somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কুর'আন কিভাবে পড়বো ও বুঝবো - ১৭

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১০:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মূল লেখা: Jamaal al-Din M. Zarabozo-র]

..............পূর্বে প্রকাশিত লেখার ধারাবাহিকতায়:



পবিত্র কুর’আনের শিক্ষা অনুযায়ী কাজ করার পূর্ণ সদিচ্ছা ছাড়াই, কেবল বরকতের জন্য কুর’আন তিলাওয়াত করা বা কাছে রাখা।

একজন ব্যক্তি, যিনি কুর’আন তিলাওয়াত করেন - তার উপর যে আল্লাহর রহমত বর্ষিত হতে পারে তা নিয়ে কোন প্রশ্নের অবকাশ নেই। কিন্তু, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আজ যদি কেউ মুসলিম বিশ্বের দিকে একটু মনোযোগ সহকারে তাকিয়ে দেখে, তবে দেখতে পাবে যে, লোকেরা আজ মসজিদে কুর’আন তিলাওয়াত করছে, কুর’আন পড়ে সভা ও সমাবেশ শুরু করছে, কুর’আন তিলাওয়াত দিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু করছে, রেডিও বা টেলিভিশনের সম্প্রচার শুরু ও শেষ হচ্ছে কুর’আন তিলাওয়াত দিয়ে অথবা কেউ মৃত্যুবরণ করলেও তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে কুর’আন পড়া হচ্ছে। এসব দেখে কারো ধারণা জন্মাতে পারে যে, আজকালকার মুসলিমরা প্রধানত একটি উদ্দেশ্যেই কুর’আনের শরণাপন্ন হয় - পবিত্র কুর’আন থেকে বরকত লাভ করতে। [কুর’আন তিলাওয়াত করলে কারো উপর যে বরকত নেমে আসতে পারে, আমরা সেটায় মোটেও সন্দেহ পোষণ করছি না। বরং নীচে আমরা একটি হাদীস তুলে দিচ্ছি যাতে রাসূল (সা.) এই বরকত নাযিল হবার কথা বলেছেন :

“তোমাদের মাঝে কারা প্রতিদিন সকালে বুসান বা আল আকিক-এ যেতে চাও (এগুলো হচ্ছে মদীনার বাইরে দুটি স্থান যেখানে উটের বাজার বসতো) এবং কোন পাপ ছাড়া অথবা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা ছাড়াই দুটো উট সঙ্গে করে নিয়ে ফিরে আসতে চাও?” আমরা (সাহাবীরা) বললাম, “আমরা সেটা করতে খুবই পছন্দ করবো।” তিনি তখন বললেন, “তোমরা কি মসজিদে যাও না এবং সেখানে মহিমময় ও গৌরবান্বিত আল্লাহর কিতাব থেকে দুইটি আয়াত পড় না বা শিক্ষা দাও না, আর সেটা একজন ব্যক্তির জন্য দুটো উটের চাইতে শ্রেয়। আর তিনটি (আয়াত) তার জন্য তিনটির (উট) চেয়ে শ্রেয় এবং চারটি চারটির চেয়ে শ্রেয় ..এরকম।”(মুসলিম)]

