somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সেদিন পালিয়ে না গেলে আমার লাশও পাওয়া যেত না -জয়নাল হাজারী

২০ শে আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৪:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত ১৭ আগস্ট ছিল ফেনীর বহুল আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামীলীগ নেতা জয়নাল হাজারীর আত্মগোপনের ৯ম বার্ষিকী। ২০০১ সালের এ দিন মধ্য রাতে তিনি যৌথ বাহিনীর অভিযানের মুখে কয়েকজন সহযোগীসহ শহরের মাস্টারপাড়াস্থ শৈল কুটির থেকে আত্মগোপন করেন। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ৭ বছর পর দেশান্তরী জয়নাল হাজারী আবার দেশে ফিরেন। তবে এক সময় যার ইশারায় ফেনীর জনপদ নিয়ন্ত্রণ হতো। সেই হাজারী এখন আর আগের মত নেই। তিনি ন্যাশনাল নিউজের সাথে আলাপকালে আত্মগোপনের নানা স্মৃতি ও বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন। ন্যাশনাল নিউজের পাঠকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রকাশ করা হলোÑ ন্যাশনাল নিউজ ঃ একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা হয়েও আপনি কেন আত্মগোপন করলেন ? জয়নাল হাজারী :: মূলত: আমাকে মেরে ফেলার জন্যই সেদিন যৌথবাহিনী আমার বাড়ীতে ওই অভিযান নাটক সাজিয়েছিল। হঠাৎ সেনাবাহিনী মোতায়েন, কারফিউ জারি এসব ছিল আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য। যেখানে রাষ্ট্রপতির অনুমতি ব্যতিত সেনা মোতায়েন করা যায় না। সেদিন বে-আইনীভাবেই সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল এবং বিনা কারণে কারফিউ জারীও ছিল উদ্দেশ্যমূলক। মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতেই আমি সেদিন আত্মগোপন করি। তাদের পরিকল্পনা ছিল আমার সাথে গুলি বিনিময়ের নাটক সাজিয়ে হত্যার পর লাশ গুম করে ফেলা। ন্যাশনাল নিউজ ঃ অভিযানের খবর আপনি কিভাবে পেলেন ? জয়নাল হাজারী :: রাত ১০টার দিকে পুলিশ-বিডিআর এর নির্ভরযোগ্য সূত্র আমাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এছাড়াও আওয়ামীলীগ দলীয় সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবু সাঈদ আমাকে সাড়ে ১০টার দিকে টেলিফোনে জানান ‘আপনার বাড়ী যৌথ বাহিনী ঘেরাও করে ফেলেছে ...।’ ন্যাশনাল নিউজ ঃ বাড়ী থেকে কিভাবে বের হলেন ? জয়নাল হাজারী :: ড্রাইভারকে বলি আমার লাল জিপটি বাসার সামনে আনতে। এতে করে কলেজ রোড-মিজান রোড হয়ে গন্তব্যের দিকে রওয়ানা হই। ন্যাশনাল নিউজ ঃ আপনার সঙ্গী কে কে ছিলেন ? জয়নাল হাজারী :: সঙ্গী ছিলেন কয়েকজন তবে তাদের নাম বলা যাবে না। ন্যাশনাল নিউজ ঃ কোথায় আশ্রয় নেন ? জয়নাল হাজারী :: প্রথমতঃ সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নিই। ১ অক্টোবর জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত ভারতের ফেনী সীমান্তবর্তী এলাকাতেই অবস্থান করি। পরে অবশ্য কলকাতায় ফ্যাট নিয়ে ওখানে থাকি। ন্যাশনাল নিউজ ঃ :: এ সময় দলীয় সভানেত্রীসহ দলীয় নেতাদের সাথে কেমন যোগাযোগ ছিল ? জয়নাল হাজারী :: নেতাদের সাথে রীতিমত যোগাযোগ হতো। এছাড়া দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার সাথেও প্রায়ই যোগাযোগ হত। ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি প্রার্থী হতে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি আমাকে প্রার্থীতা চাপিয়ে দেন। ন্যাশনাল নিউজ :: নির্বাচনে হেরে গেলেন কেন ? জয়নাল হাজারী :: হেরেছি ঠিক বলা যাবে না। আমাকে জোর করে হারানো হয়েছে। একদিকে আমি মাঠে অনুপস্থিত অন্যদিকে আমার কর্মীদেরকে কেন্দ্রে দাঁড়াতেও দেয়নি। বেশিরভাগ কেন্দ্রে আমার এজেন্টও ছিল না। ন্যাশনাল নিউজ :: দেশান্তরী দিনগুলো কেমন কাটিয়েছেন ? জয়নাল হাজারী :: প্রথম প্রথম খুবই খারাপ লাগতো। ধীরে ধীরে নিজেকে নতুন পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিয়েছি। লেখালেখি, ইন্টারনেট আর ক্রিকেট খেলা দেখেই সময় কাটিয়েছি। ওই সময় আমি নিজের নামে ওয়েবসাইট চালু করি। প্রতিদিন নিজেই নতুন নতুন সংবাদ লিখে ও সংগ্রহ করে আপডেট করতাম। এ সময় আমার আত্মজীবনীমূলক বই ‘জয়নাল হাজারী বলছি’ লেখা সম্পন্ন করি। ন্যাশনাল নিউজ :: দেশে ফিরলেন কিভাবে ? জয়নাল হাজারী :: ভারত অবস্থানকালে দেশে ফেরার কথা ভাবতেই পারিনি। বিগত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের ফলেই দেশে আসতে পেরেছি। দেশে ফিরতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত এবং স্বস্তিবোধ করছি। বিদেশের মাটিতে যদি আমার মৃত্যু হতো তাহলে লাশ আনা হতো কিনা এ নিয়েও সন্দেহ থাকতো। কিন্তু দেশে এখন আমার মৃত্যু হলে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সর্বোচ্চ সম্মান নিয়ে চিরবিদায় নিতে পারবো। ন্যাশনাল নিউজ :: আপনার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা সমূহ বর্তমানে কোন পর্যায়ে ? জয়নাল হাজারী :: আগের একটি সহ আমি যাওয়ার পর আরো ২০টি নতুন মামলা আমার বিরুদ্ধে দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে অধিকাংশ মামলায় আমি বেকসুর খালাস ও অব্যাহতি পেয়েছি। এখনও ফেনীর আদালতে ২টি, কুমিল্লায় ১টি ও হাইকোর্টে ৪টি মামলা চলছে। ন্যাশনাল নিউজ :: বর্তমানে আপনার রাজনৈতিক অবস্থান কেমন? জয়নাল হাজারী :: তিন বারের সংসদ সদস্য হয়ে ফেনী সহ দেশবাসীর যে ভালবাসা পেয়েছি, আমার আর চাওয়া পাওয়ার তেমন কিছু নেই। সর্বশেষ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী করে মুক্তিযোদ্ধারা আমার প্রতি যে সম্মান দেখিয়েছেন এতে আমি কৃতজ্ঞ। দলীয় রাজনীতিতে আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। অগঠনতান্ত্রিক ভাবে জেলা সাধারন সম্পাদকের পদ নিয়ে টানাটানি চলছে। আমি নেত্রীর কথায় (শেখ হাসিনা) ধৈর্য্য ধরেছি। যে কোন সময় দলীয় পদ ফিরিয়ে দেয়া হতে পারে। পদ ফিরে পেলে যারা আজ বিরোধীতা করছে তারাই দলে দলে আমার কাছে ফিরে আসবে।
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×