আমার প্রিয় পোস্ট
- রাহেলার মায়ায় জামসিং'র টেউটিতে - ফয়সল নোই
- ভুনা মাংসে পাল্টে যাওয়া জীবন - নাঈম আহমেদ
- মিশন শাহসাবের বিরিয়ানী এবং শাহসাব বাড়ি বাজারের মতি মিয়ার বিখ্যাত ফালুদা(একটি ভোজন সংক্রান্ত পোস্ট) - শিশির সিন্ধু
- নারী নির্যাতন, আমাদের সমাজ, আর শত-সহস্র রুমানা - আম-আঁটির ভেঁপু
- জলহস্তী - অতন্দ্র তওসিফ
- কম করে ৫০টি ইভটিজিং করে আমি ৫০টি কিশোরীর লাশের মিছিল দেখতে চাই ;আমি শ'খানেক খুন করার আগে মরতে চাইনা - চলমান কলম
- অসীম সাহসী ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর - আরিফুল শাকিল
- প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান : যার নিরেট দেশপ্রেমের স্বাক্ষী দেয় সিআইএ'র সিক্রেট টেলিগ্রাম ০৩২৫/০৯৫০Z.....এবং অনেক অজানা কথকতা....... - দাসত্ব
- ব্লগার মাহবুব মতিনের মৃত্যু; ও বন্ধু আমার! - ফয়সল নোই
- মার বদি আলম মার,তোরে মারলে তু্ইও মার না পারলে পাত্তর মার কিংবা চন্দ্রিমা উদ্যানের সেই বেশ্যা(?) - সত্য সন্ধানী আমি
- তাজহাট প্যালেস, নয়নাভিরাম এক মিউজিয়াম....... - রেজোওয়ানা
- পোড়া গলিতে, পোড়া চোখে, পোড়ো মনে - অন্যমনস্ক শরৎ
- রাজনীতিবিদরা ব্লগে এলে যা যা ঘটতে পারে... - ফিউশন ফাইভ
- জন্ম স্তুতি - আকাশ অম্বর
- রাহেলা বিষয়ক দু'টো তথ্য - ফয়সল নোই
- রাহেলার মৃত্যুকালীন ঘোষণা - ফয়সল নোই
- রাহেলা হত্যা মামলার নিখোঁজ আলামত ও অন্যান্য দলিল - ফয়সল নোই
- আলামত সংরক্ষিত নেই বলে রাহেলার খুনিরা পার পেয়ে যাচ্ছে... - ফয়সল নোই
- চৌদ্দগ্রাম শাখা ব্র্যাক অফিসে খুন রিক্সা চালক আব্দুর রশিদের সন্তানদের মুখ - অণৃণ্য
- আমাকে তুমি অশেষ করেছো - সোহায়লা রিদওয়ান
- স্মৃতির পাতা জুড়ে প্রিয় চৌধুরী জাফরুল্লাহ শরাফত - সীমান্ত আহমেদ
- এক , দুই বা পাঁচ টাকার অর্থহীন গল্প - মেহরাব শাহরিয়ার
- সাংবাদিকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ....! - মানবী
- মোনাজাত উদ্দীন - আমাদের চারণ সাংবাদিক - আপনার জন্য ভালবাসা - মোস্তফা আমিন
- "গণহত্যা": এ্যান্থনি মাসকারেনহাসের অবশ্যপাঠ্য প্রতিবেদন (বিদেশী পত্রিকায় মুক্তিযুদ্ধ, পর্ব ৩০) - ফাহমিদুল হক
- একটি পংক্তির জন্য - প্রণব আচার্য্য
- অনেক দিন পর আবার active হচ্ছি... - মুতাসিম
- যায় না পোড়ানো ভালোবাসা - শেখ জলিল
- আবার আসিলাম ফিরিয়া
- নাদান
- প্রিয় কবিতা-৪// পূর্ণেন্দু পত্রী (বাসরঘরে ঢোকার সময় যাকে ফেলে এসেছিলে পোড়া ধূপের পাশে ) - শফিউল আলম ইমন
- গণহত্যার ছবি : নূরুল উলা - হাসিব
- ফিনিক্সের জীবন! - মানবী
- আফ্রিকার পাহাড়ী অরণ্য আর কালো মানুষের কথা (পর্ব-১) - আশিক হাসান
- কষ্টও রঙ বদলায় - মৃন্ময় আহমেদ
- মায়াবতীকে...... - মাহবুবা আখতার
- মা..! আমার মা..!(উত্সর্গ- মানবী ! আপনার জন্য পুনঃ পোষ্ট)! - আবদুর রাজ্জাক শিপন
- সে আসে সে যায় - কালপুরুষ
- মুক্তিযোদ্ধাদের শপথ - অমি রহমান পিয়াল
- আদল - কালপুরুষ
- ব্যবধানে ব্যবধান - এহেছান লেনিন
- প্রণমী তোমায় - কালপুরুষ
- স্থিরচিত্র - ফয়সল
- ১৯৭১ :: কিভাবে দেখে পাকিস্তানী তরুন-তরুনীরা - অরূপ
নুরজাহান আর পাথর ছুঁড়ে মারা ভন্ড ফতোয়াবাজের দল যুগে যুগে...!
২৯ শে আগস্ট, ২০১০ ভোর ৬:৫৪
নুরজাহানের কথা মনে আছে নিশ্চয়? যাঁদের মনে নেই বা যাঁরা জানেননা তাঁদের স্মরন করিয়ে দিতে চাই..
সিলেট অন্চলের চটকছাড়া গ্রামের ২১ বছর বয়সী সেই হতভাগ্য তরুনী, যাঁকে ফতোয়াবাজরা মাটিতে পুতে পাথর ছুঁড়ে মেরেছিলো... নাহ্.. হাজার বছর আগের কোন ঘটনা নয়। মধ্যযুগীয় ববর্রোচিত ঘটনাটি ঘটেছিলো ১৯৯৩ সালের ১০ই জানুয়ারি!!
নুরজাহানের অপরাধ ছিলো, তিনি প্রথম স্বামী তালাক দেবার পর দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলনে। কি ভীষণ স্পর্ধা! তালাক প্রাপ্তা গ্রাম্য নারী(সুন্দরী তরুনী), সে স্থানীয় হায়নাদের লালসার খোরাক না হয়ে পূণরায় ঘর বাঁধবে, সংসার করবে.. এ কেমন কথা!!
তাই, গ্রামের কাঠ মোল্লারা ছলা বলে তার দ্বিতীয় বিয়ে অবৈধ ঘোষণা করে তাঁর বিরুদ্ধে “বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের” অভিযোগ এনে এই শাস্তির বিধান দেয়।
নুরজাহানের মৃত্যু হলেও বিনাশ ঘটেনি, সময়ের সাথে সাথে আমাদের দেশে নুরজাহানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে মাত্র। অজপাড়াগাঁয়ের গন্ডী ছেড়ে তারা চলে এসেছে, শহরে, রাজধানী ঢাকায়.. কখনও সাধারণ দোকানীর স্ত্রী, কখনও অবস্থাপন্ন ব্যবসায়ীর আর সম্প্রতি তার বিচরন তারকা জগতেও।
আমাদের সমাজে পুরুষ আর নারীর যে বৈষম্য তা বোধ হয় সবচেয়ে প্রকট হয়ে উঠে যখন কোন অনৈতিক আচরণ, বিশেষ করে ব্যাভীচারের ঘটনা ঘটে।
বাংলাদেশের রক্ষণশীল সমাজ ব্যবস্থায় ধর্ম, শ্রেনী নির্বিশেষে বিবাহপূর্ব শারীরিক সম্পর্ককে অত্যন্ত ঘৃন্য দৃষ্টিতে দেখা হয়, আর বিবাহবহির্ভূত এধরনের সম্পর্ক বা পরকীয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়। মজার ব্যাপার হলো এই ঘৃনা ও নিন্দার পরিমান তারতম্য ঘটে শুধুমাত্র জেন্ডার বা লিঙ্গপরিচয় ভেদে!!
