somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

***সাবর বা ধৈর্য মুসলিমের অন্যতম হাতিয়ার***

০২ রা অক্টোবর, ২০১০ দুপুর ১২:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম
আলহামদুলিল্লাহ, ওয়াস্সালাতু ওয়াস্সালামু আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মদ ﷺ।।

‘সাবর’ বা ধৈর্য প্রত্যেক মুসলমানদের জন্যে অপরিহার্য। ‘সাবর’কে অনেকেই আমরা ‘সবুর’ বলেও ডেকে থাকি। কেউ বিপদে পড়লে, কোন কঠিন সমস্যায় পড়লে, কোন আকাঙ্খিত বস্তু না পেলে আমরা সাধারণত তাকে বলে থাকি, ‘সবুর কর, এত অধৈর্য হলে চলে’ কিংবা ‘সবুর কর সব ঠিক হয়ে যাবে’। আমাদের মাঝে একটা প্রবাদও প্রচলন আছে, ‘সবুরে মেওয়া ফলে’। ‘সাবর’ বা ‘সবুর’ এর সাথে তাওহীদের সম্পর্ক রয়েছে। হাফিজ ইবনে কায়্যিম রহিমাহুল্লাহ ইমাম আহমাদ রহিমাহুল্লাহ এর বরাতে বলেছেনঃ ‘সাবর’ বা ‘সবুর’ এর কথা নব্বই স্থানে কুরআনে উল্লেখ রয়েছে।

‘সাবর’ বা ‘ধৈর্য’ বা ‘সবুর’ যেটাই বলি না কেন এর মর্মার্থ আমাদের কাছে একই অর্থাৎ শাব্দিক উচ্চারণ পার্থক্য থাকলেও অর্থের দিক দিয়ে আমাদের নিকট বোঝার ক্ষেত্রে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না। ‘সাবর’ এর আবার তিনটি প্রকারভেদ রয়েছে যে বিষয়টি আমরা অনেকেই জানি না কিংবা জানলেও বিষয়টি পরিস্কার নয়। ইনশাল্লাহ, সেই বিষয়ে কিছুটা আলোকপাত করবো।

‘সাবর’ এর তিনটি প্রকার হচ্ছেঃ
১. আসসাবর বিল্লাহ বা আল্লাহতে সবুর করা।
২. আসসাবর লিল্লাহ বা আল্লাহর জন্যে সবুর করা।
৩. আসসাবর মা’আল্লাহ বা আল্লাহর সাথে সবুর করা।


আসসাবর মা’আল্লাহ প্রথম দুই শ্রেণীর ‘সাবর’ অপক্ষো বড় পর্যায়ের কঠিন ও দুরুহ। কারণ, প্রথম দুই শ্রেণীর ‘সাবর’ ধারণ করার ক্ষেত্রে কোন বিরোধিতা আসে না বরং কিছু সুনাম পাওয়া যায়। উদাহরণ স্বরুপঃ পাপ কাজ থেকে বিরত থাকলে, কারো ব্যবহারে মনক্ষুন্ন হলে, কারো উপর কোন বিপদ আপতিত হলে, কেউ মারা গেলে ভেঙ্গে না পড়ে ধৈর্য ধারণ করলে অনেকেই আপনাকে বাহবা দিবে; দেখেছ, কি ধৈর্যশীল - একটুও ভেঙ্গে পড়েনি! আবার কারো নিকট একটা বস্তু রয়েছে আপনারও সেই বস্তুটি দরকার যেমন ধরুন ফ্রিজ। আপনার একটা ফ্রিজ কেনা অতীব জরুরী হয়ে দাড়িয়েছে কিন্তু আপনার আয় সীমিত, হালাল উপর্জন করেন, আপনি ধৈর্য ধারণ করলেন। অবৈধ পন্থায় অর্থ উপর্জন করে ফ্রিজ কেনার চিন্তা করলেন না, আপনি আল্লাহতে ‘সাবর’ করে বললেন, ইনশা’ল্লাহ, আল্লাহ তা’আলা আমার একটা ব্যবস্থা করে দিবেন। অর্থাৎ আপনি আল্লাহর জন্যে ধৈর্য ধারণ করলেন। এখন কেউ যদি আপনার এই ধৈর্য ধারণের বিষয়টি জানে তাহলে আপনাকে বাহবা দিবে, আপনার সুনাম করবে - বাহ, আপনি একটা চমৎকার মানুষ। ‘আসসাবর মা’আল্লাহ’ তে উপরের দুইটির মতো সুনাম কিংবা বাহবা কোনটাই নেই, এই প্রকারের ‘সাবর’ বা ‘ধৈর্য’ শুধুমাত্র আল্লাহর জন্যে। উদাহরন স্বরুপঃ সমাজে মানুষ মাজারে নজর নিয়াজ করাকে, মাজারে মৃত ব্যক্তির নিকট দোয়া করাকে কল্যাণ মূলক কাজ হিসেবে করে থাকে। ধরুন, আপনি এর বিরোধিতা করলেন, বললেন, মাজারে যেয়ে নজর নিয়াজ, মানত কিংবা মাজারে যেয়ে মৃত ব্যক্তির নিকট দোয়া করা ‘শিরক’। দেখা গেল, সবাই আপনার বিরোধিতা করল, আপনার পরিচিত জন আপনার নিকট থেকে দূরে সরে গেল কিন্তু তবুও আপনি আপনার বক্তব্যে অটল রইলেন, আল্লাহর সাথে ধৈর্য ধারণ করলেন। আবার ধরুন, অনৈসলামিক কাজ এতই প্রসার পেয়েছে যে সেটাকে স্বাভাবিক মনে করা হচ্ছে, আল্লাহর বিধানকে অমান্য করা হচ্ছে, মানুষ আল্লাহর ইবাদতে অংশীদার স্থাপন করছে, রাসূল ﷺ এর সুন্নাহ’র বিপরীত কাজ করছে, বিদআহ’র অনুসরণ করছে আপনি এগুলোর বিরোধিতা করলেন, এতে দেখাগেল সমাজে সবাই আপনার বিরোধিতা করল, আপনার ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাও আপনার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিল কিন্তু তবুও আপনি ধৈর্য ধারণ করে আপনার বিরোধিতায় অটল রইলেন, অসত্যের সাথে আপোষ করতে রাজি হলেন না। এটাই হচ্ছে আসসাবর মা’আল্লাহ - রাব্বুল আলামীনের সঙ্গতা।

