somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

***আল্লাহ সম্পর্কিত জ্ঞান – প্রথম পর্ব***

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ﺑﺴﻢ اﷲ اﻟﺮ ﲪﻦ اﻟﺮ ﺣﻴﻢ

সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য। আল্লাহ তাআলার শান্তি ও রহমত মুহাম্মদ ﷺ এর উপর, তার পরিবার, সাহাবী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাদের অনুসারী তাদের উপর অর্পিত হোক।

পৃথিবীত আগত সকল নবী-রাসূলদের দাওয়াত ছিল একটাই আর তা হলো মানুষকে এক আল্লাহর দাসত্ব মেনে নেওয়ার জন্যে আহবান করা অর্থাৎ একত্ববাদের দিকে আহবান করা।
ইসলাম শব্দের উৎপত্তি যে শব্দটি থেকে আস-ছিলম তার অর্থ হচ্ছে আত্মসমর্পণ করা অর্থাৎ আল্লাহর নিকট সামগ্রিক আত্মসমর্পণ করার নামই হচ্ছে ইসলাম।
“মুসলামানগণ! তোমরা বল: “আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি, আমাদের জন্য যে জীবন ব্যবস্থা নাযিল হয়েছে তার প্রতি এবং যা ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও ইয়াকুবের বংশধরদের প্রতি নাযিল হয়েছে আর যা মূসা, ঈসা ও অন্যান্য সকল নবীকে তাদের রবের তরফ হতে দেওয়া হয়েছে, তার প্রতি। আমরা তাদের মধ্যে কোন পার্থক্য করি না। আমরা একমাত্র আল্লাহরই নিকট আত্মসমর্পণ করেছি” (সূরা বাকারাঃ ১৩৬)

আল্লাহর নিকট সামগ্রিকভাবে আত্মসমর্পণ করার পরই শান্তি আনয়ন হবে আর যে কারণে ইসলাম শব্দটির আরও একটি মূল শব্দ রয়েছে তা হলো আস-সালাম যার অর্থ শান্তি। আমাদের শুধুমাত্র শান্তি অর্থটাই সামগ্রিকভাবে শেখান হয়, আত্মসমর্পণ অর্থটি ঠিক সেভাবে শেখানো হয় না। আর যে কারণে শান্তি পাগল মানুষ আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ ব্যাতীতই শান্তির পিছনে দৌড়ায়। ছোটবেলা থেকে একটা বাচ্চাকে শেখানো হয়, “তোমার যদি টাকা থাকে, অমুক, অমুক জিনিস থাকে তাহলে তুমি সুখী হবে, শান্তিতে থাকবে, মানুষ তোমাকে সম্মান করবে”। আর এজন্যই একটা কথা প্রচলিত আছে আমাদের দেশে, “আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে” অর্থাৎ পার্থিব প্রয়োজন মিটে যাওয়া মানেই দুধে-ভাতে থাকা।

সামগ্রিকভাবে আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ বলতে কি বুঝায় এই বিষয়ে অধিকাংশ মানুষ অজ্ঞ থেকে যায়। আমাদের দেশে প্রধানত দুইটি গুণাবলীতে মানুষ আল্লাহকে চেনে তাও পুরোপুরিভাবে চেনে না। গুণাবলী দুইটি হলো, এক. দোয়া কবুলের মালিক দুই. গুণাহ মাফের মালিক। এই দুইটি গুণাবলী সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষ আংশিক পরিচিত।

