somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বপ্ন

২৩ শে নভেম্বর, ২০১০ দুপুর ১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্কুল থেকে ফিরে ধীর পায়ে ঘরে ঢুকল লিমন, টেবিলের উপর ব্যাগটা ছুড়ে ফেলে পাশে খাটে বসে গায়ের ইউনিফর্ম দুটো বোতাম খুলে কি মনে করে যেন আবার বোতামগুলো লাগিয়ে দেয়, ইউনিফর্ম গায়েই শুয়ে পড়ে বিছানায়। নিজের উপর বিরক্তি এসে যায়। কি হবে ইস্ত্রী করা জামা গায়ে দিয়ে। ইস্ত্রী করা জামা গায়ে দিয়ে স্কুলে গেলেই কি সব পাল্টে যাবে? সবাই কি ভুলে যাবে তার মা স্বামী পরিত্যাক্তা, বিসমিল্লাহ হোটেলে মশলা বেটে সংসার চালায়? নিজের উপর ঘৃনা এসে যায়, মায়ের উপর খুব রাগ করতে ইচ্ছা করে। পরিবারের এমন অবস্থায় কেন যে মা শহরের দামী স্কুলটাতে ভর্তি করাতে গেল? সংসারের অবস্থাও যা, তাতে মিউনিসিটিপালের সরকারী স্কুলটাতে ভর্তি হলেও কোন ক্ষতি ছিলনা। সেখানকার পড়াশোনাও তেমন একটা খারাপ না, মাঝারী মানের, মুহিনের বড় ভাই মবিন ও তো ওই স্কুল থেকে পড়েছিল, এখন সরকারী অফিসের বড় অফিসার, স্বপনদা ও এখন জজ কোর্টের বড় উকিল, সেওতো মিউনিসিটিপালের ঐ স্কুলের ছাত্র। যে স্কুলে পড়ানোর সাধ্য নেই, সেখানে ভর্তি করানোটা যে মায়ের বোকামী হয়েছে সেটা বোঝার মত বয়স লিমনের হয়েছে, মুখে হাল্কা গোঁফের রেখা দেখা দিয়েছে, গালে কপালে ছোট-ছোট ব্রনের মত উঠছে, গত সাত-আঠ মাসে একটু লম্বাও হয়েছে। অষ্টম শ্রেনী নেহাত একটা শিশুদের ক্লাস নয়। কিভাবে সংসার চলে, কোথা হতে টাকা আসে সেসব নিয়ে ভাববার মত বোধ লিমনের হয়েছে। তাই এখন দুপুরে টিফিন পিরিয়ডে মা যখন খাবার নিয়ে স্কুলে যায় খুব খারাপ লাগে, নিজেকে খুব ছোট মনে হয়। তবে লিমন এখন বড় হয়েছে, অনেক কিছুই বুঝতে শিখেছে, মাকে সে অনেকবার বুঝিয়ে বলেছে সে এখন আর ছোট নেই, প্রতিদিন স্কুলে খাবার নিয়ে যাবার দরকার নেই, ওটা বড়লোকের ছেলেদের জন্য, তাদের মায়েরা নানান রকম খাবার রেধে নিয়ে যায়, কে আজ নতুন কি খাবার নিয়ে যাবে, তা নিয়েও আবার নানান প্রতিযোগিতা হয়। দুপুরে খাবার নিয়ে যাওয়া তাদের মানায়, এসব ডাল-ভাত, শাক-পাক নিয়ে কি লাভ? বিকেলে স্কুল ছুটি হলেতো বাড়ী ফিরে এগুলো খাওয়াই যায়। অনেকবার মাকে বুঝিয়ে বলার পরও মা যেন একগোয়া, মায়ের এই একগোয়া ভাব লিমনের ভালো লাগেনা, তবে মাকে মনে কষ্ট দেয়ার ইচ্ছাও লিমনের নেই, তাই মা দুপুরে স্কুলে খাবার নিয়ে গেলে লিমন লুকিয়ে থাকে অন্য কোথাও। খুজে খুজে ক্লান্ত হয়ে মা নিজেই ফিরে যায় বাড়ী, বাড়ী ফিরে একটা কিছু বানিয়ে বলে দেয় লিমন। ইদানিং লিমন একটা ব্যাপার খুব ভালোভাবে লক্ষ্য করছে, মাকে সে যাই বলে মা তাই বিশ্বাস করে। আগে সব করত না, মাঝে