somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

***শিয়ালের কাছে মুরগী’র গল্প***

০৫ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ১১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের দেশে এই কথাটি প্রচলিত আছে যে, শিয়ালের কাছে মুরগীর গল্প বলে লাভ নেই বা শিয়ালের কাছে মুরগী রেখে লাভ নেই। আপনি যতই শিয়ালকে যেয়ে বুঝান দেখ, মুরগীটা খেয়ো না! কিন্তু শিয়াল কি আপনার কথা বুঝবে? নাহ! কখনই না, আপনি তার কাছে একটা মুরগী রেখে আসুন তারপর দেখবেন মুরগীটি শিয়ালের পেটে চলে গেছে।

আবার ধরুন, আপনার এলাকার একটা ফাটাফাটি মাস্তান, এলাকার সবাই ভয় পায়। এই ভয় পাওয়ার কারণ কি? কারণ, এলাকার মানুষ জানে ফাটাফাটি মাস্তানের সাথে তোয়াজ করে চলতে হবে না হলে সে একটা ফাটাফাটি কান্ড ঘটিয়ে দিবে। এলাকার অধিকাংশ মানুষ ফাটিফাটি মাস্তানকে ফাটাফাটি কান্ড ঘটাতে দেখেনি শুধু শুনেছে আর তাতেই তাদের মনে ভয় ধরে গেছে, কারণ তারা বিশ্বাস করে আসলেই সে ফাটাফাটি মাস্তান।

আরেকটি গল্প বলি, হয়তো অনেকেই জানেন, একটা বনে সিংহ, নেকড়ে আর শিয়াল থাকতো। সেই বনে মহিষ, হরিণ আর খরঘোস পাওয়া যেত। স্বাভাবিকভাবেই সিংহ বনের রাজা। সে নেকড়ে আর শিয়ালকে ডেকে বললো, বল তো কে কোন প্রাণীটা খাবে? প্রথমে নেকড়ে বললো, আপনি মহিষটি খাবেন, আমি হরিণটি খাবো আর শিয়াল খরঘোসটি খাবে। এই কথা শুনে সিংহের রাগ চরে গেল, সে এক প্রচন্ড থাবা দিয়ে নেকড়েকে দিখন্ডিত করে দিতে দিতে বললোঃ কত বড় শাহস, আমি হলাম বনের রাজা আর আমাকে খাওয়ার জন্যে দিস শুধু একটা প্রাণী? এরপর সিংহ শিয়ালকে বললো, এবার তুই বল। শিয়াল বললো, আমার ভয় হচ্ছে তবে আপনি অভয় দিলে বলতে পারি। সিংহ বললো, যা অভয় দিলাম! এরপর শিয়াল বললোঃ আপনি সকাল বেলা খরঘোসটি দিয়ে নাস্তা করবেন, দুপুরে মহিষটি দিয়ে দুপুরের খাবার খাবেন আর রাতে হরিণটি দিয়ে রাতের খাবার খাবেন! শুনে তো সিংহ মহাখুশি, কি হে শিয়াল, তুই এত সুন্দর ভাগ বাটোয়ারা করা শিখলি কোথা থেকে? শিয়াল মনে মনে বললোঃ এই তো কিছুক্ষণ আগে আপনি যখন নেকড়েকে দিখন্ডিত করলেন তখন।

এবার আসল কথায় আসি, বর্তমানে অনেককেই দেখি ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করতে যেমন, ইসলামের এই আইনটা এরকম কেন? ঐ আইনটা ঐরকম কেন? জ্বীন আবার কি? হু, শয়তান কে? নাহ, এই জিনিসটা ইসলামে বর্বর নাহ ঐ আইনটা ইসলামে ঠিক নাই। অমুক, তমুক, এইটা, সেইটা নানা ধরণের প্রশ্ন। এই প্রশ্নগুলো আগে অধিকাংশই অবিশ্বাসীরাই করতো আর এখন দুঃখজনক হলেও সত্যি অনেক মুসলমানও এই ধরণের প্রশ্ন করে থাকেন!! এই প্রশ্নগুলো আসার কারণ একটাই, আর তা হলো, মানুষ আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে জানে না! একটু বিস্তারিত করে বলি তাহলেই বিষয়টি বুঝতে সহজ হবে।