“উসায়েদ ইবনে হুদায়ের বলেনযে, একরাতে তিনি তাঁর ঘোড়াকে পাশে বেঁধে রেখে কুর’আন তিলাওয়াত করছিলেন। ঘোড়াটি অস্থির হয়ে উঠলে তিনি কুর’আন তিলাওয়াত বন্ধ করে দেন এবং সাথে সাথে ঘোড়াটিও স্থির হয়ে গেল। তিনি পুনরায় কুর’আন পড়তে শুরু করলেন এবং ঘোড়াটি আবারও লাফিয়ে উঠল। তিনি কুর’আন পড়া বন্ধ করলে ঘোড়াটি সুস্থির হয়ে গেল। এরপর তিনি যখন আবারো পড়তে শুরু করলেন, ঘোড়াটি তখন আবার চঞ্চল হয়ে উঠলো এবং তিনি কুর’আন তিলাওয়াত বন্ধ করলে সে পুনরায় শান্ত হলো। তিনি তখন সেই স্থান ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন, কেননা তাঁর ছেলে ইয়াহিয়া তাঁর সাথে ছিল এবং তিনি ভয় পেলেন যে, তার কোন ক্ষতি হতে পারে। তিনি যখন তাঁর ছেলেকে সরিয়ে ফেললেন এবং আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখলেন, তখন আকাশ দেখতে পেলেন না। পরদিন সকালে তিনি রাসূলকে (সা.) কি ঘটেছিল তা বর্ণনা করলেন। রাসূল (সা.) তাঁকে বললেন, ‘হে ইবনে হুদায়ের আবৃত্তি কর, হে ইবনে হুদায়ের আবৃত্তি কর।’ ইবনে হুদায়ের উত্তর দিলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল, আমি ইয়াহিয়াকে নিয়ে ভয় পাচ্ছিলাম যেহেতু ঘোড়াটি তার কাছাকাছি ছিল, সুতরাং আমি (পড়া থেকে) মাথা উঠালাম এবং তার কাছে গেলাম। আমি যখন মাথা তুললাম এবং আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, তখন এক খণ্ড মেঘ দেখলাম যার মাঝে প্রদীপের মত বস্তু রয়েছে। তখন আমি ঐ দৃশ্য যাতে দেখতে না হয় সেজন্য সেখান থেকে সরে গেলাম। রাসূল (সা.) তাঁকে বললেন, ‘তুমি কি জান তা কি ছিল?’ ইবনে হুদায়ের উত্তর দিলেন, ‘না।’ তিনি তাঁকে বললেন, ‘ওগুলো ছিল তোমার কণ্ঠস্বর শুনে কাছে আসা ফেরেশতাগণ। তুমি যদি সকাল পর্যন্ত তিলাওয়াত করতে থাকতে, তবে লোকজন এসে দৃশ্যটা দেখতো এবং তারা তখনও অদৃশ্য হতো না।’ ” (বুখারী ও মুসলিম)।

ইবনে হুদায়েরের অভিজ্ঞতার মতই আল বারারও একই ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছিল। আল বারার বেলায় রাসূল (সা.) তাঁকে বলেছিলেন যে, যে মেঘখণ্ডকে দেখে তাঁর ঘোড়া ভয় পাচ্ছিল, তা আসলে ছিল প্রশান্তি, যা কুর’আন তিলাওয়াতের কারণে নেমে এসেছিল। (মুসলিম)।
এছাড়াও কুর’আন তিলাওয়াতের জন্য এক বিশেষ পুরস্কার রয়েছে। রাসূল (সা.) বলেন, “যে আল্লাহ্র কিতাবের একটি হরফ (একটি শব্দ বা একটি অক্ষর) পাঠ করে, তার হিসাবে একটি সৎকর্ম লেখা হবে এবং প্রতিটি সৎকর্মের জন্য সে দশগুণ পুরস্কার লাভ করবে। আমি বলছি না আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ, বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম একটি হরফ।” (তিরমিযী ও অন্যান্য কিতাবে উল্লিখিত, আলবানীর মতে সহীহ)।