মাঝে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে জিগ্গেস করত, এখন আর ওটা নেই। যাই বলছে তাই যেন অন্ধের মত বুঝে নিচ্ছে, এই সুজোগে লিমন একটা সাইকেল চাইতে পারে মা'র কাছে, কারন স্কুলটা যদিও কাছে তারপরও আজকাল বিকেলটা খুব খারাপ লাগে লিমনের কাছে, স্কুল থেকে বাড়ী ফেরার পর সন্ধ্যা পর্যন্ত কিছুই করার থাকেনা। অন্য ছেলেগুলোর সবার সাইকেল আছে, সাইকেলে করে পাচ ছয় জন কি সুন্দর ঘুরে বেড়ায়, সবার সাইকেল আছে, শুধু লিমনেরই নেই। মা'ও সাইকেল কিনে দিতে বাধ্য, বার্ষিক পরিক্ষায় লিমক দ্বীতিয় হয়েছে, লিমন এখন বুঝতে শিখেছে লিমনকে নিয়ে তার মায়ের আকাশছোয়া স্বপ্ন। সেই স্বপ্নের তুলনায় একটা সাইকেল কিছুই না, লিমন ও খুব মন দিয়ে পড়া-লেখা করছে মায়ের স্বপ্ন পুরনে।

লিমনের এস.এস.সি পরীক্ষার ফলাফল বেরিয়েছে সপ্তাহ দুই হল, লিমনের আশার চেয়েও ভালো হয়েছে, ফলাফলে লিমনের চেয়ে তার মায়ের খুশি অনেক বেশী। আশপাশের বাড়ী-বাড়ী গিয়ে জানিয়ে এসেছে পুত্রের সাফল্যের কথা। প্রথম দু-একদিন খুশী থাকলেও এখন খুব খারাপ লাগছে লিমনের। তার চেয়ে খারাপ রেজাল্ট নিয়ে অনেক ছেলেইতো ঢাকার বড় বড় কলেজগুলোতে ভর্তি হচ্ছে, আর তাকে পড়ে থাকতে হবে এই রসহীন শুষ্কো মফস্বলে। মা'কে জানিয়ে দেখলে কেমন হয়? যদিও লিমন জানে তার মায়ের সাধ্য নেই তাকে শহরে পড়ানোর, তার পরও লিমনের মা'কে বলার সাহস আছে, কারন গত কয়েক বছরে মা'র কাছে চেয়ে অনেক অসম্ভব কে সম্ভব করেছে লিমন, অবশ্য সেই সম্ভবটা কিভাবে হয়েছে সেটা নিয়ে লিমনকে কখনো চিন্তা করতে হয়নি, লিমন নিজেও চিন্তা করতে চায়নি, এমনিতেই পড়া-লেখা নিয়ে খুব খাটতে হয়, তবে লিমনের ধারনা তার চাহিদা মা পূরন করবেই, সেটা যেভাবেই হোক। লিমন সাহস করে মায়ের কাছে আবদার করে, লিমন জানে যদিও তা পুরনে মায়ের সামর্থ্য নেই, তারপরও মায়ের স্বপ্ন পূরনে এ চাওয়া তেমন বড় কিছু নয়।

এখানকার কলেজের ছেলে মেয়ে গুলো কেমন জানি উচ্ছৃঙল ধরনের, হয়ত পরিবেশটাই তাদের উচ্ছৃঙল হতে বাধ্য করেছে, অথবা সেটা পরিবারিকও হতে পারে, তবে যেটাই হোক সেই সূত্র লিমনের অজানা। লিমনের সেই পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে কষ্ট হচ্ছিল, তারপরও লিমন চেষ্টা চালিয়ে যায় সেই পরিবেশে খাপ খাওয়াতে, লিমন কলেজের প্রথম সারীর ছাত্রদের একজন, তার বন্ধু পেতে খুব বেশী খুজতে হয়না। শুধু তাদের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে কষ্ট হয়। মাঝে মাঝে লিমনের আবার সেই শুকনো মফস্বলে ফিরে যেতে ইচ্ছা করে, বোধহয় ওখানেই ভালো ছিলো, এখানে এসে অর্থের দৈন্যতা লিমন আরো বেশী উপলব্ধি করে, কারন এখানকার বন্ধুরা অনেক বেশী ধনীর সন্তান। তাদের সাথে ক্যান্টিনে