somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সামু ব্লগ ও আওয়াজ ইমোসঃ আইডেন্টিটি(একটি রম্যকথন)

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ১০:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আমরা যাহারা সামু ব্লগে কলম ঘষিতে বা চোখ বুলাইতে বা অন্যের পোষ্টে কমেন্টের বান নিক্ষেপ করিতে নিজেদের উৎসর্গ করিয়াছি এবং যাহারা আওয়াজ কমিউনিটিতে একে অপরের ইয়েতে সুড়সুড়ি দিতে পারঙ্গম হইয়াছি তাহারা সকলেই নিজেদের জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে প্রতিদিন প্রচুর ইমো ব্যবহার করিতেছি। কখনও কোন ভাষা প্রয়োগ ব্যতিরেকেই জিহবা বাহির করিয়া ভ্যাঙ্গাইতেছি, কখনও ইমোকে রক্তবর্ণ করিয়া রাগ-ক্ষোভ প্রকাশ করিতেছি। তাই এইসব ইমোর বহুল ব্যবহারে ভবিষ্যতে আমাদিগের ভাষার উপর আঘাত হিসেবে আসিবে বলিয়া আমাদিগের ভাষা বিশেষ-অজ্ঞরা মনে করিতেছেন। তবে যাহাই হউক এই অধমের জ্ঞান সেই উচ্চতায় পৌঁছাইবে না, আর তাহার দরকারও নাই কারন আমি কোন বিশেষ-অজ্ঞ নই। পাঠকদিগের মইধ্যে কোন বিশেষ-অজ্ঞ থাকিলে হাত তুলিবেন।

তবে, ইমোর বহুল ব্যবহার বাড়িলেও তাহাদের নাম ধাম পরিচয় নিয়া কেউ কোনদিন মাথা ঘামায়নাই। যে ইমোরা রাত-দিন, ঝড়-বৃষ্টি, সুনামি-আইলা, বিশ নম্বর-নাই নম্বর উপেক্ষা করিয়া নানা রকম ভ্যাংচি কাটিয়া আমাদের আনন্দ দিতেছে, তাহাদের সাথে এ ভারি অন্যায়। তাই তাহাদের এই দুঃখে গভীর দুঃখিত হইয়া আমি পোঃ পাকা ব্লগার তাহাদের বিষয়ে দু’চার লাইন লিখিতে ইচ্ছা করিয়াছি। আশা করি তন্মধ্যে আপনাদের ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটিবে না।

প্রথমেই বলিয়া লই, আপনারা যদি ভাবিয়া থাকেন যে সব ইমোই একই ইমোর তাহলে ভুল করিবেন। আমাদের কাছে যেমন মা-বাঘ, বাবা-বাঘ, বাচ্চা-বাঘ দেখিতে একই বলিয়া মালুম হয়, ইমোদের ক্ষেত্রেও তেমনি। ইহারা সবাই আলাদা আলাদা প্রাকৃতজন।

এইবার তাহাদের নাম ও ইন্ডিভিড্যুয়াল পরিচিতি দিতে ইচ্ছা করি।

১। :) - এনার নাম মিচকা। ছুডুবেলায় ভয়ানক পিছনকুলি হইতে সারিয়া উঠিয়া পর তিনি এই ইমো দিয়াছিলেন।

২। :D - ইনিও মিচকা সাহেব। বুড়া বেলায় তার পুত্রবধূকে দেখিয়া অজ্ঞান হইবার আগ মূহুর্তে তিনি এই ইমো দিয়াছিলেন বলিয়া জনশ্রুতি আছে।

৩। B-) - এইডা মিচকা সাহেবের সুপুত্র জব্বর আলী। ছুডুবেলায় চুখ উঠায় তিনি একটি সানগ্লাস উপহার পাওয়া পূর্বক এই ইমো দিয়াছিলেন।

৪। ;) - জব্বর আলী। ছাত্রজীবনে গার্লস কলেজের সামনে ইভ-টিজিংরত অবস্থায় তিনি এই ইমো দিয়াছিলেন।

৫। :( - জব্বর আলী। তাহার পিতা তাহার বিবাহিত বউকে ইভ-টিজিং করায় তিনি এই ইমো দিয়াছিলেন।

৬। :(( - জব্বর আলী। তাহার পিতা তাহার বিবাহিত বউকে জবরদস্তি বিবাহ করায় অসহায় হয়ে তিনি এই ইমো দিতে বাধ্য হইয়াছিলেন।

৭। X( - ইনি জব্বর আলীর পুত্র টেটন মিয়া। দাদার(নাকি বাবার) কাহিনী শুনিয়া বাচ্চাকালে তিনি এই ইমো দিয়াছিলেন।

৮। :| - টেটন মিয়া। তাহার বাবা-নানা প্রসঙ্গ উঠিলে পরে এখনও তাকে এই ইমো দিতে দেখা যায়।

৯। X(( -টেটন মিয়া। মিচকা সাহেব অর্থাৎ উনার দাদা(নাকি বাবা) তাহাকে বিবাহ করিতে বলায় সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র টের পাইয়া তিনি এই ইমো দিয়াছিলেন।

১০। :-/ -মিচকা সাহেব। টেটন মিয়া বিবাহ করিয়া আলাদা হইতে চাহিতেছে ইহা শুনিয়া তিনি এই ইমো দিয়াছিলেন।

