somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্লগাব্লগিতে বিস্কুট-দৌড় সংস্কৃতি

১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ২:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোটবেলায় মহাত্মা গান্ধীর জীবনীর একটা শিশুতোষ সংস্করণ কীভাবে যেন পড়তে হয়েছিল। হিন্দুঘরের ছেলে হিসেবে বিবেকানন্দ কিংবা গীতাও বাদ যায়নি। নিশ্চয়ই আশা করা গিয়েছিল যে এসব সেবন/চর্চার মাধ্যমে আমি অহিংস হয়ে উঠব। বয়স যতই যায়, আমি চিনচিন করে পেটে যে ব্যথাটা অনুভব করি সেটা, অচিরেই আবিষ্কার করি, সেটা হয়তো হিংসাই হবে। গান্ধী, গীতা, বিবেকানন্দ কিছুতেই কাজ হলো না। আবার হিংসা যে অমহৎ সেই জ্ঞানও টনটনে। ফলে সেটা মুকাবিলার কসরৎও পেটের মধ্যে চলতে থাকে। পেট, ফলে, জটিল এক রান্নাঘর হয়ে উঠল।

কিন্তু তারপরও এই মন্তব্য আমি হিংসাবশতঃ করছি না। সামহোয়েরইনব্লগ-এর সতীর্থরা যে উঠেপড়ে টপটেন মার্কা একটা প্রতিযোগিতার আয়োজন করছেন তাতে আমার কিছুতেই শান্তি লাগছে না। এই লেখা রচনার আগে আমি দেখে নিয়েছি যে আমার কোনো "রচনা" মনোনীত হয়েছে কিনা। না-হলে হিংসার থিয়োরী অনুযায়ী বোঝা যেত সহজে। কিন্তু লক্ষ্য করা গেল দুটো গল্প আমার মনোনীত হয়ে আছে ৪২৬টা রচনার মধ্যে। এমনও ভাবা যেতে পারত যে আমার দুটো না হয়ে ২২টা হয়নি বলেই আমার হিংসা। কিন্তু আসলেই হিংসাজনিত কর্মকাণ্ড এটা নয় আমার তরফে। ব্লগে বিস্কুট দৌড় না-টেনে আনাটা সকলের জন্যই জরুরি কাজ ছিল। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এই মহারোগটা একজন দু'জনের নয়; বেশ মহামারী আকারেই বিদ্যমান। কৌশিক ৫০০০ টাকা গাঁট থেকে খরচ করছেন বলে তাঁকেই প্রকট ভাবার পক্ষপাতী আমি নই।

আমার মনে পড়ে, ব্লগের "সাহিত্য" প্রিন্টবন্দি করবার উদ্যোগেই আমি খুব খুশি ছিলাম না। কিন্তু পয়লা যখন এর মুখোমুখি হই আমি তখনও নিজে ব্লগার নই। এর বিপক্ষে বলা অনধিকার চর্চা হতে বাধ্য ছিল। কিন্তু এখন নিজে একজন ব্লগার হিসেবে, তাও ৪২৬টা মনোনয়নের ২টার মালিক, কথা কওয়ার একটা হক ধরে নিয়েছি।

ব্লগের স্বাধীনতা নিয়ে আমার কখনোই উচ্চকিত ভক্তিভাব ছিল না। ছিল না, কারণ এর অদৃশ্য মালিকানা নিয়ে আমি ভুলভুলানির খেলায় থাকি না। মালিক অদৃশ্য থাকলেও মালিক থাকেন, এই সাধারণ হুঁশবুদ্ধিটা আমার ছিল। ধরেই নিচ্ছি অন্য অনেকেরই তা আছে, ও ছিল। কিন্তু চতুষ্পার্শ্বে ব্লগীয় বাকুম বাকুমে সেইটা প্রায়শই উহ্য হয়ে যায়। ফলে নিজের ঈমান শক্ত রেখে আমি মনে রেখে চলেছিলাম আমি ইয়াহুর "স্বাধীন" প্রজা; ফেসবুকের "সার্বভৌম" রঙ্গিলা প্রজা; সামহোয়ের-এর "সৃজনশীল" প্রজা ইত্যাদি।

