somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

***আস্তিক-নাস্তিক সকলের জন্য***

১৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আপনি যদি কাউকে জিজ্ঞেস করেন, তোমার কাছে কি কলম আছে? যদি তার কাছে থাকে তার উত্তরে সে বলবে, জ্বী আছে। আর যদি না থাকে তাহলে বলবে, না নাই। আচ্ছা, এই যে উত্তরে না করলো তার মানে কি? বা যখন জ্বী আছে বললো তারই বা মানে কি?

যখন সে জ্বী আছে বললো তখন বুঝা গেল কলমটির অস্তিত্ব আছে, আর যখন না করলো, তখন কি বুঝায় যে কলমটির অস্তিত্ব নেই? কলম বলে কিছু নেই? তা কিন্তু নয়, সে যে না করছে এটাও কলমের অস্তিত্বের স্বীকৃতি, সে বিশ্বাস করে কলম বলে কিছু আছে।

যারা বলে সৃষ্টিকর্তা বলে কিছু নেই তার মানে কি? আর যারা বলে সৃষ্টিকর্তা অবশ্যই আছে, তারই বা মানে কি? যারা বিশ্বাস করে সৃষ্টিকর্তা আছে তারা সব সময়ই জ্বী সৃষ্টিকর্তা অবশ্যই আছে বলে স্বীকার করবে অর্থাৎ তাদের বিশ্বাসের স্বীকৃতি জ্ঞাপন করবে। আর যারা বলবে নেই তার মানে কি এই যে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব নেই? তা কিন্তু নয়, যারা বলবে নেই তারা সত্যকে অস্বীকার করবে কারণ, কলম না থাকার মানে এই নয় যে কলমটির অস্তিত্ব নেই। কোন কিছু থাকা বা নাথাকার প্রশ্ন তখনই উঠে যখন তার অস্তিত্ব থাকে।

আচ্ছা এরপর আসি, মানুষ সৃষ্টি নিয়ে, মানুষ সৃষ্টিকে বা মানুষ কিভাবে সৃষ্টি হলো তা আমরা তিনটি সম্ভাবনা দাড়া করাতে পারি।

১. কিছুই না থেকে মানুষের উদ্ভব
২. সে নিজেই নিজেকে সৃষ্টি করেছে
৩. একজন সৃষ্টিকর্তা তাকে সৃষ্টি করেছেন

সম্ভাবনা ১: কিছুই না থেকে মানুষের উদ্ভব
এটা কখনো সম্ভব না। কারণ, Nothing gives anything অর্থাৎ কিছুইনা থেকে কোন কিছুই পাওয়া যায় না। কিছুই না বলতে বুঝায় তার কোন অস্তিত্বই নেই, সুতরাং যার কোন অস্তিত্বই নেই তার নিকট থেকে কিছু পাওয়াও যাবে না, তাই Nothing gives anything.

সম্ভাবনা ২: সে নিজেই নিজেকে সৃষ্টি করেছে
এটাও কখনও সম্ভব না। কারণ, একজন মানুষকে তো প্রথম অস্তিত্বে প্রকাশমান হতে হবে তার পরেই না সে অন্যএকজনকে সৃষ্টি করবে! সেই একজন মানুষকেই বা কে অস্তিত্ব দিল যদি সে নিজেই নিজেকে তৈরী করে না থাকে?

সম্ভাবনা ৩: একজন সৃষ্টিকর্তা তাকে সৃষ্টি করেছেন
এটাই হওয়ার সম্ভাবনা ১০০%, কারণ উপরোক্ত সম্ভাবনা দুইটি দ্বারা মানব সৃষ্টি সম্ভব নয় কাজেই মানুষকে অবশ্যই একজন সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টি করেছেন।

দুনিয়ার তাবৎ মানুষ, আস্তিক-নাস্তিক এরা সবাই সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বইকেই স্বীকার করে তাদের জ্বী আছে বা নাই বলার মাধ্যমে! বরং নাস্তিকরা যে বলে সৃষ্টিকর্তা নাই তা সৃষ্টিকর্তা যে আছে তার অস্তিত্ব আরো দৃঢ়ভাবে প্রকাশ করে।

একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন, তিনিই সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, তিনিই সব কিছুর মালিক, অধিকর্তা এটা মেনে নেওয়াই হচ্ছে একত্ববাদ। অর্থাৎ অন্য কারো অংশীদারিত্ব নয়, অন্য কারো স্বীকৃতি নয়।
এই একত্ববাদ মেনে নেওয়ার পর আসে সৃষ্টিকর্তার আদেশ মেনে চলার পর্বটি। অর্থাৎ একত্ববাদ মেনে নিয়ে যারা সৃষ্টিকর্তার আদেশ মেনে চলবে তারাই মুক্তিপাবে কারণ তারা তাদের সৃষ্টিকর্তার আদেশ মানছে অন্য কারো নয়!

মানুষকে এই একত্ববাদ তত্ত্ব জানানোর জন্যই এবং একমাত্র সৃষ্টিকর্তার আনুগত্য করার জন্যই যুগে যুগে নবী-রাসূল এসেছেন। সকল নবী-রাসূলদের মৌলিক বিষয় ছিল একই আর তা হলে একত্ববাদের স্বীকৃতি দেওয়া এবং একমাত্র আল্লাহর দাসত্ব মেনে নেওয়া।

"তোমরা বলঃ "আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি, আমাদের জন্য যে জীবন ব্যবস্থা নাযিল হয়েছে তার প্রতি এবং যা ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও ইয়াকুবের বংশধরদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে আর যা মূসা, ঈসা ও অন্যান্য সকল নবীকে তাদের রবের তরফ হতে দেওয়া হয়েছে, তার প্রতি। আমরা তাদের মধ্যে কোন পার্থক্য করি না। আর আমরা একমাত্র আল্লাহরই অনুগত।" (সূরা আল বাকারা:১৩৬)

একত্ববাদের স্বীকৃতি দিয়ে, আল্লাহর আনুগত্য যারা মেনে নিবে তারাই সঠিক পথে থাকবে।

জন্ম-মৃত্যু, ধনী হওয়া বা গরীব হওয়া ইত্যকার বিষয়গুলো মানুষের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কেউ একত্ববাদের স্বীকৃতি দিক আর না দিক তাতে এই প্রক্রিয়ায় সমস্যা হয় না, দুনিয়ার তাবৎ মানুষ আল্লাহর অনুগ্রহ পেয়ে থাকে।
(হে নবী) আমি এদের (যারা দুনিয়া চায়) এবং ওদের (যারা আখিরাত চায়) সবাইকে তোমার মালিকের দান থেকে সাহায্য করে যাচ্ছি এবং তোমার মালিকের দান কারো জন্যই বন্ধ নয়”। (সূরা বনী ইসরাঈল:১৮-২০)

