somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

***বিশ্বাস এবং সৎকর্মঃ শেষ পর্ব***

২৭ শে জুন, ২০১০ সকাল ১১:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পূর্বে প্রকাশিতের পর...
***বিশ্বাস এবং সৎকর্মঃ প্রথম পর্ব***
***বিশ্বাস এবং সৎকর্মঃ দ্বিতীয় পর্ব***
***বিশ্বাস এবং সৎকর্মঃ তৃতীয় পর্ব***

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম

এখন সঠিক উপায়ে সৎকর্ম নিয়ে আমরা আলোচনা করব। সঠিক উপায়ে সৎকর্ম দুইটি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত যাদের মধ্যে একটি হচ্ছে জিকরুল্লাহ বা আল্লাহর স্মরণ। যার মানে হচ্ছে যখন কেউ একজন সৎকর্ম করবে তখন সে কাজটি করবে আল্লাহকে উদ্দেশ্য করে, আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার প্রত্যয়ে। সে আল্লাহকে স্মরণ করবে যার ফলে তার সৎকর্মটি হবে আল্লাহকে উদ্দেশ্য করে এবং আল্লাহর স্মরণই হচ্ছে সকল প্রকার ভালকাজের মূল। সৎকর্ম অর্থাৎ প্রকৃত সৎকর্ম যেটি আল্লাহ কর্তৃক অনুমোদিত সেই সৎকর্মটি করতে হবে আল্লাহকে স্মরণ করে। আমরা যদি ইসলামে মূল ভিত্তিগুলোর দিকে লক্ষ্য করি তাহলে আমরা দেখতে পাব আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন, উদাহরণ স্বরুপ আমরা নামাজের কথা বলতে পারি, যেখানে আল্লাহ বলেছেন, “আক্বিমুসসালা লি জিকরী” অর্থাৎ আমাকে স্মরণ করার জন্য নামাজ প্রতিষ্ঠা কর। দৈনিক পাঁচওয়াক্ত নামাজের মূল বিষয়ই হচ্ছে আল্লাহ তাআলার স্মরণ। কাজেই ব্যক্তি যখন আল্লাহকে স্মরণ করে সৎকর্ম করবে তখন সেই সৎকর্মটি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করবে এবং যখনই সে আল্লাহর স্মরণকে ভুলে যাবে তখনই সে পাপকর্ম করবে। আল্লাহ তাআলা কুরআনের বিভিন্ন স্থানে বলেছেন, যখনই তারা আল্লাহর স্মরণ করতে ভুলে গেছে তখনই শয়তান তাদেরকে বিভ্রান্ত করেছে আর যার ফলশ্রুতিতে তারা বিভিন্ন পাপকর্মে লিপ্ত হয়ে পরে। সুতরাং আল্লাহকে স্মরণ করা হচ্ছে সৎকর্ম সম্পাদন করার একটি প্রধান মৌলিক বিষয়।

দ্বিতীয় প্রধান বিষয়টি হচ্ছে, সৎকর্মটি করতে হবে সেই পন্থায় যে পন্থায় আল্লাহর রাসূল সম্পাদন করেছেন। এই সুন্নাহ বা রাসূলের কর্মনীতি আমাদের নিশ্চিত করবে যে আমরা যে সৎকর্মটি করছি তা আল্লাহ কর্তৃক অনুমোদিত। কারণ, যদি ইবাদত করার পন্থা যদি আমাদের উপর ছেড়ে দেওয়া হতো তাহলে আমরা বিভিন্ন উপায়ে আল্লাহর ইবাদত করার পন্থা আবিস্কার করতাম আর আমরা বিভ্রান্ত হয়ে পথভ্রষ্ট হয়ে যেতাম। আর ঠিক এই বিষয়টি আমরা পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্মগুলোর মধ্যে দেখতে পাই। মানুষজন আল্লাহকে উপাসনা করছে বিভিন্ন পন্থায় যদিও এই পন্থাগুলো আল্লাহর নির্দেশিত বা আল্লাহ প্রদত্ত শিক্ষার উপর ভিত্তি করে তৈরী করা হয়নি। বরং এই পন্থাগুলো হচ্ছে মানুষের আবিস্কার। রাসূলের পন্থায় সৎকর্ম করার মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত হই যে তা আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য হচ্ছে বা সেই সৎকর্মটি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করছে। উদাহরণ স্বরুপ আমরা নামাজের কথা বলতে পারি। যখন কোন খ্রিস্টিয়ান আপনাকে নামাজ পরতে দেখবে তখন সে আপনাকে জিজ্ঞেস করবে তুমি কেন এগুলো করছো? একবার মাথা নীচু করছ আবার মাটিতে মাথা ঠেকাচ্ছ। এটাকি যথেষ্ট নয় যে শুধুমাত্র হাটুর উপর ভরদিয়ে হাতদুটোকে এরকম করে ধরে উপাসনা করা? কিন্তু আপনি যদি তাদের জিজ্ঞাসা করেন, তোমরা কোথা থেকে এই নিয়ম শিখলে? ঈসা (আ) কি তোমাদের এরকম করে উপাসনা করতে বলেছেন? তিনি কি বলেছেন, তোমাদের হাটুর উপর ভর দিতে হবে এবং তোমাদের হাতদুটোকে এরকম করতে হবে? এই উপাসনা করার নিয়মকি তোমরা ঈসা (আ) এর শিক্ষা তথা কর্মনীতি থেকে পেয়েছ? প্রকৃতপক্ষে এরকম নিয়ম ঈসা (আ) শিক্ষা দেননি। এরকম কোন নিয়মের অস্তিত্বই নেই। আপনারা বাইবেলে দেখতে পাবেন, ঈসা (আ) বর্ণনা করছেন, তিনি তার সাথীদের পিছনে রেখে বাগানে এগিয়ে গেলেন এবং আরো কিছু দূর এগিয়ে গিয়ে তিনি মাটিতে মাথা ঠেকালেন এবং প্রার্থনা করলেন অর্থাৎ তিনি সিজদা করেছেন। আপনারা ওল্ড টেস্টমেন্ট (তওরাত) এ দেখতে পাবেন, মুসা (আ) মাটিতে মাথা ঠেকালেন এবং প্রার্থনা করলেন, ইব্রাহিম (আ) মাটিতে মাথা ঠেকালেন এবং প্রার্থনা করলেন। সকল নবীই এভাবে উপাসনা করেছেন আর এটাই হচ্ছে নবীদের সুন্নাহ তথা কর্মনীতি। কিন্তু মানুষ যখনই এই সুন্নাহ থেকে দূরে সরে গেছে তখনই তারা পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে।

