সময়টা ১৯৭১, মুক্তিযুদ্ধ। পূর্বপুরুষদের কাছে শোনা এক ভয়াবহ সময়, মা ও মাটি রক্ষার্থে এদেশের তরুন যুবক, বৃদ্ধ কিশোর সবাই ঘরের নিশ্চিত নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন হানাদার পাকবাহীনির মোকাবেলায়। পুরুষদের মতো অস্ত্রহাতে সরাসরি লড়াইয়ে সকল নারী সামিল না হলেও শুরু হয় তাঁদের অন্য রকম একটি যুদ্ধ।
হানাদার পাকিস্তানি সেনা আর তাদের দোসর আলবদর আলশামস নামের একপাল বিশ্বাসঘাতকের থাবা থেকে নিজের সম্ভ্রম বাঁচিয়ে অস্তিত্ব রক্ষার এক মরনপণ লড়াই। রাতের আঁধারে কখনও ঘন অরন্য, কখনও হাড়কাঁপানো প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে কোন পুকুর বা জলাশয়ে ডুবে নিজেকে এসব নরখাদকদের নজর থেকে রক্ষা করার সংগ্রাম। ভয়াবহ দুঃসময় আর আতংকের মাঝে একটি আশার আলো টিম টিম করেও সেসময় তাঁদের কিছুটা আলোর পথ দেখাতো, এসব ধর্ষক আর তাদের দালালদের সন্ধান পেলে বাংলা মায়ের বীর সেনা মুক্তিযোদ্ধারা সাধ্যমতো এই নরপশুদের ছিন্ন ভিন্ন করে দিবে। অবর্ণনীব দুর্ভোগ আর নিরাপত্তাহীণতার মাঝেও তাঁরা স্বপ্ন দেখতেন, এই দেশের মাটি স্বাধীন হলে পরবর্তী প্রজন্মকে অন্তঃত এমনিভাবে সম্ভ্রম বাঁচাতে বিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করে ফিরতে হবনো!
আজ আমাদের স্বাধীন দেশ, মুক্তিযুদ্ধের সে রক্তক্ষয়ী সময়টা পেরিয়ে এসেছে চল্লিশ বছর আগে.... দুর্ভাগ্যবশঃত এই দেশের নারী সমাজ আজও নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় একই রকম সংগ্রাম করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। পার্থক্য শুধু একটিই, আজ তাঁদের আশার আলো দেখাবার নেই কোন বীর, বাংলামায়ের সেই দামাল ছেলেদের আজ বড় অভাব।।
একটা সময় ছিলো যখন কোথাও নারী নির্যাতন, নিগ্রহ বা সম্ভ্রমনহানী ঘটলে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হতো, ধর্ষক অপরাধী মুখ লুকাবার স্থান খুঁজে পেতোনা। পরবর্তীতে পথেঘাটে নারী নির্যাতনের প্রকোপ তেমন না হলেও গৃহবধু নির্যাতন একটি সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। কখনও যৌতুকের লোভে, কখনও বা মনমালিন্য আবার কখনও পুরুষ সন্তান জন্মদিতে না পারার দায়ে নিয়মিত শারিরিক নির্যাতন এবং এক পর্যায়ে হত্যা করাও একটি নৈমিত্তিক ব্যাপার -হয়ে দাঁড়ায় শুরুতেই অপরাধীর কঠিন শাস্তি নিশ্চিত করার ব্যর্থতার কারনে।
গত কয়েক দশক ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র, পথেঘাটে ইভটিজিং একটি মারাত্মক ব্যাধির রূপ ধারন করে। এই ব্যাধি নিরাময়ের অভাবে সম্প্রতি ভয়ংকর ক্যান্সারের পরিনত হয়। বখাটেদের শাস্তি প্রদানে আইন আদালতের ব্যর্থতার সাথে সাথে সমাজে একশ্রেনীর নর্দমার কীটের আস্ফালন ও সমর্থন এই ঘৃন্য অপরাধের বীজকে মহীরুহে পরিনত করে।
সমাজ, রাষ্ট্র, আইন আদালত ইভটিজিং এর মতো একটি ঘৃন্য অপরাধ দমনে ব্যর্থ হলে পরিবারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা থাকে নিজ ঘরের কিশোরী তরুনীদের রক্ষায়। স্কুল কলেজ, কর্মক্ষেত্র যাবার পথে এই কুলাঙ্গার পালের ছোবল থেকে ঘরের মেয়েটিকে বাঁচাতে কখনও অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে, কখনও দল বেঁধে তরুনী কিশোরীর দল বিদ্যাপীঠের নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচে বাবা, মা পরিবার- ঝুঁকপিূর্ণ পথ পেড়িয়ে অন্তঃত বিদ্যাপীঠের (!)নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছেছে সন্তান!!