অপরাধ নারী করলে তা শুধু অমাযর্জনীয় নয়, হাতের কাছে না পেলে মুখের কথায় বা ভার্চুয়ালী তাঁকে পতিতালয়ে পাঠিয়ে ক্ষ্যান্ত হইনা আমরা, দোররা বা পাথর নিক্ষেপ করে জীবন্ত পুঁতে বা পুড়িয়ে ফেলার উপক্রম করি। আর একই অপরাধ, এমন কি নারীর চেয়েও নৃশংস ও হাজারগুন বেশী ঘৃন্য অপরাধ পুরুষ করলে আমরা কিভাবে যেনো তা এড়িয়ে যাই। দু'একজন বিবেকবান মানুষ প্রতিবাদী হয়ে এগিয়ে এলে কেউ কেউ তাঁদের দুকথা শোনাতেও কুন্ঠাবোধ করেনা!
একজন প্রভা, একজন আয়শা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কারণে আমাদের রোষানলে পড়ে। শুধুমাত্র পরকীয়া সম্পর্কের অপরাধে আয়শার মাতৃস্নেহকে অস্বীকার করে তাকে পুত্র হন্তারক হিসেবে প্রমানে আমরা মরিয়া হয়ে উঠি। একজন প্রভা বাগদানের পর সেই পুরুষকে ছেড়ে অন্য কাউকে বিয়ে করলে আমরা তাকে পাথর ছুঁড়ে হত্যায় উদ্যত হয়ে উঠি.... কেনো?
২০-৩০ বছর সংসার করার পরও স্বামী স্ত্রী পৃথক হয়ে যায়, সেখানে এনগেজমেন্ট বা বাগদান অত্যন্ত ঠুনকো জিনিষ। সামাজিক বা ধর্মীয় কোন কমিটমেন্ট নেই, বিশ্বাস ও ভালোবাসার ভিত্তিতে যতোখানি বিশ্বস্ততা থাকতে পারে... আর সেক্ষেত্রে ভালোবাসাটি হারিয়ে গেলে অর্থহীন হয়ে পড়ে এই সম্পর্ক।
তারপরও আমরা ক্ষেপে উঠি... কারন প্রভা প্রত্যাখাত প্রেমিকের মাঝে অনেকেই খুঁজে পান নিজের প্রতিচ্ছবি। তাই মনে মনে মেয়েটিকে নিজের (?)প্রতারক প্রেমিকা ভেবে শাস্তি প্রদানের বিকৃত উল্লাসে মেতে উঠি।
প্রভার নাম প্রথম শুনি এই স্ক্যান্ডালের পর, ঠিক যেমনটি শুনি আয়শা, ফারজানা এবং বিলাসীর নাম।আয়শা অথবা প্রভা, তাদের সবচেয়ে বড় অপরাধ মূল্যবোধের অবক্ষয়, অসামাজিক কাজ করা, যেখানে সমান ভাবে অপরাধী তাদের সঙ্গী পুরুষও। আমর ক'জন সেই অপরাধের সমালোচনা করছি? ক'জন সেই পুরুষটির প্রতি সমান ভাবে ঘৃনা প্রকাশ করছি?
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, কেউ কেউ সেই অসামাজিক কাজকে স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিয়ে নিজেকে বিরাট মুক্তমনা প্রমানে সচেষ্ট, এমনকি সেসব অবৈধ আচরন ভিডিও করাটাকেও স্বাভাবিক ও যুগের হাওয়া হিসেবে প্রচারে মরীয়া.. তবে সেই তথাকথিত মুক্তমনাদের মুক্তমণ অন্ধকার কুয়োর ক্ষুদ্র গন্ডীতে আছড়ে পড়ে যখন.. “প্রভা অপরাধ করেছে তার ৭ বছরের প্রেমিককে ছেড়ে গিয়ে” বলে!!
হায়রে নির্বোধ (?)মুক্তমনার দল... হিপোক্রেসীর সীমাও এদের কাছে লজ্জিতবোধ করবে।
অপরের ব্যাভীচার বৈধতা দিতে এদের বাঁধেনা, প্রশ্ন জাগে, এদের স্ত্রীর বা ভাইয়য়ের স্ত্রীর যদি এমন কোন ভিডিও প্রকাশ পায়, এরা কি তখন তাঁকে হাসি মুখে মেনে নিবে।
আগামী কাল, এদের বোন বা কন্যা যদি তাদের দীর্ঘদিনের প্রেমিককে ত্যাগ করায় সেই কুলাঙ্গার এমনি করে ভিডিওটি ছেড়ে দেয়, সেদিনও কি তারা লাইনে দাঁড়িয়ে তার লিংক সংগ্রহ করে উপভোগ করবে? প্রত্যাখ্যাত প্রেমিকের প্রত সহানুভূতিশীল হবে?
শুধু তাই নয়, এই হিপোক্রেটের দল একজন প্রভা বা একজন আয়শার উপর যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে, একজন নরপশু রাশেদের উপর তেমন ভাবে আক্রমণাত্বক হয়ে উঠেনা। অথচ, এই দুজনের সন্মিলীত অপরাধের চেয়ে রাশেদের অপরাধের মাত্রা অনেক অনেক বেশী। আয়শার পরকীয়ার কারনে তার একজন পুত্রের মৃত্যু ঘটেছে, আর কুলাঙ্গার রাশেদের কারনে দুজন নিষ্পাপ শিশু মৃত্যুকে আলীঙ্গন করে। একজন প্রভা তার সাত বছরের প্রেমিককে ছেড়ে আরেকজন পুরুষকে বিয়ে করেছে, আর রাশেদ তার দীর্ঘদিনের বিবাহিতা স্ত্রী, সন্তানের মা'র সাথে প্রতারণা করে পরকিয়া ও ব্যভীচারে লিপ্ত হয় এবং পরবর্তীতে বিয়ে করে। প্রভার প্রাক্তন প্রেমিকের কষ্টে সমব্যথী হয়ে আমরা জ্বলে উঠি, যদিও সেই প্রেমিক নিজেকে এক ঘৃন্য কুলাঙ্গার হিসেবে প্রমান করে। অথচ, যে মেয়েটি প্রতারক স্বামীর নির্মমতা সইতে না পেরে আত্মহনন করে আমরা সেই নরপশু স্বামীর বিরুদ্ধে টু শব্দটি করিনা।
একজন স্মৃতির বিশ্বাসঘাতকতা, কৃতঘ্নতা, ব্যাভীচারীতা আয়শা অথবা প্রভাদের চেয়ে কোন অংশে কম নয়, আমরা তাকে আক্রমণ করিনা, এড়িয়ে যাই তার অপরাধ কারণ তাহলে কুলাঙ্গার রাশেদকেও আক্রান্ত হতে হয়।
একজন ফারজানা, একজন বিলাসী আমাদের হিপোক্রেসীর প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়েই প্রাণপ্রিয় সন্তান সহ আত্মহননের পথ বেছে নেন। একজন প্রভা, একজন আয়শার দিকে আমরা প্রস্তরখন্ড হাতে ছুটে যাই বলেই মহিমারা আত্মহত্যা করে। একজন আরিফ, একজ রাজীব অথবা রাশেদের ব্যাপারে আমরা নির্লিপ্ত, ক্ষেত্র বিশেষে নির্লজ্জের মতো এসব কুলাঙ্গারের পক্ষ সমর্থনেও দ্বিধাবোধ করিনা, তাই এদের সংখ্যা প্রতিদিন বেড়ে চলেছে... এরা নির্ভীক আর আরো বেশী নৃশংস হয়ে উঠছে।
আজ যারা, এসব নরপশুর পক্ষ নিয়ে আয়শা, প্রভাদের দিকে পাথর ছুঁড়তে উদ্যত, আজ যারা একজন ফারজানার মৃত্যুতে নিরব, অপেক্ষা করুন.. আগামীতে আপনার পরিবারের মেয়েটির এমন পরিনতির জন্য। কোন অভিসম্পাত নয়, আপনার কর্মফলের কারনেই এমনটি অবধারিত, অনিবার্য।
আজ ফতোয়াবাজদের দলে ভীড়ে আর কারো কন্যা, কারো বোনের দিকে প্রস্তরাঘাত করছেন, সেদিন অন্য কেউ আপনার কন্যা আপনার বোনকে এমনটি করবে। কারণ, নারীদের জন্য প্রতিকূল এই সমাজ আপনারই সৃষ্টি।
সমাজ থেকে ব্যাভীচার দূর করা জরুরী। এসব অসুস্থ চর্চার পরিনাম কখনও শুভ নয়।
আর এই অসুস্থ, বিকৃত চর্চার জন্য সংশ্লিষ্ট নারী পুরুষ সমানভাবে দায়ী, এই কথাটি জানতে বা বুঝতে অতি বড় বিদ্বান হবার প্রয়োজন নেই। নুন্যতম সাধারন বিবেকবোধ যথেষ্ট।
ব্যক্তিগত ভাবে আমি রক্ষণশীল জীবন আচারের পক্ষে। তবে যে সমাজ ব্যাভীচার, বিবাহপূর্ব অনৈতিক সম্পর্ককে আধুনিকতার খোলস পড়িয়ে স্বীকৃতি দিচ্ছে, সেই সমাজ যখন শুধুমাত্র পুরুষ সঙ্গীকে প্রত্যাখ্যান করার অপরাধে নারীটির দিকে পাথর হাতে ছুটে আসছে, তাদের ভন্ডামী আর হিপোক্রেসীকে ধিক্কার জানাই। নোংরামী, অনৈতিক আচরন ততোক্ষণ পর্যন্ত বৈধ যতোক্ষণ তা পুরুষের পক্ষে যাবে, আর পুরুষের বিরুদ্ধে গেলেই তা ব্যাভীচার, মেয়েটি ভ্রষ্টা! মেয়েটি তখন হয়ে উঠে চটকদার রসালো আলাপ আর ব্যঙ্গবিদ্রুপের প্রিয় বিষয়, তাকে সমস্ত শক্তি দিয়ে কষাঘাত করার অসুস্থ প্রতিযোগীতা যেনো...