মানুষের আকংখা অপরিসীম, একটি আশা পূরণ হলে অন্যটি, সেটি পূরণ হলে আরেকটি আর এভাবে চলতেই থাকে।
রাসূল ﷺ বলেছেন,
“দুনিয়ার কোন কিছুই আদম সন্তানের পেটকে পরিপূর্ণ করতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না এটি কবরের মাটি দ্বারা পূর্ণ হবে”। (সহীহ আল বুখারী)
মনের আকাংখা পূরণ করার জন্যে মানুষ পাগল, বৈধ হোক আর অবৈধ হোক আল্লাহ যেন তার মনের আশা পূরণ করে দেন। আর যে কারণেই মাজার ব্যবসাটা আমাদের দেশে জমজমাট। বিভিন্ন মাজারে মানুষ দৌড়ায় তাদের আশা পূরণের জন্যে, মাজারে অকাতরে টাকা দান করে, বিভিন্ন উপঢৌকন পাঠায়, মাজারের নামে মান্নত করে, কতক মানুষ আবার মাজারে যেয়ে সিজদা পর্যন্ত করে ফেলে। অথচ আল্লাহ তাআলা এমনটি করতে বলেননি। মরা মানুষের পেছনে টাকা দান করলে কার লাভ হয়? মরা মানুষকে উপঢৌকন দিলে কার লাভ হয়? তারচেয়ে এই টাকা, উপঢৌকন গুলো গরীব মানুষকে দান করলে, প্রতিবেশীকে দিলে তিনটি লাভ অর্জিত হয়। এক. আল্লাহর আদেশ পালন করা হয়, দুই. মানুষের সাথে পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধি পায়, তিন. সমাজে শান্তি আনয়ন হয়।

“দয়া প্রদর্শন কর, তোমার প্রতি দয়া প্রদর্শন করা হবে।”(ইমাম আহমদ কর্তৃক বর্ণিত, ২/১৬৫)
রাসূল ﷺ বলেছেন: “যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করে দিবে, আল্লাহ তাআলা তার প্রয়োজন পূরণ করে দিবেন”। (বুখারী ও মুসলিম)

তিনি ﷺ বলেন: “যে ব্যক্তি, এই পৃথিবীতে একজন বিশ্বাসীর দুশ্চিন্তা দূর করে দিবে, মহান আল্লাহ তাকে পুনরুত্থান দিবসের দূশ্চিন্তা থেকে নিরাপদে রাখবেন। যে ব্যক্তি, কারো কাজকে সহজ করে দিবে(যে কঠিন কাজে নিয়োজিত), মহান আল্লাহ তার দুনিয়া ও পরকালের কাজকে সহজ করে দিবেন। যে ব্যক্তি, একজন মুসলিমের দোষ গোপন রাখবে মহান আল্লাহ দুনিয়া ও পরকালে তার দোষ গোপন রাখবেন। মহান আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত একজনকে সাহায্য করতে থাকেন যতক্ষণ পর্যন্ত সে তার ভাইকে সাহায্য করতে থাকে।” (মুসলিম )

এরপর মাজারের নামে মান্নত করা হয় এবং মাজারে যেয়ে সিজদা দেওয়া হয় যার উভয়টাই শিরক। কোন রহমত নেই, কোন বরকত নেই এতে বরং এরকমটি করলে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন। শিরকের গুণাহ সবচেয়ে বড় গুণাহ, বান্দাহ শিরক করা অবস্থায় যদি ভালভাবে তওবা ব্যতীত মারা যায় তাহলে সে জাহান্নাম পাবে সে ব্যাপাড়ে নিশ্চিত থাকতে পারে। মান্নত ও সিজদা উভয়টাই করতে হবে আল্লাহর জন্য।
“তুমি (একান্ত বিনয়ের সাথে) বলো, আমার নামাজ, আমার (আনুষ্ঠানিক) কাজকর্ম, আমার জীবন, আমার মৃত্যু-সব কিছুই সৃষ্ঠিকুলের মালিক আল্লাহ তাআলার জন্যে”। (সূরা আনআমঃ ১৬২)
মাজারে যেয়ে মৃত্য ব্যক্তির নিকট দোয়া চাওয়াটাও শিরক।
“তুমি আল্লাহ ছাড়া কারোর কাছে দোয়া করবে না, যারা না তোমার কোন উপকার করতে পারে আর না পারে ক্ষতি করতে। যদি তুমি তা কর তাহলে তুমি যালেমদের মধ্যে গণ্য হবে”।(সূরা ইউনুসঃ১০৬)
আর এই জালেম হচ্ছে তারাই যারা শিরক করে।
“আল্লাহ তাআলার সাথে শিরক করো না; (অবশ্যই) শিরক হচ্ছে সবচাইতে বড় যুলুম”।(সূরা লোকমানঃ১৩)