আজ, অতি সম্প্রতি দেশজুড়ে সৃষ্ট নজিরবিহীন অরাজকতা পরিবার আর সমাজের এই স্বস্তিটুকু ছিনিয়ে নিয়েছে!! নষ্ট রাজনীতির দুষ্ট ছোবলের কারনে মেয়েদের প্রাইমারী বিদ্যালয়, উচ্চবিদ্যালয় থেকে শুরু করে দেশের স্বানামধন্য কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেনো বেশ্যালয় হয়ে উঠার এক অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
গত বছর রাজধানীর স্বনামধন্য ইডেন কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের বিভিন্ন অন্চল থেকে উজ্জল ভবিষ্যতের স্বপ্ন চোখে আশা শিক্ষার্থীদের অসহায়ত্বের খবর ফাঁস হয়ে যায়। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছাত্রীনেতৃরা(যদিও তাদের ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে অনেক বছর পূর্বে) একেক জন মক্ষীরানী হয়ে নিয়ন্ত্রণ করে সহজ সরল নীরিহ ছাত্রীদের ভাগ্য!! নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় দলীয় নেতাদের কাছে উপঢৌকন হিসেবে পাঠানো হয় নতুন পড়তে আসা ছাত্রীদের সম্ভ্রম, কেউ আপত্তি জানালে বিভিন্ন অজুহাতে তাঁদের হল ছাড়া কখনও কলেজ ছাড়া করার মতো ধৃষ্টতা দেখাতে তারা পিছপা হয়ন। রাজনৈতিক প্রভাবের কারনে এসব মক্ষীরাণীদের স্পর্ধা এতোটাই যে কলেজ প্রশাসনও এদের কাছে অসহায়। দেশ জুড়ে আলোড়ন, নিন্দা প্রতিবাদের পরও এসব ঘৃন্য মক্ষীরানী ও তাদের মদদদাতা নেতাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়না বরং এসকল নোংরামীর শিকার অসহায় নিরীহ ছাত্রীদের তিরস্কার করে ব্যাপারটি ধামাচাপা দেয়া হয়, ক্ষমতার রক্তচক্ষুর সামনে ঝিমিয়ে পরে মিডিয়া... জাতি একসময় বিস্মৃত হয় এই কলংকজনক ঘটনা, দেশের প্রত্যন্ত অন্চল থেকে উচ্চ শিক্ষার্থে এসে দেহপসারিনী হতে বাধ্য হওয়া এসকল অসহায় ছাত্রীদের আর্তনাদ আর গুমড়ে কান্না চাপা পড়ে যায় ইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চার দেয়ালের মাঝে।
কয়েক বছরর ধরে আরেকটি অসুস্থ ধারা প্রচলিত হয়েছে... নব বর্ষের উৎসব উদযাপন অনুষ্ঠানে হাজার হাজার ছাত্র, জনতা এমন কি শিক্ষক শিক্ষিকা ও স্থানীয় প্রশাসনের সামনে মেয়েদের নগ্ন করে তাঁদের সম্ভ্রমনহানী করা যেন এক নিয়মিত চর্চা। ক্ষমতাসীনরা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এসব কুলাঙ্গারের পালের হাতে যেন স্বেচ্ছাচারিতার লাইসেন্স তুলে দিয়েছে। সরকারের সমর্থনে এরা এতোটাই বেপরোয়া ও আত্মবিশ্বাসী যে হাজার হাজার মানুষ এমনকি মিডিয়ার ক্যামেরাকেও তারা তোয়াক্কা করেনা নিজেদের বিকৃত লালসা মিটাতে। প্রশাসন আর সরকারের সরাসরি মদদে নির্ভীক আর লাগামহীন হয়ে উঠেছে এসক ঘৃন্য ধর্ষক হায়নার পাল। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ, স্বনামধন্য ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও এই তান্ডব মুক্ত হতে পারেনি!!