এমনি ভাবে প্রতিনিয়ত নিজের অজান্তে আমরা চটকছড়া গ্রামের কুখ্যাত মওলানা মান্নানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে পাথর ছুড়ে হত্যায় উদ্যত হই নুরজাহানদের.....
***অত্যন্ত দুঃখজনক যে, এই লেখাটরি অংশ বিশেষ আজ থেকে প্রায় দুমাস আগে লেখা যখন আয়শা আর ফারজানার ঘটনার সময় আমাদের হিপোক্রেসী অত্যন্ত নগ্নভাবে প্রকাশ পায়। সেসময় প্রকাশ করা হয়নি, তাতে কি.. আমাদের সমাজে নুরজাহানদের অভাব নেই.. প্রতিনিয়ত আমরা কোন না কোন নুরজাহানকে ভার্চুয়্যালী দোররা অথবা পাথর মেরে শাস্তি দিতে উদ্যত হচ্ছি!!! দুমাস আগে অথবা পরে, এমন পোস্টের প্রাসঙ্গিকতার অভাব নেই- এটা অত্যন্ত দুঃখজনক!!!!***
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০১০ ভোর ৬:৫৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
রুদ্রপ্রতাপ বলেছেন:
এইগুলা বলে লাভ নেই আপু, হয়ে এসেছে, হচ্ছে, হয়ে যাবে। মাঝখান থেকে আমরা কয়েকটি পোড়া আলু নিয়ে কামড়া কামড়ি করবো। এই আরকি...
লেখক বলেছেন: আগামীকাল যখন কোন গ্রাম্য কাঠমোল্লা আবার কোন নুরজাহান বা শেফালী বানুকে দোররা মারার ফতোয়া দিবে, তখন এই এরাই হা হা করে ছুটে গিয়ে ধিক্কার জানাবে। এই ভন্ডামীটাই অসহনীয়।
আমাদের বিবেক, আমাদের ঔদার্য বড় সিলেক্টিভ...
ধন্যবাদ ভাইয়া।
প্রলাপ বলেছেন:
Click This LinkClick This Link
অনেক বিষয়ের সাথেই একমত।
তবে আপু, এইসব দৃশ্যকি ভিডিও করা উচিৎ। ভিডিও করলে সেটা প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
লেখক বলেছেন: শুধু ভিডিও অনুচিত নয়, এধরনের অনৈতিক সম্পর্কই অনুচিত।
কথা হলো অপরাধ দুজনের সমান, শুধু একজন শাস্তি পাবে.. এটা অন্যায়।
ধন্যবাদ ভাইয়া।
প্রলাপ বলেছেন:
আর আপু, যৌনতার ব্যাপারে ছেলেমেয়েদের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গীই কিন্তু এই ধরণের ডাবল স্ট্যান্ডার্ডের জন্য দায়ী। নিয়মিত কলগার্ল সঙ্গ ভোগকরা ধনী পরিবারের আধুনিক ক্লাসমেটটিও বিয়ের জন্য কুমারী মেয়ে খোজে। আর ক্লাসের রক্ষণশীল মেয়েটিকে তার প্লেবয় বয়ফ্রেন্ডের চরিত্র সম্পর্কে সাবধান করে দিলে উত্তর শুনি, "অন্য মেয়েদের সাথে কি করছে আমার বিবেচ্য না। আমার সাথে ঠিক থাকলেই হলো!!" ছেলেরা জানে যে তার অতীত যৌন আচরণ বেশিরভাগ মেয়ের কাছেই বিবেচ্য বিষয় না, এটার জন্য তার সঙ্গী পেতে সমস্যা হবে না। এজন্যই তারা এগুলো প্রকাশ করতে দ্বিধাবোধ করে না।
লেখক বলেছেন: "ছেলেরা জানে যে তার অতীত যৌন আচরণ বেশিরভাগ মেয়ের কাছেই বিবেচ্য বিষয় না, এটার জন্য তার সঙ্গী পেতে সমস্যা হবে না। এজন্যই তারা এগুলো প্রকাশ করতে দ্বিধাবোধ করে না। "
- এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। সকলের কাছে না হলেও অনেকের কাছে হয়তো ছেলেদের এমন আচরন ধর্তব্যের মতো নয়, একারনেই তাদের এমন বেপরোয়া ভাব।
তবে সত্যি কি এমন ঘৃন্য আচরন উপেক্ষা করার মতো, বা সমাজ সরাসরি উপেক্ষা করে?