১১। :P - টেটন মিয়ার পুত্র তুলসী বাবু। ভেংচি কাটাতে তিনি বিশেষ পারঙ্গম হইয়াছিলেন, তাহারই একটি উদাহরণ এই ইমোটি।

১২। :-* -তুলসী বাবু। মিথ্যা দুঃখের অভিনয়ের সময়ে তিনি এই ইমো দিতেন।

১৩। :#) - তুলসী বাবু। তাহার দাঁতের সংখ্যা স্বাভাবিকের চাইলে একটি বেশী হওয়ার আনন্দে সেটির প্রমাণ স্বরূপ তিনি এই ইমো দিয়াছিলেন।

১৪। #:-S - এইটি তুলসী বাবুর পুত্র ভেডক। খুব ভাল ছাত্র ছিলেন এবং স্কুলে তার ডাক নাম বড় গাধা হওয়ায় বিব্রত হইয়া তিনি এই ইমো দিয়াছিলেন।

১৫। 8-| - ভেডক। বিবাহের কথা চলাকালীন সময়ের ব্লাশিং ইমো।

১৬। B-)) - ভেডক। দাদা(টেটন মিয়া) ও বাবা(তুলসী বাবু) এই দুইজনের বিশেষ সংমিশ্রন ঘটেছিল তার মধ্যে। তার প্রমাণস্বরূপ এই ইমো।

১৭। :!> - ভেডকের প্রথম পুত্রঃ আলু মিয়া। দাদা টেটন মিয়ার মত লাল হইতে না পারিলেও কিছুটা লাল হইতে পারিতেন, কিন্তু এই লাল হওয়া ছিল লজ্জায় লাল।

১৮। :#> - আলু মিয়া। প্রথম বিবাহ ভাঙ্গিয়া যাবার পর এই ইমো দিয়াছিলেন।

১৯। :|| - ভেডকের কন্যা কূটনি বিবি। মেয়েবেলায় বাবার হাতে প্রহারিত হইয়া এই ইমো দিয়াছিলেন।

২০। :> - কূটনি বিবি। লিপিষ্টিক মাইখ্যা ঠুঁট লাল। প্রথম ডেটিং এর পূর্বের ইমো।

২১। :-< -ভেডকের ছোটপুত্র কুম্ভকর্ণ। নামের প্রতি তিনি সুবিচার করিয়াছিলেন। ঘুম ছাড়া কিছুই বুঝিতেন না। ঘুম আসিতেছে বুঝাইতে এই ইমো দিতেন।

২২। |-) -কুম্ভকর্ণ। ঘুমের ঘোরে এই ইমো দিতেন।

২৩। /:) - কুম্ভকর্ণ। ঘুম না আসিলে এই ইমো দিতেন।

২৪। :-B -কূটনি বিবির পুত্র মাইঞ্চা বাবু। বড়ই মহান বিজ্ঞানী ছিলেন। কিন্তু তাহার দাঁত ছিল মাত্র দুইটি। ছোটবেলা থেকে বিরাট এক চশমার জোয়াল তার নাকে চেপে বসেছিল। ইমোতে হাসোজ্জল মাইঞ্চা বাবু।

২৫। B:-) - মাইঞ্চা বাবু। মাইয়া পটাইতে তিনি এই দুঃখ দুঃখ ভাব ধরিতেন।

২৬। :-P - কূটনি বিবির কন্যা মিনি কূটনি। পূর্বপুরুষ তুলসী বাবুর বৈশিষ্ট্য ইনহেরিট করেছিলেন।

২৭। B:-/ - মাইঞ্চা বাবু। ‘ইভ-টিজিং চালু করুন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রদর্শিত ইমো।

২৮। :-& - আলু মিয়ার পুত্র ডায়রিয়া ডেঙ্গারাস। দলীয় ক্যাডার ছিলেন। ডায়রিয়ার পানি স্বল্পতায় প্রদর্শিত ইমো।

২৯। :-0 - ডায়রিয়া ডেঙ্গারাস। বিরোধী দলীয় ইমোদের লাশ ফালায় দেবার পর প্রদর্শিত ইমো।

৩০। !:#P - ডায়রিয়া ডেঙ্গারাস। দেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখারত অবস্থায় অভিনীত ইমো।

৩১। =p~ - কুম্ভকর্ণের ছেলে দ্যা আলটিমেট। উনার বাবা সারাদিন ঘুমানোর পরও কিভাবে যে উনি পয়দা হইয়াছিলেন তাহা আজও গবেষণার বিষয়। বংশের মুখ তিনি উজ্জল করিয়াছিলেন মাত্র এই এইটি ইমো প্রদর্শন করিয়া।

আশা করি আপনারা সকলেই কম-বেশী ইমোদের অবদানের ব্যপারে জানিতে পারিয়াছেন। আসুন সবাই ব্লগে আগুন ঝরাই, কমিউনিটিতে আওয়াজ তুলি – ‘ইমোদের স্বীকৃতি দাও, দিতে হবে’, ‘ইমো ভাই ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’ ইত্যাদি।

বিনয়াবনত,
মিঃ পোঃ পাকা,
ব্লগার, সামু ব্লগ।


৫ই ডিসেম্বর, ২০১০, ঢাকা।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ১১:২৪
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×