পবিত্র কুর’আন তিলাওয়াত করার, এটা যে একটা বাস্তব প্রতিফল সে ব্যাপারে কেউ সন্দেহ পোষণ করতে পারে না এবং প্রতিটি মুসলিমের সে বিশ্বাস থাকা উচিত। কিন্তু মনে করুন কেউ কেবল এই বরকতটুকু লাভ করার জন্যই কুর’আন তিলাওয়াত করে থাকেন, অর্থাৎ তার একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রতি অক্ষর পড়ার জন্য দশটি নেকী লাভ করা অথবা তিনি তার উপর প্রশান্তি নেমে আসবে বলে আশা করে কুর’আন তিলাওয়াত করেন - তিনি বাহ্যিক তিলাওয়াতের সীমা পেরিয়ে আর সামনে এগোন না এবং কুর’আনে আল্লাহ্ তার কাছে কি চাইছেন, তাও বোঝার চেষ্টা করেন না। এরকম একজন ব্যক্তি কি সঠিক পন্থায় কুর’আন অধ্যয়ন করছেন? তিনি কি পবিত্র কুর’আনের সত্যিকার উদ্দেশ্যটা বুঝলেন? একজন ব্যক্তি যিনি এরকমভাবে কুর’আন পড়েন, ইমাম আল-গাজ্জালীর মতে, তিনি তখন তার পড়া থেকে তার জিহ্বার নড়াচড়া ছাড়া আর কিছুই লাভ করেন না। উদাহরণ স্বরূপ একজন মানুষ কিভাবে আল্লাহ্কে অমান্য করার ক্ষতি সংক্রান্ত আয়াতগুলো পড়বেন অথচ তার হৃদয়ে ভয়ের কোন সঞ্চার হবে না? একজন মানুষ যদি এভাবে কুর’আন পড়েন, তাহলে সত্যিকার অর্থে তিনি যে ‘পড়লেন’ - সেটাই বলা যাবে না, ঠিক যেমন কেউ যদি কোন একটি সংকেত পড়ে (যেমন রোড সিগন্যাল) অথচ, সে যদি না বোঝে যে ঐ সংকেত কি বোঝাতে চাচ্ছে, আর তাই তা অমান্য করে - তাহলে সে ক্ষেত্রে বলতে হবে যে, আসলে সে সংকেতটি পড়েইনি।

সাহাবী আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, “সম্ভবত একজন পবিত্র কুর’আন পড়ছে এবং কুর’আন তাকে অভিশাপ দিচ্ছে।”
অন্য কথায় সেই ব্যক্তি, নীচে যেমন বর্ণিত রয়েছে তেমনিভাবে আল্লাহর কালাম পাঠ করছে :


“.........নিশ্চয়ই জুলুমকারীদের উপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হয়।” (সূরা হুদ, ১১:১৮)

অর্থাৎ সে যা পড়ছে তা প্রয়োগ না করে সে নিজেই এই আয়াতে বর্ণিত একজন জুলুমকারী হিসাবে নিজেকে প্রতিপন্ন করছে।

বাস্তবিকই, যারা কেবল তাদের জিহ্বা দ্বারা এইজন্য কুর’আন উচ্চারণ করে যে, সেই পাঠের জন্য তাদের উপর বরকত নেমে আসবে - অথচ, কখনই কুর’আন বোঝার জন্য ও সেটাকে জীবনে প্রয়োগ করার জন্য কোন সময়ক্ষেপণ করে না, তাদের অবস্থা অনেকটা আরেকটি জনগোষ্ঠীর মত যাদের কথা আল্লাহ্ কুর’আনে বর্ণনা করেছেন :

“যাদের উপর তাওরাতের ভার অর্পণ করা হয়েছিল, এবং যারা তার ব্যাপারে (তাদের করণীয় পালন করতে) ব্যর্থ হয়েছে তাদের উপমা হচ্ছে ঐ গাধার মত যে বইপত্রের বিশাল বোঝা বহন করে, অথচ সেগুলো বুঝতে অক্ষম। ...”
(সূরা জুমু‘আ, ৬২:৫)

আবদুল গণির মতে কেবল পড়েই যারা পরিতৃপ্ত হন, সেইসব পাঠকদের অবস্থা নিম্নলিখিত আয়াতেও ব্যাখ্যা করা হয়েছে :

“হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা এমন কথা কেন বল যা তোমরা কার্যে পরিণত কর না? আল্লাহ্র দৃষ্টিতে এটা একটা গর্হিত অপরাধ যে, তোমরা এমন কিছু বল যা তোমরা কর না।”
(সূরা সাফ, ৬১:২-৩)