মানুষের ফিতরাত বা স্বভাব হলো, সে বিশ্বাস করুক আর না করুক, আল্লাহর অস্তিত্ব সে অস্বীকার করে না। এমনকি ঘোর নাস্তিকও একদম তার হৃদয়ের গহিন কোনে বিশ্বাস করে আল্লাহ বলে একজন আছেন যদিও এই কথাটা সে কোনভাবেই স্বীকার করবে না। পৃথিবীতে যত নবী-রাসূল এসেছেন তাদের কাউকেই মানুষকে শিখাতে হয় নি, আল্লাহ কে! মানুষ আল্লাহ সম্পর্কে জানতো। মানুষ জানতো, আল্লাহ এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, তিনি পালনকর্তা, রক্ষাকর্তা, মালিক প্রভৃতি। যাকে আমরা আল্লাহর শাসন কর্তৃত্ব বা Lordship of Allah বলতে পারি। তাহলে নবী-রাসূলগণ মানুষদের কি বলতেন? সকল নবী-রাসূলদের একটা কমন দাওয়াত ছিল আর তাহল, এক আল্লাহর দাসত্ব মেনে নেওয়া। একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা বা Worship of Allah। আর মানুষকে আল্লাহর গুণাবলী বা Attributes of Allah সম্পর্কে জানানো। মানুষ শুধুমাত্র আল্লাহর শাসন কর্তৃত্ব বা Lordship of Allah সম্পর্কে জানতো এবং বর্তমানেও অধিকাংশ মানুষ এই সম্পর্কে জানে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা বা Worship of Allah এবং আল্লাহর গুণাবলী বা Attributes of Allah সম্পর্কে জানে না। আর এ কারণেই মানুষ পূর্বে উল্লেখিত ধরণের প্রশ্নগুলো করে থাকে যদি তারা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা বা Worship of Allah এবং আল্লাহর গুণাবলী বা Attributes of Allah সম্পর্কে জানতো তাহলে অনন্তপক্ষে অনেক মুসলমান ভাই এই প্রশ্নগুলো করতো না।

যে শুধুমাত্র আল্লাহর শাসন কর্তৃত্ব বা Lordship of Allah সম্পর্কে জানে তাকে আপনি ইসলামের নিয়ম কানুন, আইন শেখাতে যান হয়তো সে মানবে আর অধিকাংশ সময়ই মানবে না। মুসলমান পর্যন্ত অনেক সময় ইসলামী আইন, বিভিন্ন ইবাদত নিয়ে সমালোচনা করবে, নিজস্ব মতামত উপস্থাপন করবে, নিজে যা ভাল মনে করবে তাই পালন করবে। যার কারণ একটাই আল্লাহ সম্পর্কিত জ্ঞানের অভাব।

এবার লেখার শুরুতে ঘটনাগুলো আবার চোখ বুলান, যার নিকট আল্লাহ সম্পর্কিত জ্ঞান নেই সে একদম প্রথম ঘটনাটির মতো, তাকে আপনি যতই ইসলামী নিয়ম, বিধান বুঝান সে নিজে যা বুঝে তাই করবে কারণ সে, একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা বা Worship of Allah এবং আল্লাহর গুণাবলী বা Attributes of Allah সম্পর্কে জানে না। যদি জানতো তাহলে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ঘটনাটির মতো হতো। আল্লাহ যা বলেছেন তা এক বাক্যে মেনে নিতো এবং নিজের সবটুকু আল্লাহর সামনে আত্মসমর্পন করে দিত।

এই বিষয় নিয়ে পরে ইনশাল্লাহ বিস্তারিত আরো লিখবো। আজকে শুধু কিছু মৌলিক জিনিস তুলে ধরছিঃ
১. কোরআন আল্লাহ তাআলার বাণী। আল্লাহ তাআলা যা বলেছেন তা একবাক্যে মেনে নেওয়া প্রতিটি মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য। কোন বিষয় নিয়ে দ্বিমত পোষণ করা, সন্দেহ পোষণ করা বা আল্লাহ প্রদত্ত বিধানের চেয়ে অন্য কোন বিধানকে শ্রেষ্ট মনে করা একজন মুসলমানকে ইসলাম থেকে বের করে দিবে ঠিক যেভাবে তীর ছোটার পর তা বের হয়ে যায়।

২. রাসূল ﷺ এর কোন সহীহ সুন্নাহ বা কর্মপদ্ধতীর সামাগ্রিক বিষয় অবিশ্বাস করা বা কোন একটা বিষয় নিয়ে অবিশ্বাস করা, রাসূল ﷺ কে অপছন্দ করা বা তিনি যে বিষয়গুলো আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক বাস্তবায়ন করে গেছেন তার কোন একটা বিষয় অপছন্দ করা, রাসূল ﷺ এর উপর নাযিলকৃত দ্বীনের কোন বিষয় হেয় হতে দেখলে মনে আনন্দ অনুভব করা এবং বিকৃত করে দ্বীনের বিষয়কে ছড়িয়ে দেওয়া একজনকে ইসলাম থেকে বের করে দিবে ঠিক যেভাবে তীর ছোটার পর তা বের হয়ে যায়।

৩. লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ, এর দুইটি অংশ। প্রথম অংশটি হচ্ছে, আল্লাহ ছাড়া ইবাদত আর কেউই ইবাদত পাওয়ার যোগ্য নয় এবং দ্বিতীয় অংশটি হচ্ছে, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল ( একমাত্র ব্যক্তি যাকে অনুসরণ করতে হবে)। আর রাসূল ﷺ কে খুব কাছে থেকে দেখেছেন সাহাবীগণ তাই তাদের মতো করে ইসলামকে বুঝতে হবে কারণ তারা সরাসরি রাসূল ﷺ এর নিকট থেকে ইসলামকে বুঝেছেন।

ইনশাল্লাহ, ভবিষ্যতে আরো বিস্তারিত লিখবো।
মহান আল্লাহ তাআলার শান্তি ও রহমত রাসূল ﷺ ও তার পরিবার, সাহাবী এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাদের যারা অনুসরণ করবে তাদের উপর অর্পিত হোক। আমীন।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ১১:২৫
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×