যারা ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদের অনুসারী, তাদের তো কোন ধর্মই নাই, তাহলে তাদের আবার অনুভূতি জাগে কিভাবে?
ইতোপূর্বে আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছে; আল্লাহ যদি কিয়ামতের পর সবার বিচার করতে পারে, তবে আমরা কেন ৪০ বছর পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে পারবো না?
আবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলে ছিলেন; স্বয়ং আল্লাহও শতভাগ নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পারবে না।
তখন তাদের ধর্মীয় অনুভূতি কোথায় ছিল...?
এরা নিজেদের প্রয়োজনে ধর্মকে ঠিকই ব্যবহার করে। যেমন ভোটের আগে, ওমরা করা, মাথায় পট্টি বাঁধা। তাসবীহ হাতে জনসভা করা। সুন্দর সুন্দর ওয়াদা দেওয়া;
তার সাধারণ একটি উদাহরণ যেমন: দেশে নির্বাচনের সময় হলে প্রার্থীগণ ভোটারদের বাড়ি-বাড়ি, ঘরে-ঘরে গিয়ে অতি বিনয়ের সাথে অনুনয়-বিনয় সহকারে এমনভাবে ভোট ভিক্ষা চান, যাতে বিশেষ করে আমাদের গ্রামের সহজ-সরল সাধারণ মানুষের হৃদয়-মন সহজেই বিগলিত হয়। তখন মানুষের মনগলানো অভিনয়ের মাধ্যেমে চোখের পানি, নাকের পানি একত্রে বের করে ধর্মের আল-খেল্লা তথা গায়ে মাথায় লোক দেখানো ধর্মের পাগড়ি পট্টি বেঁধে সেই সব অতি সহজ-সরল মানুষের কাছে ওয়াদা করে বলেন:
“আমারে আপনারা এইবার ভোট ভিক্ষা দিয়া আপনাদের সেবা করার সুযোগ দেন। সংসদে গিয়া, আপনাদেরকে দশ টেকা কেজিতে চাল খাওয়ামু। ঘরে ঘরে চাকরি দিমু। বিনা পয়সায় জমির সার দিমু। আপনারা আমার ধর্মের অমুক তমুক। আপনাদের ধর্ম আমার ধর্ম এক। ধর্মের সাথে প্রতারণা করুম না এবং কুর’আন-সুন্নাহ বিরোধী আইন পাশ করে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তথা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মনে কোন কষ্ট দিমু না। ইত্যাদি ইত্যাদি।”
এইভাবে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সহজ-সরল ভোটারদেরকে ভুলিয়ে ভালিয়ে ভোট কেড়ে নিয়ে, সেবকের পরিবর্তে শাসক সাজে। সেবার পরিবর্তে শাসনের চাবুক দিয়ে সাধারণ ভোটারদের পিঠের চামড়া তুলে নেয়। ঘরে ঘরে চাকুরী দেয়ার ওয়াদা করে অসহায় ও নিরীহ চাকরিজীবিদের চাকরিচ্যুত করে তার অসহায় পরিবার-পরিজন ও ছোট-ছোট কচি-কাঁচা শিশু কিশোরদের পেটের আহার কেড়ে নিয়ে তাদেরকেও কষ্ট দেয়। ধর্ম রক্ষার ওয়াদা করে ধর্মগ্রন্থ পুড়িয়ে দেয়। মানুষকে শান্তি দেয়ার ওয়াদা করে অন্তঃকরণ জ্বালিয়ে দেয়। ক্ষমা করার ওয়াদা দিয়ে এসে প্রতিহিংসার আগুন জ্বালিয়ে দেয়। মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে, পরে স্বৈরাচারী আচরণ করে। ধর্মের সহযাত্রী সেজে লোক দেখানো পাগরি-পট্টি তথা ধর্মের আল-খেল্লা পড়ে ভোট ভিক্ষা করে, ক্ষমতায় গিয়ে ধর্মপ্রচারকদেরকে ধরে-ধরে নির্যাতন করে। ভোটের পূর্বে ভোটারের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করে, ভোট পাওয়ার পর ক্ষমতায় গিয়ে ভোটারের কোমড়ে লাথি মারে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