গত কয়েক সপ্তাহে ঘটেছে সবচেয়ে ন্যাক্কারজনক ঘটনা। গ্রামের প্রাইমারী বিদ্যালয় থেকে শুরু করে ঢাকার স্বানামধন্য উচ্চবিদ্যালয়ে ছাত্রীরা আজ শিক্ষকদের ভোগ্যপণ্যে পরিনত হয়েছে! নিজ গৃহের পরই যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমাদের সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হিসেবে বিবেচিত হয় তা আজ হয়ে উঠেছে সম্ভ্রমনহানীর পাঠশালা। পিতামাতার সমকক্ষ শিক্ষক শিক্ষিকা, সেই শিক্ষক পিতার স্থান থেকে অধঃপতিত হয়ে পরিনত হয়েছে এক কামার্ত ক্ষুধার্ত জন্তুতে, আর এদের প্রশ্রয় দিয়ে মাতৃস্থানীয় কিছু শিক্ষিকা নামের কলংক আজ মক্ষীরাণীর স্থান গ্রহন করেছে।
রাজশাহী জেলার তানোর থানার চান্দুড়িয়া ইউনিয়নের জোড়ানপুর গ্রামের ডা. আবু বকর উচ্চবিদ্যালয়ের হতদরিদ্র ঘরের মেধাবী ছাত্রী সনজিতা স্কুলের প্রধান শিক্ষকরূপী এক হায়নার বিকৃত কামনার শিকার হয়ে নিজ কুড়ে ঘরে ফিরে অপমান আর যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে বেছে নেয় আত্মহননের পথ। সনজিতার ঘৃন্য ধর্ষক আজও গ্রেফ্তার হয়নি, আমরা দেখিনি এই (?)পলাতক আসামীর কোন ছবি!! ছবি--- সেও এখানে পররে কথা, খবরের কাগজে হতভাগী সনজিতার পারিবারিক বৃত্তান্ত ছাপা হলেও নরপশু ধর্ষকটির নাম পর্যন্ত প্রকাশ পায়নি।
কোমলমতি কিশোরী সনজিতা, দারিদ্রক্লিষ্ট জীবনে কঠিন বাস্তবতাকে জানতে পেরেছিলো সময়ের অনেক আগেই, তাই হয়তো বিচার না চেয়ে কেনো আত্মহননের পথকে শ্রেয়তর মনে করেছিলো তা আজ অবাক করেনা! যে ঘৃন্য পশুকে গ্রেফ্তার দূরের কথা, তার নামটি পর্যন্ত পত্রিকার পাতায় আসে না তার সাথে এই হতদরিদ্র অসহায় কিশোরী লড়াইয়ে নামবে কিভাবে?
