******
আমি এসেছিলাম ভীষন নিঃশব্দেই
আমার আগমনে কোথাও পটকা ফুটেনি
মেঘেরা ভাসতে ভাসতে অবাক চোখে থমকেও দাঁড়ায় নি
ধবল হাঁসের বুকে আমার পায়ের নুপুর বাজেনি
তবুও আমি এসেছিলাম
বিস্তর স্বচ্ছ জলের বুকে এক পদ্মকুমারী হয়ে।
***********
কত অদ্ভুত অদ্ভুত জিনিসে ভরা ছিলো আমার চারপাশটা! আমি কাঁদতেই যেনো ভুলে গিয়েছিলাম একেবারে। আমি মায়ের কোলে চুপটি করে শুয়ে কিন্তু বিষ্ময়ে চোখ বড় করে তাকিয়ে ছিলাম। এটাই যে আমার মা আমি কি তখন জানতাম? আমি কি বুঝতে পেরেছিলাম যে পৃথিবী ভেঙে চুরমার হয়ে গেলেও, মা বুকের মাঝে আমাকে আগলে রাখবেন যাতে আমি একটুও ব্যাথা না পাই!? বুঝতাম হয়ত। তা না হলে মা কেন আমাকে কোল থেকে নামাতেই পারতেন না! আম্মু বাথরুমে যেতে চাইলেও আমাকে কোল থেকে নামানো যেতো না(অনেক খানি বড় হবার পরও)। কোল থেকে নামাতে গেলেই আমি পা দুটো ভাজ করে ঝুলে পড়তাম।
***********
আমার বড় তিন ভাই বোনের তো বিস্ময়েরই সীমা ছিলো না। হুট করে একটা পরীর ছানা আমাদের ঘরে কখন, কোথা থেকে, কিভাবে এলো!!!
আপু তো অবাক হয়ে ওর এতটুকুন আঙুল দিয়ে একবার আমার চোখের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে দিতো, আরেকবার মুখের ভিতর!
আমি এসেই পৃথিবীর সব আদর আর ভালোবাসার মধ্যে ভাগ বসালাম।
************
ওমা! বলতেই ভুলে গেছি। রাতের বেলা আমার চোখে ঘুমই থাকত না। বাবা শোবার ঘরে হালকা নীল রঙের একটা ডীম লাইট লাগিয়েছিলেন। আমি চোখ বড় বড় করে বাতির দিকে তাকিয়ে থাকতাম। আর মামনির তো দুশ্চিন্তার শেষ নেই-বাবুসোনা ঘুমায় না কেনো!?
*************
ঠিক করা ছিলো, আমার জন্মের পর পরই আমাকে বড় খালাকে দিয়ে দেয়া হবে।( কি নিষ্ঠুরতা!) ওখানে নাকি আমি অনেক আদর আর সুখে বড় হতাম (মার কথা)
আমার জন্মের কয়েক দিন পর নানী পুটলা পাটলা নিয়ে ঢাকা থেকে আসলেন। আমাকে সাথে করে নিয়ে যাবার কথাই ছিলো। তারপর বাবার কি হলো কে জানে! আমাকে আর দিতে চাইলেন না, হয়ত মায়া লেগে গিয়েছিলো। (থ্যাংকস আব্বু)
আমি আমার এই ছোট্ট ভাঙাচুরা রাজ্যেই পৃথিবীর সব ভালবাসা আর সুখ দুহাত ভরে পেলাম! আমার নামই শুধু না, আমি বেড়েও উঠেছিলাম "little princess" হয়েই।
*********
আমি তোমারও প্রিন্সেস তাই না? তবে এইবার তুমি তোমার সময় মতো শুভেচ্ছা জানাও নি। তুমিও রাগ, এখন আমিও রাগ। রাগে রাগে দুনিয়া লাল।
বুড়ি হয়ে যাচ্ছি
*********
**শুভ জন্মদিন আমাকেই আমি**
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


