ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০০৯, মঙ্গলবার : মাঘ ২১, ১৪১৫ । আপডেট বাংলাদেশ সময় রাত ১২:০০
মুহম্মদ মোফাজ্জল:
সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদ রচিত 'শান্তির স্বপ্নে সময়ের স্মৃতিচারণ' গ্রন্থ অনুযায়ী, খাজা মইন উদ্দিন চিশতি (র.)-এর দরবার শরীফের রহমত তার বাবার জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। সেজন্য 'মইন উদ্দিন' নামটি তিনি হৃদয়ের উচ্চাসনে স্থান দিয়েছিলেন বলে ছেলের নাম রাখেন মইন উদ্দিন আহমেদ। ১৯৫৩ সালের ২৩ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্ম গ্রহণকারী মইন উ আহমেদ বাবার চাকরিসূত্রে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শৈশব ও কৈশোর অতিক্রমের সুযোগ পান। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন নিয়মানুবর্তী, পড়াশুনায় অধিক মনোযোগী ও ধর্মপরায়ণ। বাবা ঢাকায় বদলি হওয়ার পর তিনি দু’বার নবীজিকে স্বপ্নে দেখেছিলেন বলে তার বইয়ে উল্লেখ করেছেন।
বইয়ের 'আমার ছেলেবেলা' উপাখ্যানে সেনাপ্রধান লিখেছেন 'নাখালপাড়ায় আমাদের বাসার পাশেই একটি মাজার শরীফ ছিলো। পীর সাহেব চিনু কুটি শাহ নামে খুবই গুরুত্ব একটি মাজার। অনেকেই এ মাজার শরিফ জিয়ারত করতে আসতেন। মাজার প্রাঙ্গণে স্থানীয় অনেকেই যেতেন নামায পড়তে। আমিও মাঝে মাঝে মাগরিবের নামায পড়তে যেতাম। মাজারের পাশে ছিলো শিয়াদের কবরস্থান, যেখানে মাঝে মাঝে মুর্দাদের গোসল করানো হতো। সেখানে একটি শ্যালো চাপকল ছিলো, চেপে পানি উঠাতে হতো। এ সময়েই আমি একটি স্বপ্ন দেখতে শুরু করি। স্বপ্নে সৌম্যদর্শন একজন বুজুর্গ ব্যক্তির সাথে দেখা হতো। তিনি বিভিন্ন ব্যাপারে কথা বলতেন। প্রায়ই তিনি স্বপ্নের ভেতর আমাকে বিভিন্ন বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দিতেন। এমনকি বিমান বাহিনীতে যোগদানের পূর্বে তিনি বলেছিলেন, যেতে চাও, যাও। কিন্তু বেশিদিন টিকতে পারবে না। ঠিক তাই হয়েছিলো। এমনিভাবে একদিন স্বপ্নে আমি উক্ত বুজুর্গ ব্যক্তির সাথে আমাদের চেনা রাস্তায় হাঁটছিলাম। তখন হঠাৎ দেখলাম সেই চাপকলটির চারপাশ অলৌকিক এক আলোতে উদ্ভাসিত। সে আলোর ভেতর সাদা কাপড় পরা একজন লোক কল চেপে অজু করছেন। সঙ্গী বুজুর্গ ব্যক্তি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন,'জানো, উনি কে?' আমি বললাম 'না'। তিনি বললেন 'উনি হলেন আমাদের নবিজি হযরত মুহাম্মদ (স.)'। এরপর আর মনে নেই। এ ঘটনার পর আরো একদিন আমাদের নবিজিকে একই জায়গায় স্বপ্নে দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছিলো।'
সম্পাদনা : দুলাল আহমদ চৌধুরী
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


