somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইসলামী worldview -৩

১২ ই নভেম্বর, ২০১০ রাত ১২:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[.........পূর্ব প্রকাশিতের পর ]

এবার আসুন আমাদের দৈনন্দিন ও বাস্তব জীবনে worldview কিভাবে প্রভাব বিস্তার করে, আর কি কারণে মুসলিমদের জন্য বিজাতীয় worldview অনিষ্টকর তা নিয়ে আরো কিছু আলাপ করা যাক। একটা প্রশ্ন আসতে পারে যে, কতটুকু বা কত ক্ষুদ্র একটা ব্যাপারকে আমরা worldview-এর আওতায় গণ্য করবো। এরকম একটা প্রশ্নের উত্তরে বলতে হবে যে, দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সব ‘ঐচ্ছিক’ বিষয়ই এই worldview-এর আওতায় পড়বে। উদাহরণ স্বরূপ আপনাকে বেঁচে থাকার জন্য মূত্রত্যাগ করতে হবে - এখানে আপনার ইচ্ছার স্বাধীনতা নেই - এটা নিতান্তই একটা জৈবিক ব্যাপার, সুতরাং এই কর্মটি worldview-এর আওতায় আসে না। কিন্তু আপনি কি ভাবে মূত্রত্যাগ করবেন সে ব্যাপারে আপনার ইচ্ছার স্বাধীনতা যেহেতু রয়েছে - সেহেতু সে বিষয়ে আপনার worldview কি তা ধর্তব্যের ভিতর এসে যাবে। আপনার যদি একটা ইসলামী worldview থাকে, তবে আপনি বসে মূত্রত্যাগ করার চেষ্টা করবেন এবং আপনার পানির প্রয়োজন হবে - সুতরাং আপনার মত ইসলামী worldview সম্পন্ন মানুষদের পরিবেশ ও প্রতিবেশের টয়লেটগুলোতে সে সবের ব্যবস্থা থাকবে স্বাভাবিক ভাবেই। যে দেশের অধিকাংশের একটা কাফির worldview থাকবে, সে দেশের টয়লেটগুলোতে, খুব স্বাভাবিকভাবেই, বসে মূত্রত্যাগ করার যেমন কোন ব্যবস্থা থাকবে না, তেমনি থাকবে না এমনকি শৌচকর্মের জন্যও পানির কোন ব্যবস্থা । যারা ইংল্যান্ড বা আমেরিকার মত কোন পশ্চিমা কুফফারের দেশে গেছেন, তারা আমার কথার সত্যতা অনুধাবন করতে পারবেন। তদুপরি লজ্জা/হায়া/শরমের বিষয়টাও এসে যাবে আনুষঙ্গিকভাবে। পশ্চিমা দেশের পাবলিক টয়লেটগুলোতে পুরুষদের জন্য যেভাবে দাঁড়িয়ে মূত্রত্যাগের ব্যবস্থা থাকে, তাতে যে কারো চোখে ঐ কর্মরত অবস্থায় অন্যের লিঙ্গ দৃশ্যমান হতে পারে। আমার পেশা জীবনের এক ছোট ভাই, ১৯৯০-র দশকে পেশাগত লেখাপড়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে যান পরিবার সমেত। হিথরো এয়ারপোর্টে তার ৮/৯ বছর বয়স্ক ছেলেটি টয়লেটে যেতে চাইলে তিনি তাকে পুরুষদের টয়লেটে নিয়ে যান। সেখান থেকে বেরিয়ে ‘সভ্য’ জগত সম্বন্ধে ছেলের প্রথম প্রশ্ন ছিল, “আব্বু, সবার ‘টুনুমণি’ দেখা যায় কেন?” - তাহলে দেখুন worldview-এর ব্যবধানটা কত ছোট ব্যাপারেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এরপর আসুন আরেকটি অত্যন্ত সাধারণ ‘চোখ-এড়িয়ে-যাওয়া’ বিষয়ে। ক’দিন আগে দেশের ইসলামপন্থী একটি গবেষণা সংস্থায় আমাকে তারা ডেকেছিলেন পরিচিত হতে। যোহরের নামাজের সময় হলে, আমি তাদের সাথে জামাতে যোহরের সালাত আদায় করি। জামাতে সালাতের ব্যাপারে তাদের পদ্ধতির শুদ্ধতা আমাকে অবাক করে দেয়। আকন্ঠ বিদ’আতে