somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কবি ও কবিতারা...

২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৮:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দুটি লাইন শুদ্ধভাবে লিখতেই অনেক বেগ পেতে হয়, আর কবিতা লেখা অনেক পরের কথা!!




আমি কবিতা লিখতে জানিনা, নিজের মনে খুব সাহস করে কিছু লিখে ফেললেও কোন মানুষ দূরের কথা নিজের খাতাকলমের কাছেই সংকোচ বোধ করি!



তবে, কবিতার সাথে সম্পর্ক শৈশব থেকে...
আমার মা'র কারনে খুব ছোটবেলা থেকে ছড়া কবিতা আবৃত্তি করা শুরু। আট বছর বয়সে সুকুমার রায়ের "গন্ধ বিচার" কবিতাটি স্কুলের এক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করেছিলাম। মনে আছে সেদিন স্টেজে আমার বাবা মা নয়, স্কুলের অন্যান্য স্টূডৈন্টদের বাবা মা উঠে এসেছিলেন শুধু একথা বলতে, এমন ছোট্ট মেয়ে এতো বড় একটি কবিতা কিভাবে মনে রেখেছে, তাঁরা বিস্মীত!!! তাঁদের সেদিনের সেই মুগ্ধতা আমার কাছে অনেক বড় বড় পুরষ্কারের চেয়েও বেশি মূল্যবান সম্পদ হয়ে আছে। সেই তখন থেকে নিয়মিত আবৃত্তি করা, কবিতা পড়া...


ছেলেবেলায় যে হোস্টেলে থেকে পড়াশুনা করেছি, সেখানে সামান্য অপরাধে বিভিন্ন ধরনের শাস্তির প্রচলন ছিলো। একবার প্রায় পুরো প্রতিষ্ঠানের সকলের একটি কাজকে দোষ হিসেবে সাব্যস্ত করে শাস্তি দেবার ব্যবস্থা নেয়া হলো। শতশত স্টুডেন্টকে এমন শাস্তি দিতে হবে যেন তাদের যথেষ্ট শিক্ষা হয়! আমরা মনে মনে শংকিত! কঠিন কিছুর জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলাম, এমন সময় ঘোষনা এলো শাস্তি নির্ধারন করা হয়েছে। প্রতি ব্যাচের ছাত্রীরা একে একে কমনরুম যাবে, সেখানে তাদের রোল ডেকে একটি করে কবিতা দেয়া হবে, পর দিন সেই কবিতা মুখস্ত আবৃত্তি করতে হবে সকলের সামনে!!!!


এটা কোন শাস্তি হলো! আমি মহা আনন্দিত! কমন রুমে নির্দিষ্ট সময় হাজির হয়ে নিজের জন্য নির্ধারিত কবিতাটির নাম সংগ্রহ করি। অতি আনন্দ চিত্তে আবৃত্তি করতে করতে রুমে ফিরি "পৃথিবী কি আজ শেষে রিক্ত, ক্ষুধাতুর কাঁদে সারা বিশ্ব..." রুমে পৌঁছে আমার সিনিয়র রুমমেটদের অবস্থা দেখে অনুধাবন করি, আসলেই যে শাস্তি!!! একজনের রীতিমতো চোখে জল, "কবিতা আবৃত্তি করতে হবে, এটা কেমন কথা? তার চেয়ে রোদের মধ্যে দুঘন্টা দাঁড় করিয়ে রাখতো!!!" বুঝতে পারি, "আজকের দিন নয় কাব্যের, পরিনাম আর সম্ভাব্যের..."


মেডিকেল কলেজের প্রফেশনাল পরীক্ষার সময় প্রচন্ড মানসিক চাপ যায়, সেসময় একেকজন নিজের মতো রিল্যাক্স করে থাকে.. পড়ার ফাঁকে হাপিয়ে উঠলে আমি টেনে নিতাম হেলাল হাফিজের "যে জলে আগুন জলে"। কেন যেন খুব ভালো লাগতো তাঁর কিছু কবিতা।


কারো প্রতি অন্ধভক্তিতে বিশ্বাস করিনা বরং অন্ধভক্তদের দেখলে বিরক্তবোধ করি! বলা যায় আমার মধ্যে অন্ধভক্তি নামক অনুভূতিটি অনুপস্থিত। সে কবি সাহিত্যিক বা গায়ক গায়িকা, কিংবা নেতা নেত্রী, রাজনৈতিক বা কোন খেলার দল কারো প্রতিই নেই। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ইসলাম বা সুকান্তেরও সব কবিতা ভালো লাগেনা, সেখানে উঠতি বা সৌখিন কবিদের সব লেখা ভালো লাগার কোন কারন নেই।


একজন পাঠকের দৃষ্টিতে যখন মনে হয়, কবি নিতান্তই শোঅফ করার জন্য বা লোক দেখানোর বা শোনানোর জন্য কবিতাটি লিখেছেন তখন ভালো লাগেনা। যখন কবিতার প্রতিটি পংক্তিতে কবির আকুতি বা একান্ত অনুভূতি স্পষ্ট হয়ে উঠে, সেসব কবিতা মন ছুঁয়ে যায়। শালীনতা বজিয়ে রেখে লেখা কবিতায় যদি কবি তাঁর একান্ত ভাবনা প্রকাশ করতে পারেন, তা কাব্যগুনে সমৃদ্ধ না হলেও আপত্তিকর মনে হয়না।



কবিতা পাঠের জন্য কবি নিয়ে আমার কোন উন্নাসিকতা নেই। রবীন্দ্রনাথ নজরুল, সুকান্ত, জীবনানন্দের কবিতা ভালো লাগে, তেমনি ভালো লাগে হেলাল হাফিজ বা সুনীল গাঙ্গুলীর কবিতা। আবার, সমান আগ্রহ নিয়ে পড়ি নাম না জানা ব্লগারদের কিছু চমৎকার কবিতা!


কবিতা ভালো লাগার অন্যতম কারন বোধ হয়, খুব অল্প কথায় ব্যক্তি নিজের মনের গভীরবোধ প্রকাশ করেন কবিতার মাধ্যমেই। কম সময় ব্যয়ে সুন্দর কিছু অনুভূতির সাথে পরিচিত হওয়া যায়।




***আমি কোন লেখক নই, কোন বিজ্ঞ পাঠক বা বোদ্ধা সমালোচকও নই। সামহোয়্যারইন ব্লগে মাঝে মাঝে শুধুমাত্র কবিতা পড়তেই আসা হয়। কাজের অবসরে, দিন শেষে কখনও উঁকি দিয়ে যাই ভালো কবিতা আছে কিনা(ভালো লাগলে অবশ্যই তা জানিয়ে যাই)। সাধারনত বাংলাদেশে ভোর হলে ব্লগে একে একে সতেজ কিছু কবিতা পোস্ট হতে দেখা যায়; গত কিছুদিন ব্যতিক্রম মনে হলো! নিয়মিত কবিদের কবিতার অনুপস্থিতি লক্ষ্য করেছি বরং কেউ কেউ গদ্য বা অন্য কিছু লিখেছেন, আবার কেউ কিছুই লিখেননি। ব্লগের এই কবিতা শূণ্যতায় নিজের কবিতা প্রীতির কথা মনে পড়লো!***


সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ৯:২৩
১০২টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×