ঐ সমস্ত মুসলিমগণ যাঁরা বলেছিলেন যে, তাঁরা এমন কাজ করতে চান যা আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়, আর তারপরে যখন জিহাদের আদেশ নাযিল হয়েছিল, তখন তাঁরা আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় কর্মটি করতে যখন অসুবিধা বোধ করছিলেন - তখন তাদের দোষারোপ করে উপরোক্ত আয়াতগুলি নাযিল হয়। এখানে এসে আবদুল গণি প্রশ্ন রাখেন, “যে ব্যক্তি কুর’আন পড়ে, অথচ যে এর শিক্ষা থেকে বহুদূরে অবস্থান করে - এর আদেশসমূহ পালন করে না এবং কুর’আন যে বিধান উপস্থাপন করে তা থেকে নিজেকে দূরে রাখে - তার অবস্থাটা তাহলে কি দাঁড়ায়? তার অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়, কেননা সে দাবী করে যে, সে কুর’আন বিশ্বাস করে, সে কুর’আন পড়ে, কুর’আন কি বলছে তা সে নিজে উচ্চারণ করে অথচ তার উপর সেটার কোন ধরনের প্রভাব পড়ে না।”

সত্যি বলতে কি, আজকাল কিছু মুসলিম বছরের পর বছর ধরে কেবল কুর’আন পড়েই আত্মতৃপ্তি লাভ করছেন - তারা যা পড়লেন, তা জীবনে সঠিকভাবে প্রয়োগ করলেন কিনা - সেটা নিশ্চিত করতে যা পড়লেন, তা বোঝার জন্য কোন সময় ব্যয় করছেন না। এটা সেইসব সাহাবীদের পন্থার সম্পূর্ণ বিপরীত, যাঁরা কুর’আনের পথনির্দেশনা অনুসরণ করেছিলেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করেছিলেন। আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন:“আমাদের মাঝে কেউ যখন দশটি আয়াত শিখতেন, তখন তিনি সেগুলোর অর্থ না বোঝা পর্যন্ত এবং সে অনুযায়ী নিজেকে পরিচালিত করতে না পারা পর্যন্ত আর সামনে এগুতেন না [অর্থাৎ নতুন কোন আয়াত পড়তে যেতেন না]।” একই ভাবে আবু আবদুর রহমান আল সুলাইমী বলেন, “আমাদেরকে যাঁরা কুর’আন পড়ে শোনাতেন, তাঁরা আমাকে বলেছেন যে, তাঁরা রাসূলের (সা.) কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতেন এবং তাঁরা যদি দশটি আয়াতও শিখতেন, তবে যতক্ষণ পর্যন্ত না তাঁরা ঐ আয়াতগুলোর ভিতর কি কি করণীয় রয়েছে, তা না জানতেন, ততক্ষণ তাঁরা সেগুলো ত্যাগ করতেন না (অর্থাৎ সেগুলোকে পাশ কাটিয়ে নতুন কিছু শিখতে যেতেন না)। সুতরাং তাঁরা কুর’আন এবং তার প্রয়োগ একই সাথে শিখেছিলেন।” আবদুল্লাহ্ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, “[ঈমান লাভের পূর্বে] আমরা অনেকদিন জীবন যাপন করেছিলাম এবং কুর’আনের অনেকাংশ নাযিল হওয়ার আগেই আমাদের ঈমান নসীব হয়েছিল। তারপর যখন মুহাম্মাদের (সা.) কাছে একটি সূরা নাযিল হতো, তিনি তার হারাম ও হালাল বিধানগুলো এবং তার আদেশ ও নিষেধ ও সেই আয়াতের প্রতি তাঁর করণীয় কি তা জেনে নিতেন। তারপর একটা সময় এলো, যখন আমি দেখলাম যে কাউকে ঈমান লাভের পূর্বেই পবিত্র কুর’আন দেওয়া হলো ; সে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গোটা কুর’আন, তার আদেশ-নিষেধ কি কি তা অনুধাবন করা ছাড়াই অথবা কুর’আনের প্রতি তার কি মনোভাব থাকা উচিত তা বোঝা ছাড়াই পড়ে শেষ করলো এবং উড়ে চলে যাওয়া কোন প্রাণীর মত সে যেন চারিদিকে তা ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিল।” (আল বাইহাকী ও আল হাকিম)।