এরপরও ব্লগের যে জায়গাটা গুরুত্বপূর্ণ তাহলো "সম্পাদকীয়" এখতিয়ারের নামে এখানে কর্তন/ছেদন প্রক্রিয়াটা মুদ্রণ-স্থাপনার মতো নয়। এখানে স্বজনতোষণ আছে, দলাদলি আছে, আরও আছে গালাগালি। কিন্তু সাহিত্য/বুদ্ধিজীবিতার নামে এখানে অনায়াসে কাউকে খারিজ করে দেয়ার সুযোগ কম। কিংবা সুযোগ থাকলেও একটা হালফিল চর্চা হিসেবে এটা জারি নেই। ব্লগের এই চরিত্রটার জন্য নয়া সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তিতে ব্লগের গুরুত্ব স্বতন্ত্র। কিন্তু এটা তো বিধাতার রাজ্য না যে আপনা-আপনি এরকম চলতেই থাকবে। ব্লগের শক্তিমত্তার জায়গাগুলো উদ্ঘাটন ও জারি রাখতে চাইলে এর ব্যবহারকারীদের দায়দায়িত্বও নিতে হবে।

আমার মনে হয় এই বিস্কুট দৌড়ের মতো মুদ্রণ-স্থাপনার প্রতিষ্ঠিত চর্চাগুলো এখানে আমদানি করতে শুরু করে ব্লগের শক্তিমত্তার জায়গাগুলো খর্ব করতে বসেছেন সতীর্থরা। কোনো উদ্যোগের নিন্দা করলে লিবেরেল চিত্ত হা রে রে রে করে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে বসে। সেটা করতে গিয়ে ক্রুদ্ধ অভিব্যক্তি খুব দৈনন্দিন ব্যাপার। ফলে আমার ধারণা টপ-টেন ধরনের এই প্রতিযোগিতার আয়োজকেরা গোস্বা করবেন আমার উপর। কিন্তু আমি নিশ্চিত আছি, আপনাদের দোয়ায়, কী বিষয়ে আমি কথা বলছি।
৩৬৭টি মন্তব্য ২১টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রছন্ন আহ্বান

লিখেছেন এফ.কে আশিক, ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ৯:৫৫


এসো সুদক্ষ শিল্পীর মত কপালে
নিপুণ আলপনা এঁকে দেই,
চাঁদ যেমন।

নদী এঁকে দেই স্রোতস্বিনী-
ভাঙ্গনের বাঁকটায় বৃক্ষ এঁকে দেই,
দুটি পাতা একটি ফুলে।

সু-গভীর সুখের ক্ষত এঁকে দেই
ক্ষানিকটা, আজন্ম পিছু টানের।

এসো কোমল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাময়িক খালি ১০০! ১০০! ১০০!...হৈ যে গেলো ১০০! ১০০! ১০০! [আর মাত্র ৮০টি বাকি]

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১০:০৫

ব্লগ দিবসে'র এক্সপোর্ট কোয়ালিটি টি-শার্টের মূল্য ১০০ টাকা + কুরিয়ার চার্জ।

কুরিয়ার চার্জ (কোয়ান্টিটি বুঝে):
ঢাকা = ৬০ - ৯০ টাকা
ঢাকা'র আশে-পাশের এলাকা = ৮০ - ১২০... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণ যেহেটু তাদের চায়না সেহেটু নিরদলীয় সরকার রেখে নির্বাচন দিলেই ভালো হবে ।

লিখেছেন :):):)(:(:(:হাসু মামা, ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ৮:৫৯


বিজয় দিবস উপলক্ষে রোববার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় নির্বাচন প্রসঙ্গে কথা হলে প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনা বলেন যারা ক্ষমতায় উড়ে এসে জুড়ে বসে তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

***রোহিঙ্গা শব্দটি গালির পর্যায়ে নেমে এসেছে***

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ১০:০৩


ভাবতে অবাক লাগে একটি জাতি কিভবে এমন ম্রিয়মান হয়ে অতীত ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ভূমি, দেশ হারিয়ে অস্তিত্ব বিপন্নের পখে এগিয়ে যায়। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সমস্যা কবে নাগাদ বাস্তব সমাধান হবে তা বলা... ...বাকিটুকু পড়ুন

** যদি তুমি না হতে অধরার দলে **

লিখেছেন মোস্তফা সোহেল, ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ১১:৫৭







খুব যত্নে পুষে রাখা
ভালবাসারাও আজ বিবর্ণ।

আজ এই শহরে
ঝলমলে আলোর মেলা
তবু কোথাও কমতি ছিল
একটা উজ্জল নক্ষত্রের।

আমি হারিয়ে ফেলেছি যা কিছু
তা খুঁজতে-খুঁজতেই
আমার অপারাহ্নটাও হারিয়ে যায়
কোন সে গধূলী লগ্নে।

হঠাৎ দমকা হাওয়াই
সব ভেঙে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×