ঠাকুরগাঁর সীমান্তবর্তী অন্চলের নো ম্যানস ল্যান্ড থেকে পাঁচজন বাংলাদেশী শিশু কিশোরকে টেনে হিঁচড়ে ভারতে নিয়ে যায় বিএসএফ!!
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা থেকে বেশ কিছু বিষয় স্পষ্ট হলো...
প্রথমতঃ অপহৃত(এটাকে অপহরন ছাড়া আর কোন কিছু বলা যাচ্ছেনা) শিশু কিশোররা জানতেননা যে তাঁরা বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে নোম্যানস ল্যান্ডে চলে গেছেন। অর্থাৎ আমাদের সীমান্তবর্তী অন্চলের মানুষরা তাঁদের অবস্থানের নাজুকতা ও ঝুঁকি সম্পর্কে পুরোপুরি অন্ধকারে বাস করছেন।
দ্বিতীয়তঃ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এব্যাপারে নিশ্চুপ কারনে শনিবার ছুটির দিন!!
আজ যদি সজীব ওয়াজেদ, পুতুল বা তারেক জিয়ার প্রতি এধরনের অন্যায় বা হামলা হতো, তখনও কি তাঁরা সাপ্তাহিক ছুটির ধুয়ো তুলে নিরবতা পালন করতেন?
গত কয়েক বছরে নির্যাতিতদের সম্পর্কে খবর জানার আগ্রহ থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে.... যখন খুব বড় কোন অনাচার বা অন্যায় ঘটে দেখা যায় অধিকাংশ সময় তা ঘটেছে কোন দীর্ঘ ছুটির(যেমন ঈদের ছুটি, পৌজোর ছুটি) ঠিক আাগে.. যেন প্রশাসনের খুব বেশি কিছু করার না থাকে!
দু*খজনক হলেও সত্য কিছু কিছূ ক্ষেত্রে প্রমানিত হয়েছে, অপরাধী পরিকল্পতি অপরাধ সংঘটনের আগে প্রশাসনকে খুশি করে বশে এনেছে ফলে ছুটি শেষেও অপরাধীকে গ্রেফ্তারে তাদের কোন তৎপরতা নেই।
আজকের ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের উদাসীনতা দেখে সেকথা আবারও মনে পড়ছে।
আমাদের দেশের মৃতপ্রায় বিডিআর আপ্রাণ চেষ্টা করছে অপহৃত শিশু কিশোরদের ছাড়িয়ে আনতে...
হতভাগ্য পাঁচ শিশু কিশোর- খবর পেলাম আজ দিনের মধ্যে ছাড়া পাবে, ফিরে আসবে মায়ের কোলে।
তাঁরা সুস্থ সুন্দর নিরাপদ ভাবে ফিরে আসুক তারপর.............
আপডেট: - ২৫শে জুলাই রাত ১২:৩৩
বিএসএফ ২৪শে জুলাই অপহৃত শিশুদের ফেরত দিবে এমন প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনও দেয়নি বলেই জানি!!!
কি প্রক্রিয়ায় ফেরত দিবে তা তারা বুঝে উঠতে পারছেননা!!!
টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাবার সময় প্রক্রিয়ার কথা মনে পড়েনি, আর এখন তাঁদের ফিরিয়ে দেবার সময় যতো জটীলতা!!
অত্যন্ত শংকিতবোধ করছি।
অজানা অচেনা মানুষদের জন্য আমাদের এমন উদ্বেগ, সেই পাঁচজনের বাবা, মা পরিবারের কি করূন অবস্থা তা অনুমেয়।
অপহৃত শিশু কিশোরদের কি প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছে... ছোট্ট শিশুরা মায়ের বুকে ফিরে আশার আকুতি নিয়ে ডুকরে কেঁদে উঠছে নিশ্চয়!!
মহান আল্লাহ্ যেন তাঁদের সহায় হন, তাঁদের সুস্থ সুন্দর নিরাপদ ভাবে অচিরে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেন।
আপডেট :- ২৬শে জুলাই রাত ১০:২৮
পাঁচ শিশু কিশোরকে অন্যায় ভাবে অপহরণ করে বিব্রতকর অবস্থায় বিএসএফ!
ঝামেলাহীন ভাবে ফেরত দিলে তাদের সে অন্যায় আরো প্রকট হয়ে উঠে, এই দায় থেকে বাঁচার জন্য ১৫ বছর এবং তার চেয়ে কম বয়সের শিশুদের
"কাঁটা তারের বেড়া চুরির" দায়ে অভিযুক্ত করেছে!!!
বিডিআরের সাথে পতাকা বৈঠক শেষে তিন শিশুকে ২৭শে জুলাই ফিরিয়ে দেবার (!)প্রতিশ্রুতি দিলেও ১৫ বছর বয়সের দুজন কিশোরকে কিছুদিন আটক রেখে ছাড়বে বলেছে।
এমন প্রতিশ্রুতি প্রায় প্রতিদিন দিচ্ছে, কবে এরা নিজেদের "সত্যবাদী" প্রমান করবে তা দেখার বিষয়!
কি অদ্ভুত!!
একটি দেশের প্রতি রক্ষাবাহীনি পাড়ার মাস্তানের মতো আচরণ করছে অথচ ভুক্তভোগী দেশের মেরুদন্ডহীন সরকার নিরব!! কোন প্রতিবাদ নেই! কূটনৈতিক উদ্যোগ নেই দেশের পাঁচজন নীরিহ শিশু কিশোরকে মুক্ত করে আনতে! তারা নিজেদের ক্ষমতার নিরাপত্তার খাতিরে মাস্তান বাহীনির পদলেহনে ব্যস্ত!!!
শত ধিক এদের প্রতি!!
বিডিআরের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও যেসব মিডিয়ে হতভাগ্য এই পাঁচজনের খবর প্রতিদিন প্রচার করছেন, তাঁদের স্যালুট!
পাঁচ শিশু কিশোরের অবিলম্বে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রার্থণা!
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুলাই, ২০১০ রাত ১০:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