সেইসব মানুষ যারা এরকম করে কুর’আন পড়ে তারা আসলে কুর’আন পড়ার সত্যিকার পূর্বশর্ত পালন করছে না; ত্রুটিযুক্ত পদ্ধতিতে কুর’আন পড়ার পরেও এ থেকে বরকত লাভ করা যাবে কিনা, তা নিয়ে তাই সন্দেহের অবকাশ থাকে। আল্লাহ্ পবিত্র কুর’আনে বলেন:

“যাদের কাছে আমরা কিতাবখানি দিয়েছি, তারা তা এমন ভাবে তিলাওয়াত করে যেমন তিলাওয়াত করা উচিত। তারাই হচ্ছে ঐ সমস্ত ব্যক্তি যারা সেটাতে বিশ্বাস করে, আর যে কেউ এতে অবিশ্বাস করে তারাই হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত।” (সূরা বাক্বারা, ২:১২১)

যেমনভাবে তিলাওয়াত করা উচিত এ কথার ব্যাখ্যায় আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেন, “যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ, সঠিক তিলাওয়াত করা হচ্ছে যা কিছুকে এটা বৈধ বলে ঘোষণা করে - সেটাকে বৈধ মনে করা, যা কিছুকে নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করে - সেটাকে নিষিদ্ধ বলে গণ্য করা, আল্লাহ্ যেভাবে নাযিল করেছেন - সেভাবে একে আবৃত্তি করা, সঠিক অর্থ থেকে কোন শব্দকে বিচ্যুত করে বিকৃত অর্থ না দেয়া, এবং এমনভাবে ব্যাখ্যা না করা যেভাবে এটাকে ব্যাখ্যা করা অনুচিত।”

এ ছাড়াও রাসূলের (সা.) অনেক হাদীস - যেখানে তিনি কুর’আন তিলাওয়াতকারীর প্রাপ্য সুফল বর্ণনা করেছেন - সেখানে তিনি সুফল লাভের শর্ত হিসেবে ঐ ব্যক্তির কথা বলেছেন: “যে কুর’আন তিলাওয়াত করে এবং সে অনুযায়ী কাজও করে”। উদাহরণস্বরূপ একটা হাদীসে রাসূল (সা.) বলেছেন যে, সূরাগুলো মানুষের পক্ষে হয়ে সুপারিশ করবে, যা আমরা ইতিপূর্বেও উল্লেখ করেছি:
“পুনরুত্থান দিবসে পবিত্র কুর’আনকে, যারা তা অনুযায়ী জীবনে যাপন করেছে তাদের সাথে একত্রে হাজির করা হবে, যখন সূরা বাক্বারা এবং আলে ইমরান তাদের অগ্রগামী হবে........।” (মুসলিম)

বা ঐ হাদীসটি যেখানে রাসূল (সা.) বলেন :
“একজন বিশ্বাসী যে কুর’আন তিলাওয়াত করে ও সেই অনুযায়ী কাজ করে তার উদাহরণ হচ্ছে ঐ কমলালেবু ..............।”(বুখারী)

উপরে উদ্ধৃত দুটো হাদীসেই রাসূল (সা.) যে অত্যাবশ্যকীয় ব্যাপারটি উল্লেখ করেছেন, তা হচ্ছে: ‘কুর’আন অনুযায়ী কাজ করা বা জীবনে কুর’আনকে প্রয়োগ করা’। সত্যিকার বরকত এবং গুণাগুণ তার মাঝেই দেখতে পাওয়া যায় যে কুর’আন অনুযায়ী জীবন যাপন করে - তার মাঝে নয়, সে কেবল পড়ার জন্য কুর’আন পড়ে যায় - অথচ সে যা পড়ল তা জীবনে প্রয়োগ করে না।



(চলবে......... ইনশা'আল্লাহ্!)



[এই পর্বের ঠিক আগের লেখাগুলো রয়েছে এখানে:

Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link ]
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×