প্রধান শিক্ষকরূপী নরপশু ধর্ষক হায়নাটার নাম, মোখলেসুর রহমান। নাম পরিচয় প্রকাশ না হওয়া এই কুলাঙ্গার এখনও গ্রেফ্তার হয়নি।
এই বছর মার্চ মাসে চট্রগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের শৈলবালা উচ্চবালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী স্কুল শিক্ষক আশীষ বরণ সাহার কাছে প্রাইভেট পড়তে গেলে তাকে জড়িয়ে ধরে যৌণহয়রানী করা হয়। ছাত্রীটি আত্মরক্ষায় আকুতি মিনতি এবং শেষ পর্যন্ত চিৎকার করায় যৌণবিকারগ্রস্থ আশীষ বরন তাকে ছেড়ে দিত বাধ্য হয়। হয়রানীর শিকার ছাত্রীটি অভিযোগ করার পর সাহস করে আরো অনেক ছাত্রী এগিয়ে এসে ঘৃণ্য আশীষের দ্বারা বিভিন্ন সময় যৌণহয়রানীর তথ্য প্রকাশ করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানায়। নিপীড়নের শিকার ছাত্রীর পক্ষ থেকে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হলেও ক্ষমতাসনদলের সাথে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকার কারনে কুলাঙ্গার আশীষ বরণের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি।
শুধু তাই নয় ধর্ষক আশীষে ছবি প্রকাশ দূরের কথা, তার যৌণবিকারগ্রস্থতার কাহিনী মিডিয়া থেকেও এক প্রকার আড়াল করে রাখা হয়।
আমাদের দেশে মেয়েরা মুখ বুঁজে সকল নির্যাতন সহ্য করে যায়, কারন তাঁরা জানেন বিচার চাইতে গেলে নির্যাতনকারী অস্পৃশ্য থেকে যাবে উল্টো তিনিই আবার নির্যাতিতা ধর্ষিতা হবেন সমাজের হাতে।
ঠিক যেমন ক্ষমতার দুর্গন্ধের আচ্ছাদনে যৌণনিপীড়ক আশীষ বরণ সা্হার নিরাপদ আয়েষী জীবন অব্যহত থাকলেও অনেক ছাত্রীর পড়াশুনা বন্ধ হয়ে যায়।
রাজধানীর সুপরিচিত ভিখারুন্নেসা স্কুলে ছাত্রী ধর্ষনের কেলেংকারী ফাঁস হলে, ঘৃণ্য ধর্ষকক পরিমল সহ সম্প্রতি রহস্যজনক ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ছয় শিক্ষকের আচরন জেনে মনে হয়, এরা শিক্ষকতার উদ্দেশে কোন স্কুলে নয়, বরং সম্ভোগ আর কুরিপুর তাড়না মিটাতে কোন গণিকালয়ে প্রবেশ করেছে। গার্লস স্কুলটি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এই ঘৃন্য জন্তুদের কাছে নিজস্ব হারেম যেনো!! শুধুই কি ধর্ষক পরিমল বা তার সাথে নিয়োগপ্রাপ্ত যৌণবিকারগ্রস্থ সহকর্মীবৃন্দ!!! বরং স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার পদাধিকারী হোসনে আরা বেগম এসব ধর্ষকেদের রক্ষার্থে অবতীর্ণ হয়েছে গনিকালয়ের মক্ষীরানী রূপে!! ধর্ষক নয়, বরং তার যতো আক্রোশ নির্যাতিতা ছাত্রীর বিরুদ্ধে তাই যৌণবিকারগ্রস্থ শিক্ষক নয় বরং ধর্ষিতা ছাত্রীটিকে স্কুল থেকে বহিস্কার করার ধৃষ্টতা দেখায়। শিক্ষক নামের কলংক যৌণ আসক্ত ঘৃণ্য পরিমল জয়ধরের অন্যতম শিকার ছাত্রটিকে আমি স্যালুট জানাই, লোকলজ্জার ভয়ে আত্মহননের পথ বেছে না নিয়ে যিনি প্রতিবাদী হয়ে উঠেছেন, পরিমল নামরে জন্তুটির মুখোশ উন্মোচন করেছেন। স্যালুট জানাই তাঁর সহপাঠীদের যাঁরা কটাক্ষ বিদ্রুপ এবং সকল প্রকার সংকীর্ণতাকে এড়িয়ে অন্যায়ের শিকার সহপাঠীর পাশে দাঁড়িবে প্রতিবাদী হয়েছেন, স্যালুট সেসব মায়েদের যাঁরা একজন নির্যাতিতাকে নিজেদের কন্যা মনে করে রাজপথে নেমে পরিমল জোয়ার্দার নামের ঘৃন্যকীটের শাস্তির দাবীতে সোচ্চার হয়ে দেশবাসীকে সচেতন করেছেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের হাতে যৌণহয়রানীর স্ক্যান্ডাল শুরু হয়েছিলো প্রায় তিন বছর পূর্বে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে।দেশ জুড়ে আলোড়ন আর তীব্র প্রতিবাদ সত্ত্বেও এসব যৌনবিকারগ্রস্থ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তেমন কঠোর কোন ব্যবস্থা যে গ্রহন করা হয়নি তা প্রমানিত হয় ইডেন, ভিকারুন্নেসা সহ রাজশাহীর আবু বকর বিদ্যালয় আর চট্রগ্রামের শৈলবালা বিদ্যালয়ের ঘটনা থেকে।
ক্ষমতাসীনের ছত্রছায়ায় দেশ আজ পরিনত হয়েছে ধর্ষক নরখাদকের অভয়ারণ্যে। সময়ের সাথে সাথে এই মহামারীর ছড়িয়ে পড়ার আশংকাজনক প্যাটার্ণটি লক্ষ্যনীয়...
