somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মন্টানার মাউন্টেনে গাঢ় সবুজ ভালোবাসা!!!

১০ ই জুলাই, ২০১০ বিকাল ৩:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শুনেছি প্রেম ভালোবাসার কাছে মানুষ অসহায়! কাকে কখন ভালোলেগে যাবে কেউ জানেনা!


জীবনের এতোটা সময় পেরিয়ে এভাবে প্রেম হবে, ভাবতে পারিনি।


কারো মন মানসিকতা সম্পর্কে জানতে প্রায়ই বেশ কমন একটি প্রশ্ন করা হয়, “আপনার ভালোলাগা সমুদ্র না পাহাড়? “আমার প্র্রিয়'র তালিকায় পাহাড় বা পার্বত্য অন্চলের নাম সেভাবে ছিলোনা কখনও! তাই জবাবটা বরাবর এসেছে ঘোর লাগা ভালোবাসা সমুদ্রের পক্ষে!!

পাহাড়ে আমার বাস হলেও এর মাঝে যে কি গভীর সৌন্দর্য আর মাদকতা লুকিয়ে আছে তা আগে অনুধাবন করিনি!! মাউন্টেনের রাজ্য মন্টানা যেন পাহাড়ের মিউজিয়াম। মাউন্টেন বা পাহাড়ের রূপ রস গন্ধ কতো প্রকার হতে পারে তার চলমান প্রদর্শনী ..

মহান সৃষ্টি কর্তা তাঁর অসীম ক্ষমতাবলে মাটি দিয়ে কি ভীষণ সুন্দর সব ভাস্কর্য গড়েছেন, তার সামান্য নিদর্শন দেখে বাকহারা হতে হয়। এক পাহাড়ের কতো হাজার বৈচিত্র তা নিজে না দেখে হয়তো কখনও বিশ্বাস হতোনা!

মু্গ্ধতার শুরু “মিজৌলা” নামের এক ছোট্ট শহর দিয়ে... মধ্য রাতের গাঢ় আঁধারে ঘন জঙ্গলের নির্জন পথে ড্রাইভ করে গভীর রাতে মিজৌলায় পৌঁছি, ঘন জঙ্গল আর গাঢ় আঁধারের কারনে পথে কিছু দেখা যায়নি। ভোরের আলো ফুটতেই হোটেল কক্ষের জানালার পর্দা টেনে হতভম্ব হয়ে যাই, মুগ্ধতায় স্তব্ধ, বাকহারা!


দুপাশে সারি সারি পাহাড় মাঝের ভ্যালী বা উপত্যকায় ছিমছাম একটি শহর। প্রভাতের স্নিগ্ধ নরম আলোয় শহরের কোমল সৌন্দর্য ক্যামেরায় বন্দী অসম্ভব তবু মুহূর্তটিকে ধরে রাখার লক্ষ্যে ছবি তোলা।

হোটেল থেকে বেড়িয়ে লং ড্রাইভের সময় কিভাবে কেটে গেছে বুঝতে পারিনি.. পাহাড়ের বৈচিত্রময় সৌন্দর্য এতোটুকু ক্লান্ত হতে দেয়নি!! হঠাৎ অনুধাবন করি, এতোদিন খুব সন্তপর্নে যে পাহাড় এড়িয়ে চলেছি আজ নতুন করে তার প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসা জন্মেছে!! অদ্ভুত মুগ্ধতায় আচ্ছন্ন করে রেখেছে...


মহান সৃষ্টি কর্তার ভাস্কর্যর সৌন্দর্য পুরোপুরি ক্যামেরা বন্দী করা অসম্ভব, তরাপরও স্মৃতিটুকু যেন হারিয়ে না যায় তাই হরেক রকম পাহাড়ের মিউজিয়াম থেকে আঁজলা ভরে ক্যামেরায় তুলে আনা...


মনছুঁয়ে যায় পাহাড়ের সবুজ, সুন্দর শান্ত রূপ।


কখনও পাহাড়টা বাদামী রঙের আভা মেখে আছে।





পাহাড়টা কখনও তৃণভূমি


কখনও যেন মরুদ্যান.. এখানে ওখানে গুচ্ছ গুচ্ছ ছোট ছোট ঝোপ!


কোথাও আবার ঘন সবুজ বন!

[img|
মাঝে মাঝে ঝাঁকড়া সবুজ গাছের নির্দষ্টি দূরত্বের কারনে পাহাড়টা মখমলের চাদর মনে হয়েছে!


কোথাও সে পড়ে আছে সাদা বরফের টুপি


আবার কোথাও শুধু সাদা টুপি নয়, পুরো পাহাড়টা শুভ্রতার সাদা চাদর জড়িয়ে স্ফটিক স্বচ্ছ রূপ ধারন করেছে।


সবচেয়ে আশ্চর্য হতে হয়, গাঢ় সবুজের পাশেই রুক্ষ পাথর ঢাকা পাহাড় দেখে!!


আবার কোথাও যেন মহাপ্রলয় ঘটে সব কেমন লন্ডভন্ড হয়ে গেছে



অথচ কিছু দূরে খরস্রোতা নদীর কোল ঘেঁষে কেমন শান্ত হয়ে আছে..


পথ চলতে চলতে চমকে উঠেছি.. সামনে এটা কি? রঙ্গীন জলপ্রপাত? নাহ্.. এটা মৃন্ময় প্রপাত :-)


কোথাও আকাশ আর পাহাড়ের মিতালী চোখ জুড়িয়ে দেয়



কোথাও কোথাও দুষ্টু ছেলের মতো মেতে উঠেছে রৌদ্র ছায়ার খেলায়!


এতো বড় পাহাড়টায় কে এমন ঘাষের গালিচা বিছিয়ে দিয়েছে ভেবে অবাক হতে হয়...


পাহাড়ের কোল ঘেঁষে বাসাটা কেমন গা ছমছমে অনুভূতির জন্ম দেয়..!.


মেঘের আঁচল ঘেষে সবুজ পাহাড়ের আলাপচারিতা কান পেতে শুনতে ইচ্ছে করে!


হাজার পাহাড়ের বৈচিত্রময় রূপের এমন সমারোহ অতীতে চোখে পড়েনি.. পড়লেও হয়তো তা এভাবে অনুভব করিনি.. পাহাড় এখানে হাতছানি দিয়ে ডাকে.. অদ্ভুত ভাবে মোহগ্রস্থ করে..

নিজের অজান্তে খুব হঠাৎ গভীর ভালোবাসা জন্ম নিয়েছে বুঝতে পারছি..
মুগ্ধতায় আচ্ছন্ন আমি বুভূক্ষের মতো পাহাড়ের সৌন্দর্যে অবগাহন করি,
একের পর এক পাহাড়ের সারি পেরিয়ে যাই..
কানে সুর ভেসে আসে...

“যতো দেখছি আরো লাগছে ভালো
যতো দেখছি আরো লাগছে ভালো.......”
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুলাই, ২০১০ বিকাল ৪:৪৫
৫৩টি মন্তব্য ২৩টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×