এধরনে ভিডিও প্রকাশে ছেলেটিকে অন্তত কোন ভদ্র ঘরের মেয়ে গ্রহন করবে বলে মনে হয়না।
ধন্যবাদ ভাইয়া।
বিলাল বলেছেন:
প্রভা আর রাজিব, কোনো তফাত নেই।রাজিব প্রভাকে নীল বাজারের নিলামে বাজারজাত করেছে, এবার প্রভার ও উচিত রাজিবের নগ্ন পুরুষত্বের দইরঘ প্রস্থ উম্মোচন করা।
পার্ভাট থেকে সুশীল, ভেজাবিলাই থেকে সিংহপুরুষ, পরহেজগার থেকে লুল অথবা বিনয়ী নারী থেকে কোনো পুরষ ,এমন কাউকে পাওয়া যাবেনা, যে লিংকটি দেখে কুতুহল মিটায়নি।
এবং নিসন্দেহে প্রভা আর কিছুদিন তার প্রভা চড়াবে।
লেখক বলেছেন: "এমন কাউকে পাওয়া যাবেনা, যে লিংকটি দেখে কুতুহল মিটায়নি।"
- আপনার এই বক্তব্যের সাথে সহমত নই।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
আমি বীরবল বলেছেন:
আপু, কঠিন বাস্তবতা এতো সুন্দর করে তুলে ধরেছেন-যা সামান্য হলেও সেই সব "শাধু সাজা" পুরুষদের অন্তরে নাড়া দিবে। ধন্যবাদ আপনাকে।
লেখক বলেছেন: ফারজানা, আয়শা, বিলাসী আর প্রভাদের প্রতি আচরনের বৈষম্য আমাদের নিজেদের ভন্ডামী পীড়াদায়ক মনে হয়েছে, তাই এভাবে লেখা।
মন্তব্যের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ আপনাকে।
অ্যামাটার বলেছেন:
আমরা সবাই নাকি "সুযোগের অভাবে চরিত্রবান"!?---জনৈক আরাফাত।
লেখক বলেছেন: ভালো বলেছেন.. জনৈক আরাফাতকে সাধুবাদ।
আপনাকে ধন্যবাদ আ্যামাটার।
জুল ভার্ন বলেছেন:
প্রভা সংক্রান্ত কোনো পোস্ট আমি এখন পর্যন্ত পড়িনি। কারন পোস্টগুলোর শিরোনামই ইন্ডিকেট করছিল-পোস্টের বিষয়বস্তু কি হবে। আপনার পোস্ট পড়ে বুঝতে পারছি-আমার ধারনা অমুলকছিলনা।আমি ভাবতেই পারছিনা-প্রভা বিয়ে করে কি অপরাধ করেছে। অজস্র রাজীবেরা কারনে-অকারনে একাধিক বিয়ে করে অজস্র প্রভাদের জীবনের বারোটা বাজিয়ে দেয়-তা নিয়ে "প্রভা বিরোধী" মহা মানবেরা টুশব্দটি করেনা। প্রভারতো আগে এনগেজমেন্ট হয়েছিল মাত্র। কিম্বা বিয়ে হলেই বা কি দোষ হতো-যদি তার স্বামীকে ডিভোর্স দিয়েও এখন যাকে বিয়ে করেছে-তা কিম্বা অন্য কাউকে বিয়ে করতেন! প্রভা বিরোধী মহা মানবেরা নিজের স্ত্রীকে "সম্পত্তি" মনে করে অজস্র পরকীয়া করতে পারবেন, মেয়ে মানুষকে পণ্য হিসেবে কিছু সময়ের জন্য ফুর্তি করে আমার নিজ "সম্পত্তি"কে শাসন করতে পারবেন-তেমন অধিকার উনারা শুধু মাত্র জেন্ডারগত কারনেই ভোগ করবেন। অথচ এই সমাজের একজন প্রভা পছন্দ করে কাউকে বিয়ে করলেই তাকে নিয়ে রসাত্মক লেখা লিখে নিজেদের কুতসিত চেহারা ঢেকে ফেলার ব্যর্থ চেস্টা করবেন, নিজেদের সাধু পুরুষ প্রমানের চেস্টা করবেন-তা নিতান্তই হাস্যস্কর! নিজের ভালোলাগায়, নিজের পছন্দে বিয়ে করা শুধু রাজীবদেরই অধিকার! প্রভাদের কি নিজস্বতা বলে কিছুই থাকবেনা! ব্যক্তি স্বাধীনতা কি প্রভাদের থাকতে পারেনা! প্রভা যে অপরাধ করেছে-সেই একই অপরাধ কি প্রভার স্বামী(নাম যানিনা) করেনি? তাহলে শুধু প্রভার নামটাই কেন হাইলাইটস হচ্ছে? একবারো কেনো প্রভার স্বামীকে দায়ী করা হচ্ছেনা? যারা প্রভাকে নিয়ে কুতসিত প্রচারনায় মেতে উঠেছেন-তারা কেনো একবারও প্রভার স্বামী কে জানতে চায়না-সে কেনো অন্য একজনের বাকদত্তাকে বিয়ে করেছেন?
আজ যারা প্রভার ভিডিও দেখিয়ে সুশীল সেজেছেন তাদের স্ত্রীর বা তাদের একটি বোনের জীবনে যদি অমন ঘটনা ঘটে-তাহলেও কি তারা অমন কোন ভিডিও প্রকাশ করবেন? কিম্বা অন্য কেউ তাদের নিয়ে ভিডিও প্রকাশ/প্রচার করলে উনারা কি তখন তা হাসি মুখে মেনে নিবেন।
একদিন যদি তাদের বোন/ কন্যা তাদের প্রেমিককে ত্যাগ করে অন্য কাউকে বিয়ে করেন-তখনও কি সেইসব মহামানবেরা তাদের বোন/কণ্যার ভিডিওর লিংক সংগ্রহ করে উপভোগ করবেন? আসলে এ সমাজ দুভাগে বিভক্ত। এক ভাগে প্রভা, আয়শা, নুরজাহানেরা আর অন্য ভাগে রাজীবেরা। সার কথা একভাগে নির্যাতিতা নারী আর অন্য ভাগে নির্যাতনকারী পুরুষ।
অশ্লীলতা করার থেকে অশ্লীলতা নিয়ে অশ্লীল ভাবে মিছিল করা আর বেশী অশ্লীলতা!
ধন্যবাদ চমতকার বিশ্লেষনী একটি পোস্ট দেবার জন্য।
লেখক বলেছেন: ব্যক্তির বিশেষের চেয়ে এধরনের অনৈতিক কর্মকান্ডে আমাদের সামগ্রিক প্রতিক্রিয়ায় যে বৈষম্য ও ভন্ডামী ফুটে উঠে তা নিন্দনীয়। একজন প্রভা, একজন আয়শাকে আমরা আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে সময় নেই না অথচ একই অপরাধ(ক্ষেত্র বিশেষে জঘন্যতর) করে স্মৃতি, রাশেদের মতো কুলাঙ্গাররা পার পেয়ে যায়।
আয়শা কে নিয়ে যতো সমালোচনা হয়েছে, তার সঙ্গী সেই ঘৃণ্য খুনী লম্পট আরিফকে নিয়ে তার শত ভাগের এক ভাগ সমালোচনাও হয়নি।
এখানে আমাদের নৈতিকতা আর আদর্শিক বিচার বুদ্ধির অসঙ্গতি।
বিশ্লেষনী মন্তব্যের জন্য আপনাকেও আন্তরিক ধন্যবাদ।
নতুনছেলে বলেছেন:
আপনার লেখার সাথে অনেকাংশেই একমত। তবে আমি পাথর মারা বা দোররা মারার পক্ষে । তবে এইরকম ফতোয়া বাজদের মত ভুল প্রয়োগের পক্ষে নই। আমি মনে করি এইরকম খারাপ কাজে লিপ্ত হলে উভয়কেই দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দেয়া উচিত , শুধু একজনকে নয়। এমনকি আমিও যদি এরকম কাজ করি তাহলে আমিও আমার জন্য এরকম সাজা আশা করি। কারণ আমি একজনের জন্য দশজন খারাপ হওয়ার ছেয়ে আমি একজনের সাজা দ্বারা যদি দশ জনের শিক্ষা হয় এটাকেই উত্তম মনে করব ।কিন্ত আফসোস আমাদের সমাজটা শুধু নারীর অপরাধটাই দেখে পুরুষের টা নয়।
লেখক বলেছেন: পাথর বা দোররা মারার পক্ষে নই তবে অনৈতিক সম্পর্কের বিরুদ্ধে।
দুঃখজনক হলেও সত্য দুচারটা ইংলিশ বা হিন্দী সিনেমা দেখে একদল তরুন তরুনী এসব আদিম আচরনকে আধুনিকতার অংশ মনে করছে। কিছু লেখা, মন্তব্য পড়ে মনে হয় এদের নয়.. যারা এধরনের অশ্লিলতার বিপক্ষে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে এরা পিছপা হবেনা।
আবার এরা সময় বুঝে এধরনের অনৈতিক কাজের পক্ষে কখনও বিপক্ষে অবস্থান গ্রহন করে।
নৈতিকতা, মূল্যবোধ সব আজ আপেক্ষিক।
ধন্যবাদ আপনাকে।
সারথী মন বলেছেন:
ভেবেছিলাম-প্রভাদের নিয়ে একটি কথা বলার মত সুস্থ্য ব্লগার এই ব্লগে নেই। অবশেষে আপনি মুখ খুললেন। ধন্যবাদ আপনাকে।
প্রভা যদি অপরাধ করে থাকে-তাহলে সেই একই অপরাধে রাজীবও অভিযুক্ত হতে পারে। কিন্তু ব্লগের মাহামানবেরা একচোখা দৈত্যের মত শুধু প্রভাকেই দোষারোপ করছে! আরেকজনের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নিজের সাধুতা একধরনের হিপোক্রেসীর নামান্তর!