আবার তারা আপনাদের জিজ্ঞাসা করবে, তোমাদের নারীরা কেন এমন পুরো শরীর ঢেকে রাখে? এখন আপনারা যদি বলেন, তোমরা কি চার্চে ঐ ছবিটা লক্ষ্য করনি যেখানে ঈসা (আ) এবং তার সাথীদের ছবি রয়েছে আর সেখানে মরিয়ম (আ) কে কিভাবে আঁকা হয়েছে? তিনি একই রকম পোষাক পরে আছেন যেরকম আমাদের নারীরা পরে, পুরো শরীর ঢেকে রাখা কিন্তু তোমরা ঢেকে রাখছ না, কেন? কিন্তু এইভাবে নারীদের শরীর ঢেকে রাখাটাই ছিল ঈসা (আ) এর শিক্ষা। কিন্তু তোমরা এই সুন্নাহ থেকে দূরে সরে গেছ। খ্রিস্টানদের মধ্যে নানরা এই রকম ঢেকে পোষাক পরতো। ক্যাথলিক খ্রিস্টানে নান বলা হয় তাদেরকে যারা জিসাসকে বিয়ে করে, অর্থাৎ তারা এই পৃথিবীর কোন পুরুষকে বিয়ে করে না। আপনারা যদি পূর্বের নানদের লক্ষ্য করেন তাহলে দেখতে পাবেন ঠিক সেইভাবে পোষাক পরতো যেভাবে মরিয়াম (আ) পরতেন, পুরো শরীর ঢেকে রাখা। কিন্তু বর্তমানে তারা সেভাবে পোষাক পরছে না, তাদের পোষাক পূর্বের তুলনায় ছোট হয়ে গেছে। কারণ, এই মানুষগুলো ঈসা (আ) এর সুন্নাহকে অনুসরণ করার অঙ্গীকার করেনি। যার ফলে তারা পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে, সঠিক পথ থেকে বিচ্চুত হয়ে গেছে।

সুতরাং এর মাধ্যমে যে প্রধান বিষয় দুইটি পেলাম তা হলো, আমাদের বিশ্বাস অবশ্যই সঠিক হতে হবে এবং আমাদের সৎকর্মগুলোও সঠিক পন্থায় হতে হবে অর্থাৎ যে পন্থায় করলে আল্লাহ তাআলা সন্তুষ্ট হবেন। সঠিক বিশ্বাস নির্ভর করবে আল্লাহ সম্পর্কিত সুস্পষ্ট জ্ঞান, যার মাধ্যমে সৃষ্টি এবং সৃষ্টিকর্তাকে পৃথক করতে পারব। আর আমরা একমাত্র আল্লাহ তাআলাকেই ইবাদত করবো। সঠিক সৎকর্ম নির্ভর করে, আল্লাহর স্মরণ এর উপর এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামেরর সুন্নাহ এর উপর অর্থাৎ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেভাবে সৎকর্মটি করেছেন আমাদেরকেও সেভাবে করতে হবে। আমরা লক্ষ্য করলে দেখতে পাবো, পূর্বের নবী-রাসূলদের সুন্নাহকে সংরক্ষিত করা হয়নি কারণ তারা প্রেরিত হয়েছিলেন নির্দিষ্ট কোন গোষ্ঠী বা নির্দিষ্ট কতগুলো মানুষদের জন্য, নির্দিষ্ট একটি জায়গা এবং নির্দিষ্ট একটি সময়ের জন্য। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হচ্ছেন শেষ নবী এবং তাঁর সুন্নাহই হচ্ছে কিয়ামত পর্যন্ত সকল মানুষদের জন্য প্রযোজ্য। কুরআন অধ্যায়ন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ চর্চা করার মাধ্যমে ইনশাল্লাহ আমরা সঠিক বিশ্বাস এবং সঠিক উপায়ে সৎকর্ম করতে সক্ষম হবো। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সহায় হোন। আমীন।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুন, ২০১০ সকাল ১১:৪৩
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×