ডুবে থেকে নিশ্চিন্ত চিত্তে ধর্মকর্ম করে যাওয়া পৃথিবীর ৩য় বৃহত্তম মুসলিম দেশ বলে পরিচিত হতভাগ্য আমাদের এই দেশে, কোথাও যে এত শুদ্ধ পদ্ধতিতে নামাজ পড়া হয়, তা আমার জানা ছিল না। তবে একটা জিনিস খেয়াল করে আমার খানিকটা খটকা লাগলো - ঐ সংস্থার বেশ গুরুত্বপূর্ণ এক কর্মী টাইট ব্লু জিন্সের ভিতরে সার্ট ঢুকানো অবস্থায় সালাত আদায় করলেন। নারী ও পুরুষের শরীর ভেদে, ইসলামে সুনির্দিষ্ট ঢেকে রাখার অংশ রয়েছে, যাকে আমরা ইসলামী পরিভাষায় ‘সতরুল আওরাত’ বা সংক্ষেপে ‘সতর’ বলি। এই ‘সতর’ শুধু ঢাকলেই হবে না, তা যেন প্রস্ফুটিত না হয় বা তার আকার ও আকৃতি যেন ফুটে না ওঠে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। আজ থেকে ২৫/৩০ বছর আগে থেকেই বাংলাদেশী চলচ্চিত্রে তথাকথিত ‘সর্প নৃত্যের’ নামে, সারা গায়ে সেঁটে থাকা কালো একখানা ‘নাম-না-জানা’ পরিধেয়র আবরণে ঢেকে নারীদেহকে যেভাবে প্রতিটি ভাঁজ প্রস্ফুটিত করে দর্শকদের জন্য উপস্থাপন করা হতো, তা যে সতর ঢেকে রাখা নয়, একথাটা সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন যে কোন মানুষই বোধকরি বুঝবেন । ১৯৮০-র দশকের গোড়ার দিকে, আমি যখন প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে যাই, তখন খেয়াল করতাম সেখানকার দামী ব্র্যান্ড নামের জিন্সগুলোর অধিকাংশই ছিল ‘স্ট্রেচ্-জিন্স’। যিনি পরবেন তার গায়ে প্রথমে প্যান্টগুলো অস্বস্তিকর ভাবে টাইট হবে - তারপর সেগুলো ‘স্ট্রেচ্ড’ হয়ে শরীরের আকার আকৃতি ধারণ করে আপনার গায়ের সাথে সেঁটে থাকবে। এধরনের জিন্স পরিধানকারীর সংখ্যা মেয়েদের ভিতর বেশী হলেও, অনেক ছেলেদেরও দেখেছি সে সব ব্যবহার করতে। ঐ ধরনের জিন্স অথবা সাধারণভাবে সকল জিন্স পরার আসল উদ্দেশ্য যে লজ্জা নিবারণ নয় বরং হাঁটা চলায় নিতম্ব সহ নিম্নাংগের প্রতিটি অংশের নড়াচড়া তথা আকার/আকৃতি জাহির করা - তা সচেতন ভাবে বুঝতে শুরু করেছি আরও অনেক পরে। শরীর পূজা ও নানা ভাবে শরীর প্রদর্শন ও বিক্রী করা কাফির সভ্যতা - যাদের রয়েছে কাফির belief system এবং কাফির worldview - তাদের জন্য ব্যাপারটা কোন সমস্যার না হলেও, ইসলামী belief system-এর সাথে ব্যাপারটা যে খাপ খায় না, তা অন্ধ ছাড়া সকলেরই দেখার, বোঝার ও জানার কথা। এধরনের পরিচ্ছদ পরে আমরা যখন সালাতের সেজদায় যাবো, তখন অবস্থা আরো করুণ হবার কথা - এবং আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান মতে নামাজ না হবারই কথা (আমি ভুল বলে থাকলে, পাঠক, দয়া করে আমাকে শুধরে দেবেন ইনশাল্লাহ্)। তাহলে আমরা এই সমস্যাগুলো দেখতে অক্ষম কেন? আমার এই জীবনে, আমি কোন খুতবায়, কোন হুজুরকে তো বলতে শুনিনি যে, এরকম পোষাক পরে নামাজ শুদ্ধ হবে না - কোন বাবাকে শুনিনি তার ছেলেকে এভাবে বোঝাতে যে, কেন কোন পরিধেয় আমরা গ্রহণ অথবা বর্জন করবো!

(চলবে .........ইনশা'আল্লাহ্!)
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×