কেননা মু’মিন বান্দা যখন আল্লাহর জন্য মানুষকে অসন্তুষ্ট করে তখন তাদের অসন্তুষ্টির কারণে যত বাধা অসুবিধা আসবে তার জন্য আল্লাহ ব্যবস্থা করবেন। আর বান্দা যখনই আল্লাহর জন কোন বস্তু বা মানুষের ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, সঙ্গতা পরিত্যাগ করে তখন আল্লাহ তার বান্দার ঐ পরিত্যাজ্য বস্তু অপেক্ষা অধিক উত্তম বস্তু পুরস্কার দেন। সুতরাং যখনই সত্যের-পথিক আল্লাহ তা’আলার জন্যে কোন মানুষ বা কোন দল পরিত্যাগ করতে পারবে, তখন আল্লাহ ঐ ব্যক্তি বা দল অপেক্ষা তাকে উত্তম কিছু দিবেন। তা’ই হল আল্লাহর মাইয়াত তার সঙ্গতা, তা যা পরিত্যাজ্য ব্যক্তি বা দল অপেক্ষা অতি উৎকৃষ্ট ও স্থায়ী। আর আল্লাহই হচ্ছেন সর্বশ্রেষ্ঠ পাওয়ার বস্তু এবং স্থায়ী, যার লয় নেই, ক্ষয় নেই। এমন এই সঙ্গতা যা সারা জীবন এবং মৃত্যুর পর কবরে, হাশরে। এমনকি জান্নাতে তাঁরই দীদার সমস্ত নিআ’মাত অপেক্ষা মিষ্টি ও তৃপ্তির হবে।

এই প্রকাল ‘সাবর’ এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ রাসূল ﷺ এবং সাহাবীদের জীবনী। মিথ্যার সাথে তারা কোন মতেই আপোষ করেন নি। মক্কায় জঙ্গে আবু তালিব এলাকায় তিন বছর পর্যন্ত একঘরে করে রাখা হয়েছিল, তাদের সাথে সকল প্রকার লেনদেন, ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, খাদ্য সরবারহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তবুও তারা সত্য পথ থেকে বিন্দু মাত্র বিচ্যুত হননি। যার কারণে তাদের উপর আল্লাহ তাআলা সন্তুষ্ট হয়েছিলেন এবং তাদেরকে নেতৃত্ব দান করেছিলেন। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ রহিমাহুল্লাহ বলেছেনঃ ধৈর্য ধারণ ও দৃঢ় বিশ্বাসের কারণে দীনের ইমামাত নেতৃত্ব লাভ হয়। এটা কুরআনের সূরা সাজদার নিন্মোক্ত আয়াতের মর্ম হতে গৃহীত।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেনঃ
“আর আমি তাদের মধ্য হতে নেতা মনোনীত করেছিলাম, যারা আমার নির্দেশ অনুসারে পথপ্রদর্শন করতো, যেহেতু তারা ধৈর্যধারণ করেছিল। আর তারা ছিল আমার নিদর্শনাবলীতে দৃঢ় বিশ্বাসী”। (সূরা সাজদাহঃ ২৪)

উম্মাতে মুসলিমার মধ্যে যে সমস্ত মনীষী একমাত্র আল্লাহর নির্দেশিত হুকুম মুতাবিক রাসূল ﷺ এর তরীকার প্রতি হিদায়াত করার জন্যে একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, তাদের ইমামাত অপ্রতিদ্বন্দ্বীরুপে উম্মাতের হৃদয়ের গভীরে স্থান পেয়েছে।

আমরা যেন ধৈর্যের সকল প্রকারভেদ অনুসরণ করতে পারি সেই তৌফিক আল্লাহ তা’আলার নিকট চাইছি। আল্লাহ তাআলা আমাদের হিফাজত করুন। আমীন।

“তুমি ধৈর্য ধারণ করো, তবে তোমার ধৈর্য তো একমাত্র আল্লাহর ই সাহায্যে হবে। আর তুমি তাদের (বিরোধীদের) ব্যবহারে দুঃখ করো না, আর তাদের ষড়যন্ত্রের কারণে তুমি মনঃক্ষুন্ন হয়ো না।” (সূরা নাহলঃ ১২৭)

“নিশ্চয়ই আল্লাহ ঐ সমস্ত লোকের সাথে আছেন যারা আল্লাহকে ভয় করে চলে এবং যারা আল্লাহর দীনে মুখলিস”। (সূরা নাহলঃ ১২৮)
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই নভেম্বর, ২০১০ রাত ১০:৩৬
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ক্রাউড ফান্ডিং-এর সুযোগ তৈরি করে সরকারী লাভজনক প্রজেক্টে জনগণের বিনিয়োগ নিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৩১

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত, তা বুঝা যাচ্ছে। নাহলে, খোদ প্রধানমন্ত্রী দেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসতে জনগণকে অনুরোধ করতেন না। আমার মন হয়, দেশের মানুষের কাছেই অনেক সম্পদ আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×