খেতে যেতে লজ্জা হয়, ওরা শুধুই ক্লাহের বন্ধু, ক্যান্টিনে তাদের চোখ লুকিয়ে অন্য কোনে গিয়ে বসতে হয়। মার কাছ থেকে মাসে দু-তিনবার টাকা চেয়ে পায় লিমন, এর বেশী চাইতে লিমন আর কোন কারন খুজে পায়না, এসাইনমেন্ট, এক্সট্রা ওয়ার্কের কোন অর্থ তার মা বুঝতে পারে কিনা লিমনের জানা নেই, তবে ওটা যে এক মাসে তি-চার বারের বেশী করা লাগেনা তা মনে হয় বুঝতে পারে, তাই এর বেশী চাইতে লিমনের লজ্জা হয়। তাই মাসের কয়েয়কটা দিন নতুন বন্ধুদের সাথে কাটানো গেলেও মাসের বড় একটা সময় লিমনকে থাকতে হয় ক্যম্পাসের এক কোনে লুকিয়ে। এই অর্থ কষ্টে মায়ের উপর রাগ হয়, ইশ্বরের ওপর মাঝে মাঝে রাগ হয়, কেন সে এমন গরীব ঘরে জন্ম দিয়েছিল, তবে মা আর ইশ্বর কারো ওপর রাগ করে কোন লাভ নেই সেটা লিমন বুঝতে পারে, কারন শহরের বড় কলেজটাতে পড়ার ইচ্ছা লিমনেরই হয়েছিল, তবে লিমন জানে তার মায়ের স্বপ্ন, সে লেখা-পড়া চালিয়ে যাচ্ছে ঠিক আগের মতই। লিমনের এই ধারাবাহিক লুকোচুরী অনেকদিন থেকেই দেখে আসছিল শিখা নামের লিমনের এক বন্ধু। ভাল ছাত্র হিসেবে যথেষ্টই লিমনের পরিচয় ছিল ক্যাম্পাসে, তাই হয়ত ধীরে-ধীরে শিখা লিমনের ঘনিষ্ঠ হতে থাকে। শিখা রুপ লাবন্যে তেমন কিছু ছিলনা, মোটামুটি চেহারার মেয়েরাও শিখার চেয়ে সুন্দরী ছিল, তাই ঝলমলে ক্যাম্পাসে রুপ-কুমারী ভীড়ে শিখাকে লিমনের উটকো ঝামেলা মনে হত। কিন্তু তাকে অবহেলা করার সামর্থ্য ও লিমনের ছিলান, কারন লিমন নিয়তিকে মেনে নিতে শিখেছে, লিমন এখন নতুন করে বুঝতে শিখেছে এটাই তার নিয়তি। পরিপূর্ন কিছুই তার ভাগ্যে নেই। শিখাকেও সেভাবেই মেনে নিতে হল লিমনের।

কলেজ শেষ করে লিমন এখন ভার্সিটিতে পড়ছে, অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়েছে এই সময়টাতে, অনেক কঠিন বাস্তবতা এসে দেখা দিয়েছিল লিমনের দরজায়। লিমন এখন আগের চেয়ে অনেক পরিপক্ক। তাই ঘুনাক্ষরেও নতুন জীবনের কাউকে সে জানতে দেয়নি তার শেকড়ের সন্ধান। তার দৈন্যতার কথা, সুকৈশলে এড়িয়ে যাবার ক্ষমতা লিমনের অনেক আগেই হয়েছে। তাই লিমন সবসময়ই অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করেছে, এই ক বছরে ভুলেও বাড়ী যায়নি, লিমন জানে তার মা তাকে খুব ভালবাসে, চোখের সামনে পুরো একটা দিন লিমনকে না দেখলে যে মা ছটফট করত, সেই মার কেমন কাটছে বছরের পর বছর তা লিমন জানে, তাই লিমনের ঠিকানা চাইলেও নানা কৌশলে লিমন এড়িয়ে যায়, মাঝে মাঝে অনেক রকম ভয়-ভিতীও দেখাতে হয়। সেমিষ্টার ছুটি গুলোতে এক্সট্রা ওয়ার্কের কথা বলে কাটিয়ে দিয়েছে এই ক বছর। মায়ের কথা মনে হলে মাঝে মাঝে লিমনের মনে পড়ে, তবে লিমনতো মায়ের স্বপ্ন পুরনেই এগিয়ে চলেছে, পড়ালেখা ছেড়ে তো সে কখনো বাজে পথে পা