নুরজাহানদের যারা পাথর ছুঁড়ে মারে- একই কাজের জন্য তাদেরকেও পাথর মেরে শাস্তি দিতে পারলে "বাজীব গং" দের শিক্ষা হবে।
ধন্যবাদ আপুনি।
লেখক বলেছেন: ভালো বলেছেন।
প্রভা, আয়শাদের সবচেয়ে বড় অপরাধ তারা পুরুষকে প্রত্যাখ্যান করেছে বা প্রতারিত করেছে। তাদের অনৈতিক আচরণ বা ব্যাভীচার নয়.. একজন পুরুষকে ত্যাগ করার ধৃষ্টতাটিই অমার্জনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত!!!
সুন্দর মন্তব্যের জন্য আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ সারথী মন।
সুন্দর পোস্টের জন্য প্লাস মানবী।
লেখক বলেছেন: ভালো বলেছেন জুন।
আমার মনে হয় ভালোবাসার লেশমাত্র কোথাও ছিলোনা। পুরোটাই ছিলো জৈবিক চাহিদা আর অধিকার, আধিপত্য বিস্তারের অসুস্থ মনোবাসনা।
এক মুহুর্তের জন্যও সত্যিই ভালোবাসলে তাকে কখনও এমন নির্মমভাবে আঘাত করতে পারেনা। সে তাকে ত্যাগ করুক, কষ্ট দিক অথবা অবহেলা করুক.. যে ভালোবাসে সে কখনও ভালোবাসার মানুষের ক্ষতি করতে পারেনা।
আন্তরিক ধন্যবাদ আপনাকে।
শিব সত বলেছেন:
যদদিন পর্যন্ত এদেশের সিস্টেম ভাঙ্গা না যাবে,ততদিন পর্যন্ত নুরজাহানদের এভাবেই মৃত্যু হবে।
লেখক বলেছেন: আমার মনে হয় এক্ষেত্রে সিস্টেমের চেয়ে আমাদের মানসিকতা, সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয়, নৈতিকতার অধঃপতন আর পুরুষতান্ত্রিক অন্যায়ৈর কাছে নত হবার প্রবণতা বেশী দায়ী। এসবের পরিবর্তন জরুরী।
ধন্যবাদ আপনাকে শিব সত।
ধীবর বলেছেন:
বিশ্ব যতই এগিয়ে গিয়েছে বলে চেচানো হোক না কেন, নারী তার শোষিত অবস্থানে ঠিকই আছে। আপনার কথার সাথে খুব সহমত যে, যে অসামাজিক কাজের দায়ে প্রভার দিকে আঙ্গুল নির্দেশিত, সেই আঙ্গুল যেন রাজিব - অপুর্বের দিকেও নির্দেশিত হয়। আমাদের সংস্কৃতি আজ ক্যান্সার আক্রান্ত। এর জন্য দায়ি প্রতিটা অভিবাবক আর শিক্ষক। আমাদের সমাজকে বাচাতে হলে, এই দুই দলের, আপন ভাষা নৈতিকতা আর ঐতিহ্যের প্রতি খুব শক্ত অবস্থান গ্রহন করা জরুরি। নইলে আমাদের দেশ আমাদের নতুন প্রজন্ম ধবংস হয়ে যাবে। আর আমরা শুধু চেয়ে চেয়ে দেখবো।
লেখক বলেছেন: আধুনিকতার নামে যে ভয়াবহ ক্যান্সার সমাজকে আক্রান্ত করেছে তা থেকে মুক্তির পথ খুব সহজ আবার কঠিন।
প্রতিটি ঘরে ঘরে, প্রতিটি পরিবার সচেতনতা সৃষ্টি হলে এই কালোথাবা থেকে মুক্তি সম্ভব, আবার যে অভিভাবকরা শিক্ষা দিবেন তাঁরা কতোখানি নৈতিক আর আদর্শ জীবনের দৃষ্টান্ত সন্তানদের সামনে রাখছেন সেটিও ভেবে দেখার ব্যাপার।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ধীবর।
শ্যামল বাংলা বলেছেন:
ব্লগে প্রভার বিরুদ্ধে যা হচ্ছে-তা একশ্রেনীর নোংরা মানষিকতা সম্পন্ন পুরুষের বিকৃত মানষিকতারই উদাহরন। যা একধরনের নারী নির্যাতনেরই নামান্তর!ধন্যবাদ শ্রদ্ধেয় মানবী।
লেখক বলেছেন: আপনার বক্তব্যের সাথে ১০০% সহমত।
সবচেয়ে দুঃখজনক যখন কুলাঙ্গার রাজীবের প্রতি সহানুভূতিশীল হতেও কেউ কেউ দ্বিধাবোধ করেনা!
বিবাহিতা স্ত্রী বা স্বামীকে ছেড়ে গেলে অপরাধ নয়, প্রেমিক বা বাগদত্তকে ছেড়ে যেন মহা অধর্ম করেছে মেয়েটি!! আর সব কিছু ছাপিয়ে এটাই তার সবচেয়ে বড় অপরাধ!
অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
এতই উদার হয়ে গেছি যেন বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক না করাটাই অনাধুনিক মানসিকতার পরিচায়ক। নিত্য শয্যাসঙ্গী বদলানো কোন বিষয়ই না !!!
..............................................................
প্রভা তার এনগেজমেন্ট ভেঙ্গে দিতেই পারে, সে অধিকার তার আছে।তবে কাজটা একটু ঘোষনা দিয়ে করলেই ভাল হত এই আর কি, যেহেতু এনগেজমেন্টটা সে ঘটা করেই সবাইকে জানিয়েছে। আর রাজীব যেটা করেছে সেটাকে কি বলব ঠিক জানিনা- আপনার কথা পড়ে হয়ত আমরা রাজীবের দোষ খুজতে যেতে পারি। আবার কে একজন লিখেছিলেন- রাজীব মাতাল হয়ে দেবদাস হলেই বিষয়টা সবার ভাল লাগত, টাহলে প্রভাকে গালাগালি করাটা আরো বেশী জমত ।
যায় হউক বিচারের ভালমন্দে গিয়ে কাজ নেই- জাতি হিসেবে আমরা একটা আমদানিকারক জাতিতে পরিনত হয়েছি এটাই বড় কথা। পরকীয়া, অবাধ যৌনতা- আধুনিকতার মুখোশে আজ সবই বৈধ এখন আমাদের কাছে ..............সাবাস।
লেখক বলেছেন: মূল্যবোধের চরম সংকটে ভুগছে আমাদের সমাজ এব্যাপারে সহমত।
তবে পরের অংশ স্পষ্ট বুঝতে পারছিনা বলে দুঃখিত!
কেউ ঘটা করে বাগদান করলে যে হুট করে তা ভাঙ্গতে পারবেনা এমন নিয়ম নেই।
"আপনার কথা পড়ে হয়ত আমরা রাজীবের দোষ খুজতে যেতে পারি। "
- বাহ্! আমার কথা রাজীবের দোষ নিয়ে ভাবতে হবে, এমনকি তা কষ্ট করে খুঁজতে হবে!!!!!
আপনার কাছ থেকে এধরনের কথা শুনে খুব হতাশ হলাম শামসীর। মূল্যবোধের সংকট যাঁর চোখে পড়ছে আর এমন একজন কুলাঙ্গারের দোষ তাঁকে কষ্ট করে খুঁজের বের করতে হয়!!!
ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।
আবদুল্লাহ আল মনসুর বলেছেন:
ধন্যবাদ পোষ্টটির জন্য।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।
ভাবসাধক বলেছেন:
লেখক বলেছেন: শুধু ভিডিও অনুচিত নয়, এধরনের অনৈতিক সম্পর্কই অনুচিত।আসলে আমরা কি চাই তা আগে নিশ্চিত হতে হবে । বিবাহ পূর্ব সেক্স , পাশ্চ্াত্য লাইফ স্টাইল নাকি আমাদের ঐতিয্য অনুযায়ী জীবন ধারা ?
লেখক বলেছেন: মজার ব্যাপার কি জানেন, পাশ্চাত্যের সত্যিকারের লাইফ স্টাইল অনেক অনেক শোভন ও রক্ষণশীল। কিছু সিনেমা আর টিভি শো দেখে আমরা খুব উদ্ভট একটি ধারনা নিয়ে বসে আছি তাঁদের সম্পর্কে। ঠিক যেমন হিন্দী অথবা বাংলা ছায়াছবির নাচ গান দেখে কেউ যদি মনে করে এটা আমাদের স্বাভাবিক লাইফস্টাইল.. এমন!
এব্যাপারে বিস্তারিত লিখতে গেলে একাধিক পোস্ট হয়ে যাবে।
ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
অলস ছেলে বলেছেন:
অসুস্থ সমাজ কাঠামো আর দীর্ঘদিনের ডাবল ষ্ট্যান্ডার্ড চর্চা আমাদের মানসিকতাকে এমন করে দিয়েছে। আমরা তারস্বরে মুখস্ত বুলি আউড়াই, নারী মায়ের জাত, নারীদের অধিকার, ব্লা ব্লা ব্লা......... এইসব দেখে শুধু লজ্জিত হই, নিজের মা বোন স্ত্রীর দিকে তাকালে মুখে বলতে পারিনা, মনে মনে মাফ চাই তাদেরকে এরকম সাবহিউম্যান বানিয়ে ফেলার জন্য। এ মানসিকতার শিকড় অনেক গভীরে, পরিস্থিতি কতশত বছর পর বদলাবে জানি না। কিন্তু সামাজিকতা আর শিক্ষা ব্যাবস্থায় এর প্রতিকারের জন্য যদ্দুর সম্ভব চেষ্টা অব্যাহত রাখতেই হবে। যে ঘটনা দিয়ে (নুরজাহানের) আপনি লেখা শুরু করেছেন, তা যথার্থ। ঐশী জীবনাদর্শ যেখানে এসব বড় বড় সমস্যার সমাধান দেবার জন্যই এসেছে, বর্তমানে তা সাময়িকভাবে ব্যার্থ তো বটেই, বরং দোষী। এখানেও সেই শিক্ষাব্যাবস্থার কথা আসে। বর্তমান অচল ও অবিমৃষ্যকারী মাদ্রাসা শিক্ষা থেকে সে মা্ওলানা মান্নানরাই উৎপন্ন হওয়া স্বাভাবিক। খুবই দু:খজনক।
লেখক বলেছেন: ভালো বলেছেন। ঐশী জীবনাদর্শ সম্পর্কে সঠিক ভাবে না জেনে যারা নিজেদের এর ধারক, বাহক ও সকল ক্ষমতার অধিকারী ভেবে হুংকার দেয়.. এমন দুর্জনের হাতে এর অপপ্রয়োগ হবে এমনটিই তো স্বাভাবিক।
তবে একজন মওলানা মান্নান বা বাংলা ভাইয়ের জন্য আমি পুরো মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে নাকচ করে দেবার বিপক্ষে। ঠিক যেমন নষ্ট রাজনীতির বিষবাষ্প, অস্ত্রের ঝনঝনানি আর নেশাসক্ত পচে যাওয়া বর্তমান ছাত্র সমাজের কারনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ব্যবস্থা নাকচ করে দেবার বিপক্ষে। ক্যান্সার হলে ক্যান্সারের চিকিৎসা হবে, খুব বেশী হলে অঙ্গহানী পুরো মানুষটিকে হত্যা করার কারণ নেই।
আর আয়শা, ফারজানা আর প্রভাদের ঘটনায় সামাজিক মূল্যবোধ, নারীর মর্যাদা ইত্যাদি বিষয়ে আমাদের নির্লজ্জ স্ববিরোধিতার যে নগ্ন প্রকাশ ঘটে তা নিঃসন্দেহে বিব্রতকর ও আশংকাজনক।
ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
জেরী বলেছেন:
কয়জন এভাবে ভাবে আপু? এই যে প্রভা ইস্যুতে ভিডিওতে দুইজনেই আছে। তারপর ও প্রভা নামে ঢিঢি পরে গেছে। এই একই কাজ তো রাজিব ও করতে পারে। প্রভার জায়গায় সেও তো অন্যকোন মেয়েকে বিয়ে করলে কি এমন হত? আমাদের সমস্যা হলো আমরা সব ব্যাপার এককভাবে চিন্তা করি,বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ চিন্তা করি না বলেই লজিকগুলা এইভাবে ধরা পরেনা। প্রভা সেলিব্রেটি বলেই এমন রিএ্যাকশন হলো.....আমার ,আপনার কিংবা অন্যকারো জীবনে কি এমন কোন কাহিনী নেই কিংবা অদূর ভবিষ্যতে ঘটবেনা সেটার নিশ্চয়তা কে দিবে ......??
লেখক বলেছেন: রক্ষণশীল জীবন আর সামাজিক মূল্যবোধ ধারন করে চললে ইনশাহ্আল্লাহ্ এধরনের অঘটন ঘটবেনা, অথবা বলা যায় ঘটার সম্ভাবনা কম। তবে শুধু সেলিব্রটি বলে নয় হয়তো... আয়শা তো সেলিব্রিটি ছিলোনা। তাকে পাথর ছুঁড়ে মারার মানুষ নিতান্ত কম ছিলোনা। কুলাঙ্গার রাশেদও কোন সেলিব্রিটি নয়, অথচ তার লাম্পট্য'র প্রতি ধিক্কার জানিয়ে ক'জন প্রতিবাদ করেছেন?
সমস্যা.. একজন নারী যখন একজন পুরুষকে প্রত্যাখ্যান করে। অপরাধ অসামাজিক কর্মকান্ড বা অনৈতিক সম্পর্ক নয়, এখানে তাদের সবচেয়ে বড় অপরাধ পুরুষকে প্রত্যাখ্যান করা বা তার সাথে প্রতারণা করা।
ভালো থাকুন আপু। ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: এই অন্যায় বৈষম্য বড় দৃষ্টিকটূ।
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
সহজ সরল রমণী বলেছেন:
ব্লগে প্রভার বিরুদ্ধে যা হচ্ছে-তা একশ্রেনীর নোংরা মানষিকতা সম্পন্ন পুরুষের বিকৃত মানষিকতারই উদাহরন। যা একধরনের নারী নির্যাতনেরই নামান্তর!
