খুব শক্ত কিছু একটা কাটছিলোনা জোড়ে ঘা দিতেই বড় ছুড়ি(প্রায় দা' এর মতো) কাটিং বোর্ড থেকে ছিটকে এসে নিজের হাতে পরে.. প্রথমে হতভম্ব, তারপর তীব্র যন্ত্রনা আর রক্তের স্রোত.. বাঁহাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি'র নখ দু'টুকরো হয়ে গেছে..বাসার সবার অস্থিরতা, ছুটাছুটি... । প্রয়োজনীয় জরুরী চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরে শুশ্রুষার পালা.. বাঁ হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলীর ক্ষত'র যন্ত্রণা আর ব্যথায় কাতর আমাকে যেন কিছু করতে না হয়, কোন কাজ, কোন কিছু ধোওয়া বা রান্না.. কাটাকাটিরতো প্রশ্নই আসেনা! দেশ বিদেশ থেকে নিয়মিত ফোন... উদ্বিগ্ন পরিবার, আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব।
ভয়াবহ শারীরিক লান্ছনা, হায়নার পালের দাঁত, নখ আর লালসায় জর্জরিত শরীর, সেই পাপ ঢাকতে শ্বাস রোধ করে হত্যার চেষ্টা, পাপের চিহ্ন মিটিয়ে দিতে ধারালো ছুড়ি দিয়ে ক্ষত বিক্ষত করে দেয়া দেহ, মৃত্যু নিশ্চিত করতে কেটে দেয়া কন্ঠনালী... তাও যথেষ্ট না হওয়ায় ছিন্ন ভিন্ন করা হয় কশেরুকা/স্পাইনাল কর্ড... বিকৃত লালসার সাধ মিটিয়ে ছিন্ন ভিন্ন রক্তাক্ত দেহটি পরিত্যাক্ত করা হয় ময়লা আবর্জনার জঙ্গলে.. ...
কি প্রচন্ড যন্ত্রণা আর কষ্ট.. অনেক রক্ত ঝরে গেছে.. নীভু নীভু জীবন প্রদীপ তবু জ্বলে উঠতে চায়... ...। মরুভূমির শুষ্কতা কন্ঠ আর ঠোঁটে.. জীভ দিয়ে ভিজিয়ে নিবে, তাও যেন শুকিয়ে গেছে.... মানুষের আগমনের জন্য চাতকের মতো অপেক্ষা গলে পচে যাওয়া শরির নিয়ে.. সাপ আর শিয়াল এসেও দয়া করে যায়,.. এমন ক্ষত বিক্ষত গলিত দেহকে আক্রমন করতে বিবেকে বেঁধেছে তাদের.. মাটিতে হেঁটে চলা পিপড়ার দলও সাবধানে পাশ কাটিয়ে গেছে যেন ভুল করে হুল ফুটিয়ে না দেয় এই হতভাগীর দেহে.. অনেক অপেক্ষা শেষে দুদিন পর কারো পদধ্বনি শোনা যায়... ! শরীরের সমস্ত শক্তি সন্চয় করে তৃষ্ণার্তের ক্ষীণ কন্ঠে আকুল মিনতি দু ফোটা পানির জন্য.. .. শত হলেও মানুষ, দয়ামায়া তো আছে, সেই আশায়! বোতলে ভরে আনা তরল ঢেলে দেয়....কন্ঠ ভরে পানি পান করে তৃষ্ণা মিটানোর আশায় যেন আগুন ঢেলে দেয়...জ্বলে যায় শরীর, মুখ.. সব কিছু.. পানি নয়.. তৃষ্ণা মিটাতে পানি চাওয়ায় মানুষরুপি হায়নার পাল এক মুমূর্ষের পর ঢেলে দিয়েছে এসিড!
মানুষ রাগের মাথায় কান্ড জ্ঞান হারিয়ে পাশবিক আচরণ করে, কখনও কখনো আতংকিত হয়ে মানবিক বোধ হারিয়ে ঘটিয়ে ফেলে জঘণ্য সব অপরাধ.. কয়েক মুহুর্ত, কখনও কয়েক ঘন্টা পর সম্বিত ফিরে পেলে অনুতপ্ত হয় কৃত কর্মের জন্য। বিবেকবোধ হারিয়ে কতটা নীচে নেমে গেলে কেউ এভাবে তৃষ্ণার্ত মুমূর্ষ মানুষের মুখে এসিড ঢেলে দিতে পারে? এদের পশু বললে, পশুর ও অপমান হয়.... আর , এমন জঘণ্য অপরাধ সংঘটিত করার পরও বুক ফুলিয়ে বীর দর্পে ঘুরে বেড়ায় আমাদের মাটিতে...
মেনে নেয়া যায়না এই অমানুষগুলো এখনও স্বাধীন, এরা এখনও বুক ভরে নিঃশ্বাস নিচ্ছে মুক্ত হাওয়ায়.. পেট ভরে দুবেলা অন্ন গ্রহন করছে, উৎসব আনন্দে মেতে উঠছে.. খুঁজে বেড়াচ্ছে নতুন শিকার...
দেশেরর সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান, শাসকরা যখন আইনের উর্দ্ধে নয়, যাপন করছেন বন্দী জীবন..তখন এরা এমন ঘৃণ্য অপরাধের পরও মুক্ত স্বাধীন.. বীর দর্পে হেঁটে বেড়াচ্ছে আমাদের মাটিতে...!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