বিশ্ববিদ্যালয়- কলেজ- উচ্চবালিকা বিদ্যালয়- প্রাথমিক বিদ্যালয়--?(অবধারিত ভাবে পরবর্তী লক্ষ্য কোমলমতি শিশুদের কিন্ডারগার্টেন)
কোন বিচার ব্যবস্থা দূরের কথা, এসব ধর্ষকের ছবি এমনকি নাম পরিচয়টি মিডিয়া থেকে আড়াল করে রাখা হয়। যৌণবিকারগ্রস্থের লালসার শিকার কোমলমতি প্রাণ বিচার চাইতে গিয়ে শিকার হয় সামাজিক ধর্ষনের, অপবাদের বোঝা মাথায় নিয়ে কাটিয়ে দিতে হয় বাকি জীবন।
হঠাৎ করে দেশ জুড়ে পিতৃস্থানীয় শিক্ষকেরা যৌণবিকারগ্রস্থ হয়ে কন্যাসম ছাত্রীদের উপর হামলে পড়েছে, ঘটনাটি এমন কাকতালীয় ভাবাতে দ্বিধা হয়!! অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, আমাদের দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ চূড়ান্ত পরিকল্পিত ভাবে ধ্বংসের মুখে নিয়ে যাবার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে... এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে এখনই রুখে না দাঁড়ালে অচিরেই হয়তো আর ফেরার পথ খোলা থাকবেনা। আমাদের দেশের ভাগ্য বিধাতা নেতৃবৃন্দের অধিকাংশ তাদের সন্তানদের শিক্ষা গ্রহনে ভীনদেশের বিদ্যাপীঠে প্রেরণ করে থাকে, তাই রাজনীতি অথবা যৌনহয়রানীর কলুষতি থাবা দেশের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়কে গ্রাস করলেও তারা ব্যক্তিগত ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়না।
এই নষ্টধারা অব্যহত থাকলে সেই দিন দূরে নয় যখন আর ছাত্রছাত্রীদের নারী পুরুষ বিচার না করে শুধুমাত্র সম্ভোগের বস্তুতে পরিনত করবে একপাল যৌণবিকারগ্রস্থ নরপশু।
আজ যদি দলমত নির্বিশেষে আমরা এই ভয়ংকর সমস্যার সমাধানে সচেষ্ট না হই, ভেবে দেখুন কি ভয়ংকর পৃথিবী রেখে যাচ্ছি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য। কোন দল বা সরকার চিরস্থায়ী ভাবে ক্ষমতাসীন থাকেনা... আজ নিজ সমর্থিত দলের পক্ষ নিয়ে ধর্ষকের পক্ষে দাঁড়ালে কাল আরেকটি দল ক্ষমতায় এসে আপনার সন্তানকে ধর্ষন করে খুবলে খাবে.... এ এক অবধারিত সত্য।।
[শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌণনিপীড়নের যে সংবাদ আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে তা হয়তো এসংক্রান্ত সংবাদের দশ ভাগের একভাগও নয়। আর, সংবাদ পত্রে যৌণহয়রানীর যে সংবাদ পৌঁছেছে তা বর্তমান বাংলাদেশের সামগ্রিক বাস্তব চিত্রের তুলনায় “টিপ ওফ দ্যা আইসবার্গ” বললেও বাড়িয়ে বলা হয়
২০০৮ সালে বিসিআইসি কলেজের শিক্ষকের যৌণনিপীড়নকারী শিক্ষককের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় এক ভুক্তভোগীর লেখা.. প্রথম পাতায় একসেস না পাওয়ায় তাঁর পোস্টের লিংকটি এখানে শেয়ার করছি।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুলাই, ২০১১ ভোর ৫:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