লেখক বলেছেন: সম্পূর্ণ সহমত আপনার মন্তব্যের সাথে।
আন্তরিক ধন্যবাদ সহজ সরল রমণী।
মুকুট বিহীন সম্রাট বলেছেন:
প্রভা রাজিব কে ছেড়ে ঠিক কাজটি করেছে.....................হ্যাঁ আপনার লেখার রেশ ধরেই বলছি প্রভা ঠিক কাজটিই করেছে,রাজিবের মধ্যে সুপ্ত স্বাভাবটা প্রভা জেনেছে অনেক কিছু বিষর্জন দিয়ে সেই সাথে আমরাও।
শারীরিক বৃদ্ধির সাথে আমাদের জামার পরিবর্তন ঘটে, ঘটে আমাদের চিন্তার পরিসর, কেটে যায় অনেক শৈশবি আবেগের আবরণ।এটা মানুষ জাত ধর্ম।
সেই সাত বছরের আগের প্রভা আর এখনকার প্রভার মধ্যে ভিন্নতা সময় উপযোগী,রাতের বেলায় দেখা কোন রং যদি ১২ ঘন্টার ব্যবধানে দিনের আলোয় রং পাল্টায় তো সাত বছরে কোন মানুষের চেহারা পাল্টায়নি বা পাল্টাবেনা এমন কে বলতে পারে?যদিও আমরা ইতিমধ্যে সেই পাল্টে যাওয়া মুখ দেখে ফেলেছি।
তার পরও প্রভা পারতেন দীর্ঘ দিনের সম্পর্কটা নিয়ে আর একটু ভাবার যেহেতু তারা অনেকটা পথ পাড়ি দিয়েছে।
হয়তো প্রভা ভেবেছে, ভেবেই রাজিবের মধ্যে থাকা আজকের এই মন্দটা প্রভা আমাদের আগেই বুঝতে পেরেছিলেন।অন্য কোন আচরণের শিকার হয়ে।
কেন বলবোনা রাজিবের মন্দ,?
যে মানুষটি সময়ের আবেগ ভালোবাসার সুন্দর সহ সুখটাকে পুঁজি করে আজকে তার ভালোবাসার মানুষটিকে বাজারে তুলে দিলেন শুধু মাত্র জীবন থেকে সরে গেল বলে, সেই রাজিব বিয়ের আগে যেমন ভয়ন্কর তেমনি বিয়ের পরে আরও ভয়ানক হবেনা কে জানে?
প্রভাকে জীবনের চরম মুল্য দিতে হয়েছে ঠিক কিন্তু সে আরেকটি জীবন পেয়েছে যা গত হওয়া জীবনের চেয়ে অধিকতর সুন্দর।আমি তাই ভাবছি।
আমি প্রভাদের দলে নই কিন্তু রাজিবদেরও মানিনা.........
আপনি সব সময় ঠিক সময়ে ঠিক পোস্টি দিয়ে থাকেন, যা আমার খুব ভালো লাগে।
একজন সচেতন ব্লগার হিসেবে ব্লগে আপনার ভুমিকা যথার্থ.....
ইশ্বর আপনার মঙ্গল করুন
ভালো থাকা হোক মানবী।
লেখক বলেছেন: ভালো বলেছেন। আমি জানিনা রাজীবের মতো কুলঙ্গারদের কোন সুস্থ বুদ্ধির মেয়ে কখনও বিয়ে করে কিনা, সুস্থ অসুস্থ যেই করুক.. সেই স্ত্রীকেও বাজারে তুলে দিতে এই নরাধমরা দ্বিধাবোধ করবেনা।
প্রতিনিয়ত যে খবর শোনার দুর্ভাগ্য আমাদের হয়, কোন পারাগাঁ বা ছোট/বড় শহরের যুবক প্রেমের অভিনয় করে সজ্ঞানে বা অচেতন করে কোন নারীর সর্বনাশের ভিডিও বাজারজাত করছে, এই রাজীবের সাথে তাদের কি কোন পার্থক্য আাছে? রাজীব স্যুটপ্যান্ট পরে আর ওরা লুঙ্গি গেন্জী.. এর চেয়ে বেশী আর কোন পার্থক্য নেই তাদের চরিত্রে।
বিবেক দংশন আর মনের তাগিদে এধরনের পোস্ট লেখা হয়, তাই রাগ বা ক্ষোভ কিছুটা বেশী হয়ে যায় হয়তো।
পোস্টগুলো আপনার ভালো লাগে জেনে সন্মানিত হলাম।
আন্তরিক ধন্যবাদ মুকুট বিহীন সম্রাটকে।
অনেক অনেক ভালো থাকুন।
মিথুন-১ বলেছেন:
প্রভা যদি অপরাধ করে থাকে-তাহলে সেই একই অপরাধে রাজীবও অভিযুক্ত হতে পারে। কিন্তু ব্লগের মাহামানবেরা একচোখা দৈত্যের মত শুধু প্রভাকেই দোষারোপ করছে! আরেকজনের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নিজের সাধুতা একধরনের হিপোক্রেসীর নামান্তর!
লেখক বলেছেন: শুধু প্রভা নয়, আয়শা সহ আর যতো ব্যাভীচারিনি বা অসামাজিক সম্পর্কের দায়ে দোষী হয়েছেন.. তথাকথিত সচেতন সমাজের আচরন দেখে মনে হয়েছে তারা একা একা এমনটি করেছ.. কোন পুরুষ সঙ্গী ছিলোনা বা কোন পুরুষ দায়ী নয়!
আমরা সচেতনতার নামে মাঝে মাঝে স্ববিরোধিতার নগ্ন প্রকাশ ঘটাই, এই অনুধাবনেও আমরা অক্ষম।
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
একদল ভাবছে ভালইত দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্ক হচ্ছে আমরা আধুনিক হচ্ছি- রাজীবের মুন্ডুপাতও করছে এ খবর ছরিয়ে দেয়ার জন্য , আর আরেকদল গেল গেল সব গেল বলে ভিডিওখানা দেখারজন্য হা পিত্যেশ করছে আর প্রভাকে গালি দিচ্ছে ।
কিন্তু এর মাঝ দিয়ে যে আমাদের চেতনার জগতে অধপতন হয়ে যাচ্ছে সে জিনিসটা আমরা কেউ দেখছিনা অথবা ইগনোর করছি। আমাদের সমাজত এমন ছিলনা, অথবা এভাবেও ভাবা যায় এমন সমাজ আমরা চাই কিনা । ।
রিলেশন যেকোন সময় যে কেউ ভেঙ্গে দিতেই পারে- সেটা দোষের মাঝে পরেনা । এ নিয়ে আমার মাথা ব্যাথাও নেই। আবার এই কথা বলতে হয় আমার এমন কিছু করা উচিৎ না যেটা অসংযত, সবার চোখে কাম্য নয় - মূল্যবোধ হীনতার কারনে আমরা এ বিষয়গুলোও ভুলে গেছি।
নাহলে তাদের মাঝে যে সম্পর্ক সেটা ঐভাবে ধারনের তো কোন প্রয়োজন পড়েনা, এটা এক ধরনের মনোবিকৃতি, অস্হির তারুন্যের বহিঃপ্রকাশ- ভাল মন্দ, কি করা উচিৎ, কি উচিৎ না সেটাই ঠিক করতে না পারা ।
এভাবে চলতে থাকলে পচে যেতে আর বেশী সময় লাগবেনা ।
লেখক বলেছেন: "অথচ আমরা সবাই মুল ইস্যুটাকেই এর মাধ্যমে পাশ কাটিয়ে চলে গেছি , সম্ভবত এই ধ্যান থেকে যে-
একদল ভাবছে ভালইত দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্ক হচ্ছে আমরা আধুনিক হচ্ছি-"
- এধরনের ভাবনা যে কি ভয়াবহ নির্বুদ্ধিতার প্রকাশ তা অনুধাবনেও হয়তো তারা অক্ষম। এধরনের অনৈতিক কার্যকলাপে দেশ পিছিয়ে যায় আদিম বর্বর যুগের দিকে যখন ছিলোনা কোন নৈতিকতা বা সামাজিক মূল্যবোধ! এধরনের উন্মত্ততার মাঝে আধুনিকতা বা গর্বের কিছু নেই।