মসজিদে যেয়ে ইমামকে বলা হয়, অমুক বিষয়ের জন্যে, অমুকের সুস্থতার জন্যে, অমুকের ভাল রেজাল্টের জন্যে একটু দোয়া করে দিবেন। এখানে যদি দোয়া কবুলের জন্যে ইমাম এবং অন্যান্যদের দোয়া করাকে মাধ্যম বানানো হয় তাহলে কাজটি খ্রিস্টানদের অনুকরণ করা হয়ে যাবে। খ্রিস্টান ধর্মে যাজকদের নিকট যেয়ে তারা কনফেস করেন আর যাজক তাদের গুণাহ ক্ষমা করে দেন! এই মাধ্যম বানানোর কাজটাও শিরক! কারণ, বান্দাহ এবং আল্লাহর মধ্যে কোন মাধ্যম নেই।
“হে নবী! আমার বান্দাহ যদি তোমার নিকট আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে তবে তাদের বলে দাও যে, আমি তাদের অতি সন্নিকটে। যে আমাকে ডাকে, আমি তার ডাক শুনি এবং তার উত্তর দিয়ে থাকি। কাজেই আমার আহবানে সাড়া দেওয়া এবং আমার প্রতি ঈমান আনা তাদের কর্তব্য। এইসব কথা তুমি তাদরে শুনিয়ে দাও, হয়তো তারা প্রকৃত সত্য পথের সন্ধান পাবে”। (সূরা বাকারাঃ ১৮৬)

আল্লাহ তাআলা নিজেই বলে দিয়েছেন, আল্লাহকে ডাকলে তিনি সাড়া দিবেন তবে আমাদেরকেও আল্লাহর ডাকে সাড়া দিতে হবে অর্থাৎ চূড়ান্তভাবে আল্লাহর আনুগত্য করতে হবে। আর এ জন্যেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন - কাজেই আমার আহবানে সাড়া দেওয়া এবং আমার প্রতি ঈমান আনা তাদের কর্তব্য।

এরপর দোয়া কবুলের জন্যে রয়েছে বিভিন্ন দরবার শরীফ, পীর-ফকিরের নিকট যাওয়া এই বিশ্বাসে যে এই দরবার শরীফ, পীর-ফকির তার সমস্যা মিটিয়ে দিবেন! স্পষ্ট শিরক! পত্রিকাতে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়, “১০০% গ্যারান্টি সহ মুশকিল আশান”, “অমুক বাবার চ্যালেঞ্জ” এই রকম আরো কথাবার্তা লেখা থাকে।
“মানুষদের মাঝে কিছু সংখ্যক এমনও রয়েছে, যে আল্লাহর বদলে অন্য কিছুকে তাঁর সমকক্ষ মনে করে, তারা তাদের তেমনি ভালবাসে যেমনটি শুধু আল্লাহ তাআলাকেই ভালোবাসা উচিত; আর যারা (সত্যিকার অর্থে) আল্লাহ তাআলার উপর ঈমান আনে তারা তো তাঁকেই সর্বাধিক পরিমাণে ভালোবাসবে; যারা (আল্লাহর আনুগত্য না করে) বাড়াবাড়ি করছে তারা যদি আযাব স্বচক্ষে দেখতে পেতো (তাহলে এরা বুঝতে পারতো) আসমান যমীনের সমুদয় শক্তি একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্যেই, শাস্তি দেওয়ার ব্যাপাড়ে তিনি অত্যন্ত কঠোর”। (সূরা বাকারাঃ ১৬৫)

চলবে…..
১১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×