বাড়ায় নি। কিছু দিনের মধ্যে লিমন বুঝতে পারে শিখার রুপ লাবন্য না থাকলেও তার বাবার রয়েছে কাড়ি কাড়ি টাকা। বিশাল ব্যাবসা থেকে অর্থের ঢল নামে। সেই ঢলে গা ভাসিয়ে দেবার খুব ইচ্ছা হয় লিমনের। সারা জীবন দারিদ্রের যাতাকলে পিষ্ট লিমন যেন নতুন ভাবে বাচার স্বপ্ন ফিরে পায়। এতে করে তার মায়ের স্বপ্নেও কোন ভাটা পড়বেনা। তার মায়ের স্বপ্নতো ছিল লিমন যেন বড় কিছু, হয়, খুব বড় কিছু, আর সেই খুব বড় কিছু হবার সোপান এই শিখা, তবে শিখাকে দুঃখ দিয়ে লিমন বড় হতে চায়না, শিখাকে ঠকিয়ে নয়, তাই ধীরে ধীরে শিখাকে ভালবাসতে চেষ্টা করে লিমন।

ইউনিভার্সিটির পড়ালেখা শেষ লিমনের। শিখার ও সেষ একই সাথে। প্রথম বছর লিমন মায়ের কাছে ফোন করে টাকা চাইলেও দ্বিতীয় বছর হতে আর চাইতে হয়নি। ভাল ছাত্র হিসেবে একটা ছোট কোম্পানিতে পার্ট টাইম চাকরী পেতে লিমনের কোনই ঝামেলা পোহাতে হয় নি, এদিকে শিখার সাথে নতুন জীবন ভালোই কেটে যাচ্ছিল লিমনের। ইউনিভার্সিটি, অবসর সময়ে চাকরী আর শিখাকে সময় দিতে দিতেই সময় চলে যাচ্ছিল। এক সময় লিমনের মনে হল অনেকদিন মায়ের সাথে কোন যোগাযোগ নেই, সে সুযোগও তেমন নেই, এখন অনেক হিসেব করে চলতে হয়, কারন ইতিমধ্যে শিখাকে একদিন জানিয়ে দেয়া হয়েছে লিমনের বাবা মা তো মারা গেছে অনেক আগেই, গ্রামে যে খালার কাছে লিমন বড় হয়েছে ঐদিন সেও মারা গিয়েছে, সেদিন অনেক কষ্ট করে লিমনকে কিছুটা কাঁদতে হয়েছিল, শিখাও অনেক সমবাদনা জানিয়েছিল। লিমনও সেদিন চায়নি তার অতীত শেকড় নতুন জীবনের কেউ জানুক, সদ্য অভাবের কারা মুক্ত লিমন চায়নি নতুন কোন ঝামেলা। তবে লিমন জানে একদিন সুজোগ হলে মায়ের সব অভাব সে দুর করে দেবে। যেদিন তার অনেক টাকা হবে, সেদিন তার মাকে আর অন্যের কাজ করে খেতে হবেনা, সন্তানের কাছে তার মায়ের যে আশা তা লিমন পূর্ণ করবে। লিমন তার মায়ের সেই সুখের কথা চিন্তা করে সাময়িক বিচ্ছিন্নতাকে তুচ্ছই মনে করে।

শিখার বাবা কোন কিছুতেই আপত্তি করেনি, পাত্র হিসেবে লিমন যেকোন দিক দিয়েই উপযুক্ত। শিখারও পছন্দ, তাই লিমন আর শিখার তিন বছরের দাম্পত্য জীবনে এলো ফুটফুটে কন্যা সন্তান। লিমন শ্বশুরের ব্যাবসা, আর সংসার নিয়ে চলছে। অফিসে গুরুগম্ভীর বস, বাসায় আদর্শ স্বামী আর আদর্শ পিতা। হঠাৎ একদিন মনে হল এবার তার আদর্শ সন্তান হওয়ার সময় এসেছে। ততদিনে মায়ের কথা খুব মনে পড়ছে, লিমন এখন তার মায়ের সেই স্বপ্ন পুরন করতে পেরেছে, সব মা'ই তার সন্তানকে এমনটাই দেখতে চায়। পারিবারিক, আর্থিক মানসিক ভাবে স্বাবলম্বী।যার সবকটাই এখন লিমনের আছে, নিজে একটা বড় কোম্পানীর বড়কর্তা, ঘরে শুখার মত লক্ষী বউ, ফুটফুটে কন্যা, এমনটাই হয়ত মা চেয়েছিল। লিমন অনেক ভেবেই স্বিদ্ধান্ত নিল গ্রামে গিয়ে মায়ের সাথে দেখা করার। আর শিখার সাথে সংসার হয়ে গেছে, সন্তানও হয়েছে। শিখাকে এখন তার সেই সময়কার সিমাবদ্ধতার কথা খুলে বললে শিখাও হয়ত মেনে নেবে। আর শিখা মেনে নিলে তার পরিবারও মেনে নিতে বাধ্য।