অনৈতিক কার্যকলাপ নয়, রাজীব নামের এক কুলাঙ্গারকে একটি মেয়ে নির্মম ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে, শুধুমাত্র এই অপরাধে তার প্রতি সবাই আক্রমণাত্বক হয়ে উঠেছে। আমাদের মূল্যবোধের অবক্ষয়, সামাজিক অধঃপতন যেন এই অপরাধের কাছে গৌণ- এটাই আমার পোস্টের মূল বক্তব্য।
ধন্যবাদ।
প্রলাপ বলেছেন:
আপু, আমার আরেকটা অবজার্ভেশন আছে। সেটা হলো প্রভা সেলিব্রেটি। নারী সেলিব্রেটি। তার ব্যাপারে পুরুষ ফ্যানদের অতি-আগ্রহ থাকাটা স্বাভাবিক, সেটা বিজ্ঞাপনচিত্র হোক বা পর্নোগ্রাফি হোক। সেকারণেই তার নাম ধরেই আলোচনাটা বেশি। এরকম ভিডিও কিন্তু অনেক বের হয়, তার পাত্রপাত্রীদের নাম ধরে এতটা আলোচনা হয় না ব্লগে ব্লগে।বলতে পারেন রাজীব সেলিব্রেটি হলে এরকম আলোচনা হতো কিনা? উত্তর হচ্ছে না। কারণ বহুবিধ:
১. সমাজের প্রচলিত ডাবল স্ট্যান্ডার্ড। সতীত্ব রক্ষার দায়িত্ব শুধু নারীর। পুরুষের এ ব্যাপারে কারো কাছে জবাবদিহি করতে হয় না। হবু স্ত্রীর কাছেও না।
২. পুরুষরা ভিজুয়াল প্রাণী। নগ্ন নারী দেখলে সকল পুরুষই উত্তেজনা অনুভব করে। নারীদের বেলায় ব্যাপারটা ঠিক একরকম নয়। নারীদের জন্য পর্নো ইন্ডাস্ট্রি আলাদা প্রোডাকশন করে, যেটা অনেকটাই রোমান্টিক ঘরানার মুভির মত, উইথ অ্যাডেড সেক্সুয়ালিটি। খুব কম সংখ্যক নারীভক্তই তাদের পছন্দের স্টারকে এরকম হার্ডকোর পর্নোগ্রাফিতে দেখতে পছন্দ করবে।
দোষারোপের ব্যাপারে বলবো, অনেকে নারী হিসেবে প্রভাকে বেশি দোষারোপ করছে, আর অনেকে দোষারোপ করছে সেলিব্রিটি হিসেবে। যদিও রাজিবও সমানভাবে দোষী কমিটমেন্ট ছাড়া প্রেম করা এবং সেক্স সিন ভিডিও করার বিষয়ে, এবং এককভাবে দোষী (যদি ধরে নেই রাজীবই ভিডিওটি প্রকাশ করেছে) ভিডিও প্রকাশের ব্যাপারে।
লেখক বলেছেন: ভাইয়া, আয়শা কিন্তু সেলিব্রিটি ছিলোনা। আসলে সেলিব্রিটি নন সেলিব্রিটি কোন বিষয় নয়, আসল অপরাধ পুরুষকে প্রত্যাখ্যান করা। এতো বেশ কয়েকটি পোস্টের মন্তব্য পড়ছিলাম, দেখে অবাক হলাম কিছু মানুষের ক্ষোভ, প্রেমন করে বা বাগদান হবার পর কেনো ছেড়ে গেলো? ছেড়ে যদি যাবে, আলাপ আলোচনা না করে কেনো গেলো?
আমরা কতোখানি নির্বোধ হলে এভাবে বলতে পারি? বাগদান ধর্মীয় বা সমাজিক কোন কমিটমেন্ট নয়, এমন হলেতো প্রেমন,এনগেজমেন্টের সাথে বিয়ের কোন পার্থক্য থাকতোনা। আর সবচেয়ে বড় কথা, বাগদান ভাঙ্গতে আলোচনা? বাহ! মানুষ যেখানে ২০-৩০ বছরের সংসার কোন আলোচনা ছাড়া হুট করে ভাঙ্গছে, সেখানে বাগদানের মতো সমান্য তুচ্ছ ব্যাপার ভাঙ্গতে আলোচনা? এটা তো তালাক নয় যে প্রপার ওয়েতে সম্পর্ক শেষ করতে হবে।
আসলে প্রত্যাখ্যাত রাজীবের মাঝে কেউ কেউ নিজের চেহারা দেখছে, কেউ নিজে প্রত্যাখ্যাত, আবার কেউ ভাবছে আমার প্রেমিকা যেন আমাকে ছেড়ে যাবার এমন স্পর্ধা না করে।
সবচেয়ে দুঃখজনক, বিবাহসম্পর্ক বহির্ভূত এধরনের অনৈতিক সম্পর্কটি যে দু পক্ষের জন্য সমানভাবে নিন্দনীয় এই সামন্যবোধটি আমাদের অনেকের লোপ পেয়েছে। কেউ কেউ প্রভার প্রতি সমবেদনা দেখাতে বলছে, "দীর্ঘদিনের প্রেমকি বা বাগদত্ত'ত সাথেই তো করেছে".. এটা কোন যুক্তি হলো? এটা যে কোন যুক্তি নয় তার প্রমান কুলাঙ্গার রাজীবের আচরন। দীর্ঘদিনের প্রেম বা বাগদানের পরও কাউকে এতোটা বিশ্বাস করতে নেই বলেই সামাজিক মূল্যবোধ, ধর্ম এধরনের কাজ নিষেধ করে।
অনৈতিক কাজের জন্য দুজনই সমান ভাবে দায়ী আর প্রতারণার জন্য দায়ী শুধু রাজীব। রাজীবের অপরাধ শাস্তি যোগ্য, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এই নোংরা খেলার চক্র খুব প্রকট ভাবেই আমাদের সমাজকে গ্রাস করবে।
ধন্যবাদ ভাইয়া।
যে আছো অন্তরে বলেছেন:
ব্যক্তিগত ভাবে আমি রক্ষণশীল জীবন আচারের পক্ষে।
লেখক বলেছেন: জেনে ভালো লাগলো, ধন্যবাদ আপনাকে।
কায়কোবাদ বলেছেন:
আজ যারা, এসব নরপশুর পক্ষ নিয়ে আয়শা, প্রভাদের দিকে পাথর ছুঁড়তে উদ্যত, আজ যারা একজন ফারজানার মৃত্যুতে নিরব, অপেক্ষা করুন.. আগামীতে আপনার পরিবারের মেয়েটির এমন পরিনতির জন্য। কোন অভিসম্পাত নয়, আপনার কর্মফলের কারনেই এমনটি অবধারিত, অনিবার্য।সত্যিই অভিসম্পাত দিতে হবে না, আমাদের কর্মফলে পরবর্তী প্রজন্ম ভোগ করবে। এটাই প্রকৃতির নিয়ম।
রাজীব-প্রভা দুজনেই অপরাধী। কিন্তু যারা এই লিংক নিয়ে হইচই করলো, লিংক ছড়িয়ে দিলো.....তারাও কি রাজীবের চেয়ে কোনো অংশে কম দোষী?
লেখক বলেছেন: বাংলাদেশের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আমরা রেখে যাচ্ছি এক ভয়ংকর পৃথিবী। শুধু হানাহানি, মারামারি, সন্ত্রাস, ভেজাল ও বিষাক্ত বাতাস নয়, সামাজিক মূল্যবোধহীন এক অনৈতিক অরাজক পরিবেশ।
আমরা যারা এ অনুধাবনে অক্ষম, অথবা যা এই প্রতিকূলতা সৃষ্টিতে সচেতনভাবে ভূমিকা রাখছি.. তাদের পরিবারও রেহাই পাবেনা।
এটাই বাস্তবা।
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
ডেইফ বলেছেন:
কেমন আছেন আপনি?
লেখক বলেছেন: আল্লাহ্'র রহমতে ভালো আছি, ধন্যবাদ দাইফ।
আপনি কেমন আছেন?
মে ঘ দূ ত বলেছেন:
অনেক ভালো লাগলো লেখাটা।
লেখক বলেছেন: জেনে সন্মানিত হলাম, ধন্যবাদ মে ঘ দূ ত।
বোহেমিয়ান কথকতা বলেছেন:
এই সময়ের ফতোয়াবাজ, পাথর ছোঁড়ার দলদের জন্য রইল ঘৃণা।
লেখক বলেছেন: ভালো বলেছেন।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ বোহেমিয়ান কথকতা।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