আল্লাহর আনুগত্য করা কি মানুষের জন্য কঠিন কিছু? অবশ্যই কঠিন কিছু নয়। বর্তমানে জ্ঞান-বিজ্ঞানের যে অগ্রগতি এর একটাও এমন নয় যে জ্ঞানের এই শাখাটা মানুষ নিজে সৃষ্টি করেছে বরং দুনিয়াতে কোন না কোনভাবে তার অস্তিত্ব ছিল মানুষ সেটা আবিস্কার করেছে। সৃষ্টির শুরু থেকেই এই জ্ঞান মানুষের মধ্যে দিয়ে দেওয়া হয়েছে; যখন তার প্রয়োজন হয় তখন সেই জ্ঞান প্রকাশিত হয়। পূর্বে যখন গাড়ি ছিল না, তখন ইন্জিনের জ্ঞান নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় নি কারণ তখন এই জ্ঞানের প্রয়োজন ছিল না, কিন্তু বর্তমানে গাড়ি রয়েছে তাই ইন্জিনের জ্ঞান থাকাও আবশ্যক। মানুষের পারিপার্শ্বিক অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু রক্তমাংসের মানুষ আগে যেমন ছিল এখনও তেমনি আছে। আগে যেমন দুটি হাত ছিল এখনও দুটি হাত রয়েছে, আগে যেমন দুটি চোখ ছিল দেখার জন্য এখনও দুটি চোখ রয়েছে। অর্থাৎ এই বিষয়গুলো পরিবর্তন হয়নি। কারণ, মানুষ সৃষ্টির জ্ঞান মানুষের কাছে নেই, এই জ্ঞান রয়েছে একমাত্র আল্লাহ তাআলার নিকট। এই মানুষের স্বভাব, প্রকৃতি, কি করলে সে উন্নতি করবে, কি করলে তার জন্যে সেটি ভালো হবে তা একমাত্র আল্লাহই জানেন কারণ তিনিই যে মানুষের একমাত্র সৃষ্টিকর্তা। আর তাই মানুষকে সঠিক পথে পরিচালনা করার জন্যই তিনি গাইডলাইন দিয়ে দিয়েছেন। কিভাবে কম্পিউটার চালাতে হয় তা মানুষ আল্লাহ প্রদত্ত মস্তিস্ক খাঁটিয়ে বুঝতে পারে কিন্তু কম্পিউটারটি সে কোন কাজে ব্যবহার করবে, যেমন এই ব্যবহার কোন ক্ষতির কারণ কিনা বা কোন দিকটা ভালো তা বুঝার জন্য তার একটা মানদন্ডের প্রয়োজন রয়েছে। ভাল-মন্দের মানদন্ড বিষয়টি এমন নয় যে মানুষ নিজে সৃষ্টি করেছে কারণ, এই জ্ঞান মানুষের মধ্যে নেই। তবে এই জ্ঞান সে পেয়েছে তার সৃষ্টিকর্তার নিকট থেকে, আল্লাহ প্রয়োজন মত মানুষকে জানিয়ে দিয়েছেন ভাল-মন্দের মানদন্ড কোনটা। যুগে যুগে নবী-রাসূল এই সব মানদন্ড মানুষকে জানিয়ে দিয়েছেন। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগ পর্যন্ত সকল নবী-রাসূল এসেছিলেন একটা নির্দিষ্ট সময় আর একটা নির্দিষ্ট জাতির জন্য। সেই সময় সেই নির্দিষ্ট জাতির জন্য যে নিয়মগুলো দরকার তা তখন জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আর এই জানিয়ে দেওয়ার পরিসমাপ্তি ঘটেছে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে।

"আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীন পরিপূর্ণ করে দিলাম, আর তোমদের উপর আমার নিয়ামত আমি পূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের জন্য জীবন বিধান হিসেবে আমি ইসলামকেই মনোনীত করলাম" (সূরা আল মায়িদা:৩)

দুনিয়ার সব মানুষ মিলে যদি অস্বীকার করে তাতেও বিন্দু মাত্র কোন সমস্যা হবে না, একদিন সবাইকে তার সৃষ্টিকর্তার নিকট ফিরে যেতে হবে। অস্বীকার করে সারা জীবন দুনিয়ায় বেচে থাকা যায় না। আসল সাফল্য নির্ভর করে কে কতটুকু আল্লাহর একত্ববাদকে মেনে নিয়ে তাঁর আদেশ মেনে চললো। যারা মানবে তারাই মুক্তি পাবে, তারাই সঠিক পথে পরিচালিত। যারা মানবে না তাদের বিচার করার জন্য আল্লাহ তাআলাই রয়েছেন।

মহান আল্লাহ আমাদের শয়তান ও তার অনুসারীদের, বিভ্রান্তকারীদের, বিদআতীদের এবং শিরকপূর্ণ কথা, কাজ ও চিন্তা থেকে হিফাজত করুন। আমীন।




৭টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×