অনেক দিন পর পুরোনো সেই শহরে গিয়ে অনেক কিছুই অচেনা লাগছে। টিনের ঘরগুলো এখন বড় বড় দালান, বড় রাস্তাটা দুপাশে ক্ষীন হয়ে এসেছে, পুরো দেশের একি অবস্থা, শুধু অনেক দিনের পরিচিত শহরটা দীর্ঘদিন পর দেখে কিছুটা অন্য রকম লাগছে। বিসমিল্লাহ হোটেলটা এখন আর নেই আগের যায়গায়। জিগ্গেস করতেই লোকজন বলছে অনেক আগেই নাকি বন্ধ হয়ে গেছে। তবেতো লিমনের মা'ও চাকরী হারিয়েছে অনেক বছর হয়ে গেল, তবে এই ক'বছর কিভাবে কি করেছে মা? ভাবতেই বুকটা ব্যথায় কুকড়ে এলো লিমনের। দ্রুত বাড়ীর পথে হাটতে শিরি করল লিমন। যেই শহরের প্রতিটা গলি তার চেনা ছিল সেটা আজ কিছুই মনে পড়ছেনা, মানুষগুলোও কি করে সব নতুন হতে পারে তাই ভেবে পায়না লিমন। পুরোনো বন্ধু কাউকে চেনার কথা নয়, এতদিনে নিশ্চই সবকটা লিমনের মতই পাল্টে গিয়েছে। তবে কামাল ভাইকে চিনতে কষ্ট হয়নি লিমনের। সেই আগের মতই টেকো মাথা, ঠোট অব্দি গোঁফ। কামাল ভাইকে দেখে পুরোনো দিনের অনেক কথাই মনে পড়ে গেল। কামাল ভাইকে লিমনের পরিচয় দিতেই বুকে জড়িয়ে ধরলেন কামাল ভাই। আরো দু-চারজন ডাক দিলেন, পরিচয় করিয়ে দিলেন সেই ছোট্ট লিমন আজ কত বড় হয়েছে, প্রতিষ্ঠিত সমাজে, লিমনের আজকের অবস্থানে কামাল ভাই যে সত্যিই খুশী হয়েছে। কামাল ভাই ও এখন ব্যাবসা বানিজ্য করে মোটামুটি শহরে নাম-ডাক করেছে বেশ। কুশলাদির এক পর্যায়ে কামাল ভাই জিগ্গেস করলেন খালাম্মা কেমন আছে? লিমন কিছুই বুঝতে পারেনি, তাই অন্য প্রসন্ঙে কথা বলছিল, কামাল আবার জিগ্গেস করল "কিরে খালাম্মা আসেনি, সেই যে তোর বাসায় গেলো আর গত কয়েক বছরে এই কামালরে স্মরন করলনা, অথচ তুই যখন টাকার জন্য ফোন করতে, সব কাজ ফেলে রেখে খালাম্মাকে গিয়ে আগে খবরটা দিয়ে আসতাম। খালাম্মা ছেলের আলিসান বাড়িতে গিয়ে এই কামালরে ভুলে গেল? খালাম্মার ব্যবহারে দুঃখ পেলামরে লিমন"। কয়েক সেকেন্ডের জন্য লিমনের মাথাটা শুন্য হয়ে গেল। শরীরটা কেমন যেন গুলিয়ে আসছিল, চোখদুটো ভিজে উঠছিলো। দ্রুত কামালের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ি এসে দরজায় তালা দেখে লিমনের শরীর নিস্তেজ হয়ে এল। পায়ের শিরাগুলো শক্তিহীন হয়ে এল, হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল মাটিতে, এতক্ষন আটকে রাখা কষ্টটা যেন বাধ ভান্গা জোয়ারের মত বেরিয়ে পড়ল।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০১০ দুপুর ১:৪১
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×