমনি আদরে রাখ যেমন আদর যত্নে শৈশবে তারা আমাকে লালন-পালন করেছে।’ আর বাবা মা জীবিত থাকতে তাদের সাথে করণীয় সম্পর্কে বলা হয়েছে ‘পিতা মাতার সাথে ভালো ব্যবহার করো। যদি তোমাদের কাছে তাদের কোনো একজন বা উভয়ে বৃদ্ধ অবস্থায় থাকে। তাহলে তাদের কে উহ্ পর্যন্ত বলো না এবং তাদের কে ধমকের সুরে জবাব দিয়ো না বরং তাদের মর্যদা সহকারে কথা বলো। আর দয়া ও কোমলতা সহকারে তাদের সামনে বিনম্র থাকো।’ (সূরা বনী ইসরাইল-২৩)
কিন্তু বাবা মা- এর মৃত্যুর পর এই ভোজ অনুষ্ঠানের কথা আল্লাহ কিংবা রাসূল (সা.) কোনো দিন বলেননি। শুধু বাবা মা বলি কেন? যে কোন আত্মীয় স্বজন মারা গেলে এই ধরনের অনুষ্ঠান করা জঘন্যতম বিদায়াত। এই অনুষ্ঠানে কোনো একটা কাজের সাথেও ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। এই অনুষ্ঠানের মধ্যে আমরা কয়েকটি কাজ দেখতে পাই-যাকে আমরা আপাত দৃষ্টিতে ভালো কাজ মনে করি। যেমন
১. গরু খাসি জবাই করে ঢালাও ভাবে মানুষকে একবেল খাওয়ানো।
২. হাফেজ দিয়ে কুরআন খতম করানো।
৩. সবাই মিলে কবর জেয়ারত করা।
৪. মীলাদ পড়া।
৫. মাওলানা সাহেবকে তুষ্ট করা।
এই কাজগুলো কুরআন ও হাদীস দিয়ে বিশ্লেষণ করে কাজগুলো সঠিক না বেঠিক তা বোঝা যাবে। প্রথমেই বুঝতে হবে ইবাদাত কাকে বলে? মনে রাখতে হবে রাসূল (সা.) যেভাবে যে কাজ করেছেন সেভাবে সেই কাজ করার নাম ইবাদাত। আর ইবাদাতের বিপরীত কাজ হলো বিদায়াত। অর্থাৎ রাসূল (সা.) যে কাজ করেননি করতে বলেননি সেই কাজ সাওয়াবের আশায় করার নাম বিদায়াত।
১. অতএব কারো মৃত্যুর পরে এইভাবে অনুষ্ঠান করে মানুষকে খাওয়ানোর মধ্যে সওয়াব তো নেই বরঞ্চ এই সব অসুষ্ঠানে যেভাবে বেপর্দা হয় তা কি কেউ ভেবে দেখে?
২. টাকা দিয়ে হাফেজ দ্বারা কুরআন পড়িয়ে নেওয়ার মধ্যে কি করে সাওয়াব হতে পারে ? কুরআন যে পড়ে তার সওয়াব হয়। কিন্তু সাওয়াব কি কখনও বিক্রি করা যায়? আর টাকা পাওয়ার নিয়তে যে কুরআন পড়ে তার তো সোয়াব হয়ই না, তা আবার অন্যকে দেবে কি? একজনে খাবে আর অন্য একজনের পেট ভরবে এ যেমন সম্ভব না তেমনি একজনে কুরআন পড়বে আর অন্য একজনকে তার সাওয়াব বখশিস করবে তাও কিছুতেই সম্ভব না। কুরআন পড়ানোর এই পদ্ধতিটা সম্পূর্ন বিদায়াত।
৩. কবর জেয়ারত করলে কবরবাসীর কোনো উপকার হয়না। কবরবাসীর জন্য দোয়া করতে হলে যে কোন জায়গা থেকেই করা যায়। রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা কবর জেয়ারত করো তাহলে তোমাদের মন নরম হবে।’ অর্থাৎ যে কবর জেয়ারত করবে তার মৃত্যুর কথা স্মরণ হবে, মন নরম হবে এবং নিজেকে অন্যায় ও পাপ থেকে দূরে রাখতে পারবে।
৪. মীলাদ শব্দের অর্থই হলো জন্মদিন। মিলাদুন্নবী মানে নবী (সা.) এর জন্মদিন। কারো মৃত্যু দিনকে জন্মদিন বলার মতো হাস্যকর আর কী হতে পারে? এই অনুষ্ঠান আল কুরআন কিংবা রাসূল (সা.) এর হাদীস থেকে পাওয়া যায় না। এই কাজটাও বিদায়াত।
৫. তারপর থাকল মাওলানা সাবকে তুষ্ট করা। মাওলানা সাবকে তুষ্ট করতে যা যা করা হয় তাতো রীতিমতো হারাম। হিন্দু ধর্ম থেকে চুরি করা কাজ। হিন্দুরা যেমন কেউ মারা গেলে শ্রাদ্ধের পর ব্রাহ্মণকে যে দান দক্ষিণা দেয় আত্মার মুক্তির জন্য, ঠিক সেই কাজটাই করছি আমরা মুসলমান নামধারীরা। আর এই তথাকথিত মাওলানারা এই সব ধরে রেখেছে। এরা কী না বুঝে এসব কাজ করছে? নাকি বুঝে সুঝে জাহান্নামের আগুনে পেট ভরছে, জানি না। ইবাদাত মনে করে এতোগুলো বিদায়াত ও কবিরা গুনাহ করে আত্মতুষ্ঠি লাভ করে আমরা আমাদের দেশে সমাজে সগৌরবে মুসলমান হিসাবে টিকে আছি। অনেকে আবার বোঝে, এগুলো ইবাদাত নয়। আল কুরআন কিংবা হাদীসে এসব নেই শুধু সমাজ এবং প্রচলনের জন্য করে। তারা বিবেকের কাছে একটু প্রশ্ন করুন তো এই সব বিদায়াতের মধ্যে নিজেকে নিমজ্জিত রেখে আল্লাহপাকের দরবারে মুসলমান হিসেবে পরিচয় দেওয়া যাবে তো? পাওয়া যাবে তো রাসূল (সা.) এর শাফায়াত? নাকি শেষ পর্যন্ত মিলবে ‘ছুহকান-ছুহকান ’ দূর হয়ে যাও দূর হয়ে যাও।

৩৪টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×